📘 জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা > 📄 জাহান্নাম থেকে আশ্রয়ে প্রার্থনামূলক কুরআনের আয়াত

📄 জাহান্নাম থেকে আশ্রয়ে প্রার্থনামূলক কুরআনের আয়াত


২. জাহান্নাম থেকে আশ্রয় প্রার্থনার কুরআনের কতগুলো আয়াত।

وَمِنْهُمْ مَنْ يَقُولُ رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الْآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ .
আর তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলে থাকে: হে আমাদের পালনকর্তা! আমাদেরকে ইহকালে কল্যাণ দান করুন ও আখিরাতেও কল্যাণ দান করুন এবং জাহান্নামের অগ্নির শাস্তি থেকে রক্ষা করুন। (সূরা বাক্বারা-২০১)

رَبَّنَا مَا خَلَقْتَ هَذَا بَاطِلاً سُبْحَانَكَ فَقِنَا عَذَابَ النَّارِ رَبَّنَا إِنَّكَ مَنْ تُدْخِلِ النَّارَ فَقَدْ أَخْزَيْتَهُ وَمَا لِلظَّالِمِينَ مِنْ أَنْصَارِ رَبَّنَا إِنَّنَا سَمِعْنَا مُنَادِيًا يُنَادِي لِلْإِيْمَانِ أَنْ أَمِنُوا بِرَبِّكُمْ فَأَمَنَّا رَبَّنَا فَاغْفِرْ لَنَا ذُنُوبَنَا وَكَفِّرْ عَنَّا سَيِّئَاتِنَا وَتَوَفَّنَا مَعَ الْأَبْرَارِ رَبَّنَا إِنَّكَ جَامِعُ النَّاسِ لِيَوْمِ الأرْيْبَ فِيهِ إِنَّ اللَّهَ لَا يُخْلِفُ الْمِيعَادَ .
হে আমাদের পালনকর্তা! আপনি এটা সৃষ্টি করেননি, আপনিই পবিত্রতম অতএব আমাদেরকে জাহান্নাম থেকে রক্ষা করুন। হে আমাদের পালনকর্তা! অবশ্য আপনি যাকে জাহান্নামে প্রবেশ করান ফলত: নিশ্চয় তাকে লাঞ্ছিত করলেন, আর অত্যাচারীদের জন্যে কেউই সাহায্যকারী নেই। হে আমাদের পালনকর্তা! নিশ্চয়ই আমরা এক আহ্বানকারীকে আহ্বান করতে শুনেছিলাম যে, তোমরা স্বীয় প্রতিপালকের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন কর, তাতেই আমরা বিশ্বাস স্থাপন করছি। হে আমাদের পালনকর্তা! অতএব আমাদের অপরাধসমূহ ক্ষমা করুন এবং আমাদের অমঙ্গলসমূহ দূরীভূত করুন। আর পুণ্যবানদের সাথে আমাদেরকে মৃত্যু দান করুন। হে আমাদের পালনকর্তা! আপনি স্বীয় রাসূলগণের মাধ্যমে আমাদের সাথে যে অঙ্গীকার করেছিলেন তা দান করুন এবং পুনরুত্থান দিবসে আমাদেরকে লাঞ্ছিত করবেন না। নিশ্চয়ই আপনি প্রতিশ্রুতির ব্যতিক্রম করেন না। (সূরা আলে ইমরান- ১৯১-১৯৪)

📘 জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা > 📄 জাহান্নাম থেকে আশ্রয়ে প্রার্থণামূলক দোয়া রাসুল (সা) থেকে

📄 জাহান্নাম থেকে আশ্রয়ে প্রার্থণামূলক দোয়া রাসুল (সা) থেকে


৩. জাহান্নামের শাস্তি থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য রাসূল ﷺ নিম্নোক্ত দোয়াসমূহ সাহাবাগণকে কুরআনের সূরার ন্যায় মুখস্থ করাতেন।

عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ (رض) أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ كَانَ يُعَلِّمُهُمْ هَذَا الدُّعَاءَ كَمَا يُعَلِّمُ السُّورَةَ مِنَ الْقُرْآنِ قُولُوا اللَّهُمَّ إِنَّا نَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ جَهَنَّمَ وَنَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ وَنَعُوذُ بِكَ مِنْ فِتْنَةِ الْمَسِيحِ الدَّجَّالِ وَنَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ وَنَعُوذُبِكَ مَنْ فِتْنَةِ الْمَحْيَا وَالْمَمَاتِ .
আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা) রাসূলুল্লাহ ﷺ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি তাদেরকে (সাহাবাগণকে) এ দোয়াটি কুরআনের সূরার ন্যায় মুখস্থ করাতেন, তোমরা বল: হে আল্লাহ! আমরা আপনার নিকট জাহান্নামের শাস্তি থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করি, আমরা আপনার নিকট কবরের শাস্তি থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করি, আমরা আপনার নিকট মাসিহিদ দাজ্জালের ফিতনা থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করি, আমরা আপনার নিকট জীবন ও মৃত্যুর ফিতনা থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করি। (নাসায়ী, আবওয়াবুন ন্নাউম মা ইয়াকুলু ইন্দান্নাউম। বাবুল ইস্তেয়াজা মিন ফিতনাতিল মাহইয়া ওয়াল মামাত)

📘 জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা > 📄 জাহান্নামের গরম থেকে আশ্রয় চাওয়ার দোয়া

📄 জাহান্নামের গরম থেকে আশ্রয় চাওয়ার দোয়া


৪. জাহান্নামের গরম থেকে আশ্রয় চাওয়ার দোয়া।

عَنْ عَائِشَةَ (رض) قَالَتْ قَالَ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ اللَّهُ اللَّهُمَّ رَبِّ جِيرَائِيلَ وَمِيكَائِيلَ وَرَبِّ إِسْرَائِيلَ أَعُوذُبِكَ مِنْ حَرِّ النَّارِ وَمِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ .
আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেছেন: হে আল্লাহ! জিবরীল, মিকাঈল ও ইসরাঈলের পালনকর্তা, আমি আপনার নিকট জাহান্নামের গরম থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করি এবং কবরের শাস্তি থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করি। (নাসায়ী, কিতাবুল ইস্তিয়াজা মিন হাররিন্নার- ৩/৫০৯২)

📘 জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা > 📄 শোয়ার পূর্বে আল্লাহর শাস্তি থেকে আশ্রয় প্রার্থনা

📄 শোয়ার পূর্বে আল্লাহর শাস্তি থেকে আশ্রয় প্রার্থনা


৫. শোয়ার পূর্বে আল্লাহর শাস্তি থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করার দোয়া।

عَنْ حَفْصَةَ (رض) أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ كَانَ إِذَا أَرَادَ أَنْ يَرْقُدَ وَضَعَ يَدَهُ الْيُمْنَى تَحْتَ خَدِّهِ ثُمَّ يَقُولُ اللَّهُمَّ قِنِي عَذَابَكَ يَوْمَ تَبْعَثُ عبادك .
হাফসা (রা) রাসূলুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি যখন শয়ন করার ইচ্ছা করতেন তখন ডান হাত স্বীয় গালের নিচে রেখে বলতেন: হে আল্লাহ! যেদিন আপনি আপনার বান্দাদেরকে উঠাবেন, সেদিন আমাকে স্বীয় শাস্তি থেকে রক্ষা করবেন। (আবু দাউদ, আবওয়াবুন্নাউম, মা ইয়াকুলু ইন্দান্নাউম- ৩/৪২১৮)

عَنْ ابْنِ عُمَرَ (رض) أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ كَانَ يَقُولُ إِذَا أَخَذَ مَضْجَعَهُ الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي كَفَانِي وَأَوَانِي وَأَطْعَمَنِي وَسَفَانِي وَالَّذِي مَنَّ عَلَى فَافْضُلُ وَالَّذِي أَعْطَانِي فَاجْزَلَ الْحَمْدُ لِلَّهِ عَلَى كُلِّ حَالٍ اللَّهُمَّ رَبَّ كُلِّ شَيْءٍ وَمَلِيْكِهِ وَالهُ كُلِّ شَيْ أَعُوذُ بِكَ مِنَ النَّارِ.
আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রা) রাসূলুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি যখন বিছানায় শুইতে যেতেন তখন আল্লাহর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলতেন, যিনি আমাকে সমস্ত বলা মুসিবত থেকে রক্ষা করেছেন, আমাকে বাসস্থানের ব্যবস্থা করেছেন, আমাকে পানাহার করিয়েছেন, ঐ সত্তার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি তিনি যখন আমার প্রতি অনুগ্রহ করেছেন তখন যথেষ্ট পরিমাণে তা করেছেন, যখন আমাকে দান করেছেন তখনও যথেষ্ট পরিমাণে করেছেন, সর্ববস্থায় শুধু তাঁরই কৃতজ্ঞতা, হে আল্লাহ! সবকিছুর পালনকর্তা, সবকিছুর মালিক, সবকিছুর ইলাহ, আমি জাহান্নাম থেকে তোমার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি। (আবু দাউদ, আবওয়াবুন্নাউম, মা ইয়াকুলু ইন্দান্নাউম- ৩/৪২২৯)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00