📄 আল্লাহর রাস্তায় জিহাদকারীর উপমা
১১. আবু হুরাইরা রা. বলেন, আমি রাসূল ﷺ-কে বলতে শুনেছি যে,
إِنَّ مَثَلَ الْمُجَاهِدِ فِي سَبِيلِ اللهِ - وَاللهُ أَعْلَمُ بِمَنْ يُجَاهِدُ فِي سَبِيلِهِ - كَمَثَلِ الْقَائِمِ الصائم الخاشِع الراكِعِ السَّاجِدِ
"আল্লাহর রাস্তায় জিহাদকারী ব্যক্তি এমন সিয়াম পালনকারীর ন্যায় যে সিয়ামব্রত অবস্থায় একাগ্রতার সাথে রুকু-সিজদা করে সালাতে দণ্ডায়মান থাকে। আর আল্লাহ তাআলাই ভালো জানেন কে তাঁর রাস্তায় জিহাদ করে।"²⁸
টিকাঃ
২৮. সনদ সহীহ। আরও রয়েছে: সুনানু নাসাঈ, ৩১২৭।
📄 ইবাদাতে আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক রাখা যাবে না
১২. ত্বাউস রহ. বলেন,
قَالَ رَجُلٌ لِرَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِنِّي أَقِفُ الْمَوَاقِفَ أُرِيدُ وَجْهَ اللَّهِ، وَأُحِبُّ أَنْ يُরَى مَوْطِنِي، فَلَمْ يَرُدّ عَلَيْهِ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ شَيْئًا حَتَّى نَزَلَتْ هَذِهِ الْآيَةُ: {فَمَنْ كَانَ يَرْجُو لِقَاءَ رَبِّهِ فَلْيَعْمَلْ عَمَلًا صَالِحًا وَلَا يُشْرِكْ بِعِبَادَةِ رَبِّهِ أَحَدًا} [الكهف: ١١٠]
"জনৈক ব্যক্তি রাসূল ﷺ-কে বললেন, 'আমি বিভিন্ন যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে থাকি। এতে আমি আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি কামনা করি। আবার এটাও চাই যে, লোকে আমার অবস্থান (শৌর্য-বীর্য) দেখুক! রাসূল তার কথার কোনো উত্তর দিলেন না। অতঃপর এই আয়াত অবতীর্ণ হলো,
ফামান কানা ইয়ারজু লিকোয়া রব্বিহি ফালইয়া’মাল আমালান সালিহান ওয়ালা ইউশরিক বি ইবাদাতি রব্বিহি আহাদা।
অতএব, যে ব্যক্তি তার পালনকর্তার সাক্ষাৎ কামনা করে, সে যেন সৎকর্ম সম্পাদন করে এবং তার পালনকর্তার ইবাদাতে কাউকে শরীক না করে।”²⁹ ³⁰
টিকাঃ
২৯. সূরা কাহফ, ১৮:১১০
৩০. গ্রন্থকারের সনদ মুরসাল। তবে বর্ণনাকারীগণ সকলেই নির্ভরযোগ্য। আরও রয়েছে: মুসতাদরাকু হাকিম, ৭৯৩১।
📄 মুজাহিদের উদাহরণ
১৩. আবু হুরাইরা রা. হতে বর্ণিত, রাসূল ﷺ বলেছেন,
مَثَلُ الْمُجَاهِدِ فِي سَبِيلِ اللهِ كَالصَائِمِ الْقَائِمِ بِآيَاتِ اللَّهِ آنَاءَ اللَّيْلِ وَآنَاءَ النَّهَارِ، مِثْلُ هَذِهِ الْأَسْطُوَانَةِ
"আল্লাহর রাস্তায় জিহাদকারী ওই ব্যক্তির ন্যায়, যে (দিনের বেলা) সিয়াম পালন করে আর দিবারাত্রি আল্লাহ তাআলার আয়াতসমূহ সহকারে এই খুঁটির ন্যায় (সালাতে) দাঁড়িয়ে থাকে।”³¹
টিকাঃ
৩১. সনদ সহীহ। আরও রয়েছে: আবু নুআইম, হিলইয়াতুল আওলিয়া, ৮/১৭৩।
📄 আল্লাহর রাস্তায় এক বেলার মর্যাদা
১৪. হাসান বসরী রহ. বলেন,
অ্যান্না রাসূলুল্লাহ ﷺ বাআসা জাইশান ফিহিম আব্দুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা, ফাগাদাল জাইশু, ওয়া আকোয়ামা আব্দুল্লাহ ইবনু রাওয়াহা লিইয়াশহাদাস সালাতা মাআ রাসূলিল্লাহি ﷺ, ফালাম্মা কোয়াদোন নাবিয়্যু ﷺ সালাতাহু কোয়ালা: ইয়া ইবনা রাওয়াহা, আলাম তাকুন ফিল জাইশি? কোয়ালা: বালা ইয়া রাসূলাল্লাহ, ওয়ালাকিন্নি আহবাবতু আন আশহাদাস সালাতা মাআকা, ওয়া কয়াদ আলিমতু মানজিলাহুম ফাআরূহু ওয়া উদরিকুহুম কোয়ালা: ওয়াল্লাজি নাফসি বিইয়াদিহি লাউ আনফাকতা মা ফিল আরদি মা আদরাকতা ফাদলা গাদওয়াতিহিম।
"একবার রাসূল ﷺ একটি বাহিনী প্রেরণ করলেন, যাদের মধ্যে আব্দুল্লাহ ইবনু রাওয়াহা রা.-ও ছিলেন। বাহিনী ভোরে রওনা হয়ে গেলেও আব্দুল্লাহ ইবনু রাওয়াহা রা. রাসূল ﷺ-এর সাথে সালাতে উপস্থিত হওয়ার জন্য রয়ে গেলেন। সালাত শেষে (তাকে দেখে) রাসূল ﷺ বললেন, 'হে ইবনু রাওয়াহা, তুমি না (প্রেরিত) ওই বাহিনীতে ছিলে?' তিনি বললেন, 'হ্যাঁ, ইয়া রাসূলাল্লাহ! (আমি ছিলাম।) কিন্তু আমি আপনার সাথে সালাতে উপস্থিত হতে চেয়েছি (তাই রয়ে গেছি)। অবশ্য তাদের অবস্থান আমার জানা আছে। বেলা গড়ালে আমি রওনা দিয়ে তাদের নিকট পৌঁছে যাব। তখন রাসূল ﷺ বললেন, শপথ সেই সত্তার, যার হাতে আমার প্রাণ! জমিনের সবকিছু ব্যয় করলেও তুমি তাদের সেই সকালের মর্যাদা লাভ করতে পারবে না।"
টিকাঃ
৩২. সনদ মুরসাল। বর্ণনাকারীগণের মধ্যে রবী' ইবনু সুবাইহ রয়েছেন। কেউ কেউ তাকে দুর্বল বলেছেন। সমার্থক বর্ণনা রয়েছে: সুনানু তিরমিযী, ৫২৭১। সনদ দুর্বল।