📄 গ্রন্থকারের জীবনী
সালাফ-যুগের যে সকল মনীষী কুরআন, হাদীস ও ফিকহের ইলম, কঠোর সাধনা, তাকওয়া, দুনিয়াবিমুখ মানসিকতা আর রণাঙ্গনে দাপিয়ে বেড়ানোর বিরল কৃতিত্ব গড়ে ইতিহাসের পাতায় অমরত্ব লাভ করেছেন, 'আব্দুল্লাহ ইবনু মুবারক রহ.' তাদের অন্যতম একজন। তিনি ছিলেন একাধারে হাদীস ও ফিকহের ইমাম, রণাঙ্গনের বীর মুজাহিদ আর যুহদ ও তাকওয়ার সাধক-পুরুষ।
নাম: আবদুল্লাহ ইবনু মুবারক ইবনি ওয়াযিহ আল হানযালী আত তামীমী।
জন্ম: আবদুল্লাহ ইবনু মুবারক রহ. এর জন্ম হিজরী ১১৮ সনে খোরাসানের (বর্তমান তুর্কমেনিস্তানের) মারওয়ি শহরে। এই শহর হতে আরও অনেক ইসলামী মনীষী উঠে এসেছেন, যাদের মধ্যে রয়েছেন আহমাদ ইবনু হাম্বল, সুফিয়ান সাওরী এবং ইসহাক ইবনু রাহওয়াই প্রমুখ।
শিক্ষাজীবন: অসাধারণ স্মৃতিশক্তি, অনুসন্ধিৎসু মানসিকতা আর ইলমের প্রতি তীব্র বাসনা আবদুল্লাহ ইবনু মুবারাককে ইলম হাসিলের পাশাপাশি অর্জিত ইলমের ওপর আমল ও তা ধরে রাখার বিরল যোগ্যতা দান করে। তিনি নিজ জন্মভূমি মারওয়ি শহর হতে ইলমের রাজপথে যে যাত্রা শুরু করেন তা তৎকালীন ইলমের সৌন্দর্যে শোভিত প্রতিটি শহর আর নগর প্রদক্ষিণ করে। মক্কা, মদীনা, শাম, মিসর, ইয়ামান, কুফা, ও বসরাসহ গোটা জাযিরাতুল আরব চষে তিনি ইলমের স্বর্ণ শিখরে আরোহণ করেন। যুগশ্রেষ্ঠ ইমাম, মুহাদ্দিস ও ফকীহগণের দরসে বসে হয়ে ওঠেন তাদেরই যোগ্য উত্তরসূরি। তার বিখ্যাত শাইখগণের মধ্যে রয়েছেন হিশাম ইবনু আনাস খুরাসানী, হুমাইদ আত- তাওয়ীল, হিশাম ইবনু উরওয়াহ, আসিম আহওয়াল, ইমাম আবু হানীফা, ইমাম আ'মাশ, ইমাম আওযাঈ, ইমাম সুফিয়ান সাওরী, ইমাম শু'বা, ইমাম মালিক, ইমাম সুফিয়ান ইবনু ওআইনাহ, মা'মার ইবনু রশিদ, মা'মার ইবনু সুলাইমান, যাকারিয়া ইবনু ইসহাক এবং ইমাম লাইস রহ. প্রমুখ। তিনি প্রায় চার হাজার শাইখ হতে ইলম হাসিল করেন।
তিনি ফিকহ, সাহিত্য, ব্যাকরণ, ভাষাবিজ্ঞান, কাব্য, ভাষার অলংকরণ, যুহদ, তাকওয়া, অল্পে তুষ্টি, তাহাজ্জুদ, ইবাদাত, জিহাদে অংশগ্রহণ ও তার কৌশল, কথায় মিতভাষী হওয়া, সঠিক মত প্রকাশের ক্ষেত্রে নির্ভুলতা আর নিজের সঙ্গীদের সাথে মতপার্থক্যে লিপ্ত না হওয়া ইত্যাদি গুণাবলি অর্জন করেছিলেন।
হাদীসশাস্ত্রে ইবনু মুবারক রহ: হাদীস ও ফিকহশাস্ত্রে অগাধ পাণ্ডিত্যের কারণে ইবনু মুবারক রহ. ছিলেন তার সময়ের চার জন ইমামের একজন। জারহ ওয়া তা'দীলের আলিমরা নিরঙ্কুশভাবে ইবনু মুবারককে শক্তিশালী, নির্ভরযোগ্য আর বিশ্বস্ত মুহাদ্দিস বলেছেন। তিনি ইমাম বুখারীর সহীহার বেশ কিছু বর্ণনার বর্ণনাকারী; যেখানে ইমাম বুখারী হাদীস নেয়ার ক্ষেত্রে যথেষ্ট কড়াকড়ি আরোপ করেছেন। ইবনু মুবারক ছিলেন এমন একজন ইমাম, যিনি অনুসরণযোগ্য। সুন্নাহর ব্যাপারে তার জ্ঞান ছিল প্রখর।
জিহাদের ময়দানে ইবনু মুবারক: ইলমের ময়দানে নেতৃত্ব দেয়ার পাশাপাশি প্রায়ই হজ আর জিহাদে অংশগ্রহণের জন্য তিনি অধিক পরিচিত ছিলেন। তিনি ছিলেন সাহসীদের নেতা... তিনি এক বছর হজে যেতেন, আর পরের বছর আল্লাহর রাস্তায় জিহাদে নিজেকে নিয়োজিত করতেন। তিনি রোমানদের বিরুদ্ধে জিহাদ করেছিলেন। ইবনুল মুবারক তার বন্ধু ফুযাইল ইবনু ইয়াজকে (যিনি মক্কা আর মদীনার আবিদ হিসেবে বিখ্যাত ছিলেন) চিঠি লিখেন, যাতে তিনি কেবল মাসজিদে ইবাদাতে মাশগুল না থেকে জিহাদেও অংশগ্রহণ করেন। ইতিহাসে সেই চিঠি ব্যাপক প্রসিদ্ধি লাভ করে। নিজে জিহাদের ময়দানে উপস্থিত থাকার পাশাপাশি উম্মাহকে জিহাদমুখী করার সুউচ্চ মানসে 'কিতাবুল জিহাদ' নামে স্বতন্ত্র কিছু বর্ণনা জমা করে রেখে যান, যা তার শিষ্যগণ পরবর্তী সময়ে গ্রন্থাকারে রূপদান করেন। মুহাদ্দিস আর মুজাহিদ পরিচয় ছাড়াও তিনি ছিলেন একজন উঁচুদরের ফকীহ, একজন সফল ব্যবসায়ী, যিনি যথার্থ ইনফাক ফি সাবিলিল্লাহর উদাহরণ, বাতিলের বিরুদ্ধে কলম আর অস্ত্র উভয়ই ধারণ করেছিলেন তিনি।
তার ছাত্রবৃন্দ: যুগশ্রেষ্ঠ ইমাম, মুহাদ্দিস ও ফকীহগণের নিকট হতে অর্জিত ইলমের ওপর নিজে আমল করার পাশপাশি তিনি রেখে যান একঝাঁক ছাত্র। যারা হয়ে ওঠেন পরবর্তী প্রজন্মের যুগশ্রেষ্ঠ ইমাম, মুহাদ্দিস ও ফকীহ। তার বিখ্যাত ছাত্র ও শিয্যের মধ্যে রয়েছেন ইমাম আবু দাউদ, আব্দুর রহমান ইবনু মাহদী, হাফিয আব্দুর রাযযাক, ইমাম ইয়াহইয়া ইবনু মুঈন, ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ আল কাত্তান, আবু বকর ইবনু আবি শাইবাহ প্রমুখ।
রচনাবলি: তার অনবদ্য ও কালজয়ী রচনাবলির মধ্যে রয়েছে: তাফসিরুল কুরআন, সুনান ফিল ফিকহ, কিতাবুত তারীখ, কিতাবুয যুহদ, কিতাবুল বিররি ওয়াস সিলাহ, কিতাবুর রাকাইক এবং কিতাবুল জিহাদ ইত্যাদি।
মৃত্যু: ১৮১ হিজরীর ১০ রমযান শামের হীত নগরীতে শেষ রাতে উম্মাহর এই মহান ইমাম, মুহাদ্দিস, ফকীহ, মুজতাহিদ, মুজাহিদ, যাহিদ ও মুত্তাকী মনীষীর মৃত্যু হয়। সেখানেই তাকে দাফন করা হয়।
আল্লাহ তাআলা তার ঈমান, আমল, ইলম ও জিহাদকে কবুল ফরমান। তাকে জান্নাতুল ফিরদাউসের নিআমাতে সম্মানিত করুন। আমাদের তার পদাংক অনুসরণ করার তাওফীক আতা ফরমান।
সালাফ-যুগের যে সকল মনীষী কুরআন, হাদীস ও ফিকহের ইলম, কঠোর সাধনা, তাকওয়া, দুনিয়াবিমুখ মানসিকতা আর রণাঙ্গনে দাপিয়ে বেড়ানোর বিরল কৃতিত্ব গড়ে ইতিহাসের পাতায় অমরত্ব লাভ করেছেন, 'আব্দুল্লাহ ইবনু মুবারক রহ.' তাদের অন্যতম একজন। তিনি ছিলেন একাধারে হাদীস ও ফিকহের ইমাম, রণাঙ্গনের বীর মুজাহিদ আর যুহদ ও তাকওয়ার সাধক-পুরুষ।
নাম: আবদুল্লাহ ইবনু মুবারক ইবনি ওয়াযিহ আল হানযালী আত তামীমী।
জন্ম: আবদুল্লাহ ইবনু মুবারক রহ. এর জন্ম হিজরী ১১৮ সনে খোরাসানের (বর্তমান তুর্কমেনিস্তানের) মারওয়ি শহরে। এই শহর হতে আরও অনেক ইসলামী মনীষী উঠে এসেছেন, যাদের মধ্যে রয়েছেন আহমাদ ইবনু হাম্বল, সুফিয়ান সাওরী এবং ইসহাক ইবনু রাহওয়াই প্রমুখ।
শিক্ষাজীবন: অসাধারণ স্মৃতিশক্তি, অনুসন্ধিৎসু মানসিকতা আর ইলমের প্রতি তীব্র বাসনা আবদুল্লাহ ইবনু মুবারাককে ইলম হাসিলের পাশাপাশি অর্জিত ইলমের ওপর আমল ও তা ধরে রাখার বিরল যোগ্যতা দান করে। তিনি নিজ জন্মভূমি মারওয়ি শহর হতে ইলমের রাজপথে যে যাত্রা শুরু করেন তা তৎকালীন ইলমের সৌন্দর্যে শোভিত প্রতিটি শহর আর নগর প্রদক্ষিণ করে। মক্কা, মদীনা, শাম, মিসর, ইয়ামান, কুফা, ও বসরাসহ গোটা জাযিরাতুল আরব চষে তিনি ইলমের স্বর্ণ শিখরে আরোহণ করেন। যুগশ্রেষ্ঠ ইমাম, মুহাদ্দিস ও ফকীহগণের দরসে বসে হয়ে ওঠেন তাদেরই যোগ্য উত্তরসূরি। তার বিখ্যাত শাইখগণের মধ্যে রয়েছেন হিশাম ইবনু আনাস খুরাসানী, হুমাইদ আত- তাওয়ীল, হিশাম ইবনু উরওয়াহ, আসিম আহওয়াল, ইমাম আবু হানীফা, ইমাম আ'মাশ, ইমাম আওযাঈ, ইমাম সুফিয়ান সাওরী, ইমাম শু'বা, ইমাম মালিক, ইমাম সুফিয়ান ইবনু ওআইনাহ, মা'মার ইবনু রশিদ, মা'মার ইবনু সুলাইমান, যাকারিয়া ইবনু ইসহাক এবং ইমাম লাইস রহ. প্রমুখ। তিনি প্রায় চার হাজার শাইখ হতে ইলম হাসিল করেন।
তিনি ফিকহ, সাহিত্য, ব্যাকরণ, ভাষাবিজ্ঞান, কাব্য, ভাষার অলংকরণ, যুহদ, তাকওয়া, অল্পে তুষ্টি, তাহাজ্জুদ, ইবাদাত, জিহাদে অংশগ্রহণ ও তার কৌশল, কথায় মিতভাষী হওয়া, সঠিক মত প্রকাশের ক্ষেত্রে নির্ভুলতা আর নিজের সঙ্গীদের সাথে মতপার্থক্যে লিপ্ত না হওয়া ইত্যাদি গুণাবলি অর্জন করেছিলেন।
হাদীসশাস্ত্রে ইবনু মুবারক রহ: হাদীস ও ফিকহশাস্ত্রে অগাধ পাণ্ডিত্যের কারণে ইবনু মুবারক রহ. ছিলেন তার সময়ের চার জন ইমামের একজন। জারহ ওয়া তা'দীলের আলিমরা নিরঙ্কুশভাবে ইবনু মুবারককে শক্তিশালী, নির্ভরযোগ্য আর বিশ্বস্ত মুহাদ্দিস বলেছেন। তিনি ইমাম বুখারীর সহীহার বেশ কিছু বর্ণনার বর্ণনাকারী; যেখানে ইমাম বুখারী হাদীস নেয়ার ক্ষেত্রে যথেষ্ট কড়াকড়ি আরোপ করেছেন। ইবনু মুবারক ছিলেন এমন একজন ইমাম, যিনি অনুসরণযোগ্য। সুন্নাহর ব্যাপারে তার জ্ঞান ছিল প্রখর।
জিহাদের ময়দানে ইবনু মুবারক: ইলমের ময়দানে নেতৃত্ব দেয়ার পাশাপাশি প্রায়ই হজ আর জিহাদে অংশগ্রহণের জন্য তিনি অধিক পরিচিত ছিলেন। তিনি ছিলেন সাহসীদের নেতা... তিনি এক বছর হজে যেতেন, আর পরের বছর আল্লাহর রাস্তায় জিহাদে নিজেকে নিয়োজিত করতেন। তিনি রোমানদের বিরুদ্ধে জিহাদ করেছিলেন। ইবনুল মুবারক তার বন্ধু ফুযাইল ইবনু ইয়াজকে (যিনি মক্কা আর মদীনার আবিদ হিসেবে বিখ্যাত ছিলেন) চিঠি লিখেন, যাতে তিনি কেবল মাসজিদে ইবাদাতে মাশগুল না থেকে জিহাদেও অংশগ্রহণ করেন। ইতিহাসে সেই চিঠি ব্যাপক প্রসিদ্ধি লাভ করে। নিজে জিহাদের ময়দানে উপস্থিত থাকার পাশাপাশি উম্মাহকে জিহাদমুখী করার সুউচ্চ মানসে 'কিতাবুল জিহাদ' নামে স্বতন্ত্র কিছু বর্ণনা জমা করে রেখে যান, যা তার শিষ্যগণ পরবর্তী সময়ে গ্রন্থাকারে রূপদান করেন। মুহাদ্দিস আর মুজাহিদ পরিচয় ছাড়াও তিনি ছিলেন একজন উঁচুদরের ফকীহ, একজন সফল ব্যবসায়ী, যিনি যথার্থ ইনফাক ফি সাবিলিল্লাহর উদাহরণ, বাতিলের বিরুদ্ধে কলম আর অস্ত্র উভয়ই ধারণ করেছিলেন তিনি।
তার ছাত্রবৃন্দ: যুগশ্রেষ্ঠ ইমাম, মুহাদ্দিস ও ফকীহগণের নিকট হতে অর্জিত ইলমের ওপর নিজে আমল করার পাশপাশি তিনি রেখে যান একঝাঁক ছাত্র। যারা হয়ে ওঠেন পরবর্তী প্রজন্মের যুগশ্রেষ্ঠ ইমাম, মুহাদ্দিস ও ফকীহ। তার বিখ্যাত ছাত্র ও শিয্যের মধ্যে রয়েছেন ইমাম আবু দাউদ, আব্দুর রহমান ইবনু মাহদী, হাফিয আব্দুর রাযযাক, ইমাম ইয়াহইয়া ইবনু মুঈন, ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ আল কাত্তান, আবু বকর ইবনু আবি শাইবাহ প্রমুখ।
রচনাবলি: তার অনবদ্য ও কালজয়ী রচনাবলির মধ্যে রয়েছে: তাফসিরুল কুরআন, সুনান ফিল ফিকহ, কিতাবুত তারীখ, কিতাবুয যুহদ, কিতাবুল বিররি ওয়াস সিলাহ, কিতাবুর রাকাইক এবং কিতাবুল জিহাদ ইত্যাদি।
মৃত্যু: ১৮১ হিজরীর ১০ রমযান শামের হীত নগরীতে শেষ রাতে উম্মাহর এই মহান ইমাম, মুহাদ্দিস, ফকীহ, মুজতাহিদ, মুজাহিদ, যাহিদ ও মুত্তাকী মনীষীর মৃত্যু হয়। সেখানেই তাকে দাফন করা হয়।
আল্লাহ তাআলা তার ঈমান, আমল, ইলম ও জিহাদকে কবুল ফরমান। তাকে জান্নাতুল ফিরদাউসের নিআমাতে সম্মানিত করুন। আমাদের তার পদাংক অনুসরণ করার তাওফীক আতা ফরমান।