📘 জান্নাতের ছায়াপথ 📄 শহীদের প্রকারসমূহ

📄 শহীদের প্রকারসমূহ


৬৮. জাবির ইবনু আতীক রা. বলেন,
أَنْ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ جَاءَ يَعُودُ عَبْدَ اللهِ بْنَ ثَابِتٍ، فَوَجَدَهُ قَدْ غَلَبَ، فَصَاحَ بِهِ، فَلَمْ يُجِبْهُ، فَاسْتَرْجَعَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَقَالَ: غُلِبْنَا عَلَيْكَ أَبَا الربيع، فَصَاحَ النِّسْوَةُ، وَبَكَيْنَ، فَجَعَلَ ابْنُ عَتِيكَ يُسَكِّتُهُنَّ، فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَসَلَّمَ: دَعْهُنَّ، فَإِذَا وَجَبَ فَلَا تَبْكِينَ بَاكِيَةٌ. قَالُوا: وَمَا الْوُجُوبُ يَا رَسُولَ اللهِ؟ قَالَ: إِذَا مَاتَ . قَالَتِ ابْنَتُهُ: وَاللَّهِ إِنْ كُنْتُ لأَرْجُو أَنْ تَكُونَ شَهِيدًا؛ فَإِنَّكَ قَدْ قَضَيْتَ جِهَازَكَ. قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِنَّ اللهَ تَبَارَكَ وَتَعَالَى قَدْ أَوْقَعَ أَجْرَهُ عَلَى قَدْرِ نِيتِهِ، وَمَا تَعُدُونَ الشَّهَادَةَ ؟ قَالُوا: الْقَتْلُ فِي سَبِيلِ اللهِ. قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَসَلَّمَ: الشُّهَدَاءُ سَبْعُ سِوَى الْقَتْلِ فِي سَبِিলِ اللهِ الْمَبْطُونُ شَهِيدٌ، وَالْغَرِيقُ شَهِيدٌ، وَالْمَطْعُونُ شَهِيدٌ، وَصَاحِبُ الْهَدْمِ شَهِيدٌ، وَصَاحِبُ الْحَرِيقِ شَهِيدٌ، وَالْمَرْأَةُ تَمُوتُ بِجُمْعِ شَهِيدٌ
"রাসূল ﷺ আব্দুল্লাহ ইবনু সাবিত রা.⁹⁶ এর রোগের কথা শুনে তাকে দেখতে আসলেন। এসে দেখেন তিনি অচেতন অবস্থায় রয়েছেন। রাসূল ﷺ তাকে জোরে ডাকলেন। কিন্তু তিনি কোনো সাড়া দিলেন না (তবে তখনো মারা যাননি)। তখন রাসূল ﷺ ‘ইন্না লিল্লাহ’ পাঠ করে বললেন, ‘আবু রাবী, আমরা তোমাকে হারালাম!’ এ কথা শুনে মহিলারা চিৎকার করে উঠল। কাঁদতে শুরু করল। জাবির ইবনু আতীক রা. তাদের থামানোর চেষ্টা করলেন। রাসূল ﷺ বললেন, ‘এদের ছেড়ে দাও (কাঁদতে দাও)। তবে যখন সে স্থির হয়ে যাবে তখন যেন আর (এভাবে চিৎকার করে) না কাঁদে।’ লোকজন বলল, ‘ইয়া রাসূলাল্লাহ, স্থির হয়ে যাওয়ার অর্থ কী?’ রাসূল ﷺ বললেন, ‘যখন মারা যাবে।’ এমন সময় তার মেয়ে (পিতাকে লক্ষ্য করে) বলল, ‘আল্লাহর শপথ! আমার আশা ছিল আপনি শহীদ হবেন! আপনি তো (আল্লাহর রাস্তার) প্রস্তুতি সেরেই রেখেছিলেন।’ রাসূল ﷺ বললেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা তাকে তার নিয়্যাত অনুযায়ী প্রতিদান দেবেন। শাহাদাত বলতে তোমরা কী বোঝো?’ উপস্থিত লোকেরা বলল, ‘আল্লাহর রাস্তায় নিহত হওয়া।’ রাসূল ﷺ বললেন, আল্লাহর রাস্তায় নিহত হওয়া ছাড়াও সাত প্রকার শহীদ রয়েছে। ক) পেটের পীড়ায় মৃত্যুবরণকারী শহীদ, খ) পানিতে ডুবে মৃত্যুবরণকারী শহীদ, গ) মহামারিতে মৃত্যুবরণকারী শহীদ, ঘ) মাটিচাপা পড়ে মৃত্যুবরণকারী শহীদ, ঙ) আগুনে পুড়ে মৃত্যুবরণকারী শহীদ, এবং চ) গর্ভবতী অবস্থায় মৃত্যুবরণকারী নারীও শহীদ।⁹⁷

৬৯. তরিক ইবনু শিহাব রহ. বলেন,
ذَكَرُوا عِنْدَ اللهِ الشُّهَدَاءَ ، فَقِيلَ : إِنْ فُلَانًا قُتِلَ يَوْمَ كَذَا وَكَذَا شَهِيدًا ، وَفُلَانًا قُتِلَ يَوْمَ كَذَا وَكَذَا شَهِيدًا . فَقَالَ عَبْدُ اللهِ : لَئِنْ لَمْ يَكُنْ شُهَدَاؤُكُمْ إِلَّا مَنْ قُتِلَ إِنَّ شُهَدَاءُكُمْ إِذًا لَقَلِيلٌ ، إِنَّ مَنْ يَتَرَدَّى مِنَ الْجِبَالِ ، وَيَغْرَقُ فِي الْبُحُورِ ، وَتَأْكُلُهُ السَّبَاعُ شُهَدَاءُ عِنْدَ اللهِ يَوْমَ الْقِيَامَةِ
"একবার কয়েকজন লোক আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ রা.-এর নিকট শহীদগণের আলোচনা করল। তারা বলতে লাগল, 'অমুক ব্যক্তি অমুক যুদ্ধের দিন শহীদ হয়েছেন আর অমুক ব্যক্তি অমুক যুদ্ধের দিন।' তখন আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ রা. বললেন, 'একমাত্র (আল্লাহর রাস্তায়) নিহত ব্যক্তিগণই যদি শহীদ হয়ে থাকেন তাহলে তো তোমাদের দৃষ্টিতে শহীদের সংখ্যা অনেক কম হবে! যে ব্যক্তি পাহাড় থেকে পড়ে গেছে বা সমুদ্রে ডুবে গেছে, অথবা যাকে হিংস্র পশু খেয়ে ফেলেছে তারা সবাই কিয়ামাতের দিন আল্লাহ তাআলার নিকট শহীদ বলে গণ্য হবেন।”⁹⁹

টিকাঃ
৯৬. গ্রন্থকার আব্দুল্লাহ ইবনু হারিস লিখেছেন। আসলে তা আব্দুল্লাহ ইবনু সাবিত হবে।
৯৭. এই বর্ণনায় সপ্তম প্রকারটির উল্লেখ নেই। সুনানু নাসাঈর এক বর্ণনায় অতিরিক্ত রয়েছে 'وَصَاحِبُ ذَاتِ الْجَنْبِ شَهِيدٌ' বিষফোঁড়ায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণকারী শহীদ। সুনানু নাসাঈ, ১৮৪৬। সনদ সহীহ।
৯৮. সনদ সহীহ।
৯৯. সনদ হাসান গরীব। আরও রয়েছে: সুনানু সাঈদ ইবনি মানসূর, ২৬১৭।

📘 জান্নাতের ছায়াপথ 📄 আল্লাহর রাস্তার একদিন

📄 আল্লাহর রাস্তার একদিন


৭০. আবু হুরাইরা রা. বলেন,
أَيَسْتَطِيعُ أَحَدُكُمْ أَنْ يَقُومَ فَلَا يَفْتُرُ، وَيَصُومُ فَلَا يُفْطِرُ، مَا كَانَ حَيَّا؟ فَقِيلَ لَهُ: يَا أَبَا هُرَيْرَةَ، وَمَنْ يُطِيقُ هَذَا؟ فَقَالَ: وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ إِنَّ يَوْمَ الْمُجَاهِدِ فِي سَبِيلِ اللَّهِ أَفْضَلُ مِنْهُ
"তোমাদের মধ্যে এমন কেউ আছে কি যে আমৃত্যু বিরামহীন সালাত আদায় করে যাবে আর বিরতিহীন সিয়াম পালন করবে? বলা হলো, 'হে আবু হুরাইরা, কে এমন সামর্থ্য রাখে?' তিনি বললেন, ওই সত্তার শপথ, যার হাতে আমার প্রাণ! আল্লাহর রাস্তার মুজাহিদের একদিন তার চেয়েও উত্তম!"¹⁰⁰

৭১. আমীরুল মুমিনীন উসমান ইবনু আফফান রা. তার গোত্রের লোকজনকে উদ্দেশ্য করে বলেন,
لَقَدْ تَبَيِّنَ، إِي وَاللهِ، لَقَدْ شَغَلْتُكُمْ عَنِ الْجِهَادِ حَتَّى حَقَّتْ عَلَى وَعَلَيْكُمْ، فَمَنْ أَحَبّ أَنْ يَلْحَقَ بِالشَّامِ، فَلْيَفْعَلْ، وَمَنْ أَحَبّ أَنْ يَلْحَقَ بِالْعِرَاقِ فَلْيَفْعَلْ، وَمَنْ أَحَبّ أَنْ يَلْحَقَ بِمِصْرَ فَلْيَفْعَلْ، فَإِنَّ يَوْمَ الْمُجَاهِدِ فِي سَبِيلِ اللَّهِ كَأَلْفِ يَوْمِ لِلصَّائِمِ لَا يُفْطِرُ، وَالْقَائِمُ لَا يَفْتُرُ
"হ্যাঁ, আল্লাহর শপথ! এটা সুস্পষ্ট হয়ে গিয়েছে যে, আমি তোমাদের জিহাদ হতে বিরত রেখেছিলাম যদ্দরুন আমার এবং তোমাদের ওপর যা হওয়ার তা তো হয়েই গেছে! অতএব যে শামের দিকে (জিহাদের উদ্দেশ্যে) যেতে চায় সে যেন তা-ই করে। যে ইরাক অভিমুখে যেতে চায় সে যেন তা-ই করে আর যে মিসরের দিকে যেতে চায় সেও যেন তা-ই করে। কেননা, আল্লাহর রাস্তার মুজাহিদের একদিন ওই ব্যক্তির হাজার দিনের সমান, যে বিরতিহীন সিয়াম পালন করে আর নিরলস সালাতে দণ্ডায়মান থাকে।"¹⁰¹

৭২. একবার উসমান ইবনু আফফান রা. মিনায় অবস্থিত মাসজিদুল খাইফে উপস্থিত হয়ে বলেন,
يَا أَيُّهَا النَّاسُ، إِنِّي سَمِعْتُ حَدِيثًا مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَدْ كُنْتُ كَتَمْتُكُمُوهُ ضِنَّا بِكُمْ، وَقَدْ بَدَا لِي أَنْ أُبْدِيَهُ نَصِيحَةٌ لِلَّهِ وَلَكُمْ. سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: يَوْمٌ فِي سَبِيلِ اللَّهِ خَيْرٌ مِنْ أَلْفِ يَوْمٍ فِيمَا سِوَاهُ، فَلْيَنْظُرْ كُلُّ امْرِئٍ مِنْكُمْ لِنَفْسِهِ
“হে লোকসকল, আমি রাসূল ﷺ-এর নিকট হতে একটি হাদীস শুনেছিলাম। কিন্তু তোমরা (দীনের ব্যাপারে) কৃপণ হয়ে যাবে এই আশঙ্কায় তা গোপন রেখেছিলাম। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে যে আল্লাহর এবং তোমাদের কল্যাণের উদ্দেশ্যে তোমাদের নিকট তা প্রকাশ করে দেব। আমি রাসূল ﷺ-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, 'আল্লাহর রাস্তায় একদিন এর বাইরের হাজার দিন অপেক্ষা উত্তম।' অতএব তোমাদের সকলেই যেন নিজ নিজ কর্তব্য নির্ধারণ করে নেয়।”¹⁰²

টিকাঃ
১০০. সনদ হাসান।
১০১. সনদ গ্রহণযোগ্য নয়। একাধিক বর্ণনাকারী সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যায় না।
১০২. সনদ হাসান। আরও রয়েছে: সহীহ ইবনু হিব্বান, ৪৬০৯।

📘 জান্নাতের ছায়াপথ 📄 জিহাদ একটি ফরয বিধান

📄 জিহাদ একটি ফরয বিধান


৭৩. আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারক রহ. বলেন, জুওয়াইবির রহ. তার নিকট বর্ণনা করেন,
عَنِ الضَّحاكِ فِي قَوْلِهِ: {كُتِبَ عَلَيْكُمُ الْقِتَالُ وَهُৱ كُرْهُ لَّكُمْ} [البقرة: ٢١٦]. قَالَ: فَنَزَلَتْ آيَةُ الْقِتَالِ فَكَرِهُوهَا ، فَلَمَّا بَيْنَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ ثَوَابَ أَهْلِ الْقِتَالِ، وَفَضِيلَةَ أَهْلِ الْقِتَالِ، وَمَا أَعَدَّ اللهُ لِأَهْلِ الْقِتَالِ مِنَ الْحَيَاةِ وَالرِّزْقِ لَهُمْ، لَمْ يُؤْثِرُ أَهْلُ الْيَقِينِ بِذَلِكَ عَلَى الْجِهَادِ شَيْئًا، فَأَحَبُّوهُ وَرَغِبُوا فِيهِ، حَتَّى أَنَّهُمْ يَسْتَحْمِلُونَ النبي صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، فَإِذَا لَمْ يَجِدُ مَا يَحْمِلُهُمْ تَوَلَّوْا وَأَعْيُنُهُمْ تَفِيضُ مِنَ الدَّمْعِ حَزَنًا أَلَّا يَجِدُوا مَا يُنْفِقُونَ} [التوبة: ٩২]، وَالْجِهَادُ فَرِيضَةً مِنْ فَرَائِضِ اللَّهِ
আল্লাহ তাআলা বলেন,
কুতিবা আলাইকুমুল কিতালু ওয়া হুয়া কুরহুল লাকুম।
'তোমাদের ওপর (সশস্ত্র) যুদ্ধ ফরয করা হয়েছে, অথচ তোমাদের কাছে তা অপছন্দনীয়। '¹⁰³
এর ব্যাখ্যায় ইমাম যাহহাক রহ. বলেন, কিতালের আয়াত নাযিল হওয়ার পর তাদের (আসহাবুর রাসূলের কারও কারও) কাছে তা কষ্টকর মনে হলো। এরপর যখন আল্লাহ তাআলা কিতালে অংশ নেয়া লোকজনের সাওয়াব, মর্যাদা এবং তাদের জন্য আল্লাহ তাআলার বরাদ্দকৃত জীবন ও রিযিক ইত্যাদির বর্ণনা দিলেন তখন তাতে বিশ্বাস রাখা লোকজন (সাহাবীগণ) অন্যকিছুকেই আর জিহাদের ওপর প্রাধান্য দিলেন না। তারা জিহাদের জন্য এতটাই উদগ্রীব ও উন্মুখ হয়ে উঠলেন যে, রাসূল ﷺ-এর নিকট জিহাদে যাওয়ার বাহনের আবদার করতে লাগলেন। প্রয়োজনীয় বাহন না পেয়ে তাদের অবস্থা এমন হলো, যা কুরআনে বর্ণিত হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন,
তাওয়াল্লাউ ওয়া আ’ইউনুহুম তাফিদু মিনাদ্দাম’ই হাযানান আল্লা ইয়াজিদু মা ইউনফিকুন।
'তখন তারা ফিরে গেছে অথচ তখন তাদের চোখ দিয়ে অশ্রু বইছিল এ দুঃখে যে, তারা এমন কোনো বস্তু পাচ্ছে না, যা ব্যয় করবে।¹⁰⁴
(ইমাম যাহহাক বলেন,) জিহাদ আল্লাহ তাআলার ফরয বিধানসমূহের মধ্যে অন্যতম একটি ফরয।¹⁰⁵

৭৪. উসমান ইবনু আতা রহ. এর পিতা আতা খুরাসানী রহ. তার নিকট বর্ণনা করেন,
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَوْلَهُ: {مَا لَكُمْ لَا تُقَاتِلُونَ فِي سَبِيلِ اللهِ} [النساء: ٧٥]. قَالَ وَفِي الْمُسْتَضْعَفِينَ
আল্লাহ তাআলা বলেন, ﴿مَا لَكُمْ لَا تُقَاتِلُونَ فِي سَبِيلِ اللهِ﴾
'তোমাদের কী হলো যে, তোমরা আল্লাহর রাস্তায় কিতাল করছ না? ¹⁰⁶
এর ব্যাখ্যায় আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস রা. বলেন, 'আয়াতটি হিজরতের (হুকুমের) পর মক্কায় অবস্থানকারী অপারগ মুসলমানদের ব্যাপারে অবতীর্ণ হয়।'¹⁰⁷

টিকাঃ
১০৩. সূরা বাকারা, ২:২১৬
১০৪. সূরা তাওবা (বারাআত), ৯:৯২
১০৫. সনদ সহীহ।
১০৬. সূরা নিসা, ৪:৭৫
১০৭. সনদ হাসান গরীব। উসমান ইবনু আতা খুরাসানী যঈফ রাবী। তবে বর্ণনাটি প্রসিদ্ধ। আরও রয়েছে: তাফসীরুত তাবারী, ৭/২২৬, ২২৭।

📘 জান্নাতের ছায়াপথ 📄 আল্লাহ ও তাঁর রাসূল ﷺ-এর কথা অকাট্য সত্য

📄 আল্লাহ ও তাঁর রাসূল ﷺ-এর কথা অকাট্য সত্য


৭৫. মা'মার রহ. বর্ণনা করেন,
عَنْ قَتَادَةَ قَوْلَهُ: {وَلَمَّا رَأَى الْمُؤْمِنُونَ الْأَحْزَابَ قَالُوا هَذَا مَا وَعَدَنَا اللَّهُ وَرَسُولُهُ وَصَدَقَ اللَّهُ وَرَسُولُهُ} [الأحزاب: ٢٢] . قَالَ أَنْزَلَ اللَّهُ فِي سُورَةِ الْبَقَرَةِ: {أَمْ حَسِبْتُمْ أَنْ تَدْخُلُوا الْجَنَّةَ وَلَمَّا يَأْتِكُمْ مَثَلُ الَّذِينَ خَلَوْا مِنْ قَبْلِكُمْ مَسَّتْهُمُ الْبَأْسَاءُ وَالضَّرَّاءُ وَزُلْزِلُوا} [البقرة: ٢١٤] ، {وَلَمَّا رَأَى الْمُؤْمِنُونَ الْأَحْزَابَ قَالُوا هَذَا مَا وَعَدَنَا اللَّهُ وَرَسُولُهُ} [الأحزاب: ٢٢] لِقَوْلِهِ: {أَمْ حَسِبْتُمْ أَنْ تَدْخُلُوا الجنة} [البقرة: ٢١٤]
আল্লাহ তাআলা বলেন,
﴿وَلَمَّا رَأَى الْمُؤْمِنُونَ الْأَحْزَابَ قَالُوا هَذَا مَا وَعَدَنَا اللَّهُ وَرَسُولُهُ وَصَدَقَ اللَّهُ وَرَسُولُهُ وَمَا زَادَهُمْ إِلَّا إِيمَانًا وَتَسْلِيمًا﴾
"যখন মুমিনরা শত্রু বাহিনীকে দেখল, তখন বলল, আল্লাহ ও তাঁর রসূল এরই ওয়াদা আমাদের দিয়েছিলেন এবং আল্লাহ ও তাঁর রসূল সত্য বলেছেন। এতে তাদের ঈমান ও আত্মসমর্পণই বৃদ্ধি পেল।"¹⁰⁸
এর ব্যাখ্যায় কাতাদা রহ. বলেন, 'এই আয়াতে সূরা বাকারার একটি আয়াতের দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে।' সেখানে আল্লাহ তাআলা বলেন,
(أَمْ حَسِبْتُمْ أَن تَدْخُلُوا الْجَنَّةَ وَلَمَّا يَأْتِكُم مَّثَلُ الَّذِينَ خَلَوْا مِن قَبْلِكُم مَسَّتْهُمُ الْبَأْسَاءُ وَالضَّرَّاءُ وَزُلْزِلُوا حَتَّى يَقُولَ الرَّسُولُ وَالَّذِينَ آمَنُوا مَعَهُ مَتَى نَصْرُ اللَّهِ أَلَا إِنَّ نَصْرَ اللَّهِ قَرِيبٌ)
"তোমাদের কি এই ধারণা যে, তোমরা জান্নাতে চলে যাবে, অথচ তোমরা সেসব লোকদের অবস্থা অতিক্রম করোনি, যারা তোমাদের পূর্বে অতীত হয়েছে। তাদের ওপর বিপদ ও কষ্ট এসেছে। আর এমনিভাবে শিহরিত হতে হয়েছে, যাতে নবী ও তাঁর প্রতি যারা ঈমান এনেছিল তাদের পর্যন্ত এ কথা বলতে হয়েছে যে, আল্লাহর সাহায্যে কখন আসবে! তোমরা শুনে নাও, আল্লাহর সাহায্যে একান্তই নিকটবর্তী।"¹⁰⁹ ¹¹⁰

টিকাঃ
১০৮. সূরা আহযাব, ৩৩:২২
১০৯. সূরা বাকারা, ২:২১৪
১১০. সনদ সহীহ। মূলত এই বর্ণনায় কষ্ট ও মুসিবত সহ্য করার পর সাহায্যের দেখা পাওয়ার আলোচনা করা হয়েছে। আরও রয়েছে: তাফসীরুত তাবারী, ১৯/৬০।

ফন্ট সাইজ
15px
17px