📄 ইকরামা রা.-এর শাহাদাত
৫৪. ছাবিত বুনানী রহ. বলেন, أَنَّ عِكْرِمَةَ بْنَ أَبِي جَهْلٍ تَرَجُلَ يَوْমَ كَذَا، فَقَالَ لَهُ خَالِدُ بْنُ الْوَلِيدِ: لَا تَفْعَلْ، فَإِنَّ قَتْلَكَ عَلَى الْمُسْلِمِينَ شَدِيدٌ। قَالَ: خَلِ عَنِّي يَا خَالِدُ، فَإِنَّهُ قَدْ كَانَ لَكَ مَعَ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَসَلَّمَ سَابِقَةٌ ، وَإِنِّي وَأَبِي كُنَّا مِنْ أَشَدَّ النَّاسِ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ، فَمَشَى حَتَّى قُتِلَ
"(ইয়ামামার) যুদ্ধের দিন ইকরামা ইবনু আবি জাহল রা. তেজোদীপ্ত হয়ে ওঠেন (শাহাদাতের জন্য ব্যাকুল হয়ে ওঠেন)। তখন খালিদ ইবনু ওয়ালিদ রা. তাকে বলেন, 'আপনি এমন করবেন না। কারণ, আপনার শাহাদাত মুসলমানদের জন্য কঠিন ব্যাপার হয়ে দাঁড়াবে।' তিনি বললেন, 'হে খালিদ, আমাকে ছেড়ে দিন। ইতিপূর্বে রাসূল ﷺ-এর সাথে আপনার অনেক কীর্তিগাথা রয়েছে। অথচ আমি আর আমার পিতা রাসূল ﷺ-এর প্রতি কঠোরতা অবলম্বনকারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম। এই বলে তিনি চলে গেলেন এবং শহীদ হলেন।”⁷⁶
টিকাঃ
৭৬. সনদ হাসান। আরও রয়েছে: ইমাম বুখারী, তারীখুল আওসাত, ১৭২; বাইহাকী, সুনানুল কুবরা, ১৭৯২০।
📄 ইকরামা রা.-এর ইসলামের ব্যাপারে রাসূল ﷺ-এর স্বপ্ন
৫৫. আবু বকর ইবনু আব্দির রহমান ইবনুল হারিস রহ. বলেন, রাসূল ﷺ বলেছেন,
رَأَيْتُ فِي الْمَنَامِ كَأَنّ أَبَا جَهْلٍ أَتَانِي فَبَايَعَنِي، فَلَمَّا أَسْلَمَ خَالِدُ بْنُ الْوَلِيدِ، قِيلَ صَدَقَ اللهُ رُؤْيَاكَ يَا رَسُولَ اللهِ، هَذَا كَانَ لِإِسْلَامِ خَالِدٍ। قَالَ: لَيَكُونَنَّ غَيْرُهُ حَتَّى أَسْلَمَ عِكْرِمَةُ بْنُ أَبِي جَهْلٍ، فَكَانَ ذَلِكَ تَصْدِيقَ رُؤْيَاهُ
"আমি স্বপ্নে দেখলাম যে, আবু জাহল এসে আমার হাতে বায়আত গ্রহণ করেছে। এর কিছুদিন পর যখন খালিদ ইবনু ওয়ালিদ রা. ইসলাম গ্রহণ করলেন তখন বলা হলো, 'ইয়া রাসূলাল্লাহ, আল্লাহ তাআলা আপনার স্বপ্নকে সত্যে পরিণত করেছেন। আর সেটা ছিল খালিদ রা.-এর ইসলাম গ্রহণ।' রাসূল ﷺ বললেন, সেটা বরং অন্য কেউ হবে। একসময় ইকরামা ইবনু আবি জাহল রা. ইসলাম গ্রহণ করলেন। মূলত এটাই ছিল তাঁর স্বপ্নের বাস্তবতা।”⁷⁷
টিকাঃ
৭৭. সনদ মুরসাল। বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য। সহীহ ও মারফু সনদে রয়েছে: মুসতাদরাকু হাকিম, ৫০৬০।
📄 কুরআনের প্রতি ইকরামা রা.-এর ভালোবাসা
৫৬. ইবনু আবি মুলাইকাহ রহ. বলেন,
كَانَ عِكْرِمَةُ بْنُ أَبِي جَهْلٍ يَأْخُذُ الْمُصْحَفَ فَيَضَعُهُ عَلَى وَجْهِهِ، وَيَبْكِي، وَيَقُولُ: كِتَابُ رَبِّي، وَكَلَامُ رَبِّي
"ইকরামা ইবনু আবি জাহল রা. কুরআন নিয়ে নিজের চেহারার ওপর রাখতেন আর অশ্রুসিক্ত নয়নে বলতেন, 'আমার রবের কিতাব! আমার প্রতিপালকের বাণী!'⁷⁸
টিকাঃ
৭৮. সনদ মুরসাল সহীহ। আরও রয়েছে: মুসতাদরাকু হাকিম, ৫০৬২।
📄 রাসূল ﷺ-এর বদদুআ
৫৭. হানযালাহ ইবনু আবি সুফইয়ান রহ. বলেন,
سَمِعْتُ سَالِمَ بْنَ عَبْدِ اللهِ، قِيلَ لَهُ: فِيمَ نَزَلَتْ هَذِهِ الْآيَةُ لَيْسَ لَكَ مِنَ الْأَمْرِ شَيْءٌ} [آل عمران: ۱۲৮] ، فَقَالَ: كَانَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَসَلَّمَ يَدْعُو عَلَى صَفْوَانَ بْنِ أُمَيَّةَ ، وَسُهَيْلِ بْنِ عَمْرٍو ، وَالْحَارِثِ بْنِ هِشَامٍ ، فَنَزَلَتْ هَذِهِ الْآيَةُ: {لَيْسَ لَكَ مِنَ الْأَمْرِ شَيْءٌ أَوْ يَتُوبَ عَلَيْهِمْ أَوْ يُعَذِّبَهُمْ فَإِنَّهُمْ ظَالِمُونَ} [آل عمران: ۱۲৮]
আল্লাহ তাআলা বলেন,
لَيْসَ لَكَ مِنَ الْأَمْرِ شَيْءٌ أَوْ يَتُوبَ عَلَيْهِمْ أَوْ يُعَذِّبَهُمْ فَإِنَّهُمْ ظَالِمُونَ ﴾
হয় আল্লাহ তাদের ক্ষমা করবেন কিংবা তাদের আযাব দেবেন। এ ব্যাপারে আপনার কোনো করণীয় নেই। কারণ, তারা রয়েছে অন্যায়ের ওপর।⁷⁹
এই আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার প্রেক্ষাপট সম্পর্কে জানতে চাইলে সালিম ইবনু আব্দুল্লাহ রা.-কে আমি বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, 'রাসূল ﷺ সাফওয়ান ইবনু উমাইয়্যাহ, সুহাইল ইবনু আমর আর হারিস ইবনু হিশামের বিরুদ্ধে বদদুআ করতেন। যার পরিপ্রেক্ষিতে এই আয়াত অবতীর্ণ হয়,
﴿لَيْسَ لَكَ مِنَ الْأَمْرِ شَيْءٍ أَوْ يَتُوبَ عَلَيْهِمْ أَوْ يُعَذِّبَهُمْ فَإِنَّهُمْ ظَالِمُونَ ﴾
“হয় আল্লাহ তাদের ক্ষমা করবেন কিংবা তাদের আযাব দেবেন। এ ব্যাপারে আপনার কোনো করণীয় নাই। কারণ, তারা রয়েছে অন্যায়ের ওপর।”⁸⁰ ⁸¹
৫৮. সালিম ইবনু আব্দিল্লাহ রা. তার পিতা আব্দুল্লাহ ইবনু উমার রা. হতে বর্ণনা করেন,
أَنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَসَلَّমَ إِذَا رَفَعَ رَأْسَهُ مِنَ الرَّكُوعِ فِي الرَّكْعَةِ الْآخِرَةِ مِنَ الْفَجْرِ يَقُولُ: اللَّهُمَّ الْعَنْ فُلَانًا وَفُلَانًا . بَعْدَ مَا يَقُولُ سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ، رَبَّنَا لَكَ الْحَمْدُ ، فَأَنْزَلَ اللهُ تَبَارَكَ وَتَعَالَى: ﴿لَيْسَ لَكَ مِنَ الْأَمْرِ شَيْءٌ أَوْ يَتُوبَ عَلَيْهِمْ أَوْ يُعَذِّبَهُمْ فَإِنَّهُمْ ظَالِمُونَ﴾ [آل عمران: ১২৮]
“তিনি শুনেছেন যে, রাসূল ﷺ ফজরের সালাতের দ্বিতীয় রাকাআতে রুকু হতে মাথা উঠিয়ে ‘সানিআল্লাহু লিমান হামিদাহ, রব্বানা লাকাল হাম্দ’ বলার পর বলতেন, ‘আল্লাহুম্মাল’আন ফুলানান ওয়া ফুলানান’ অর্থাৎ হে আল্লাহ, অমুক অমুকের প্রতি আপনার লানত (আযাব) বর্ষণ করুন। তখন আল্লাহ তাআলা এই আয়াত নাযিল করেন,
﴿لَيْসَ لَكَ مِنَ الْأَمْرِ شَيْءٍ أَوْ يَتُوبَ عَلَيْهِمْ أَوْ يُعَذِّبَهُمْ فَإِنَّهُمْ ظَالِمُونَ﴾
“হয় আল্লাহ তাদের ক্ষমা করবেন কিংবা তাদের আযাব দেবেন। এ ব্যাপারে আপনার কোনো করণীয় নাই। কারণ, তারা রয়েছে অন্যায়ের ওপর।”⁸² ⁸³
টিকাঃ
৭৯. সূরা আ-লু ইমরান, ৩:১২৮
৮০. সূরা আ-লু ইমরান, ৩:১২৮
৮১. সনদ সহীহ। আরও রয়েছে: সহীহ বুখারী, ৪০৭০।
৮২. সূরা আ-লু ইমরান, ৩:১২৮
৮৩. সনদ সহীহ। আরও রয়েছে: সহীহ বুখারী, ৪০৬৯।