📄 আল্লাহর জন্য নিজেকে ছিন্নভিন্ন করার আকাঙ্ক্ষা!
৮৫. সাইদ ইবনু মুসাইয়্যাব রহ. বলেন, আব্দুল্লাহ ইবনু জাহশ রা. অহুদ যুদ্ধের দিন বললেন, 'হে আল্লাহ, আমি আপনাকে শপথ করে বলছি, আমরা যখন শত্রুর মুখোমুখি হব তখন তারা যেন আমাকে হত্যা করে। আমার পেট চিরে ফেলে আর হাত-পা কেটে নেয়। অতঃপর (কিয়ামাতের দিন) আমি যখন আপনার সাথে সাক্ষাৎ করব তখন আপনি আমাকে প্রশ্ন করবেন, 'তোমার এই অবস্থা কীভাবে হলো?' আমি বলব, 'আপনার রাস্তায়।' অতঃপর শত্রুদলের সাক্ষাতে তিনি নিহত হলেন এবং তার সাথে তা-ই করা হলো। সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যাব রহ. আরও বলেন, 'আমি আশা করি আল্লাহ তাআলা যেভাবে তার শপথের (দুআর) প্রথম অংশ পূর্ণ করেছেন ঠিক সেভাবেই শেষাংশও পূর্ণ করবেন।'¹¹¹
টিকাঃ
১১১. সনদ হাসান গরীব। আলী ইবনু জায়িদ ইবনু জুদআন দুর্বল রাবী। আরও রয়েছে: মুসান্নাফু আব্দির রাযযাক, ৯৫৫২; ইবনু সা'আদ, তবাকাতুল কুবরা, ৩/৯০।
📄 বৃদ্ধ ও খোঁড়া সাহাবীর বাসনা
৮৬. মুসলিম ইবনু সুবাইহ রহ. বলেন, (বদরের যুদ্ধের পর) আমর ইবনু জামূহ রা. তার ছেলেদের বলেন, 'তোমরা আমাকে বদরে জান্নাতবাসী হতে বাধা দিয়েছ। আল্লাহর শপথ! আমি যদি বেঁচে থাকি.. (আগামী যুদ্ধে অবশ্যই অংশগ্রহণ করব)। উমর রা. বিষয়টি জানতে পেরে তার সাথে সাক্ষাৎ করে বললেন, 'আপনি নাকি এই কথা বলেছেন?' তিনি বললেন, 'হ্যাঁ।' বর্ণনাকারী বলেন, এরপরে অহুদ যুদ্ধের দিন উমর রা. বলেন, 'তিনি সেদিন আমার মূল লক্ষ্য ছিল। আমি তাকে খুঁজতে লাগলাম। একসময় দেখতে পেলাম তিনি সামনের সারিতেই আছেন।'¹¹²
টিকাঃ
১১২. সনদ সহীহ। আরও রয়েছে: আবু নুআইম, মা'রিফাতুস সাহাবাহ, ৪৯৮৩।
📄 পিতার কৃতিত্বে সন্তানকে সম্মাননা
৮৭. যায়িদ ইবনু আসলাম রা. বলেন, উমর ইবনু খাত্তাব রা. যখন মানুষের জন্য ভাতা নির্ধারণ করলেন তখন আব্দুল্লাহ ইবনু হানযালাহ রা.-এর জন্য দুই হাজার দিরহাম নির্ধারণ করলেন। তখন তালহা রা. তার ভ্রাতুষ্পুত্রকে নিয়ে উমর রা.-এর নিকট আসলেন। তিনি তার জন্য এর চেয়ে কম ভাতা নির্ধারণ করে দিলেন। তালহা রা. বললেন, ‘আমীরুল মুমিনীন, আপনি এই আনসারী লোকটিকে আমার ভ্রাতুষ্পুত্রের চেয়ে বেশি মর্যাদা দান করলেন?’ উমর রা. বললেন, ‘হ্যাঁ, কারণ আমি অহুদ যুদ্ধের দিন তার পিতাকে তরবারি হাতে এমন উদ্ধত ভঙ্গিতে ছুটে বেড়াতে দেখেছি যেভাবে উদ্ধত উট ছুটে বেড়ায়।”¹²⁴
টিকাঃ
১২৪. সনদ দুর্বল। আব্দুর রহমান ইবনু যায়িদ ইবনু আসলাম দুর্বল রাবী। আরও রয়েছে: মুসতাদরাকু হাকিম, ৪৯১৮।
📄 অহুদের ময়দানে জিয়াদ ইবনু সাকান রা.-এর কীর্তি
৮৮. ইয়াযিদ ইবনুস সাকান রা. বলেন, অহুদ যুদ্ধের দিন লড়াই তীব্র আকার ধারণ করল এবং রাসূল ﷺ-এর একেবারে কাছে পৌঁছে গেল। রাসূল ﷺ ভারী অস্ত্রে সজ্জিত ছিলেন। তিনি দুটো বর্ম পরিধান করেছিলেন। একসময় শত্রুপক্ষ তার একেবারে নিকটে পৌঁছে গেলে মুসআব ইবনু উমাইর এবং আবু দুজানাহ সিমাক ইবনু খারশাহ রা. তাদের প্রতিহত করতে লাগলেন। একপর্যায়ে মুসআব রা. নিহত হলেন এবং আবু দুজানা রা. আঘাতে আঘাতে জর্জরিত হয়ে পড়লেন। স্বয়ং রাসূল ﷺ চেহারা মুবারকে আঘাত পেলেন। তার চোয়ালের দাঁত ভেঙে গেল, ঠোঁট কেটে গেল আর কপালে ক্ষত সৃষ্টি হলো। এ সময় তিনি বললেন, 'কে আছে আমার জন্য নিজের জীবন বিকিয়ে (উৎসর্গ করে) দেবে?' এ কথা শুনতেই পাঁচ জন আনসারী যুবক লাফিয়ে উঠল। তাদের মধ্যে জিয়াদ ইবনু সাকান রা.-ও ছিলেন। জিয়াদ ইবনু সাকান ব্যতীত তারা সবাই একে একে শহীদ হয়ে গেলেন। সর্বশেষ ব্যক্তি হিসেবে জিয়াদ ইবনু সাকান রা. নিথর নিস্তব্ধ হয়ে যাওয়ার আগ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে গেলেন। অতঃপর মুসলমানদের আরেকটি দল এগিয়ে আসল। তারা লড়াই করতে করতে একসময় রাসূল ﷺ-এর আশপাশ থেকে শত্রুসেনাদের হটিয়ে দিল। তখন রাসূল ﷺ জিয়াদ ইবনু সাকানকে বললেন, 'আমার কাছে আসো।' কিন্তু তিনি তখন আঘাতে আঘাতে একেবারে নিশ্চল হয়ে পড়েছিলেন। রাসূল ﷺ নিজের পা ছড়িয়ে দিলেন আর জিয়াদ ইবনু সাকান রা. তার ওপর মাথা রেখেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন।¹²⁵
টিকাঃ
১২৫. সনদ হাসান। আরও রয়েছে: ইমাম বুখারী তারীখুল কাবীর, ৮/৩১৪।