📄 সর্বোত্তম জিহাদ
৫১. আব্দুল্লাহ ইবনু উবাইদ ইবনি উমাইর রহ. বলেন, قِيلَ يَا رَسُولَ اللَّهِ: أَيُّ الْجِهَادِ أَفْضَلُ ؟ قَالَ: مَنْ عُقِرَ جَوَادُهُ وَأُهْرِيقَ دَمُهُ
"রাসূল ﷺ-কে জিজ্ঞাসা করা হলো, 'সর্বোত্তম জিহাদ কোনটি?' তিনি বললেন, '(জিহাদে) যার ঘোড়ার পা কাটা হয়েছে আর তার রক্ত প্রবাহিত হয়েছে।"⁷³
টিকাঃ
৭৩. সনদ মুরসাল। বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য। আরও রয়েছে: মুসনাদু আহমাদ, ১৪২৩৩।
📄 শাহাদাতের তামান্নায় লড়াইকারী আল্লাহর বিশ্বস্ত বান্দা
৫২. খালিদ ইবনু মা'দান রা. হতে বর্ণিত, রাসূল ﷺ বলেছেন,
الشُّهَدَاءُ أُمَنَاءُ اللَّهِ قُتِلُوا أَوْ مَاتُوا عَلَى فُرُشِهِمْ
শহীদগণ (শাহাদাতের তামান্নায় লড়াইকারীগণ) আল্লাহর বিশ্বস্ত বান্দা। তারা রণক্ষেত্রে নিহত হোক কিংবা বিছানায় মৃত্যুবরণ করুক।⁷⁴
টিকাঃ
৭৪. সনদ মুরসাল যঈফ। আবু বকর ইবনু আবি মারইয়াম দুর্বল।
📄 অন্তিম শয্যায় খালিদ ইবনু ওয়ালিদ রা.
৫৩. আবু ওয়াইল রহ. বলেন, لَمَّا حَضَرَتْ خَالِدَ بْنَ الْوَلِيدِ الْوَفَاةُ قَالَ: لَقَدْ طَلَبْتُ الْقَتْلَ مَظَانَّهُ، فَلَمْ يُقَدَّরْ لِي إِلَّا أَنْ أَمُوتَ عَلَى فِرَاشِي، وَمَا مِنْ عَمَلِ شَيْءٍ أَرْجَى عِنْدِي بَعْدَ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ مِنْ لَيْلَةٍ بِتُهَا وَأَنَا مُتَتَرِّسُ بِفَرَسِي، وَالسَّمَاءُ تَهُلْنِي، مُنْتَظِرُ الصُّبْحَ حَتَّى نُغِيرَ عَلَى الْكُفَّارِ، ثُمَّ قَالَ: إِذَا أَنَا مِتُّ فَانْظُرُوا سِلَاحِي وَفَرَسِي فَاجْعَلُوهُ عُدَّةٌ فِي سَبِيلِ اللهِ فَلَمَّا تُוُفِّي خَرَجَ عُمَرُ عَلَى جَنَازَتِهِ، فَذَكَرَ قَوْلَهُ، مَا عَلَى نِسَاءِ أَبِي الْوَلِيدِ أَنْ يَسْفَحْنَ عَلَى خَالِدٍ مِنْ دُمُوعِهِنَّ مَا لَمْ يَكُن نَفْعًا أَوْ لَقْلَقَةٌ
"যখন খালিদ ইবনু ওয়ালিদ রা.-এর অন্তিম সময় ঘনিয়ে এল তখন তিনি বললেন, 'সম্ভাব্য সব জায়গাতেই আমি শাহাদাতের সুযোগ সন্ধান করেছি। কিন্তু আমার জন্য এটাই নির্ধারিত ছিল যে, আমি বিছানায় মৃত্যুবরণ করব। 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' এর সাক্ষ্যদানের পর আমার জন্য সবচেয়ে আশাপ্রদ আমল হলো সেই রাতের আমল, যে রাতে আসমান আমার ওপর ভেঙে পড়ছিল (মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছিল) আর আমি ঘোড়ার পিঠে বসে আত্মরক্ষার চেষ্টা করছিলাম। এমন অবস্থাতেও আমি শত্রুপক্ষের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়তে ভোরের অপেক্ষায় ছিলাম। আমার মৃত্যুর পর আমার অস্ত্রশস্ত্র এবং ঘোড়া আল্লাহর রাস্তার জন্য দান করে দেবে।' তার মৃত্যুর পর উমর রা. তার জানাযার উদ্দেশ্যে বের হন এবং বলেন, 'আবুল ওয়ালিদের স্ত্রী কন্যাগণ তার জন্য অশ্রু বিসর্জন দিতে পারবে। তবে (শোক প্রকাশের উদ্দেশ্যে) মাথায় ধূলি নিক্ষেপ ও চিৎকার করতে পারবে না।”⁷⁵
টিকাঃ
৭৫. সনদ হাসান। আরও রয়েছে: সিয়ারু আ'লামিন নুবালা, ১/৩৮১।
📄 ইকরামা রা.-এর শাহাদাত
৫৪. ছাবিত বুনানী রহ. বলেন, أَنَّ عِكْرِمَةَ بْنَ أَبِي جَهْلٍ تَرَجُلَ يَوْমَ كَذَا، فَقَالَ لَهُ خَالِدُ بْنُ الْوَلِيدِ: لَا تَفْعَلْ، فَإِنَّ قَتْلَكَ عَلَى الْمُسْلِمِينَ شَدِيدٌ। قَالَ: خَلِ عَنِّي يَا خَالِدُ، فَإِنَّهُ قَدْ كَانَ لَكَ مَعَ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَসَلَّمَ سَابِقَةٌ ، وَإِنِّي وَأَبِي كُنَّا مِنْ أَشَدَّ النَّاسِ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ، فَمَشَى حَتَّى قُتِلَ
"(ইয়ামামার) যুদ্ধের দিন ইকরামা ইবনু আবি জাহল রা. তেজোদীপ্ত হয়ে ওঠেন (শাহাদাতের জন্য ব্যাকুল হয়ে ওঠেন)। তখন খালিদ ইবনু ওয়ালিদ রা. তাকে বলেন, 'আপনি এমন করবেন না। কারণ, আপনার শাহাদাত মুসলমানদের জন্য কঠিন ব্যাপার হয়ে দাঁড়াবে।' তিনি বললেন, 'হে খালিদ, আমাকে ছেড়ে দিন। ইতিপূর্বে রাসূল ﷺ-এর সাথে আপনার অনেক কীর্তিগাথা রয়েছে। অথচ আমি আর আমার পিতা রাসূল ﷺ-এর প্রতি কঠোরতা অবলম্বনকারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম। এই বলে তিনি চলে গেলেন এবং শহীদ হলেন।”⁷⁶
টিকাঃ
৭৬. সনদ হাসান। আরও রয়েছে: ইমাম বুখারী, তারীখুল আওসাত, ১৭২; বাইহাকী, সুনানুল কুবরা, ১৭৯২০।