📘 জান্নাতের ছায়াপথ 📄 যে সকল মুজাহিদ ও তাদের সন্তানের রিযিক জান্নাতে আল্লাহর দায়িত্বে রয়েছে

📄 যে সকল মুজাহিদ ও তাদের সন্তানের রিযিক জান্নাতে আল্লাহর দায়িত্বে রয়েছে


৬৫. কাসিম ইবনু মুখাইমারাহ এবং হাকাম ইবনু উতাইবাহ রহ. বলেন,
أَنْ حَارِثَةَ بْنَ النِّعْمَانِ أَتَى رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ يُنَاجِي جِبْرِيلَ , فَجَلَسَ، وَلَمْ يُسَلِّمْ، فَقَالَ جِبْرِيلُ : يَا رَسُولَ اللَّهِ، أَمَا إِنَّ هَذَا لَوْ سَلَّمَ لَرَدَدْنَا عَلَيْهِ. قَالَ: وَهَلْ تَعْرِفُهُ قَالَ: নমনম هَذَا مِنَ الثَّمَانِينَ الَّذِينَ صَبَرُوا مَعَكَ يَوْمَ حُنَيْنٍ، أَرْزَاقُهُمْ وَأَرْزَاقُ أَوْلَادِهِمْ عَلَى اللَّهِ فِي الْجَنَّةِ
"একবার হারিসা ইবনু নু'মান রা. রাসূল ﷺ-এর নিকট আসলেন। তিনি জিবরীল আ.-এর সাথে নিভৃতে কথা বলছিলেন। হারিসা রা. সালাম না দিয়েই বসে পড়লেন। জিবরীল আ. বললেন, 'ইয়া রাসূলাল্লাহ, লোকটি সালাম দিলে আমি তার সালামের উত্তর দিতাম।' রাসূল ﷺ বললেন, 'আপনি কি তাকে চেনেন?' জিবরীল আ. বললেন, 'হ্যাঁ, তিনি সেই আশি জনের একজন, যারা হুনাইনের যুদ্ধে আপনার সাথে ধৈর্যধারণ করেছিলেন। আল্লাহ তাআলার দায়িত্বে জান্নাতে তাদের এবং তাদের সন্তানদের রিযিক রয়েছে।"⁹²

টিকাঃ
৯২. সনদ সহীহ।

📘 জান্নাতের ছায়াপথ 📄 আল্লাহর রাস্তায় যেকোনো প্রকার মৃত্যুতেই জান্নাতের নিআমাত রয়েছে

📄 আল্লাহর রাস্তায় যেকোনো প্রকার মৃত্যুতেই জান্নাতের নিআমাত রয়েছে


৬৬. সালামান ইবনু আমীর শা'বানী রহ. বলেন,
أَنَّ عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ جَحْدَمِ الْخَوْلَا نِي حَدَثَهُ أَنَّهُ حَضَرَ فَضَالَةَ بْنَ عُبَيْدٍ فِي الْبَحْرِ مَعَ جَنَازَتَيْنِ، أَحَدُهُمَا أُصِيبَ بِمَنْجَنِيقٍ، وَالْآخَرُ تُوُفِّي، فَجَلَسَ فَضَالَهُ عِنْدَ قَبْرِ الْمُتَوَلَّى، فَقِيلَ لَهُ: تَرَكْتَ الشَّهِيدَ، فَلَمْ تَجْلِسُ عِنْدَهُ؟ فَقَالَ: مَا أُبَالِي مِنْ أَيِّ حُفْرَتَيْهِمَا بُعِثْتُ، إِنَّ اللهَ تَبَارَكَ وَتَعَالَى يَقُولُ وَالَّذِينَ هَاجَرُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ ثُمَّ قُتِلُوا أَوْ مَاتُوا لَيَرْزُقَنَهُمُ اللهُ رِزْقًا حَسَنًا وَإِنَّ اللَّهَ لَهُৱ خَيْرُ الرَّازِقِينَ لَيُدْخِلَنَّهُمْ مُدْخَلًا يَرْضَوْنَهُ} [الحج: ٥٩] . فَمَا تَبْغِي أَيُّهَا الْعَبْدُ إِذَا دَخَلْتَ مُدْخَلًا تَرْضَاهُ وَرُزِقْتَ رِزْقًا حَسَنًا، وَاللَّهِ مَا أُبَالِي مِنْ أَيِّ حُفْرَتَيْهِمَا بُعِثْتُ
"আব্দুর রহমান ইবনু জাহদাম খাওলানী রহ. বর্ণনা করেন, একবার সমুদ্র অভিযানে তিনি ফাযালাহ ইবনু উবাইদ রা.-এর নিকট দুটি মৃতদেহ নিয়ে উপস্থিত হন। তাদের একজন (শত্রুপক্ষের) গোলার আঘাতে শহীদ হন আর অপরজন স্বাভাবিক মৃত্যুবরণ করেন। (দাফনের পর) ফাযালা রা. স্বাভাবিক মৃত্যুবরণকারীর কবরের পাশে বসেন। তাকে বলা হলো 'আপনি শহীদকে পরিত্যাগ করলেন! তার পাশে বসলেন না?' তিনি বললেন, 'আমি তাদের দুজনের কার (মতো) কবর হতে পুনরুত্থিত হব তার পরওয়া করি না। কারণ, আল্লাহ তাআলা বলেন,
وَالَّذِينَ هَاجَرُوا فِي سَبِيلِ اللهِ ثُمَّ قُتِلُوا أَوْ মَاتُوا لَيَرْزُقَنَّهُمُ اللَّهُ رِزْقًا حَسَنًا وَإِنَّ اللَّهَ لَهُৱ خَيْرُ الرَّازِقِينَ ﴿৫৮﴾ لَيُدْخِلَنَّهُم مُّدْخَلًا يَرْضَوْনَهُ وَإِنَّ اللَّهَ لَعَلِيمٌ حَلِيمٌ ﴿৫৯)
'যারা আল্লাহর রাস্তায় গৃহ ত্যাগ করেছে, এরপর নিহত হয়েছে অথবা (স্বাভাবিক) মৃত্যুবরণ করেছে; আল্লাহ তাদের অবশ্যই উৎকৃষ্ট জীবিকা দান করবেন এবং আল্লাহ সর্বোৎকৃষ্ট রিযিকদাতা। তাদের অবশ্যই এমন এক স্থানে প্রবেশ করাবেন, যা তারা পছন্দ করবে; আর নিশ্চয় আল্লাহ জ্ঞানময়, সহনশীল।'⁹³
অতএব হে আল্লাহর বান্দা, যখন তুমি তোমার পছন্দের বাসস্থান আর উত্তম রিযিক লাভ করলে তখন আর কী চাও? আল্লাহর শপথ! আমি তাদের দুজনের কার (মতো) কবর হতে পুনরুত্থিত হব তার পরোয়া করি না।"⁹⁴

টিকাঃ
৯৩. সূরা হজ, ২২:৫৮, ৫৯
৯৪. সনদ দুর্বল। ইবনু লাহিয়া রয়েছেন। এর চেয়ে উত্তম সনদে বর্ণিত হয়েছে: তাফসীরুত তাবারী, ১৬/৬১৯।

📘 জান্নাতের ছায়াপথ 📄 আল্লাহর রাস্তার নিয়্যাতে বের হয়ে মৃত্যুবরণ করলেই শহীদ

📄 আল্লাহর রাস্তার নিয়্যাতে বের হয়ে মৃত্যুবরণ করলেই শহীদ


৬৭. ইয়াহইয়া ইবনু আবি কাসির রহ. বলেন, রাসূল ﷺ বলেছেন,
مَنْ وَضَعَ رِجْلَهُ فِي رِكَابِهِ فَاصِلًا فِي سَبِيلِ اللهِ فَلَدَغَتْهُ هَامَةً أَوْ وَقَصَتْهُ دَابَّةٌ أَوْ ماتَ بِأَيِّ حَتْفٍ مَاتَ فَهُৱ شَهِيدٌ
"যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় বের হওয়ার উদ্দেশ্যে ঘোড়ার পা-দানিতে পা রাখে, আর এমন অবস্থায় কোনো বিষাক্ত কীট তাকে দংশন করে অথবা তার বাহন (পশুটি) তাকে ছুড়ে ফেলে কিংবা অন্য কোনো ধ্বংসাত্মক কারণে সে মৃত্যুবরণ করে, তবে সে শহীদ।"⁹⁵

টিকাঃ
৯৫. সনদ মুরসাল। বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য। মারফু সনদে রয়েছে: সুনানু আবি দাউদ, ২৪৯৯। আবু মুসা আশযারী রা. হতে। সনদ দুর্বল।

📘 জান্নাতের ছায়াপথ 📄 শহীদের প্রকারসমূহ

📄 শহীদের প্রকারসমূহ


৬৮. জাবির ইবনু আতীক রা. বলেন,
أَنْ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ جَاءَ يَعُودُ عَبْدَ اللهِ بْنَ ثَابِتٍ، فَوَجَدَهُ قَدْ غَلَبَ، فَصَاحَ بِهِ، فَلَمْ يُجِبْهُ، فَاسْتَرْجَعَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَقَالَ: غُلِبْنَا عَلَيْكَ أَبَا الربيع، فَصَاحَ النِّسْوَةُ، وَبَكَيْنَ، فَجَعَلَ ابْنُ عَتِيكَ يُسَكِّتُهُنَّ، فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَসَلَّمَ: دَعْهُنَّ، فَإِذَا وَجَبَ فَلَا تَبْكِينَ بَاكِيَةٌ. قَالُوا: وَمَا الْوُجُوبُ يَا رَسُولَ اللهِ؟ قَالَ: إِذَا مَاتَ . قَالَتِ ابْنَتُهُ: وَاللَّهِ إِنْ كُنْتُ لأَرْجُو أَنْ تَكُونَ شَهِيدًا؛ فَإِنَّكَ قَدْ قَضَيْتَ جِهَازَكَ. قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِنَّ اللهَ تَبَارَكَ وَتَعَالَى قَدْ أَوْقَعَ أَجْرَهُ عَلَى قَدْرِ نِيتِهِ، وَمَا تَعُدُونَ الشَّهَادَةَ ؟ قَالُوا: الْقَتْلُ فِي سَبِيلِ اللهِ. قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَসَلَّمَ: الشُّهَدَاءُ سَبْعُ سِوَى الْقَتْلِ فِي سَبِিলِ اللهِ الْمَبْطُونُ شَهِيدٌ، وَالْغَرِيقُ شَهِيدٌ، وَالْمَطْعُونُ شَهِيدٌ، وَصَاحِبُ الْهَدْمِ شَهِيدٌ، وَصَاحِبُ الْحَرِيقِ شَهِيدٌ، وَالْمَرْأَةُ تَمُوتُ بِجُمْعِ شَهِيدٌ
"রাসূল ﷺ আব্দুল্লাহ ইবনু সাবিত রা.⁹⁶ এর রোগের কথা শুনে তাকে দেখতে আসলেন। এসে দেখেন তিনি অচেতন অবস্থায় রয়েছেন। রাসূল ﷺ তাকে জোরে ডাকলেন। কিন্তু তিনি কোনো সাড়া দিলেন না (তবে তখনো মারা যাননি)। তখন রাসূল ﷺ ‘ইন্না লিল্লাহ’ পাঠ করে বললেন, ‘আবু রাবী, আমরা তোমাকে হারালাম!’ এ কথা শুনে মহিলারা চিৎকার করে উঠল। কাঁদতে শুরু করল। জাবির ইবনু আতীক রা. তাদের থামানোর চেষ্টা করলেন। রাসূল ﷺ বললেন, ‘এদের ছেড়ে দাও (কাঁদতে দাও)। তবে যখন সে স্থির হয়ে যাবে তখন যেন আর (এভাবে চিৎকার করে) না কাঁদে।’ লোকজন বলল, ‘ইয়া রাসূলাল্লাহ, স্থির হয়ে যাওয়ার অর্থ কী?’ রাসূল ﷺ বললেন, ‘যখন মারা যাবে।’ এমন সময় তার মেয়ে (পিতাকে লক্ষ্য করে) বলল, ‘আল্লাহর শপথ! আমার আশা ছিল আপনি শহীদ হবেন! আপনি তো (আল্লাহর রাস্তার) প্রস্তুতি সেরেই রেখেছিলেন।’ রাসূল ﷺ বললেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা তাকে তার নিয়্যাত অনুযায়ী প্রতিদান দেবেন। শাহাদাত বলতে তোমরা কী বোঝো?’ উপস্থিত লোকেরা বলল, ‘আল্লাহর রাস্তায় নিহত হওয়া।’ রাসূল ﷺ বললেন, আল্লাহর রাস্তায় নিহত হওয়া ছাড়াও সাত প্রকার শহীদ রয়েছে। ক) পেটের পীড়ায় মৃত্যুবরণকারী শহীদ, খ) পানিতে ডুবে মৃত্যুবরণকারী শহীদ, গ) মহামারিতে মৃত্যুবরণকারী শহীদ, ঘ) মাটিচাপা পড়ে মৃত্যুবরণকারী শহীদ, ঙ) আগুনে পুড়ে মৃত্যুবরণকারী শহীদ, এবং চ) গর্ভবতী অবস্থায় মৃত্যুবরণকারী নারীও শহীদ।⁹⁷

৬৯. তরিক ইবনু শিহাব রহ. বলেন,
ذَكَرُوا عِنْدَ اللهِ الشُّهَدَاءَ ، فَقِيلَ : إِنْ فُلَانًا قُتِلَ يَوْمَ كَذَا وَكَذَا شَهِيدًا ، وَفُلَانًا قُتِلَ يَوْمَ كَذَا وَكَذَا شَهِيدًا . فَقَالَ عَبْدُ اللهِ : لَئِنْ لَمْ يَكُنْ شُهَدَاؤُكُمْ إِلَّا مَنْ قُتِلَ إِنَّ شُهَدَاءُكُمْ إِذًا لَقَلِيلٌ ، إِنَّ مَنْ يَتَرَدَّى مِنَ الْجِبَالِ ، وَيَغْرَقُ فِي الْبُحُورِ ، وَتَأْكُلُهُ السَّبَاعُ شُهَدَاءُ عِنْدَ اللهِ يَوْমَ الْقِيَامَةِ
"একবার কয়েকজন লোক আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ রা.-এর নিকট শহীদগণের আলোচনা করল। তারা বলতে লাগল, 'অমুক ব্যক্তি অমুক যুদ্ধের দিন শহীদ হয়েছেন আর অমুক ব্যক্তি অমুক যুদ্ধের দিন।' তখন আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ রা. বললেন, 'একমাত্র (আল্লাহর রাস্তায়) নিহত ব্যক্তিগণই যদি শহীদ হয়ে থাকেন তাহলে তো তোমাদের দৃষ্টিতে শহীদের সংখ্যা অনেক কম হবে! যে ব্যক্তি পাহাড় থেকে পড়ে গেছে বা সমুদ্রে ডুবে গেছে, অথবা যাকে হিংস্র পশু খেয়ে ফেলেছে তারা সবাই কিয়ামাতের দিন আল্লাহ তাআলার নিকট শহীদ বলে গণ্য হবেন।”⁹⁹

টিকাঃ
৯৬. গ্রন্থকার আব্দুল্লাহ ইবনু হারিস লিখেছেন। আসলে তা আব্দুল্লাহ ইবনু সাবিত হবে।
৯৭. এই বর্ণনায় সপ্তম প্রকারটির উল্লেখ নেই। সুনানু নাসাঈর এক বর্ণনায় অতিরিক্ত রয়েছে 'وَصَاحِبُ ذَاتِ الْجَنْبِ شَهِيدٌ' বিষফোঁড়ায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণকারী শহীদ। সুনানু নাসাঈ, ১৮৪৬। সনদ সহীহ।
৯৮. সনদ সহীহ।
৯৯. সনদ হাসান গরীব। আরও রয়েছে: সুনানু সাঈদ ইবনি মানসূর, ২৬১৭।

ফন্ট সাইজ
15px
17px