📘 জান্নাতের ছায়াপথ 📄 আল্লাহর রাস্তায় এক বেলার মর্যাদা

📄 আল্লাহর রাস্তায় এক বেলার মর্যাদা


১৪. হাসান বসরী রহ. বলেন,
অ্যান্না রাসূলুল্লাহ ﷺ বাআসা জাইশান ফিহিম আব্দুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা, ফাগাদাল জাইশু, ওয়া আকোয়ামা আব্দুল্লাহ ইবনু রাওয়াহা লিইয়াশহাদাস সালাতা মাআ রাসূলিল্লাহি ﷺ, ফালাম্মা কোয়াদোন নাবিয়্যু ﷺ সালাতাহু কোয়ালা: ইয়া ইবনা রাওয়াহা, আলাম তাকুন ফিল জাইশি? কোয়ালা: বালা ইয়া রাসূলাল্লাহ, ওয়ালাকিন্নি আহবাবতু আন আশহাদাস সালাতা মাআকা, ওয়া কয়াদ আলিমতু মানজিলাহুম ফাআরূহু ওয়া উদরিকুহুম কোয়ালা: ওয়াল্লাজি নাফসি বিইয়াদিহি লাউ আনফাকতা মা ফিল আরদি মা আদরাকতা ফাদলা গাদওয়াতিহিম।
"একবার রাসূল ﷺ একটি বাহিনী প্রেরণ করলেন, যাদের মধ্যে আব্দুল্লাহ ইবনু রাওয়াহা রা.-ও ছিলেন। বাহিনী ভোরে রওনা হয়ে গেলেও আব্দুল্লাহ ইবনু রাওয়াহা রা. রাসূল ﷺ-এর সাথে সালাতে উপস্থিত হওয়ার জন্য রয়ে গেলেন। সালাত শেষে (তাকে দেখে) রাসূল ﷺ বললেন, 'হে ইবনু রাওয়াহা, তুমি না (প্রেরিত) ওই বাহিনীতে ছিলে?' তিনি বললেন, 'হ্যাঁ, ইয়া রাসূলাল্লাহ! (আমি ছিলাম।) কিন্তু আমি আপনার সাথে সালাতে উপস্থিত হতে চেয়েছি (তাই রয়ে গেছি)। অবশ্য তাদের অবস্থান আমার জানা আছে। বেলা গড়ালে আমি রওনা দিয়ে তাদের নিকট পৌঁছে যাব। তখন রাসূল ﷺ বললেন, শপথ সেই সত্তার, যার হাতে আমার প্রাণ! জমিনের সবকিছু ব্যয় করলেও তুমি তাদের সেই সকালের মর্যাদা লাভ করতে পারবে না।"

টিকাঃ
৩২. সনদ মুরসাল। বর্ণনাকারীগণের মধ্যে রবী' ইবনু সুবাইহ রয়েছেন। কেউ কেউ তাকে দুর্বল বলেছেন। সমার্থক বর্ণনা রয়েছে: সুনানু তিরমিযী, ৫২৭১। সনদ দুর্বল।

📘 জান্নাতের ছায়াপথ 📄 এই উম্মতের বৈরাগ্য

📄 এই উম্মতের বৈরাগ্য


১৫. মুআওয়িয়াহ ইবনু কুররাহ রহ. বলেন,
كَانَ يُقَالُ لِكُلِّ أُمَّةٍ رَهْبَانِيَةٌ، وَرَهْبَانِيَةُ هَذِهِ الْأُمَّةِ الْجِهَادُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ
"কথিত আছে যে, প্রত্যেক জাতির মধ্যেই বৈরাগ্য রয়েছে। আর এই উম্মাতের বৈরাগ্য হলো আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ।"

১৬. আনাস ইবনু মালিক রা. হতে বর্ণিত, রাসূল ﷺ বলেছেন,
إِنَّ لِكُلِّ أُمَّةٍ رَهْبَانِيَةً، وَرَهْبَانِيَةُ هَذِهِ الْأُمِّةِ الْجِهَادُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ
"প্রত্যেক জাতির জন্যই বৈরাগ্য রয়েছে। আর এই উম্মাতের বৈরাগ্য হলো আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ।"

১৭. উমারাহ ইবনু গাযিয়্যাহ রহ. বলেন,
أَنَّ السَّيَاحَةَ، ذُكِرَتْ عِنْدَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : أَبْدَلْنَا اللهُ بِذَلِكَ الْجِهَادَ فِي سَبِিলِ اللهِ، وَالتَّكْبِيرَ عَلَى كُلِّ شَرَفٍ
"রাসুল ﷺ-এর নিকট সন্ন্যাস-জীবন সম্পর্কে আলোচনা করা হলে তিনি বলেন, 'আল্লাহ তাআলা এর পরিবর্তে আমাদের তাঁর রাস্তায় জিহাদের বিধান দান করেছেন। আর উঁচু স্থানে আরোহণের সময় তাকবীর (আল্লাহু আকবার) বলার প্রচলন দান করেছেন।"

টিকাঃ
৩৩. সনদ মাওকুফ সহীহ। বিভিন্ন গ্রন্থে এই বর্ণনাটি হাদীস হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, যার সকল সনদই দুর্বল। মুসান্নাফু ইবনি আবি শাইবাহ, ১৯৩৩৩; মুসনাদু বাযযার, ৭৩৪৯।
৩৪. সনদ দুর্বল। বর্ণনাকারী যায়িদ আম্মিয়্যিকে অধিকাংশ মুহাদ্দিস দুর্বল বলেছেন। আরও রয়েছে: মুসান্নাফু ইবনি আবি শাইবাহ, ১৯৩৩৩; মুসনাদু বাযযার, ৭৩৪৯।
৩৫. সনদ মুরসাল। হাসান গরীব। বর্ণনাকারীদের মধ্যে ইবনু লাহিয়া রয়েছেন। দুর্বল স্মৃতিশক্তির দরুন মুহাদ্দিসগণ তাকে দুর্বল বলেছেন। সমার্থক বর্ণনা রয়েছে: তাবরানী, মু'জামুল কাবির, ৬/৬২ [৫৫১৯]।

📘 জান্নাতের ছায়াপথ 📄 আল্লাহ তাআলার রাস্তায় কিছু সময়ের মূল্য

📄 আল্লাহ তাআলার রাস্তায় কিছু সময়ের মূল্য


১৮. আবু হুরাইরা রা. হতে বর্ণিত, রাসূল ﷺ বলেছেন,
رَوْحَةٌ فِي سَبِيلِ اللَّهِ أَوْ عُدْوَةٌ خَيْرٌ مِنَ الدُّنْيَا وَمَا فِيهَا، أَوْ مَا عَلَيْهَا
"আল্লাহর রাস্তায় এক সকাল অথবা এক সন্ধ্যা দুনিয়া এবং দুনিয়ার মধ্যে বা ওপরে যা কিছু আছে তার চেয়ে উত্তম।"

১৯. মুবারক ইবনু ফাযালা রহ. বলেন,
عَنِ الْحَسَنِ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَحْوَهُ
"হাসান বসরী রহ. হতে (মুরসাল-সূত্রে) এ ধরনের বর্ণনা রয়েছে।"

টিকাঃ
৩৬. সনদ সহীহ। আরও রয়েছে: সহীহ বুখারী, ২৭৯৩; সহীহ মুসলিম, ১৮৮২।
৩৭. এর সনদ দুর্বল। ভিন্ন সনদে রয়েছে: মুসান্নাফু আব্দির রাযযাক, ৯৫৪৯।

📘 জান্নাতের ছায়াপথ 📄 শহীদের জন্য জান্নাতী হুরের আগমন

📄 শহীদের জন্য জান্নাতী হুরের আগমন


২০. আবু হুরাইরা রা. বলেন,
ذُكِرَ الشُّهَدَاءُ عِنْدَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّমَ فَقَالَ: لَا تَجِفُ الْأَرْضُ مِنْ دَمِهِ حَتَّى تَبْتَدِرَهُ زَوْجَتَاهُ كَأَنَّهُمَا ظِئْرَانِ أَضَلَّنَا فَصِيلَهُمَا فِي بَرَاجٍ مِنَ الْأَرْضِ بَيْدَاءَ، وَفِي يَدِ كُلِّ وَاحِدَةٍ مِنْهُمَا حُلَةٌ خَيْرٌ مِنَ الدُّنْيَا وَمَا فِيهَا
"রাসুল ﷺ-এর নিকট শহীদগণের আলোচনা করা হলো। তিনি বললেন, শহীদের রক্তে রঞ্জিত জমিন শুকিয়ে যাওয়ার আগেই দুজন স্ত্রী (জান্নাতী হুর) তার জন্য এমন ব্যাকুল হয়ে ছুটে আসে যেভাবে ধূসর মরুভূমিতে হারানো শাবক ফিরে পেয়ে মা উটনী ছুটে আসে। এ সময় তাদের দুজনের হাতে এক প্রস্থ করে (জান্নাতী) কাপড় থাকে, যা দুনিয়া এবং দুনিয়ার মাঝে থাকা সকল কিছু হতে উত্তম।"

২১. আব্দুল্লাহ ইবনু উবাইদ ইবনি উমাইর লাইসী রহ. বলেন,
إِذَا الْتَقَى الصَّفَانِ أَهْبَطَ اللهُ الْحُورَ الْعِينَ إِلَى السَّمَاءِ الدُّنْইয়া، فَإِذَا رَأَيْنَ الرَّجُلَ يَرْضَيْنَ مَقْدَمَهُ، قُلْنَ: اللَّهُم ثَبِّتْهُ. فَإِنْ نَكَصَ احْتَجَبْنَ مِنْهُ، وَإِنْ هُৱ قُتِلَ نَزَلْنَ إِلَيْهِ، فَمَسَحَنَ عَنْ وَجْهِهِ التَّرَابَ، وَقُلْنَ : اللَّهُم عَفْرُ مَنْ عَفَرَهُ، وَتَرَبُ مَنْ تَرَبَهُ
"(যুদ্ধের ময়দানে) যখন দুই দল মুখোমুখি হয় তখন আল্লাহ তাআলা জান্নাত হতে ডাগরনয়না হুরদের দুনিয়ার আসমানে (প্রথম আসমানে) নামিয়ে দেন। তারা যখন কোনো মুজাহিদকে এগিয়ে যেতে দেখে তখন বলে, 'হে আল্লাহ, তাকে দৃঢ়পদ রাখুন।' আর যখন সে পিছু হটে তখন তারা সেখান থেকে সরে যায়। আর যদি সে নিহত হয় তবে তারা তার নিকট নেমে এসে তার চেহারার ধুলোবালি মুছে দেয়। আর এই বলে দুআ করে যে, 'হে আল্লাহ, তাকে যে ধুলোয় মেখেছে আপনি তাকে ধূলিমলিন (অপদস্থ) করুন। তাকে যে মাটিতে লুটিয়ে দিয়েছে আপনি তাকে মাটিতে লুটিয়ে দিন (পরাস্ত করুন)।"

২২. মুজাহিদ রহ. বলেন,
كَانَ يَزِيدُ بْنُ شَجَرَةَ مِمَّا يُذْكَرُنَا فَيَبْكِي، وَيُصَدِّقُ بُكَاءَهُ بِفِعْلِهِ، وَيَقُولُ: يَا أَيُّهَا النَّاسُ اذْكُرُوا نِعْمَةَ اللهِ عَلَيْكُمْ، مَا أَحْسَنَ أَثَرَ نِعْمَةِ اللَّهِ عَلَيْكُمْ فَلَوْ تَرَوْنَ مَا أَرَى مِنْ بَيْنِ أَصْفَرَ وَأَحْمَرَ وَأَبْيَضَ وَأَسْوَدَ، وَفِي الرِّجَالِ مَا فِيهَا، إِنَّ الصَّلَاةَ إِذَا أُقِيمَتْ، فُتِحَتْ أَبْوَابُ السَّمَاءِ، وَأَبْوَابُ الْجَنَّةِ، وَأَبْوَابُ النَّارِ، فَإِذَا الْتَقَى الصَّفَانِ، فُتِحَتْ أَبْوَابُ السَّمَاءِ ، وَأَبْوَابُ الْجَنَّةِ، وَأَبْوَابُ النَّارِ، وَزُيِّنَ الْحُورُ الْعِينُ، فَاطَّلَعْنَ، فَإِذَا أَقْبَلَ الرَّجُلُ بِوَجْهِهِ، قُلْنَ: اللَّهُم ثَبَتْهُ اللَّهُمَّ أَعِنْهُ. فَإِذَا أَدْبَرَ احْتَجَبْنَ مِنْهُ، وَقُلْنَ: اللَّهُمَّ اغْفِرْ لَهُ. فَانْهَكُوا وُجُوهَ الْقَوْمِ، فِدَاكُمْ أَبِي وَأُتِي، وَلَا تُخْزُوا الخُورَ الْعِينَ، فَإِذَا قُتِلَ، كَانَتْ أَوَّلُ نَفْحَةٍ مِنْ دَمِهِ تَحُطُّ عَنْهُ خَطَايَاهُ كَمَا يَحُطُ الْوَرَقُ مِنْ غُصْنِ الشَّجَرَةِ، وَتَنْزِلُ إِلَيْهِ اثْنَتَانِ فَتَمْسَحَانِ عَنْ وَجْهِهِ، وَقُلْنَ : قَدْ أَنَى لَكَ. وَقَالَ لَهُمَا: قَدْ أَنِّي لَكُمَا. ثُمَّ كُسِيَ مِائَةً حُلَّةٍ، لَوْ جَعَلَهَا بَيْنَ أَصْبُعَيْهِ لَوَسِعَتْ، لَيْسَ مِنْ نَسْجِ بَنِي آدَمَ، وَلَكِنْ مِنْ نَبْتِ الْجَنَّةِ
"ইয়াযিদ ইবনু শাজারাহ রহ. আমাদের বিভিন্ন উপদেশমূলক কথা বলতেন আর অশ্রুসিক্ত হয়ে উঠতেন। তার আমল তার চোখের পানিকে সত্য বলে প্রমাণ করত (যা বলতেন তা নিজেও আমল করতেন)। তিনি বলতেন, 'হে লোকসকল, তোমরা আল্লাহ তাআলার নিআমাতসমূহের কথা স্মরণ করো। তোমাদের প্রতি তাঁর নিআমাতসমূহের ছাপ কতই-না উত্তমরূপে ফুটে উঠেছে! হলুদ, লাল, সাদা, কালো বর্ণে আর সাওয়ারির হাওদার মাঝে আমি যেসব (নিআমাত) দেখতে পাই তোমরা যদি তা দেখতে! যখন (জামাআতে) সালাত শুরু হয় তখন আসমান এবং জান্নাত ও জাহান্নামের দরজাসমূহ খুলে দেয়া হয়। এমনিভাবে যখন দুটি বাহিনী মুখোমুখি হয় তখন আসমান এবং জান্নাত ও জাহান্নামের দরজাসমূহ খুলে দেয়া হয়। ডাগরনয়না হুরদের সুসজ্জিত করা হয়। অতঃপর তারা উঁকি দিয়ে দেখতে থাকে। যখন কেউ অগ্রগামী হয় তারা বলে ওঠে, 'হে আল্লাহ, তাকে দৃঢ়পদ রাখুন। হে আল্লাহ, তাকে সাহায্য করুন।' যখন কেউ পিছু হটে তারা তার দিক থেকে সরে আসে আর বলে, 'হে আল্লাহ, তাকে ক্ষমা করে দিন।' সমাজের বিশিষ্ট লোকজন, তোমরা নিজেদের নিংড়ে দাও। আমার পিতা-মাতা তোমাদের জন্য উৎসর্গ হোক! এসব ডাগরনয়না হুরদের তোমরা অপমান কোরো না। যখন কেউ রণাঙ্গনে শহীদ হয়, তার রক্তের প্রথম ফোঁটার সাথে তার গুনাহও ঝরে পড়ে। যেমন (শীতকালে) গাছের ডাল থেকে পাতা ঝরে পড়ে। এ সময় দুজন (জান্নাতী) রমনী তার নিকট নেমে আসে। তারা তার চেহারা মুছে দিতে দিতে বলে, 'তোমার (যাওয়ার) সময় হয়েছে।' সেও তাদের বলে, 'তোমাদেরও (প্রণয়ের) সময় হয়েছে।' অতঃপর তাকে শত প্রস্থের পোশাক পরানো হয়। চাইলেই যা অনায়াসে দু-আঙুলের মাঝে (ভাঁজ করে) রাখা যায়। এই কাপড় মানুষের হাতে বোনা কাপড় নয়। জান্নাতে বোনা কাপড়।"

টিকাঃ
৩৮. সনদ দুর্বল। বর্ণনাকারীদের মধ্যে শাহর ইবনু হাওশাব রয়েছেন। মুহাদ্দিসগণ তাকে দুর্বল বলেছেন। আরও রয়েছে: সুনানু ইবনি মাজাহ, ২৭৯৮। সনদ দুর্বল।
৩৯. সনদ মাওকুফ সহীহ। আরও রয়েছে: মুসান্নাফু আব্দির রাযযাক, ৯৫৪০।
৪০. সনদ মাওকুফ সহীহ। আরও রয়েছে: মুসান্নাফু আব্দির রাযযাক, ৯৫৩৮

ফন্ট সাইজ
15px
17px