📄 জান্নাত ও জাহান্নামে প্রবেশকারী প্রথম তিনটি শ্রেণি
৪৬. আবু হুরাইরা রা. হতে বর্ণিত, রাসূল ﷺ বলেছেন,
عُرِضَ عَلَى أَوَّلُ ثَلَاثَةٍ يَدْخُلُونَ الْجَنَّةَ، وَأَوَّلُ ثَلَاثَةٍ يَدْخُلُونَ النَّارَ ، فَأَمَّا أَوَّلُ ثَلَاثَةٍ يَدْخُلُونَ الْجَنَّةَ: فَالشَّهِيدُ، وَعَبْدُ مَمْلُوكَ أَحْسَنَ عِبَادَةَ رَبِّهِ وَنَصَحَ لِسَيِّدِهِ وَعَفِيفُ مُتَعَفِّفُ ذُو عِيَالٍ. وَأَوَّلُ ثَلَاثَةٍ يَدْخُلُونَ النَّارَ: أَمِيرُ مُسَلِّطُ، وَذُو ثَرْوَةٍ مِنْ مَالٍ لَا يُعْطِي حَقَّهُ، وَفَقِيرٌ فَخُورٌ
"জান্নাতে প্রবেশকারী প্রথম তিন (শ্রেণির) ব্যক্তিকে আমার সামনে উপস্থিত করা হয়েছে। আর জাহান্নামে প্রবেশকারী প্রথম তিন (শ্রেণির) ব্যক্তিকেও আমার সামনে উপস্থিত করা হয়েছে। জান্নাতে প্রবেশকারী প্রথম তিন ব্যক্তি হলেন, ক) শহীদ, খ) ওই কৃতদাস যে উত্তমরূপে তার রবের ইবাদাত করে এবং নিজের মনিবের প্রতি কল্যাণকামী হয় আর গ) হারাম পরিত্যাগকারী ব্যক্তি, যার পরিবার-পরিজন রয়েছে। জাহান্নামে প্রবেশকারী প্রথম তিন ব্যক্তি হলো ক) জোড়পূর্বক ক্ষমতা দখলকারী, খ) সম্পদের হক (যাকাত ও সদকা) অনাদায়কারী সম্পদশালী এবং গ) দরিদ্র অহংকারী।"⁶⁸
টিকাঃ
৬৮. সনদ গ্রহণযোগ্য। আরও রয়েছে: মুসনাদু আহমাদ, ১৪৯২। (ইমাম আহমাদের সনদ দুর্বল)
📄 আল্লাহ তাআলার পছন্দ ও অপছন্দের মানুষ কারা?
৪৭. ইবনুল আহমাস রহ. বলেন,
أَنْ أَبَا ذَرٍ قَالَ: ثَلَاثَةٌ يُحِبُّهُمُ اللهُ، وَثَلَاثَةٌ يَشْنَؤُهُمُ اللَّهُ، فَلَقِيتُهُ، فَقُلْتُ: يَا أَبَا ذَرِّ ، مَا حَدَّثْتَ؟ بَلَغَنِي عَنْكَ تُحَدِّثُ بِهِ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَحْبَبْتُ أَنْ أَسْمَعَهُ مِنْكَ. قَالَ: مَا هُوَ؟ قُلْتُ: ثَلَاثَةٌ يُحِبُّهُمُ اللَّهُ، وَثَلَاثَةٌ يَشْنَؤُهُمُ اللهُ. قَالَ: قُلْتُهُ، وَسَمِعْتُهُ. قُلْتُ: فَمَنِ الَّذِينَ يُحِبُّهُمُ اللَّهُ؟ قَالَ: رَجُلٌ كَانَ فِي فِئَةٍ أَوْ سَرِيَّةٍ، فَانْكَشَفَ أَصْحَابُهُ، فَنَصَبَ نَفْسَهُ وَنَحْرَهُ حَتَّى قُتِلَ، أَوْ يَفْتَحُ اللَّهُ عَلَيْهِ، وَرَجُلٌ كَانَ مَعَ قَوْمٍ فِي سَفَرٍ فَأَطَالُوا السَّرَى حَتَّى أَعْجَبَهُمْ أَنْ يُمْسُوا الْأَرْضَ، فَنَزَلُوا، فَقَامَ فَتَنَحَى حَتَّى أَيْقَظَ أَصْحَابَهُ لِلرَّحِيلِ، وَرَجُلٌ كَانَ لَهُ جَارُ سُوءٍ، فَصَبَرَ عَلَى أَذَاهُ، حَتَّى يُفَرِّقَ بَيْنَهُمَا مَوْتُ، أَوْ ظُعُنُ. قُلْتُ: هَؤُلَاءِ يُحِبُّهُمُ اللهُ، فَمَنِ الَّذِينَ يَشْنَؤُهُمْ؟ قَالَ: التَّاجِرُ الْخَلافُ أَوِ الْبَيَاعُ الْخَلَّافُ، وَالْبَخِيلُ الْمَنَّانُ، وَالْفَقِيرُ الْمُخْتَالُ
“আবু যর গিফারী রা. বলেন, 'তিন ব্যক্তিকে আল্লাহ সর্বাধিক পছন্দ করেন আর তিন ব্যক্তিকে তিনি অপছন্দ করেন।' এ কথা শুনে আমি তার সাথে সাক্ষাৎ করলাম এবং বললাম, 'আমি আপনার ব্যাপারে জানতে পেরেছি যে, আপনি রাসূল ﷺ হতে একটি হাদীস বর্ণনা করেছেন। আমি তা শুনতে চাই।' তিনি বললেন, 'কোন হাদীসটি?' বললাম, 'তিন ব্যক্তিকে আল্লাহ সর্বাধিক পছন্দ করেন আর তিন ব্যক্তিকে তিনি অপছন্দ করেন।' তিনি বললেন, 'আমি তা বলেছি এবং রাসূল ﷺ-এর নিকট শুনেছি।' আমি বললাম, 'আল্লাহ তাআলা যাদের পছন্দ করেন তারা কারা?' তিনি বললেন, 'ক) যে ব্যক্তি কোনো বাহিনী বা ক্ষুদ্র দলে ছিল, যার সঙ্গীগণ পালিয়ে গেছে কিন্তু সে নিজে রুখে দাঁড়িয়েছে এবং লড়াই করে নিহত হয়েছে অথবা আল্লাহ তাআলা তাকে বিজয় দান করেছেন। খ) যে ব্যক্তি কোনো মুসাফির দলের সাথে সফর করে যারা দীর্ঘ রজনি সফর করে বিশ্রামের উদ্দেশ্যে জমিনে অবতরণ করে। কিন্তু উক্ত ব্যক্তি এক কোণে জাগ্রত থাকে এবং নিজের সফরসঙ্গীদের সফরের জন্য জাগিয়ে দেয়। এবং গ) ওই ব্যক্তি, যার একজন মন্দ প্রতিবেশী রয়েছে। মৃত্যু কিংবা স্থান পরিবর্তন তাদের একে অপর হতে বিচ্ছিন্ন করার আগ পর্যন্ত সে তার প্রতিবেশীর উপদ্রব সহ্য করে।' আমি বললাম, 'এদের তো আল্লাহ তাআলা পছন্দ করেন। আর তিনি যাদের অপছন্দ করেন তারা কারা?' তিনি বললেন, 'ক) অত্যধিক শপথকারী ব্যবসায়ী বা বিক্রেতা, খ) খোঁটাদাতা কৃপণ আর গ) দরিদ্র অহংকারী।”⁶⁹
টিকাঃ
৬৯. সনদ হাসান গরীব। আল্লামা ইরাকীর মতে বর্ণনাকারী ইবনুল আহমাস সম্পর্কে তেমন কিছু জানা যায় না। তাখরীজু ইহইয়া, ৪/৭০৪,৭০৫। সহীহ সনদে সমার্থক বর্ণনা রয়েছে: মুসনাদু আহমাদ, ২১৩৫৫।
📄 সবচেয়ে মর্যাদাবান শহীদ
৪৮. ইয়াহইয়া ইবনু আবি কাসির রহ. বলেন, রাসূল ﷺ বলেছেন,
أَفْضَلُ الشُّهَدَاءِ عِنْدَ اللهِ الَّذِينَ يُلْقَوْنَ فِي الصَّفِّ فَلَا يَلْفِتُونَ وُجُوهَهُمْ حَتَّى يُقْتَلُوا، أُولَئِكَ يَتَلَبَّطُونَ فِي الْغُرَفِ الْعُلَى مِنَ الْجَنَّةِ، يَضْحَكُ إِلَيْهمْ رَبُّكَ، إِنَّ رَبِّكَ إِذَا ضَحِكَ إِلَى قَوْمٍ، فَلَا حِسَابَ عَلَيْهِمْ
"আল্লাহ তাআলার নিকট সবচেয়ে মর্যাদাবান শহীদ হলেন তারা, যারা যুদ্ধের সারিতে দাঁড়ানোর পর শাহাদাতবরণের আগ পর্যন্ত অন্যদিকে ফিরেও তাকায় না। তারা জান্নাতের সুউচ্চ বালাখানায় গড়াগড়ি খাবে। তোমার রব তাদের প্রতি তাকিয়ে হাসবেন। নিঃসন্দেহে তোমার রব যখন কোনো দলের দিকে তাকিয়ে হাসেন তখন তাদের কোনো হিসাব নেয়া হয় না।"⁷⁰
৪৯. আব্দুল্লাহ ইবনু আমর ইবনিল আস রা. বলেন,
أَلَا أُخْبِرُكُمْ بِأَفْضَلِ الشُّهَدَاءِ عِنْدَ اللَّهِ مَنْزِلَةٌ يَوْمَ الْقِيَامَةِ الَّذِينَ يَلْقَوْنَ الْعَدُوِّ في الصف، فَإِذَا وَاجَهُوا عَدُوّهُمْ لَمْ يَلْتَفِتْ يَمِينًا وَلَا شِمَالًا وَاضِعًا سَيْفَهُ عَلَى عَاتِقِهِ يَقُولُ: اللَّهُمَّ إِنِّي أُجْزِيكَ نَفْسِيَ الْيَوْমَ بِمَا أَسْلَفْتُ فِي الْأَيَّامِ الْخَالِيَةِ فَيُقْتَلُ عِنْدَ ذَلِكَ، فَذَلِكَ مِنَ الشُّهَدَاءِ الَّذِينَ يَتَلَبَّطُونَ فِي الْغُرَفِ الْعُلَى مِنَ الْجَنَّةِ حَيْثُ شَاءُوا
"আমি কি তোমাদের কিয়ামাতের দিন আল্লাহ তাআলার নিকট সর্বাধিক মর্যাদাবান শহীদগণ সম্পর্কে জানাব? তারা হলেন সেসব ব্যক্তি, যারা যুদ্ধের সারিতে শত্রুর সাক্ষাতে ডানে-বামে কোনো দিকেই তাকায় না। তরবারি কাঁধে নিয়ে তারা বলেন, 'হে আল্লাহ, আমি বিগত অবসর দিনগুলোতে যা কিছু করেছি তার (শূন্যতা পূরণের) জন্য আজ আপনার পথে জীবন বিলিয়ে দিচ্ছি।' অতঃপর সে যুদ্ধে নিহত হয়। তারাই সেসব শহীদ, যারা জান্নাতের সুউচ্চ বালাখানায় যেখানে ইচ্ছা শুয়ে গড়াগড়ি খাবে।"⁷¹
টিকাঃ
৭⁰. সনদ মুরসাল। বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য। আরও আছে: মুসনাদু আহমাদ, ২২৪৭৬।
৭১. সনদ দুর্বল। বর্ণনাকারী যুহাইর ইবনু সালিম দুর্বল। আরও রয়েছে: আবু নুআইম, হিলইয়াতুল আওলিয়া, ১/২৯১।
📄 সমুদ্রে নিমজ্জিত শহীদের মর্যাদা
৫০. হাযযায ইবনু মালিক রহ. বলেন,
قال لي كَعْبٌ: أَلَا أُنَبِّئُكَ يَا هَزَازُ بْنَ مَالِكٍ بِأَفْضَلِ الشُّهَدَاءِ عِنْدَ اللَّهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ؟ قَالَ: بَلَى قَالَ: الْمُحْتَسِبُ بِنَفْسِهِ، ثُمّ قَالَ: أَلَا أُنَبِّئُكَ يَا هَزَازُ بْنَ مَالِكٍ بِالَّذِينَ يَلُونَهُمْ؟ قُلْتُ: بَلَى، قَالَ: مَنْ غَرِقَ فِي بَحْرِهِ। ثُمَّ قَالَ: أَلَا أُنَبِّئُكَ يَا هَزَازُ بْنَ مَالِكٍ بِأَقَلِّ أَهْلِ الْجُمُعَةِ أَجْرًا؟ قُلْتُ: بَلَى قَالَ: مَنْ لَمْ يُدْرِكْ إِلَّا الرَّكْعَةَ الْأَخِيرَةَ أَوِ السَّجْدَةَ الْأَخِيرَةَ، ثُمَّ قَالَ: وَاللهِ، مَا يَنْظُرُ النَّاسُ إِلَى الشُّهَدَاءِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ إِلَّا هَكَذَا، ثُمَّ رَفَعَ بَصَرَهُ إِلَى السَّمَاءِ
"কা'আব রা. আমাকে বললেন, 'হে হাযযায ইবনু মালিক, আমি কি তোমাকে কিয়ামাতের দিন সর্বোচ্চ মর্যাদার অধিকারী শহীদের কথা বলব?' (হাযযায) বললেন, 'অবশ্যই, বলুন।' তিনি বললেন, 'যে শহীদ নিজেই নিজের হিসাব রাখে।' অতঃপর বললেন, 'হে হাযযায ইবনু মালিক, আমি কি তোমাকে বলব যে, কারা এই মর্যাদা লাভ করবে?' (হাযযায) বললেন, 'অবশ্যই, বলুন।' তিনি বললেন, 'যারা সমুদ্রে নিমজ্জিত হয়।' অতঃপর বললেন, 'হে হাযযায ইবনু মালিক, আমি কি তোমাকে বলব যে, জুমআর সালাতে কে সবচেয়ে কম সাওয়াব লাভ করে?' (হাযযায) বললেন, 'অবশ্যই, বলুন।' তিনি বললেন, 'যে ব্যক্তি শুধু শেষ রাকাআত বা শেষ সিজদা পায়' অতঃপর তিনি বললেন, 'আল্লাহর শপথ! কিয়ামাতের দিন লোকজন শহীদগণের প্রতি এমনভাবে তাকাবে।' বলে তিনি আসমানের দিকে মুখ তুলে তাকালেন।”⁷²
টিকাঃ
৭২. সনদ দুর্বল। একাধিক বর্ণনাকারীর সমস্যা রয়েছে।