📄 প্রকৃত সম্মানের অধিকারী
৪২. আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস রা. বলেন,
يَجِيءُ اللَّهُ تَبَارَكَ وَتَعَالَى فِي ظُلَلٍ مِنَ الْغَمَامِ وَالْمَلَائِكَةِ، ثُمَّ يُنَادِي مُنَادٍ: سَيَعْلَمُ أَهْلُ الْجَمْعِ لِمَنِ الْكَرَمُ الْيَوْمَ, فَيَقُولُ: عَلَيْكُمْ بِأَوْلِيَائِي الَّذِينَ اهْرَاقُوا دِمَاءَهُمُ ابْتِغَاءَ مَرْضَاتِي، فَيَتَطَلَعُونَ حَتَّى يَدْنُونَ
"(কিয়ামাতের দিন) আল্লাহ তাআলা ও ফেরেশতাগণ মেঘের ছায়ায় আসবেন। অতঃপর একজন ঘোষক (ফেরেশতা) ঘোষণা করবেন, 'আজকে সকলেই জানতে পারবে, প্রকৃত সম্মানের অধিকারী কারা?' তখন আল্লাহ তাআলা বলবেন, 'আমার সেসব বন্ধুকে নিয়ে আসো, যারা আমার সন্তুষ্টির জন্য নিজেদের রক্ত প্রবাহিত করেছে।' তখন তারা উঠবেন এবং (আল্লাহ তাআলার) নিকটবর্তী হবেন।”⁶²
৪৩. মুআয ইবনু জাবাল রা. বলেন,
يُنَادِي مُنَادٍ: أَيْنَ الْمُفْجَعُونَ فِي سَبِিলِ اللَّهِ، فَلَا يَقُومُ إِلَّا الْمُجَاهِدُونَ
"(কিয়ামাতের দিন) একজন ঘোষক এই বলে ঘোষণা করবেন যে, 'আল্লাহর রাস্তায় নানাবিধ কষ্ট-মুসিবত সয়ে যাওয়া লোকজন কোথায়?' তখন শুধু মুজাহিদগণই উঠে দাঁড়াবেন। "⁶³
টিকাঃ
৬২. সনদ মাওকূফ এবং দুর্বল। বর্ণনাকারীদের মধ্যে শাহর ইবনু হাওশাব রয়েছেন। তার ব্যাপারে মুহাদ্দিসগণের আপত্তি রয়েছে। তা ছাড়া গ্রন্থকার ব্যতীত আর কেউ বর্ণনাটি নকল করেননি।
৬৩. মাওকুফ হাসান। আরও রয়েছে: ইবনুল আসাকীর, তারীখু মাদীনাতি দিমাশক, ১৫/৩৩৯, ৩৪০।
📄 ভীতু ও কৃপণের বিশেষ সুযোগ
৪৪. আবু ইমরান জুহানী রা. হতে বর্ণিত, রাসূল ﷺ বলেছেন,
إِذَا قَاتَلَ الشُّجَاعُ وَالْجَبَانُ، فَأَعْظَمُهُمَا أَجْرًا الْجِبَانُ، وَإِذَا تَصَدَّقَ الْبَخِيلُ والسَّخِيُّ فَأَعْظَمُهُمَا أَجْرًا الْبَخِيلُ
"যখন ভীতু ও সাহসী ব্যক্তি একসাথে লড়াইয়ে অংশগ্রহণ করে তখন ভীতু ব্যক্তি অধিক সাওয়াব লাভ করে। আর যখন দানশীল ও কৃপণ উভয়ে দান করে তখন কৃপণ ব্যক্তি অধিক সাওয়াব লাভ করে।”⁶⁴ ⁶⁵
৪৫. হুজুর আল হাজারী রহ. হতে বর্ণিত, আল্লাহ তাআলা বলেন,
فَصَعِقَ مَن فِي السَّمَاوَاتِ وَمَن فِي الْأَرْضِ إِلَّا مَن شَشاءَ اللَّهُ
(সেদিন শিঙায় ফুঁ দেয়া হবে) ফলে আসমান ও যমীনে যারা আছে সবাই বেহুঁশ হয়ে যাবে, তবে আল্লাহ যাকে ইচ্ছা করেন।⁶⁶
এর ব্যাখ্যায় সাঈদ ইবনু জুবাইর রহ. বলেন,
قَالَ هُمُ الشُّهَدَاءُ، هُمْ ثَنِيَّةُ اللَّهِ حَوْلَ الْعَرْشِ مُتَقَلِدِينَ السُّيُوفَ
তারা হলেন শহীদগণ। তাদের আল্লাহ তাআলা ব্যতিক্রম করেছেন। তারা তখন গলায় তরবারি ঝুলিয়ে আরশের পাশে অবস্থান করবেন।⁶⁷
টিকাঃ
৬৪. কারণ, ভীতু ব্যক্তির জন্য লড়াই করা এবং কৃপণ ব্যক্তির জন্য দান করা অতিরিক্ত কষ্টসাধ্য বিষয়।
৬৫. সনদ মুরসাল যঈফ। বর্ণনাকারী হারিস ইবনু উবাইদ সম্পর্কে মুহাদ্দিসগণের আপত্তি রয়েছে।
৬৬. সূরা যুমার, ৩৯:৬৮
৬৭. সনদ গ্রহণযোগ্য। আরও রয়েছে: ইমাম বুখারী, তারীখুল কাবীর, ৩/৭৩; তাফসীরুত তাবারী, ২০/২৫৫।
📄 জান্নাত ও জাহান্নামে প্রবেশকারী প্রথম তিনটি শ্রেণি
৪৬. আবু হুরাইরা রা. হতে বর্ণিত, রাসূল ﷺ বলেছেন,
عُرِضَ عَلَى أَوَّلُ ثَلَاثَةٍ يَدْخُلُونَ الْجَنَّةَ، وَأَوَّلُ ثَلَاثَةٍ يَدْخُلُونَ النَّارَ ، فَأَمَّا أَوَّلُ ثَلَاثَةٍ يَدْخُلُونَ الْجَنَّةَ: فَالشَّهِيدُ، وَعَبْدُ مَمْلُوكَ أَحْسَنَ عِبَادَةَ رَبِّهِ وَنَصَحَ لِسَيِّدِهِ وَعَفِيفُ مُتَعَفِّفُ ذُو عِيَالٍ. وَأَوَّلُ ثَلَاثَةٍ يَدْخُلُونَ النَّارَ: أَمِيرُ مُسَلِّطُ، وَذُو ثَرْوَةٍ مِنْ مَالٍ لَا يُعْطِي حَقَّهُ، وَفَقِيرٌ فَخُورٌ
"জান্নাতে প্রবেশকারী প্রথম তিন (শ্রেণির) ব্যক্তিকে আমার সামনে উপস্থিত করা হয়েছে। আর জাহান্নামে প্রবেশকারী প্রথম তিন (শ্রেণির) ব্যক্তিকেও আমার সামনে উপস্থিত করা হয়েছে। জান্নাতে প্রবেশকারী প্রথম তিন ব্যক্তি হলেন, ক) শহীদ, খ) ওই কৃতদাস যে উত্তমরূপে তার রবের ইবাদাত করে এবং নিজের মনিবের প্রতি কল্যাণকামী হয় আর গ) হারাম পরিত্যাগকারী ব্যক্তি, যার পরিবার-পরিজন রয়েছে। জাহান্নামে প্রবেশকারী প্রথম তিন ব্যক্তি হলো ক) জোড়পূর্বক ক্ষমতা দখলকারী, খ) সম্পদের হক (যাকাত ও সদকা) অনাদায়কারী সম্পদশালী এবং গ) দরিদ্র অহংকারী।"⁶⁸
টিকাঃ
৬৮. সনদ গ্রহণযোগ্য। আরও রয়েছে: মুসনাদু আহমাদ, ১৪৯২। (ইমাম আহমাদের সনদ দুর্বল)
📄 আল্লাহ তাআলার পছন্দ ও অপছন্দের মানুষ কারা?
৪৭. ইবনুল আহমাস রহ. বলেন,
أَنْ أَبَا ذَرٍ قَالَ: ثَلَاثَةٌ يُحِبُّهُمُ اللهُ، وَثَلَاثَةٌ يَشْنَؤُهُمُ اللَّهُ، فَلَقِيتُهُ، فَقُلْتُ: يَا أَبَا ذَرِّ ، مَا حَدَّثْتَ؟ بَلَغَنِي عَنْكَ تُحَدِّثُ بِهِ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَحْبَبْتُ أَنْ أَسْمَعَهُ مِنْكَ. قَالَ: مَا هُوَ؟ قُلْتُ: ثَلَاثَةٌ يُحِبُّهُمُ اللَّهُ، وَثَلَاثَةٌ يَشْنَؤُهُمُ اللهُ. قَالَ: قُلْتُهُ، وَسَمِعْتُهُ. قُلْتُ: فَمَنِ الَّذِينَ يُحِبُّهُمُ اللَّهُ؟ قَالَ: رَجُلٌ كَانَ فِي فِئَةٍ أَوْ سَرِيَّةٍ، فَانْكَشَفَ أَصْحَابُهُ، فَنَصَبَ نَفْسَهُ وَنَحْرَهُ حَتَّى قُتِلَ، أَوْ يَفْتَحُ اللَّهُ عَلَيْهِ، وَرَجُلٌ كَانَ مَعَ قَوْمٍ فِي سَفَرٍ فَأَطَالُوا السَّرَى حَتَّى أَعْجَبَهُمْ أَنْ يُمْسُوا الْأَرْضَ، فَنَزَلُوا، فَقَامَ فَتَنَحَى حَتَّى أَيْقَظَ أَصْحَابَهُ لِلرَّحِيلِ، وَرَجُلٌ كَانَ لَهُ جَارُ سُوءٍ، فَصَبَرَ عَلَى أَذَاهُ، حَتَّى يُفَرِّقَ بَيْنَهُمَا مَوْتُ، أَوْ ظُعُنُ. قُلْتُ: هَؤُلَاءِ يُحِبُّهُمُ اللهُ، فَمَنِ الَّذِينَ يَشْنَؤُهُمْ؟ قَالَ: التَّاجِرُ الْخَلافُ أَوِ الْبَيَاعُ الْخَلَّافُ، وَالْبَخِيلُ الْمَنَّانُ، وَالْفَقِيرُ الْمُخْتَالُ
“আবু যর গিফারী রা. বলেন, 'তিন ব্যক্তিকে আল্লাহ সর্বাধিক পছন্দ করেন আর তিন ব্যক্তিকে তিনি অপছন্দ করেন।' এ কথা শুনে আমি তার সাথে সাক্ষাৎ করলাম এবং বললাম, 'আমি আপনার ব্যাপারে জানতে পেরেছি যে, আপনি রাসূল ﷺ হতে একটি হাদীস বর্ণনা করেছেন। আমি তা শুনতে চাই।' তিনি বললেন, 'কোন হাদীসটি?' বললাম, 'তিন ব্যক্তিকে আল্লাহ সর্বাধিক পছন্দ করেন আর তিন ব্যক্তিকে তিনি অপছন্দ করেন।' তিনি বললেন, 'আমি তা বলেছি এবং রাসূল ﷺ-এর নিকট শুনেছি।' আমি বললাম, 'আল্লাহ তাআলা যাদের পছন্দ করেন তারা কারা?' তিনি বললেন, 'ক) যে ব্যক্তি কোনো বাহিনী বা ক্ষুদ্র দলে ছিল, যার সঙ্গীগণ পালিয়ে গেছে কিন্তু সে নিজে রুখে দাঁড়িয়েছে এবং লড়াই করে নিহত হয়েছে অথবা আল্লাহ তাআলা তাকে বিজয় দান করেছেন। খ) যে ব্যক্তি কোনো মুসাফির দলের সাথে সফর করে যারা দীর্ঘ রজনি সফর করে বিশ্রামের উদ্দেশ্যে জমিনে অবতরণ করে। কিন্তু উক্ত ব্যক্তি এক কোণে জাগ্রত থাকে এবং নিজের সফরসঙ্গীদের সফরের জন্য জাগিয়ে দেয়। এবং গ) ওই ব্যক্তি, যার একজন মন্দ প্রতিবেশী রয়েছে। মৃত্যু কিংবা স্থান পরিবর্তন তাদের একে অপর হতে বিচ্ছিন্ন করার আগ পর্যন্ত সে তার প্রতিবেশীর উপদ্রব সহ্য করে।' আমি বললাম, 'এদের তো আল্লাহ তাআলা পছন্দ করেন। আর তিনি যাদের অপছন্দ করেন তারা কারা?' তিনি বললেন, 'ক) অত্যধিক শপথকারী ব্যবসায়ী বা বিক্রেতা, খ) খোঁটাদাতা কৃপণ আর গ) দরিদ্র অহংকারী।”⁶⁹
টিকাঃ
৬৯. সনদ হাসান গরীব। আল্লামা ইরাকীর মতে বর্ণনাকারী ইবনুল আহমাস সম্পর্কে তেমন কিছু জানা যায় না। তাখরীজু ইহইয়া, ৪/৭০৪,৭০৫। সহীহ সনদে সমার্থক বর্ণনা রয়েছে: মুসনাদু আহমাদ, ২১৩৫৫।