📄 রাসূল ﷺ-এর বদদুআ
৫৭. হানযালাহ ইবনু আবি সুফইয়ান রহ. বলেন,
سَمِعْتُ سَالِمَ بْنَ عَبْدِ اللهِ، قِيلَ لَهُ: فِيمَ نَزَلَتْ هَذِهِ الْآيَةُ لَيْسَ لَكَ مِنَ الْأَمْرِ شَيْءٌ} [آل عمران: ۱۲৮] ، فَقَالَ: كَانَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَসَلَّمَ يَدْعُو عَلَى صَفْوَانَ بْنِ أُمَيَّةَ ، وَسُهَيْلِ بْنِ عَمْرٍو ، وَالْحَارِثِ بْنِ هِشَامٍ ، فَنَزَلَتْ هَذِهِ الْآيَةُ: {لَيْسَ لَكَ مِنَ الْأَمْرِ شَيْءٌ أَوْ يَتُوبَ عَلَيْهِمْ أَوْ يُعَذِّبَهُمْ فَإِنَّهُمْ ظَالِمُونَ} [آل عمران: ۱۲৮]
আল্লাহ তাআলা বলেন,
لَيْসَ لَكَ مِنَ الْأَمْرِ شَيْءٌ أَوْ يَتُوبَ عَلَيْهِمْ أَوْ يُعَذِّبَهُمْ فَإِنَّهُمْ ظَالِمُونَ ﴾
হয় আল্লাহ তাদের ক্ষমা করবেন কিংবা তাদের আযাব দেবেন। এ ব্যাপারে আপনার কোনো করণীয় নেই। কারণ, তারা রয়েছে অন্যায়ের ওপর।⁷⁹
এই আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার প্রেক্ষাপট সম্পর্কে জানতে চাইলে সালিম ইবনু আব্দুল্লাহ রা.-কে আমি বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, 'রাসূল ﷺ সাফওয়ান ইবনু উমাইয়্যাহ, সুহাইল ইবনু আমর আর হারিস ইবনু হিশামের বিরুদ্ধে বদদুআ করতেন। যার পরিপ্রেক্ষিতে এই আয়াত অবতীর্ণ হয়,
﴿لَيْسَ لَكَ مِنَ الْأَمْرِ شَيْءٍ أَوْ يَتُوبَ عَلَيْهِمْ أَوْ يُعَذِّبَهُمْ فَإِنَّهُمْ ظَالِمُونَ ﴾
“হয় আল্লাহ তাদের ক্ষমা করবেন কিংবা তাদের আযাব দেবেন। এ ব্যাপারে আপনার কোনো করণীয় নাই। কারণ, তারা রয়েছে অন্যায়ের ওপর।”⁸⁰ ⁸¹
৫৮. সালিম ইবনু আব্দিল্লাহ রা. তার পিতা আব্দুল্লাহ ইবনু উমার রা. হতে বর্ণনা করেন,
أَنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَসَلَّমَ إِذَا رَفَعَ رَأْسَهُ مِنَ الرَّكُوعِ فِي الرَّكْعَةِ الْآخِرَةِ مِنَ الْفَجْرِ يَقُولُ: اللَّهُمَّ الْعَنْ فُلَانًا وَفُلَانًا . بَعْدَ مَا يَقُولُ سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ، رَبَّنَا لَكَ الْحَمْدُ ، فَأَنْزَلَ اللهُ تَبَارَكَ وَتَعَالَى: ﴿لَيْسَ لَكَ مِنَ الْأَمْرِ شَيْءٌ أَوْ يَتُوبَ عَلَيْهِمْ أَوْ يُعَذِّبَهُمْ فَإِنَّهُمْ ظَالِمُونَ﴾ [آل عمران: ১২৮]
“তিনি শুনেছেন যে, রাসূল ﷺ ফজরের সালাতের দ্বিতীয় রাকাআতে রুকু হতে মাথা উঠিয়ে ‘সানিআল্লাহু লিমান হামিদাহ, রব্বানা লাকাল হাম্দ’ বলার পর বলতেন, ‘আল্লাহুম্মাল’আন ফুলানান ওয়া ফুলানান’ অর্থাৎ হে আল্লাহ, অমুক অমুকের প্রতি আপনার লানত (আযাব) বর্ষণ করুন। তখন আল্লাহ তাআলা এই আয়াত নাযিল করেন,
﴿لَيْসَ لَكَ مِنَ الْأَمْرِ شَيْءٍ أَوْ يَتُوبَ عَلَيْهِمْ أَوْ يُعَذِّبَهُمْ فَإِنَّهُمْ ظَالِمُونَ﴾
“হয় আল্লাহ তাদের ক্ষমা করবেন কিংবা তাদের আযাব দেবেন। এ ব্যাপারে আপনার কোনো করণীয় নাই। কারণ, তারা রয়েছে অন্যায়ের ওপর।”⁸² ⁸³
টিকাঃ
৭৯. সূরা আ-লু ইমরান, ৩:১২৮
৮০. সূরা আ-লু ইমরান, ৩:১২৮
৮১. সনদ সহীহ। আরও রয়েছে: সহীহ বুখারী, ৪০৭০।
৮২. সূরা আ-লু ইমরান, ৩:১২৮
৮৩. সনদ সহীহ। আরও রয়েছে: সহীহ বুখারী, ৪০৬৯।
📄 কবরজগতে শহীদের নিআমাত
৫৯. আব্দুল্লাহ ইবনু মুবারক রহ. বলেন, ইবনু জুরাইজ রহ. তার নিকট বর্ণনা করেন,
عَنْ مُجَاهِدٍ فِي قَوْلِهِ: {وَلَا تَحْسَبَنَّ الَّذِينَ قُتِلُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ أَمْوَاتًا بَلْ أَحْيَاءُ {عِنْدَ رَبِّهِمْ يُرْزَقُونَ} [آل عمران: ١٦٩] . قَالَ: يُرْزَقُونَ مِنْ ثَمَرِ الْجَنَّةِ ، وَيَجِدُونَ رِيحَهَا ، وَلَيْسُوا فِيهَا
আল্লাহ তাআলা বলেন,
(وَلَا تَحْسَبَنَّ الَّذِينَ قُتِلُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ أَمْوَاتًا بَلْ أَحْيَاءٌ عِنْدَ رَبِّهِمْ يُرْزَقُونَ)
'আর যারা আল্লাহর রাস্তায় নিহত হয়, তাদের তোমরা কখনো মৃত মনে কোরো না; বরং তারা নিজেদের পালনকর্তার নিকট জীবিত ও জীবিকাপ্রাপ্ত।⁸⁴
এর ব্যাখ্যায় মুজাহিদ রহ. বলেন, (কবরজগতেই) তারা জান্নাতে প্রবেশ করেন না। তবে জান্নাতের ফলমূল ও সুবাসযুক্ত বাতাস লাভ করেন।⁸⁵
টিকাঃ
৮৪. সূরা আ-লু ইমরান, ৩:১৬৯
৮৫. সনদ সহীহ। আরও রয়েছে: তাফসিরুত তাবারী, ২/৬৯৯।
📄 জান্নাতে শহীদগণের আমোদ-ফুর্তি ও ভূরিভোজ
৬০. উবাই ইবনু কাআব রা. বলেন,
الشُّهَدَاءُ فِي قِبَابٍ مِنْ رِيَاضِ بِفِنَاءِ الْجَنَّةِ، يُبْعَثُ لَهُمْ حُوتُ وَثَوْرُ يَعْتَرِكَانِ فَيَلْهُونَ بِهِمَا، فَإِذَا اشْتَهَوُا الْغَدَاءَ عَقَرَ أَحَدُهُمَا صَاحِبَهُ، فَأَكَلُوا مِنْ لَحْمِهِ، يَجِدُونَ فِي لَحْمِهِ طَعْمَ كُلِّ طَعَامٍ فِي الْجَنَّةِ. وَفِي لَحْمِ الْحُوتِ طَعْمُ كُلِّ شَرَابٍ
"শহীদগণ জান্নাতের সম্মুখভাগে অবস্থিত উদ্যানে গম্বুজসমূহের ছায়ায় অবস্থান করবেন। তাদের সামনে একটি মাছ আর একটি ষাঁড় পাঠানো হবে, যারা একে অপরের বিরুদ্ধে লড়াই করবে আর তারা তা উপভোগ করবেন। যখন তারা মধ্যাহ্নভোজ করতে চাইবে তখন (মাছ ও ষাড়ের) একটি অন্যটিকে হত্যা করবে। অতঃপর তারা এর গোশত আহার করবে। ষাঁড়টির গোশতে জান্নাতের সমস্ত খাদ্যের স্বাদ পাবে আর মাছের মধ্যে জান্নাতের সব ধরনের পানীয়ের স্বাদ আস্বাদন করবে।”⁸⁶
টিকাঃ
৮৬. সনদ হাসান গরীব। বর্ণনাকারী মুসলিম ইবনু শাদ্দাদ সম্পর্কে পর্যাপ্ত তথ্য পাওয়া যায় না। আরও রয়েছে: ইবনু হান্নাদ সাররি, কিতাবুয যুহদ, ১৬৫; মুসান্নাফু ইবনি আবি শাইবাহ, ১৯৩৫০; তাফসীরুত তাবারী, ২/৭০২।
📄 শহীদগণ পাখি হয়ে উড়ে বেড়াবে
৬১. কাআব রা. বলেন,
جَنَّةُ الْمَأْوَى فِيهَا طَيْرُ خُضْرٌ تَرْتَعِي فِيهَا أَرْوَاحُ الشُّهَدَاءِ
'জান্নাতুল মাওয়াতে সবুজ বর্ণের কিছু পাখি রয়েছে। শহীদগণের আত্মা সেসব পাখিতে প্রবেশ করে উড়ে বেড়াবে।⁸⁷
৬২. আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস রা. হতে বর্ণিত, রাসূল ﷺ বলেছেন,
لَمَّا أُصِيبَ إِخْوَانُكُمْ بِأُحُدٍ جَعَلَ اللهُ أَرْوَاحَهُمْ فِي أَجْوَافٍ طَيْرٍ خُضْرٍ، تَرِدُ أَنْهَارَ الْجَنَّةِ، وَتَأْكُلُ مِنْ ثِمَارِهَا، وَتَأْوِي إِلَى فَنَادِيلَ مِنْ ذَهَبٍ فِي ظِلِ الْعَرْشِ، فَلَمَّا وَجَدُوا طِيبَ مَطْعَمِهِمْ وَرَأَوْا حُسْنَ مُنْقَلَبِهِمْ. قَالُوا: يَالَيْتَ إِخْوَانَنَا يَعْلَمُونَ مَا أَكْرَمَنَا اللهُ بِهِ، وَمَا نَحْنُ فِيهِ لِئَلَّا يَزْهَدُوا فِي الْجِهَادِ، وَلَا يَنْكُلُوا عِنْدَ الْحَرْبِ، فَقَالَ اللهُ: أَنَا أُبَلِّغُهُمْ عَنْكُمْ، فَأَنْزَلَ اللَّهُ تَبَارَكَ وَتَعَالَى: {وَلَا تَحْسَبَنَّ الَّذِينَ قُتِلُوا فِي سَبِيلِ الله...} [آল عمران: ١٦٩]
"উহুদ যুদ্ধের দিন যখন তোমাদের ভাইয়েরা শহীদ হয়, মহান আল্লাহ তাদের রূহগুলোকে সবুজ রঙের পাখির মধ্যে স্থাপন করলেন। তারা জান্নাতের ঝরনাসমূহের ওপর দিয়ে যাতায়াত করে, সেখানকার ফলমূল খায় এবং 'আরশের ছায়ায় ঝোলানো সোনার ফানুসে বসবাস করে। তারা যখন নিজেদের খাবারের সুঘ্রাণ পেল এবং সুসজ্জিত বাসস্থান দেখতে পেল, তখন বলল, 'যদি আমাদের ভাইয়েরা জানতে পারত যে, আল্লাহ তাআলা আমাদের কীভাবে সম্মানিত করেছেন আর আমরা কিসের (নিআমাতের) মধ্যে আছি! যাতে (এটা জানতে পেরে) তারা জিহাদের ব্যাপারে বিমুখ না হয় এবং যুদ্ধের ব্যাপারে উদাসীনতা না দেখায়। তখন আল্লাহ তাআলা বললেন, 'আমি তাদের নিকট তোমাদের এ সংবাদ পৌঁছে দেব। অতঃপর এই আয়াত নাযিল হয়,
(وَلَا تَحْسَبَنَّ الَّذِينَ قُتِلُوا فِي سَبِيلِ اللهِ أَمْوَاتًا بَلْ أَحْيَاءٌ عِنْدَ রَبِّهِمْ يُرْزَقُونَ)
আর যারা আল্লাহর রাস্তায় নিহত হয়, তাদের তোমরা কখনো মৃত মনে কোরো না; বরং তারা নিজেদের পালনকর্তার নিকট জীবিত ও জীবিকাপ্রাপ্ত।⁸⁸ ⁸⁹
টিকাঃ
৮৭. সনদ হাসান। আরও রয়েছে: মুসান্নাফু ইবনি আবি শাইবাহ, ১৯৪২৫; হিলইয়াতুল আওলিয়া, ৫/৩৮১।
৮৮. সূরা আ-লু ইমরান, ৩:১৬৯
৮৯. সনদ হাসান। আরও রয়েছে: মুসনাদু আহমাদ, ২৩৮৮; সুনানু আবি দাউদ, ২৫২০।