📘 জান্নাতের ছায়াপথ 📄 শহীদের জন্য নতুন দেহ

📄 শহীদের জন্য নতুন দেহ


৬৩. হিব্বান ইবনু আবি জাবালাহ রহ. বলেন, রাসূল ﷺ বলেছেন,
إِذَا اسْتُشْهِدَ الشَّهِيدُ أَخْرَجَ اللهُ لَهُ جَسَدًا كَأَحْسَنِ جَسَدٍ، ثُمَّ أَمَرَ بِرُوحِهِ، فَأُدْخِلَ فِيهِ، فَيَنْظُرُ إِلَى جَسَدِهِ الَّذِي خَرَجَ مِنْهُ كَيْفَ يَصْنَعُ بِهِ، وَيَنْظُرُ إِلَى مَنْ حَوْلَهُ مِمَّنْ يَتَحَرَّنُ عَلَيْهِ، فَيَظُنُّ أَنَّهُمْ يَسْمَعُونَهُ أَوْ يَرَوْنَهُ فَيَنْطَلِقُ إِلَى أَزْوَاجِهِ
"শহীদ যখন শাহাদাতবরণ করেন তখন আল্লাহ তাআলা তার জন্য অত্যন্ত সুদর্শন একটি দেহ তৈরি করেন। অতঃপর তার অন্তরকে সেই দেহে প্রবেশ করানোর আদেশ দান করেন। তাকে সেখানে প্রবেশ করানো হয়। তখন সে তার সদ্য বেড়িয়ে আসা (আগের) দেহের দিকে তাকিয়ে দেখে যে, তার সাথে কী আচরণ করা হচ্ছে? এবং তার চারপাশে সমবেত শোক প্রকাশকারীদেরও দেখতে পায়। এতে তার ধারণা হয় যে তারা তার কথা শুনতে পাচ্ছে কিংবা তাকে দেখতে পাচ্ছে। অতঃপর সে তার (জান্নাতী) রমণীদের কাছে চলে যায়।"⁹⁰

টিকাঃ
৯⁰. সনদ মুরসাল এবং যঈফ। বর্ণনাকারীদের মধ্যে আব্দুর রহমান ইবনু যিয়াদ ইবনি আনআম রয়েছেন। মুহাদ্দিসগণ তাকে দুর্বল বলেছেন। তা ছাড়া হাদীসটি তিনি ব্যতীত ভিন্ন কোনো সনদেও পাওয়া যায় না।

📘 জান্নাতের ছায়াপথ 📄 শহীদগণের ব্যাপারে একটি আয়াত, যা পরে রহিত হয়ে যায়

📄 শহীদগণের ব্যাপারে একটি আয়াত, যা পরে রহিত হয়ে যায়


৬৪. আনাস ইবনু মালিক রা. বলেন,
أُنْزِلَ فِي الَّذِينَ قُتِلُوا بِبِئْرِ مَعُونَةً قُرْآنٌ قَرَأْنَاهُ حَتَّى نُسِخَ بَعْدُ: بَلِّغُوا قَوْمَنَا أَنَا لَقِينَا رَبَّنَا، فَرَضِيَ عَنَّا وَرَضِينَا عَنْهُ
মাউনা নামক কূপের পাশে সংঘটিত লড়াইয়ে যারা শহীদ হয়েছিলেন তাদের ব্যাপারে কুরআনে একটি আয়াত নাযিল হয়েছিল, যা আমরা তিলাওয়াত করেছি। পরে তা রহিত হয়ে যায় (এবং উঠিয়ে নেয়া হয়)। আয়াতটি ছিল এমন,
بَلِّغُوا قَوْمَنَا أَنَّا لَقِينَا رَبَّنَا، فَرَضِيَ عَنَّا وَرَضِينَا عَنْهُ .
“আমাদের গোত্রীয় লোকজনের কাছে এ কথা পৌঁছে দাও যে, আমরা আমাদের রবের সাক্ষাৎ লাভ করেছি। তিনি আমাদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন আর আমরাও তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট আছি।”⁹¹

টিকাঃ
৯১. সনদ সহীহ। আরও রয়েছে: সহীহ বুখারী, ২৮১৪।

📘 জান্নাতের ছায়াপথ 📄 যে সকল মুজাহিদ ও তাদের সন্তানের রিযিক জান্নাতে আল্লাহর দায়িত্বে রয়েছে

📄 যে সকল মুজাহিদ ও তাদের সন্তানের রিযিক জান্নাতে আল্লাহর দায়িত্বে রয়েছে


৬৫. কাসিম ইবনু মুখাইমারাহ এবং হাকাম ইবনু উতাইবাহ রহ. বলেন,
أَنْ حَارِثَةَ بْنَ النِّعْمَانِ أَتَى رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ يُنَاجِي جِبْرِيلَ , فَجَلَسَ، وَلَمْ يُسَلِّمْ، فَقَالَ جِبْرِيلُ : يَا رَسُولَ اللَّهِ، أَمَا إِنَّ هَذَا لَوْ سَلَّمَ لَرَدَدْنَا عَلَيْهِ. قَالَ: وَهَلْ تَعْرِفُهُ قَالَ: নমনম هَذَا مِنَ الثَّمَانِينَ الَّذِينَ صَبَرُوا مَعَكَ يَوْمَ حُنَيْنٍ، أَرْزَاقُهُمْ وَأَرْزَاقُ أَوْلَادِهِمْ عَلَى اللَّهِ فِي الْجَنَّةِ
"একবার হারিসা ইবনু নু'মান রা. রাসূল ﷺ-এর নিকট আসলেন। তিনি জিবরীল আ.-এর সাথে নিভৃতে কথা বলছিলেন। হারিসা রা. সালাম না দিয়েই বসে পড়লেন। জিবরীল আ. বললেন, 'ইয়া রাসূলাল্লাহ, লোকটি সালাম দিলে আমি তার সালামের উত্তর দিতাম।' রাসূল ﷺ বললেন, 'আপনি কি তাকে চেনেন?' জিবরীল আ. বললেন, 'হ্যাঁ, তিনি সেই আশি জনের একজন, যারা হুনাইনের যুদ্ধে আপনার সাথে ধৈর্যধারণ করেছিলেন। আল্লাহ তাআলার দায়িত্বে জান্নাতে তাদের এবং তাদের সন্তানদের রিযিক রয়েছে।"⁹²

টিকাঃ
৯২. সনদ সহীহ।

📘 জান্নাতের ছায়াপথ 📄 আল্লাহর রাস্তায় যেকোনো প্রকার মৃত্যুতেই জান্নাতের নিআমাত রয়েছে

📄 আল্লাহর রাস্তায় যেকোনো প্রকার মৃত্যুতেই জান্নাতের নিআমাত রয়েছে


৬৬. সালামান ইবনু আমীর শা'বানী রহ. বলেন,
أَنَّ عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ جَحْدَمِ الْخَوْلَا نِي حَدَثَهُ أَنَّهُ حَضَرَ فَضَالَةَ بْنَ عُبَيْدٍ فِي الْبَحْرِ مَعَ جَنَازَتَيْنِ، أَحَدُهُمَا أُصِيبَ بِمَنْجَنِيقٍ، وَالْآخَرُ تُوُفِّي، فَجَلَسَ فَضَالَهُ عِنْدَ قَبْرِ الْمُتَوَلَّى، فَقِيلَ لَهُ: تَرَكْتَ الشَّهِيدَ، فَلَمْ تَجْلِسُ عِنْدَهُ؟ فَقَالَ: مَا أُبَالِي مِنْ أَيِّ حُفْرَتَيْهِمَا بُعِثْتُ، إِنَّ اللهَ تَبَارَكَ وَتَعَالَى يَقُولُ وَالَّذِينَ هَاجَرُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ ثُمَّ قُتِلُوا أَوْ مَاتُوا لَيَرْزُقَنَهُمُ اللهُ رِزْقًا حَسَنًا وَإِنَّ اللَّهَ لَهُৱ خَيْرُ الرَّازِقِينَ لَيُدْخِلَنَّهُمْ مُدْخَلًا يَرْضَوْنَهُ} [الحج: ٥٩] . فَمَا تَبْغِي أَيُّهَا الْعَبْدُ إِذَا دَخَلْتَ مُدْخَلًا تَرْضَاهُ وَرُزِقْتَ رِزْقًا حَسَنًا، وَاللَّهِ مَا أُبَالِي مِنْ أَيِّ حُفْرَتَيْهِمَا بُعِثْتُ
"আব্দুর রহমান ইবনু জাহদাম খাওলানী রহ. বর্ণনা করেন, একবার সমুদ্র অভিযানে তিনি ফাযালাহ ইবনু উবাইদ রা.-এর নিকট দুটি মৃতদেহ নিয়ে উপস্থিত হন। তাদের একজন (শত্রুপক্ষের) গোলার আঘাতে শহীদ হন আর অপরজন স্বাভাবিক মৃত্যুবরণ করেন। (দাফনের পর) ফাযালা রা. স্বাভাবিক মৃত্যুবরণকারীর কবরের পাশে বসেন। তাকে বলা হলো 'আপনি শহীদকে পরিত্যাগ করলেন! তার পাশে বসলেন না?' তিনি বললেন, 'আমি তাদের দুজনের কার (মতো) কবর হতে পুনরুত্থিত হব তার পরওয়া করি না। কারণ, আল্লাহ তাআলা বলেন,
وَالَّذِينَ هَاجَرُوا فِي سَبِيلِ اللهِ ثُمَّ قُتِلُوا أَوْ মَاتُوا لَيَرْزُقَنَّهُمُ اللَّهُ رِزْقًا حَسَنًا وَإِنَّ اللَّهَ لَهُৱ خَيْرُ الرَّازِقِينَ ﴿৫৮﴾ لَيُدْخِلَنَّهُم مُّدْخَلًا يَرْضَوْনَهُ وَإِنَّ اللَّهَ لَعَلِيمٌ حَلِيمٌ ﴿৫৯)
'যারা আল্লাহর রাস্তায় গৃহ ত্যাগ করেছে, এরপর নিহত হয়েছে অথবা (স্বাভাবিক) মৃত্যুবরণ করেছে; আল্লাহ তাদের অবশ্যই উৎকৃষ্ট জীবিকা দান করবেন এবং আল্লাহ সর্বোৎকৃষ্ট রিযিকদাতা। তাদের অবশ্যই এমন এক স্থানে প্রবেশ করাবেন, যা তারা পছন্দ করবে; আর নিশ্চয় আল্লাহ জ্ঞানময়, সহনশীল।'⁹³
অতএব হে আল্লাহর বান্দা, যখন তুমি তোমার পছন্দের বাসস্থান আর উত্তম রিযিক লাভ করলে তখন আর কী চাও? আল্লাহর শপথ! আমি তাদের দুজনের কার (মতো) কবর হতে পুনরুত্থিত হব তার পরোয়া করি না।"⁹⁴

টিকাঃ
৯৩. সূরা হজ, ২২:৫৮, ৫৯
৯৪. সনদ দুর্বল। ইবনু লাহিয়া রয়েছেন। এর চেয়ে উত্তম সনদে বর্ণিত হয়েছে: তাফসীরুত তাবারী, ১৬/৬১৯।

ফন্ট সাইজ
15px
17px