📄 জান্নাতী নারীর বৈশিষ্ট্য
২৩. আনাস ইবনু মালিক রা. বলেন,
غَدْوَةً فِي سَبِيلِ اللهِ أَوْ رَوْحَةً خَيْرٌ مِنَ الدُّنْيَا وَمَا فِيهَا، وَلَقَابُ قَوْسٍ أَوْ قِيدُ أَحَدِكُمْ فِي الْجَنَّةِ خَيْرٌ مِنَ الدُّنْيَا وَمَا فِيهَا، وَلَوْ أَنَّ امْرَأَةً مِنْ نِسَاءِ أَهْلِ الْجَنَّةِ اطلَعَتْ إِلَى الْأَرْضِ لَأَضَاءَتْ مَا بَيْنَهُمَا، وَلَمَلَاتِ الْأَرْضَ طِيبًا، وَلَنَصِيفُهَا خَيْرُ مِنَ الدُّنْيَا وَمَا فِيهَا
"আল্লাহর রাস্তায় এক সকাল অথবা এক বিকাল দুনিয়া এবং দুনিয়ার মধ্যে যা কিছু আছে তার চেয়ে উত্তম। তোমাদের কারও জান্নাতে একটি ধনুক বা সমপরিমাণ জায়গা লাভও দুনিয়া এবং দুনিয়ার মধ্যে যা কিছু আছে তার চেয়েও উত্তম। জান্নাতের কোনো নারী যদি দুনিয়াতে উঁকি দেয় তবে এতদুভয়ের মধ্যবর্তী স্থান আলোকোজ্জ্বল হয়ে উঠবে আর পুরো দুনিয়া সুগন্ধীতে মৌ মৌ করে উঠবে। তার উড়নাও দুনিয়া এবং দুনিয়ার মধ্যে যা কিছু আছে তার চেয়ে উত্তম।"
২৪. সাঈদ ইবনু আমীর রহ. বলেন,
لَوْ أَنَّ خَيْرَةً مِنْ خَيْرَاتٍ حِسَانٍ اطَّلَعَتْ مِنَ السَّمَاءِ لَأَضَاءَتْ لَهَا الْأَرْضُ، وَلَقَهَرَ ضَوْءُ وَجْهِهَا الشَّمْسَ وَالْقَمَرَ، وَلَنَصِيفٌ تُكْسَاهُ خَيْرٌ مِنَ الدُّنْيَا وَمَا فيهَا. وَقَالَ لِامْرَأَتِهِ: وَلَأَنْتِ أَحَقُّ أَنْ أَدَعَكِ لَهُنَّ مِنْ أَنْ أَدَعَهُنَّ لَكِ
"অপরূপা কল্যাণময়ীদের (হুরদের) মধ্য হতে একজন কল্যাণময়ী যদি আসমান হতে জমিনের দিকে উঁকি দেয় তাহলে পুরো দুনিয়া আলোকোজ্জ্বল হয়ে উঠবে। তার চেহারার উজ্জ্বলতা চাঁদ ও সূর্যকে (আলোকে) ম্লান করে দেবে। তার পরিধেয় উড়নাটিও দুনিয়া এবং দুনিয়ার মধ্যে যা কিছু আছে তার চেয়ে উত্তম।” অতঃপর তিনি তার স্ত্রীকে লক্ষ্য করে বলেন, "নিঃসন্দেহে তাদের জন্য তোমাকে ত্যাগ করা যায়। কিন্তু তোমার জন্য কিছুতেই তাদের ত্যাগ করা যায় না।"
টিকাঃ
৪১. সনদ সহীহ। আরও রয়েছে: সহীহ বুখারী, ৬৫৬৮।
৪২. সনদ মাওকুফ সহীহ। আরও রয়েছে: আবু নুআইম, হিলইয়াতুল আওলিয়া, ১/২৪৪১।
📄 শহীদের বাসস্থান
২৫. মুত্তালিব ইবনু হানতাব রহ. বলেন,
إِنَّ لِلشَّهِيدِ غُرْفَةٌ كَمَا بَيْنَ صَنْعَاءَ وَالْجَابِيَةِ، أَعْلَاهَا الدُّرُّ وَالْيَاقُوتُ، وَجَوْفُهَا الْمِسْكُ وَالْكَافُورُ قَالَ: فَتَدْخُلُ عَلَيْهِ الْمَلَائِكَةُ بِهَدِيَةٍ مِنْ رَبِّهِ تَبَارَكَ وَتَعَالَى فَمَا تَخْرُجُ حَتَّى يَدْخُلُ عَلَيْهِ مَلَائِكَةُ آخَرُونَ مِنْ بَابٍ آخَرَ بِهَدِيَةٍ مِنْ رَبِّهِمْ
"শহীদের জন্য এমন একটি বাগানবাড়ি থাকবে যার ব্যাপ্তি হবে (ইয়ামানের) সানআ শহর হতে (সিরিয়ার) জাবিয়াহ পর্যন্ত। যার ওপরিভাগ মুক্তো ও ইয়াকৃত পাথরে নির্মিত হবে। আর ভেতরটা থাকবে মিশক ও কপূরে পূর্ণ (সুবাসিত)। সেখানে একদল ফেরেশতা আল্লাহ তাআলার পক্ষ হতে তার জন্য উপঢৌকন নিয়ে আসবেন। তারা বিদায় না হতেই অন্য দরজা দিয়ে মহান রবের উপঢৌকন নিয়ে আরেকদল ফেরেশতা এসে হাজির হবেন।"
টিকাঃ
৪৩. সনদ মাওকুফ সহীহ।
📄 শাহাদাতের তামান্না
২৬. আনাস ইবনু মালিক রা. হতে বর্ণিত, রাসূল ﷺ বলেছেন,
مَا مِنْ نَفْسٍ تَمُوتُ لَهَا عِنْدَ اللَّهِ خَيْرٌ يَسُرُّهَا أَنْ تَرْجِعَ إِلَى الدُّنْيَا، وَلَهَا الدُّنْيَا وَمَا فِيهَا إِلَّا الشَّهِيدُ؛ لِمَا يَرَى مِنْ فَضْلِ الشَّهَادَةِ، فَيَتَمَنَّى أَنْ يَرْجِعَ فَيُقْتَلَ مَرَّةً أُخْرَى
"কোনো ব্যক্তি যখন এমন অবস্থায় মারা যায় যে, আল্লাহর নিকট তার জন্য কল্যাণ (উত্তম বিনিময়) রয়েছে, তখন তাকে দুনিয়ার সবকিছু দিলেও সে দুনিয়ায় ফিরে আসতে আগ্রহী হবে না; একমাত্র শহীদ ব্যতীত। সে শাহাদাতের মর্যাদা দেখার কারণে আবার দুনিয়ায় ফিরে এসে আল্লাহর পথে শহীদ হবার তামান্না প্রকাশ করবে।"
২৭. আবু হুরাইরা রা. হতে বর্ণিত, রাসূল ﷺ বলেছেন,
لَوْلَا أَنْ أَشُقَ عَلَى أُمَّتِي أَوْ قَالَ عَلَى النَّاسِ لَأَحْبَبْتُ أَنْ لَا أَتَخَلَّفَ عَنْ سَرِيَّةٍ تَخْرُجُ فِي سَبِিলِ اللهِ، وَلَكِنْ لَا أَجِدُ مَا أَحْمِلُهُمْ عَلَيْهِ، وَلَا يَجِدُونَ مَا يُتَحَمِّلُونَ عَلَيْهِ، وَلَشَقَ عَلَيْهِمْ أَنْ يَتَخَلَّفُوا بَعْدِي ، أَوْ نَحْৱهُ. وَلَوَدِدْتُ أَنِّي أُقَاتِلُ فِي سَبِيلِ اللهِ فَأُقْتَلَ، ثُمَّ أَحْيَا ثُمَّ أُقْتَلَ، ثُمَّ أَحْيَا ثُمَّ أُقْتَلَ
"যদি আমার উম্মাতের জন্য কষ্টকর মনে না করতাম, তবে আমি কোনো সেনা অভিযান থেকে পিছিয়ে থাকতাম না। কিন্তু আমি তো (সকলের জন্য) সাওয়ারি সংগ্রহ করতে পারছি না, যার ওপর আমি তাদের আরোহণ করাতে পারি। আর তারাও আরোহণ করার মতো যথেষ্ট সাওয়ারি জোগাড় করতে পারছি না। আর তাদের জন্য এটা কষ্টদায়ক হবে যে, তারা আমার পেছনে পড়ে থাকবে। (বর্ণনাকারী বলেন,) কিংবা তিনি এমন কিছু বলেছেন। (রাসূল ﷺ আরও বলেন,) আমি তো এটাই কামনা করি যে, আমি আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করব এবং শহীদ হয়ে যাব, অতঃপর আমাকে আবার জীবিত করা হবে এবং আমি আবার শহীদ হব। অতঃপর আমাকে আবার জীবিত করা হবে।"
২৮. আনাস ইবনু মালিক রা. হতে বর্ণিত, রাসূল ﷺ বলেছেন,
مَا مِنْ أَحَدٍ يَدْخُلُ الْجَنَّةَ يُحِبُّ أَنْ يَرْجِعَ إِلَى الدُّنْيَا وَأَنَّ لَهُ مَا عَلَى الْأَرْضِ مِنْ شَيْءٍ إِلَّا الشَّهِيدُ، فَإِنَّهُ يَتَمَنَّى أَنْ يَرْجِعَ فَيُقْتَلَ عَشْرَ مَرَاتٍ
"জান্নাতে প্রবেশের পর আর কেউ দুনিয়ায় ফিরে আসার আকাঙ্ক্ষা করবে না, যদিও দুনিয়ার সকল জিনিস তাকে দেয়া হয়। একমাত্র শহীদ ব্যতীত; সে দুনিয়ায় ফিরে আসার আকাঙ্ক্ষা করবে যেন দশ বার শহীদ হয়। "
টিকাঃ
৪৪. সনদ সহীহ। আরও রয়েছে: সহীহ বুখারী, ২৭৯৫; সহীহ মুসলিম, ১৮৭৭।
৪৫. সনদ সহীহ। কিছুটা ভিন্ন শব্দে রয়েছে: সহীহ বুখারী, ২৯৭২।
৪৬. সনদ সহীহ। আরও রয়েছে: সহীহ বুখারী, ২৮১৭; সহীহ মুসলিম, ১৮৭৭।
📄 জিহাদরত ব্যক্তির উদাহরণ
২৯. কাসিম ইবনু মুখাইমারাহ রহ. বলেন,
أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: مَثَلُ الْمُجَاهِدِ فِي سَبِيلِ اللهِ كَمَثَلِ الْجَائِعِ الظَّمَانِ، الَّذِي لَا يَسْكُنُ جُوعُهُ وَلَا ظَمَؤُهُ حَتَّى يَرْجِعَ، وَالْمُجَاهِدُ الْخَائِفُ، الَّذِي لَا يَسْكُنُ خَوْفُهُ حَتَّى يَرْجِعَ
"আল্লাহর রাস্তায় মুজাহিদের উদাহরণ হলো ওই ক্ষুধার্ত ও তৃষ্ণার্ত ব্যক্তির ন্যায়, যার ক্ষুধা ও তৃষ্ণা নিবারিত হয় না যে পর্যন্ত না সে নিজ গৃহে প্রত্যাবর্তন করে। আর ওই ভীতসন্ত্রস্ত মুজাহিদের মতো, যার ভয় দূরীভূত হয় না যে পর্যন্ত না সে নিজ গৃহে প্রত্যাবর্তন করে।"
টিকাঃ
৪৭. সনদ মুরসাল। বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য। আরও রয়েছে: হান্নাদ ইবনু সাররি, কিতাবুয যুহদ, ২/৪০৬।