📘 জান্নাতের ছায়াপথ 📄 আল্লাহ ও তাঁর রাসূল ﷺ-এর কথা অকাট্য সত্য

📄 আল্লাহ ও তাঁর রাসূল ﷺ-এর কথা অকাট্য সত্য


৭৫. মা'মার রহ. বর্ণনা করেন,
عَنْ قَتَادَةَ قَوْلَهُ: {وَلَمَّا رَأَى الْمُؤْمِنُونَ الْأَحْزَابَ قَالُوا هَذَا مَا وَعَدَنَا اللَّهُ وَرَسُولُهُ وَصَدَقَ اللَّهُ وَرَسُولُهُ} [الأحزاب: ٢٢] . قَالَ أَنْزَلَ اللَّهُ فِي سُورَةِ الْبَقَرَةِ: {أَمْ حَسِبْتُمْ أَنْ تَدْخُلُوا الْجَنَّةَ وَلَمَّا يَأْتِكُمْ مَثَلُ الَّذِينَ خَلَوْا مِنْ قَبْلِكُمْ مَسَّتْهُمُ الْبَأْسَاءُ وَالضَّرَّاءُ وَزُلْزِلُوا} [البقرة: ٢١٤] ، {وَلَمَّا رَأَى الْمُؤْمِنُونَ الْأَحْزَابَ قَالُوا هَذَا مَا وَعَدَنَا اللَّهُ وَرَسُولُهُ} [الأحزاب: ٢٢] لِقَوْلِهِ: {أَمْ حَسِبْتُمْ أَنْ تَدْخُلُوا الجنة} [البقرة: ٢١٤]
আল্লাহ তাআলা বলেন,
﴿وَلَمَّا رَأَى الْمُؤْمِنُونَ الْأَحْزَابَ قَالُوا هَذَا مَا وَعَدَنَا اللَّهُ وَرَسُولُهُ وَصَدَقَ اللَّهُ وَرَسُولُهُ وَمَا زَادَهُمْ إِلَّا إِيمَانًا وَتَسْلِيمًا﴾
"যখন মুমিনরা শত্রু বাহিনীকে দেখল, তখন বলল, আল্লাহ ও তাঁর রসূল এরই ওয়াদা আমাদের দিয়েছিলেন এবং আল্লাহ ও তাঁর রসূল সত্য বলেছেন। এতে তাদের ঈমান ও আত্মসমর্পণই বৃদ্ধি পেল।"¹⁰⁸
এর ব্যাখ্যায় কাতাদা রহ. বলেন, 'এই আয়াতে সূরা বাকারার একটি আয়াতের দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে।' সেখানে আল্লাহ তাআলা বলেন,
(أَمْ حَسِبْتُمْ أَن تَدْخُلُوا الْجَنَّةَ وَلَمَّا يَأْتِكُم مَّثَلُ الَّذِينَ خَلَوْا مِن قَبْلِكُم مَسَّتْهُمُ الْبَأْسَاءُ وَالضَّرَّاءُ وَزُلْزِلُوا حَتَّى يَقُولَ الرَّسُولُ وَالَّذِينَ آمَنُوا مَعَهُ مَتَى نَصْرُ اللَّهِ أَلَا إِنَّ نَصْرَ اللَّهِ قَرِيبٌ)
"তোমাদের কি এই ধারণা যে, তোমরা জান্নাতে চলে যাবে, অথচ তোমরা সেসব লোকদের অবস্থা অতিক্রম করোনি, যারা তোমাদের পূর্বে অতীত হয়েছে। তাদের ওপর বিপদ ও কষ্ট এসেছে। আর এমনিভাবে শিহরিত হতে হয়েছে, যাতে নবী ও তাঁর প্রতি যারা ঈমান এনেছিল তাদের পর্যন্ত এ কথা বলতে হয়েছে যে, আল্লাহর সাহায্যে কখন আসবে! তোমরা শুনে নাও, আল্লাহর সাহায্যে একান্তই নিকটবর্তী।"¹⁰⁹ ¹¹⁰

টিকাঃ
১০৮. সূরা আহযাব, ৩৩:২২
১০৯. সূরা বাকারা, ২:২১৪
১১০. সনদ সহীহ। মূলত এই বর্ণনায় কষ্ট ও মুসিবত সহ্য করার পর সাহায্যের দেখা পাওয়ার আলোচনা করা হয়েছে। আরও রয়েছে: তাফসীরুত তাবারী, ১৯/৬০।

📘 জান্নাতের ছায়াপথ 📄 জিহাদের বাসনা ও জান্নাতের সুঘ্রাণ

📄 জিহাদের বাসনা ও জান্নাতের সুঘ্রাণ


৭৬. আনাস ইবনু মালিক রা. বলেন, আমার চাচা আনাস ইবনু নাযর রা., যার নামানুসারে আমার নাম রাখা হয়েছে, বলেন যে, তিনি রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর সাথে বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণ করতে পারেননি। ব্যাপারটি তার নিকট অসহনীয় লাগছিল। তিনি বলেন, মুশরিকদের সাথে প্রথম যে যুদ্ধে রাসূলুল্লাহ ﷺ উপস্থিত ছিলেন আমি তাতে অনুপস্থিত রইলাম। আল্লাহর কসম! যদি তিনি আমাকে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর সাথে কোনো যুদ্ধে অংশগ্রহণ করার সুযোগ দেন তবে আল্লাহ তাআলা অবশ্যই দেখবেন আমি কি করি। এ কথা বলার সাথে সাথে তার ভয় হলো যে, তিনি (যথাসময়ে আবার) বিপরীত কিছু বলেন কি না। পরবর্তী বছর তিনি রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর সাথে উহুদের যুদ্ধে শরীক হন। উহুদে যেতে পথিমধ্যে সা'দ ইবনু মুআয রা.-এর সাথে তার দেখা হয়। তিনি প্রশ্ন করেন, হে আবূ আমর, কোথায় যাচ্ছ? তিনি বললেন, আহা! জান্নাতের ঘ্রাণের দিকে। আমি উহুদের দিকে তা অনুভব করছি। (বর্ণনাকারী বলেন), তিনি যুদ্ধ করতে করতে শহীদ হন। তার শরীরে আশিটিরও বেশি জখম ছিল। এর মধ্যে কিছু ছিল তরবারির আঘাত, কিছু তিরের আঘাত আর কিছু বর্শার আঘাত। আমার ফুফু রুবাই বিনতু নাযর রা. বলেন, জখমের কারণে আমি আমার ভাইকে চিনতে পারছিলাম না। শুধু তার আঙুলের গোছা দেখেই তাকে চিনতে পেরেছি। তার সম্পর্কেই এ আয়াত অবতীর্ণ হয়,

(মিনের মু’মিনিনা রিজালুন সাদাকু মা আহাদুল্লাহা আলাইহি ফামিনহুম মান কাদা নাহবাহু ওয়া মিনহুম মান ইয়ানতাযিরু ওয়ামা বাদ্দালু তাবদিলা)।

"মুমিনদের মধ্যে কিছু লোক আল্লাহর সাথে কৃত ওয়াদা পূর্ণ করেছে। তাদের কেউ কেউ মৃত্যুবরণ করেছে এবং কেউ কেউ প্রতীক্ষা করছে। তারা তাদের সংকল্প মোটেই পরিবর্তন করেনি।"¹¹¹

টিকাঃ
১১১. সূরা 'আহযাব, ৩৩:২৩; সনদ সহীহ। আরও রয়েছে: সুনানু তিরমিযী, ৩২০০; সহীহ মুসলিম, ১৯০৩।

📘 জান্নাতের ছায়াপথ 📄 জান্নাতের প্রশস্ততা

📄 জান্নাতের প্রশস্ততা


৭৭. আবু বকর ইবনু হাফস রহ. বলেন, বদর যুদ্ধের দিন রাসূল ﷺ এই আয়াত তিলাওয়াত করেন,

(ওয়া সারিউ ইলা মাগফিরাতিম মির রব্বিকুম ওয়া জান্নাতিন আরদুহাস সামাওয়াতি ওয়াল আরদু উয়িদ্দাত লিল মুত্তাকিন)।

"তোমরা তোমাদের পালনকর্তার ক্ষমা এবং জান্নাতের দিকে ছুটে যাও যার সীমানা হচ্ছে আসমান ও জমিন, যা তৈরি করা হয়েছে মুত্তাকীদের (আল্লাহভীরুদের) জন্য।"¹¹⁰

তখন ইবনু কাসহাম আনসারী নামক জনৈক সাহাবী বলে ওঠেন, 'বখ বখ' অর্থাৎ বাহ বাহ! বর্ণনাকারী আবু বকর ইবনু হাফস রহ. বলেন, 'শব্দটি বিস্ময় প্রকাশ এবং অস্বীকার উভয় অর্থেই ব্যবহৃত হয়ে থাকে।' তার মুখে এ কথা শুনে রাসূল ﷺ বললেন, 'বখ বখ' তথা 'বাহ! বাহ!' বলে তুমি কী বোঝাতে চাইছ? তিনি বললেন, 'ইয়া রাসূলাল্লাহ, আমি এটা শুনে বিস্মিত হয়েছে। আমি যদি জান্নাতে প্রবেশ করি তাহলে কি আমার জন্য এই পরিমাণ প্রশস্ততা হবে?' রাসূল ﷺ বললেন, 'হ্যাঁ, হবে।' ইবনু কাসহাম রা. আবার বলেন, 'ইয়া রাসূলাল্লাহ, আমার মধ্যে আর এই জান্নাতের মধ্যে কতটুকু দূরত্ব রয়েছে?' রাসূল ﷺ বললেন, 'তুমি এই (শত্রু) গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে দাঁড়াবে আর এর পরেই আল্লাহ তাআলার বাণীর সত্যতা উপলব্ধি করতে পারবে।' এই শুনে তিনি তার হাতে থাকা কয়েকটি খেজুর ছুড়ে ফেললেন আর দুনিয়ার খাদ্য ত্যাগ করে এগিয়ে গেলেন এবং লড়াই করতে করতে শহীদ হলেন।¹¹⁴

টিকাঃ
১১০. সূরা আ-লু ইমরান, ৩:১৩৩।
১১৪. সনদ মুরসাল। বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য। আনাস ইবনু মালিক রা. হতে মারফু সনদে সহীহ বর্ণনা আছে। সহীহ মুসলিম, ১৯০১।

📘 জান্নাতের ছায়াপথ 📄 খোঁড়া ও বৃদ্ধ সাহাবীর জিহাদের বাসনা

📄 খোঁড়া ও বৃদ্ধ সাহাবীর জিহাদের বাসনা


৭৮. ইকরামা রহ. বলেন, আমর ইবনু জামূহ রা. ছিলেন একজন খোঁড়া আনসারী সাহাবী। রাসূল ﷺ যখন বদরের উদ্দেশ্যে রওনা দিলেন তখন তিনি তার ছেলেদের ডেকে বললেন, 'আমাকে নিয়ে চলো।' রাসূল ﷺ-এর নিকট তার খোঁড়া অবস্থা তুলে ধরা হলে তিনি তাকে ঘরে থাকার অনুমতি দিলেন। এরপর অহুদের উদ্দেশে যখন লোকজন বের হতে লাগল, তিনি তার ছেলেদের ডেকে বললেন, 'আমাকে নিয়ে চলো।' তারা বলল, 'রাসূল ﷺ আপনাকে অবকাশ দিয়েছেন এবং ঘরে থাকার অনুমতি দিয়েছেন।' তিনি বললেন, 'হায়! তোমরা আমাকে বদরের যুদ্ধে জান্নাতে যেতে বাধা দিয়েছ। এখন আবার অহুদেও বাধা দিচ্ছ!' এই বলে তিনি বেরিয়ে গেলেন। যখন শত্রুপক্ষের মুখোমুখি হলেন তখন তিনি রাসূল ﷺ-কে বললেন, 'আপনি কি মনে করেন, আজ যদি আমি নিহত হই তবে খোঁড়া অবস্থাতেই জান্নাতে হেঁটে বেড়াব?' রাসূল ﷺ বললেন, 'হ্যাঁ।' তিনি বললেন, 'সেই সত্তার শপথ! যিনি আপনাকে সত্য (দীন)-সহ প্রেরণ করেছেন! আমি এই পা নিয়ে আজই জান্নাতে ঘুরে বেড়াব ইনশা আল্লাহ।' অতঃপর তিনি তার সাথে থাকা সুলাইম নামক একজন কৃতদাসকে ডেকে বললেন, 'তুমি তোমার পরিবারের কাছে ফিরে যাও।' সুলাইম বললেন, 'আজ যদি আমি আপনার পাশে থেকে ভালো কোনো কাজে আসি তাতে আপনার কী এমন ক্ষতি হবে?' তখন তিনি বললেন, 'তাহলে এগিয়ে যাও।' কৃতদাসটি এগিয়ে গেল এবং লড়াই করে নিহত হলো। অতঃপর তিনিও এগিয়ে গেলেন এবং লড়াই করে নিহত হলেন।¹¹⁵

টিকাঃ
১১৫. সনদ মুরসাল সহীহ। আরও রয়েছে: ইবনুল আসাকীর, তারীখু মাদীনাতি দিমাশক, ৬৫/১৪৪।

ফন্ট সাইজ
15px
17px