📄 কে উত্তম? জান্নাতী না জাহান্নামী?
১. যে ব্যক্তি জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবে সে উত্তম, না যে তা থেকে নিরাপত্তা লাভ করবে সে উত্তম।
أَفَمَنْ يُلْقَى فِي النَّارِ خَيْرٌ أَمْ مَنْ يَأْتِي أَمِنًا يَوْمَ الْقِيَامَةِ اعْمَلُوا مَا شِئْتُمْ إِنَّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ بَصِيرٌ .
শ্রেষ্ঠ কে? যে ব্যক্তি জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবে সে, না যে ব্যক্তি শেষ বিচার দিবসে নিরাপদে থাকবে সে! তোমাদের যা ইচ্ছা তা কর, তোমরা যা কর তিনি তার দ্রষ্টা। (সূরা হা-মীম সেজদা-৪০)
📄 জাহান্নামের আগুন উত্তম না জান্নাতের মেহমানদারী উত্তম?
২. জাহান্নামের উত্তপ্ত আগুন দেখে মৃত্যুর ধ্বংস কামনাকারী ব্যক্তি উত্তম না ঐ ব্যক্তি উত্তম যে, এমন স্থানে থাকবে যেখানে তার যাবতীয় আকাঙ্ক্ষা পূরণ করা হবে।
وَاعْتَدْنَا لِمَنْ كَذَّبَ بِالسَّاعَةِ سَعِيرًا إِذَا رَأَتُهُمْ مِّنْ مَّكَانٍ بَعِيدٍ سَمِعُوا لَهَا تَغَيُّظًا وَزَفِيرًا وَإِذَا أَلْقُوا مِنْهَا مَكَانًا ضَيِّقًا مُّقَرَّنِيْنَ دَعَوْا هُنَالِكَ نُبُورًا لَاتَدْعُوا الْيَوْمَ نُبُورًا وَاحِدًا وَادْعُوا ثُبُورًا كَثِيرًا قُلْ أَذْلِكَ خَيْرٌ أَمْ جَنَّةُ الْخُلْدِ الَّتِي وُعِدَ الْمُتَّقُونَ كَانَتْ لَهُمْ جَزَاء وَنَصِيرًا لَهُمْ فِيهَا مَا يَشَاؤُونَ خَالِدِينَ كَانَ عَلَى رَبِّكَ وَعْدًا مَّسْؤُولاً .
কিন্তু তারা শেষ বিচার দিবসকে অস্বীকার করেছে, আর যারা কিয়ামতকে অস্বীকার করে তাদের জন্য আমি প্রস্তুত করে রেখেছি জ্বলন্ত অগ্নি। দূর থেকে অগ্নি যখন তাদেরকে দেখবে তখন তারা শুনতে পাবে তার ক্রুদ্ধ গর্জন ও চীৎকার এবং যখন তাদেরকে শৃঙ্খলিত অবস্থায় তার কোন সংকীর্ণ স্থানে নিক্ষেপ করা হবে, তখন তারা সেখানে ধ্বংস কামনা করবে। (তাদেরকে বলা হবে) আজ তোমরা এক বারের জন্য ধ্বংস কামনা কর। তাদেরকে জিজ্ঞেস কর এটাই শ্রেয় না স্থায়ী জান্নাত, যার প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে মুত্তাকীদেরকে, এটাইতো তাদের পুরস্কার ও প্রত্যাবর্তনস্থল। সেখানে তারা যা কামনা করবে তারা তাই পাবে এবং তারা স্থায়ী হবে, এ প্রতিশ্রুতি পূরণ তোমার পালনকর্তার দায়িত্ব। (সূরা ফুরকান - ১১-১৬)
📄 জান্নাতের আথিথেয়তা উত্তম না যাক্কুম বৃক্ষ উত্তম?
৩. জান্নাতের নে'আমতসমূহের আতিথেয়তা উত্তম না যাক্কুম বৃক্ষ ও উত্তপ্ত পানি পান করা।
إِنَّ هَذَا لَهُوَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ لِمِثْلِ هَذَا فَلْيَعْمَلِ الْعَامِلُونَ أَذْلِكَ خَيْرٌ نُزُلاً أَمْ شَجَرَةُ الزَّقَوْمِ إِنَّا جَعَلْنَاهَا فِتْنَةٌ لِلظَّالِمِينَ إِنَّهَا شَجَرَةٌ تَخْرُجُ فِي أَصْلِ الْجَحِيمِ طَلْعُهَا كَأَنَّهُ رُؤُوسُ الشَّيَاطِينِ فَإِنَّهُمْ لَاكِلُونَ مِنْهَا فَمَا لِؤُونَ مِنْهَا الْبُطُونَ ثُمَّ إِنَّ لَهُمْ عَلَيْهَا لَشَوْبًا مِّنْ حَمِيمٍ .
এটা নিশ্চয়ই মহা সাফল্য! এরূপ সাফল্যের জন্যে সাধকদের উচিত সাধনা করা। আপ্যায়নের জন্যে এটাই কি শ্রেষ্ঠ না যাক্কুম বৃক্ষ? যাযিমের তলদেশ থেকে, এটা সৃষ্টি করেছি পরীক্ষাস্বরূপ। এ বৃক্ষ উদগত হয় জাহান্নামের তলদেশ থেকে, এর মোচা যেন শয়তানের মাথা। এটা থেকে তারা অবশ্যই ভক্ষণ করবে এবং উদর পূর্ণ করবে তা দ্বারা। তদুপরি তাদের জন্য থাকবে ফুটন্ত পানির মিশ্রণ। (সূরা সাফফাত ৬৩-৬৭)
📄 দুনিয়াতে আনন্দ উপভোগকারী উত্তম না আখেরাতের আনন্দ উত্তম?
৪. দুনিয়াতে আনন্দ উপভোগকারী উত্তম না আখিরাতের আনন্দ উপভোগকারী উত্তম।
إِنَّ الَّذِيْنَ أَجْرَمُوْا كَانُوْا مِنَ الَّذِيْنَ آمَنُوْا يَضْحَكُوْنَ وَإِذَا مَرُّوْا بِهِمْ يَتَغَامَزُوْنَ وَإِذَا انْقَلَبُوْا إِلَى أَهْلِهِمُ انْقَلَبُوْا فَكِهِيْنَ وَإِذَا رَأَوْهُمْ قَالُوْا إِنَّ هَؤُلَاءِ لَضَالُّوْنَ وَمَا أُرْسِلُوْا عَلَيْهِمْ حَافِظِيْنَ فَالْيَوْمَ الَّذِيْنَ آمَنُوْا مِنَ الْكُفَّارِ يَضْحَكُوْنَ عَلَى الْأَرَائِكِ يَنْظُرُوْنَ - هَلْ تُوِّبَ الْكُفَّارُ مَا كَانُوْا يَفْعَلُوْنَ -
যারা অপরাধী তারা ঈমানদারদেরকে উপহাস করত, আর তারা যখন মু’মিনদের নিকট দিয়ে যেত তখন চোখ টিপে ইশারা করত এবং তারা যখন আপনজনদের নিকট ফিরে আসত তখন তারা ফিরত উৎফুল্ল চিত্তে। আর যখন তাদের দেখত তখন বলত এরাই তো গোমরাহ, তাদেরকে তো এদের সংরক্ষক রূপে পাঠানো হয়নি। আজ তাই মু’মিনগণ উপহাস করছে কাফেরদেরকে, সুসজ্জিত আসন থেকে তাদেরকে অবলোকন করে। কাফেররা তাদের কৃতকর্মের ফল পেল তো? (সূরা মুতাফফিফীন ২৯-৩৬)