📄 আল্লাহর রাস্তায় বের হওয়া ব্যক্তিগণের প্রকারভেদ
৮. আব্দুল্লাহ ইবনু উমার রা. বলেন,
النَّاسُ فِي الْغَزْوِ جُزْءَانِ: فَجُزْءً خَرَجُوا يُكْثِرُونَ ذِكْرَ اللَّهِ وَالتَذْكِيرَ بِهِ، وَيَجْتَنِبُونَ الْفَسَادَ فِي الْمَسِيرِ، وَيُوَاسُونَ الصَّاحِبَ، وَيُنْفِقُونَ كَرَائِمَ أَمْوَالِهِمْ، فَهُمْ أَشَدَّ اغْتِبَاطًا بِمَا أَنْفَقُوا مِنْ أَمْوَالِهِمْ مِنْهُمْ بِمَا اسْتَفَادُوا مِنْ دُنْيَاهُمْ، وَإِذَا كَانُوا فِي مَوَاطِنِ الْقَتْلِ، اسْتَحْيُوا مِنَ اللهِ فِي تِلْكَ الْمَوَاطِنِ أَنْ يَطْلِعَ عَلَى رِيبَةٍ فِي قُلُوبِهِمْ، أَوْ خِذْلَانِ لِلْمُسْلِمِينَ، فَإِذَا قَدَرُوا عَلَى الْغُلُولِ ظَهَرُوا مِنْهُ قُلُوبَهُمْ، وَأَعْمَالَهُمْ. فَلَمْ يَسْتَطِعِ الشَّيْطَانُ أَنْ يَفْتِنَهُمْ، وَلَا يُكَلَّمَ قُلُوبُهُمْ، فَبِهِمْ يُعِزُّ اللَّهُ دِينَهُ، وَيَكْبِتُ عَدُوهُ. وَأَمَّا الْجُزْءُ الْآخَرُ، فَخَرَجُوا، فَلَمْ يُكْثِرُوا ذِكْرَ اللَّهِ، وَلَا التذْكِيرَ بِهِ، وَلَمْ يَجْتَنِبُوا الْفَسَادَ، وَلَمْ يُوَاسُوا الصَّاحِبَ، وَلَمْ يُنْفِقُوا أَمْوَالَهُمْ إِلَّا وَهُمْ كَارِهُونَ، وَمَا أَنْفَقُوا مِنْ أَمْوَالِهِمْ رَأَوْهُ مَغْرَمًا، وَحَزَّنَهُمْ بِهِ الشَّيْطَانُ فَإِذَا كَانُوا عِنْدَ مَوَاطِنِ الْقِتَالِ كَانُوا مَعَ الْآخِرِ الْآخِرِ، وَالْخَاذِلِ الْخَاذِلِ، وَاعْتَصَمُوا برُءُوسِ الْجَبَلِ، يَنْظُرُونَ مَا يَصْنَعُ النَّاسُ، فَإِذَا فَتَحَ اللَّهُ لِلْمُسْلِمِينَ، كَانُوا أَشَدَّهُمْ تَخَاطُبًا بِالْكَذِبِ، فَإِذَا قَدَرُوا عَلَى الْغُلُولِ اجْتَرَأَوا فِيهِ عَلَى اللَّهِ، وَحَدَّثَهُمُ الشَّيْطَانُ أَنَّهَا غَنِيمَةُ، إِنْ أَصَابَهُمْ رَخَاءُ بَطَرُوا، وَإِنْ أَصَابَهُمْ حَبْسٌ فَتَنَهُمُ الشَّيْطَانُ بِالْعَرَضِ، فَلَيْسَ لَهُمْ مِنْ أَجْرِ الْمُؤْمِنِينَ شَيْءٍ، غَيْرُ أَنْ أَجْسَادَهُمْ مَعَ أَجْسَادِهِمْ، وَمَسِيرَهُمْ مَعَ مَسِيرَهِمْ، دُنْيَاهُمْ وَأَعْمَالُهُمْ شَتَّى، حَتَّى يَجْمَعَهُمُ اللَّهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ، ثُمَّ يُفَرِّقُ بَيْنَهُمْ
"যুদ্ধাভিযানে বেরোনো লোকজন দুই প্রকার হয়ে থাকে:
এক. যারা আল্লাহর রাস্তায় বের হয়ে বেশি বেশি তাঁর জিকিরে মগ্ন থাকে। অন্যদেরও আল্লাহর স্মরণ করিয়ে দেয়। চলার পথে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে না। সাথের লোকজনের প্রতি সহানুভূতিশীল হয়। সম্পদের উত্তম অংশ হতে ব্যয় করে। পার্থিব প্রয়োজনে ব্যয় হওয়া সম্পদের তুলনায় আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় হওয়া সম্পদের প্রতিই বেশি তুষ্টি প্রকাশ করে। যখন তারা যুদ্ধক্ষেত্রে উপস্থিত হয় তখন এই ভেবে লজ্জায় কাতর হয়ে পড়ে যে, তাদের অন্তরে কোনোরূপ সংশয় কিংবা মুসলমানদের জন্য অপমানজনক কিছু করে বসলে আল্লাহ তাআলা তা জেনে যাবেন! যুদ্ধক্ষেত্রে (যুদ্ধলব্ধ সম্পদ ইত্যাদির ব্যাপারে) কোনো ধরনের আত্মসাতের সুযোগ আসলেও তারা নিজেদের অন্তর ও কার্যক্রমকে এসব থেকে পবিত্র রাখে। যদ্দরুন শয়তান তাদের কোনোরকম ফিতনায় (পরীক্ষায়) ফেলতে পারে না। আর তাদের অন্তরেও কোনো কুমন্ত্রণা দিতে পারে না। এ ধরনের মুজাহিদগণের মাধ্যমেই আল্লাহ দীনকে সমুন্নত করেন এবং তাঁর শত্রুদের পর্যুদস্ত করে দেন।
দুই. অন্য দলটি হলো, যারা আল্লাহ তাআলার রাস্তায় বের হয় কিন্তু নিজেরা বেশি করে আল্লাহর জিকির তো করেই না; অন্যদেরও আল্লাহর কথা স্মরণ করিয়ে দেয় না। আর বিশৃঙ্খলা থেকেও বিরত থাকে না। নিজের সাথিদের প্রতি সদয় হয় না। স্বেচ্ছায় নিজেদের সম্পত্তি হতে উত্তম অংশ ব্যয় করে না। একান্ত অনিচ্ছায় করে থাকে। আর যতটুকু সম্পদ ব্যয় করে, একেও তারা নিজেদের জন্য জরিমানা মনে করে। আর শয়তানও বিষয়টি নিয়ে তাদের দুশ্চিন্তাগ্রস্ত করে তোলে। তারা যখন যুদ্ধক্ষেত্রে উপস্থিত হয়, তখন পেছনের সারিতে আর পশ্চাৎগামীদের সাথে অবস্থান করে। পাহাড়ের চূড়ায় উঠে আত্মরক্ষা করে আর যুদ্ধক্ষেত্রে লোকজনের মাঝে কী ঘটছে সেদিকে লক্ষ রাখে। আল্লাহ তাআলা মুসলমানদের বিজয় দান করলে তারা তখন (দৌড়ে নেমে এসে) বড় বড় বুলি আর মিথ্যা গল্প ফেঁদে বসে। কোনোরকম আত্মসাতের সুযোগ পেলে আল্লাহ তাআলার সামনেই এ ধরনের অপকর্মের স্পর্ধা দেখিয়ে বসে! শয়তান তাদের এই বলে প্ররোচনা দেয় যে, এ তো গনীমতের সম্পদ! সচ্ছলতা ও প্রশস্ততায় তারা উদ্ধত হয়ে ওঠে। আর পরিস্থিতি প্রতিকূলে গেলে শয়তান তাদের সম্পদের ফিতনায় ঠেলে দেয়।
এই দলটি মুমিনদের প্রকৃত বিনিময়ের (সাওয়াবের) কিছুই লাভ করবে না। বাহ্যিক দৃষ্টিতে তাদের দেহগুলো মুমিনদের দেহের সাথেই রয়েছে। তাদের চলাফেরাও মুমিনদের সাথেই। কিন্তু বাস্তবে তাদের জগৎ এবং কর্ম সম্পূর্ণ আলাদা। (দুনিয়াতে এভাবে চললেও) কিয়ামাতের দিন আল্লাহ তাআলা তাদের জড়ো করবেন এবং (নিয়্যাতের ভিন্নতার কারণে) মুমিনদের জামাআতে হতে পৃথক করে দেবেন।”²⁵
৯. মুররাহ ইবনু শুরাহীল রহ. বলেন,
ذَكَرُوا عِنْدَ عَبْدِ اللهِ قَوْمًا قُتِلُوا فِي سَبِيلِ اللهِ، فَقَالَ: إِنَّهُ لَيْسَ عَلَى مَا تَذْهَبُونَ وَتَرَوْنَ أَنَّهُ إِذَا الْتَقَى الرِّحْفَانِ نَزَلَتِ الْمَلَائِكَةُ، فَتَكْتُبُ النَّاسَ عَلَى مَنَازِلِهِمْ، فُلَانٌ يُقَاتِلُ لِلدُّنْيَا، وَفُلَانٌ يُقَاتِلُ لِلْمُلْكِ، وَفُلَانٌ يُقَاتِلُ لِلذِّكْرِ، وَنَحْوُ هَذَا، وَفُلَانُ يُقَاتِلُ يُرِيدُ وَجْهَ اللهِ، فَمَنْ قُتِلَ يُرِيدُ وَجْهَ اللَّهِ فَذَلِكَ فِي الْجَنَّةِ
“একবার কিছু লোক আব্দুল্লাহ ইবনু উমার রা.-এর নিকট এমন কিছু লোকের আলোচনা করলেন, যারা আল্লাহর রাস্তায় নিহত হয়েছেন। তখন তিনি বললেন, ' তোমরা বিষয়টি নিয়ে যা ভাবছ আসলে তা এমন নয়। রণক্ষেত্রে যখন দুটি দল মুখোমুখি হয় তখন ফেরেশতাগণ নেমে আসেন। তারা উপস্থিত লোকজনকে (নিয়্যাত অনুযায়ী) শ্রেণিভুক্ত করেন। যেমন অমুক পার্থিব উদ্দেশ্যে লড়াই করছে আর, অমুক রাজত্ব লাভের জন্য লড়াই করছে আর অমুক সুখ্যাতি লাভের জন্য লড়াই করছে ইত্যাদি। আর অমুক ব্যক্তি আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি লাভের আশায় লড়াইয়ে নেমেছে। সুতরাং যে ব্যক্তি আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি লাভের আশায় লড়াই করে নিহত হয়েছে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।”²⁶
১০. ইমাম শিহাবুদ্দীন যুহরী রহ. বলেন,
أَنْ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ خَرَجَ عَلَى مَجْلِسٍ فِي مَسْجِدِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَهُمْ يَتَذَاكَرُونَ سَرِيَّةٌ هَلَكَتْ فِي سَبِيلِ اللَّهِ، فَيَقُولُ بَعْضُهُمْ: هُمْ عُمَالُ اللهِ، هَلَكُوا فِي سَبِيلِهِ، فَقَدْ وَجَبَ أَوْ وَقَعَ أَجْرُهُمْ عَلَى اللَّهِ، وَيَقُولُ قَائِلُ: اللَّهُ أَعْلَمُ بِهِمْ، لَهُمْ مَا احْتَسَبُوا فَلَمَّا رَآهُمْ عُمَرُ قَالَ لَهُمْ: مَا كُنْتُمْ تَتَحَدَّثُونَ؟ قَالُوا: كُنَّا نَتَحَدِّثُ فِي هَذِهِ السّرِيةِ، فَيَقُولُ قَائِلٌ كَذَا، وَيَقُولُ قَائِلٌ كَذَا، فَقَالَ عُمَرُ: وَاللَّهِ إِنَّ مِنَ النَّاسِ نَاسًا يُقَاتِلُونَ ابْتِغَاءَ الدُّنْيَا، وَإِنَّ مِنَ النَّاسِ نَاسًا يُقَاتِلُونَ رِيَاءٌ وَسُمْعَةً، وَإِنَّ مِنَ النَّاسِ نَاسًا يُقَاتِلُونَ إِنْ دَهَمَهُمُ الْقِتَالُ، وَلَا يَسْتَطِيعُونَ إِلَّا إِيَّاهُ، وَإِنَّ مِنَ النَّاسِ نَاسًا يُقَاتِلُونَ ابْتِغَاءَ وَجْهِ اللَّهِ، أُولَئِكَ الشُّهَدَاءُ، وَكُلُّ امْرِئٍ مِنْهُمْ يُبْعَثُ عَلَى الَّذِي يَمُوتُ عَلَيْهِ، وَإِنَّهَا وَاللَّهِ مَا تَدْرِي نَفْسٌ مَا هُৱ مَفْعُولُ بِهَا، لَيْسَ هَذَا الرّجُلُ الَّذِي قَدْ تَبَيِّنَ لَنَا أَنَّهُ قَدْ غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدِّمَ مِنْ ذَنْبِهِ وَمَا تَأَخَّরَ
"একবার উমার ইবনুল খাত্তাব রা. রাসূল ﷺ-এর মসজিদে (মসজিদে নববীতে) এক মজলিসের নিকট উপস্থিত হলেন। উপস্থিত লোকজন তখন আল্লাহর রাস্তায় নিহত হওয়া একটি ক্ষুদ্র বাহিনী সম্পর্কে আলোচনা করছিলেন। তাদের কেউ কেউ বলছিলেন, 'তারা (নিহত লোকজন) আল্লাহ তাআলার কর্মী। আল্লাহর রাস্তায় জীবন দিয়েছেন। সুতরাং আল্লাহ তাআলার নিকট তাদের বিনিময় (জান্নাত) অবধারিত হয়ে গিয়েছে।' আর কেউ কেউ বললেন, 'তাদের ব্যাপারে আল্লাহ তাআলাই ভালো জানেন। তাদের সাথে তাদের নিয়্যাত অনুযায়ী আচরণ করা হবে।' তাদের দেখে উমার রা. বললেন, 'তোমরা কী নিয়ে আলোচনা করছ?' তারা বললেন, 'অমুক বাহিনী নিয়ে। তাদের ব্যাপারে কেউ এই (জান্নাতী) কথা বলছে আর কেউ অন্য (নিয়্যাতের) কথা বলছে।' উমার রা. বললেন, আল্লাহর শপথ! এমন অনেক মানুষ আছে, যারা পার্থিব উদ্দেশ্যে লড়াই করে। কেউ সুনাম-সুখ্যাতির জন্য লড়াই করে। আবার কিছু মানুষ আছে লড়াই করাই যাদের মূল কাজ। লড়াই ব্যতীত আর কিছুই তারা পারে না। আর কিছু মানুষ আছেন যারা আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি লাভের আশায় লড়াই করেন। তারাই হলেন প্রকৃত শহীদ। প্রত্যেককেই তার মৃত্যুকালীন (নিয়্যাতের) অবস্থার ওপর পুনরুত্থিত করা হবে। আল্লাহর শপথ! কেউই জানে না যে, তার সাথে কী হতে যাচ্ছে? তবে এমন-সব ব্যক্তি ব্যতীত, যার সম্পর্কে আমাদের সুস্পষ্টরূপে জানিয়ে দেয়া হয়েছে যে, তার আগে ও পরের সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেয়া হয়েছে।”²⁷
টিকাঃ
২৫. গ্রন্থকারের সনদ সহীহ। আরও রয়েছে: সুনানু সাঈদ ইবনি মানসুর, ২৩২৪।
২৬. সনদ গ্রহণযোগ্য। আরও রয়েছে: আয-যুহদু লি ইবনিল মুবারক, ১৪২।
২৭. সনদ সহীহ। আরও রয়েছে: মুসতাদরাকু হাকিম, ২৫২০।
📄 আল্লাহর রাস্তায় জিহাদকারীর উপমা
১১. আবু হুরাইরা রা. বলেন, আমি রাসূল ﷺ-কে বলতে শুনেছি যে,
إِنَّ مَثَلَ الْمُجَاهِدِ فِي سَبِيلِ اللهِ - وَاللهُ أَعْلَمُ بِمَنْ يُجَاهِدُ فِي سَبِيلِهِ - كَمَثَلِ الْقَائِمِ الصائم الخاشِع الراكِعِ السَّاجِدِ
"আল্লাহর রাস্তায় জিহাদকারী ব্যক্তি এমন সিয়াম পালনকারীর ন্যায় যে সিয়ামব্রত অবস্থায় একাগ্রতার সাথে রুকু-সিজদা করে সালাতে দণ্ডায়মান থাকে। আর আল্লাহ তাআলাই ভালো জানেন কে তাঁর রাস্তায় জিহাদ করে।"²⁸
টিকাঃ
২৮. সনদ সহীহ। আরও রয়েছে: সুনানু নাসাঈ, ৩১২৭।
📄 ইবাদাতে আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক রাখা যাবে না
১২. ত্বাউস রহ. বলেন,
قَالَ رَجُلٌ لِرَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِنِّي أَقِفُ الْمَوَاقِفَ أُرِيدُ وَجْهَ اللَّهِ، وَأُحِبُّ أَنْ يُরَى مَوْطِنِي، فَلَمْ يَرُدّ عَلَيْهِ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ شَيْئًا حَتَّى نَزَلَتْ هَذِهِ الْآيَةُ: {فَمَنْ كَانَ يَرْجُو لِقَاءَ رَبِّهِ فَلْيَعْمَلْ عَمَلًا صَالِحًا وَلَا يُشْرِكْ بِعِبَادَةِ رَبِّهِ أَحَدًا} [الكهف: ١١٠]
"জনৈক ব্যক্তি রাসূল ﷺ-কে বললেন, 'আমি বিভিন্ন যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে থাকি। এতে আমি আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি কামনা করি। আবার এটাও চাই যে, লোকে আমার অবস্থান (শৌর্য-বীর্য) দেখুক! রাসূল তার কথার কোনো উত্তর দিলেন না। অতঃপর এই আয়াত অবতীর্ণ হলো,
ফামান কানা ইয়ারজু লিকোয়া রব্বিহি ফালইয়া’মাল আমালান সালিহান ওয়ালা ইউশরিক বি ইবাদাতি রব্বিহি আহাদা।
অতএব, যে ব্যক্তি তার পালনকর্তার সাক্ষাৎ কামনা করে, সে যেন সৎকর্ম সম্পাদন করে এবং তার পালনকর্তার ইবাদাতে কাউকে শরীক না করে।”²⁹ ³⁰
টিকাঃ
২৯. সূরা কাহফ, ১৮:১১০
৩০. গ্রন্থকারের সনদ মুরসাল। তবে বর্ণনাকারীগণ সকলেই নির্ভরযোগ্য। আরও রয়েছে: মুসতাদরাকু হাকিম, ৭৯৩১।
📄 মুজাহিদের উদাহরণ
১৩. আবু হুরাইরা রা. হতে বর্ণিত, রাসূল ﷺ বলেছেন,
مَثَلُ الْمُجَاهِدِ فِي سَبِيلِ اللهِ كَالصَائِمِ الْقَائِمِ بِآيَاتِ اللَّهِ آنَاءَ اللَّيْلِ وَآنَاءَ النَّهَارِ، مِثْلُ هَذِهِ الْأَسْطُوَانَةِ
"আল্লাহর রাস্তায় জিহাদকারী ওই ব্যক্তির ন্যায়, যে (দিনের বেলা) সিয়াম পালন করে আর দিবারাত্রি আল্লাহ তাআলার আয়াতসমূহ সহকারে এই খুঁটির ন্যায় (সালাতে) দাঁড়িয়ে থাকে।”³¹
টিকাঃ
৩১. সনদ সহীহ। আরও রয়েছে: আবু নুআইম, হিলইয়াতুল আওলিয়া, ৮/১৭৩।