📘 জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা > 📄 যাকাত না দাতার জন্য টাক মাথাওয়ালা বিষাক্ত সাপ

📄 যাকাত না দাতার জন্য টাক মাথাওয়ালা বিষাক্ত সাপ


১. যাকাত না আদায়কারীদের জন্য টাক মাথাওয়ালা বিষাক্ত সাপের দংশনের মাধ্যমে শাস্তি।

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ (رض) قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ مَنْ أَتَاهُ اللَّهُ مَالاً فَلَمْ يُوَدِّ زَكَاتَهُ مُثَّلَ لَهُ مَالُهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ شُجْعًا أَقْرَعَ لَهُ زَبِيبَتَانِ يُطَوَّقُهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ ثُمَّ يَأْخُذُ بِلِهْزِمَتِهِ يَعْنِي بِشِدْقَيْهِ ثُمَّ يَقُولُ أَنَا مَالُكَ أَنَا كَنْزُكَ ثُمَّ تَلا . وَلَا يَحْسَبَنَّ الَّذِينَ يَبْخَلُونَ بِمَا أَتَاهُمُ اللَّهُ مِنْ فَضْلِهِ هُوَ خَيْرًا لَّهُمْ بَلْ هُوَ شَرٌّ لَّهُمْ سَيُطَوَّقُونَ مَا بَخِلُوا بِهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ .
আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ ইরশাদ করেছেন: যাকে সম্পদ দিয়েছেন আর সে তার যাকাত আদায় করে না, শেষ বিচারের দিন তার সম্পদ টাক মাথাওয়ালা বিষধর সাপের আকৃতি ধারণ করবে, যার চোখের ওপর দুটি ফোটা থাকবে, তা তার গলার মালা বানানো হবে। অতপর সাপটি ঐ ব্যক্তির উভয় প্রান্ত ধরে বলবে : আমি তোমার ধন-সম্পদ। অতপর তিনি আলোচ্য আয়াত পাঠ করলেন: আল্লাহ তাদেরকে নিজের অনুগ্রহে যা দান করেছেন তাতে যারা কৃপণতা করে, এ কার্পণ্য তাদের জন্য মঙ্গলকর হবে বলে তারা যেন ধারণা না করে। বরং এটা তাদের জন্য একান্তই ক্ষতিকর প্রতিপন্ন হবে। যাতে তারা কার্পণ্য করে সে সমস্ত ধন-সম্পদ শেষ বিচারের দিন তাদের গলায় বেড়ী বানিয়ে পড়ানো হবে। (সূরা আলে ইমরান-১৮০) (বুখারী, কিতাবুযযাকাত; বাব ইসমু মানিইয্যাকাত)

📘 জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা > 📄 যাকাত না দেয়ার জন্য সম্পদকে গরম পাত বানিয়ে ছেঁক দেয়া হবে

📄 যাকাত না দেয়ার জন্য সম্পদকে গরম পাত বানিয়ে ছেঁক দেয়া হবে


২. যাকাত না আদায়কারীদের জন্য তদের সম্পদকে পাত বানিয়ে জাহান্নামের আগুনে গরম করে তাদের কপাল, পিঠ ও রানে ছেঁক দেয়ার মাধ্যমে শাস্তি দেয়া হবে। জীবজন্তুর যাকাত না আদায়কারীর জন্য ঐ সমস্ত জীবজন্তু দিয়ে তাকে পদদলিত করা হবে।

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ (رض) يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ مَا مِنْ صَاحِبِ ذَهَبٍ وَلَا فِضَّةٍ لَا يُوَدِّى مِنْهَا حَقَّهَا إِلَّا إِذَا كَانَ يَوْمُ الْقِيَامَةِ صُفِحَتْ لَهُ صَفَائِحُ مِنْ نَارٍ فَأَحْمِي عَلَيْهَا فِي نَارِ جَهَنَّمَ فَيَكُوى بها جنبه وَجَبِينَهُ وَظَهرَه هَا فِي يَوْمٍ كَانَ مِقْدَارُهُ خَمْسِينَ الف سَنَةٍ حَتَّى يُقْضَى بَيْنَ الْعِبَادِ فَيُرَى سَبِيلُهُ إِمَّا إِلَى الْجَنَّةَ وَإِمَّا إِلَى النَّارِ .
আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ ইরশাদ করেছেন: সোনা রূপার যে মালিক তার যাকাত আদায় করে না, শেষ বিচারের দিন ঐ সোনা রূপা দিয়ে তার জন্য আগুনের অনেক পাত নির্মাণ করা হবে, অতপর তা জাহান্নামের আগুনে গরম করা হবে, যখনই ঠান্ডা হয়ে আসবে পুনরায় তা উত্তপ্ত করা হবে, আর তার সাথে এরূপ করা হবে এমন একদিন যার পরিমাণ হবে পঞ্চাশ হাজার বছরের সমান। আর তার এরূপ শাস্তি লোকদের বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত চলতে থাকবে। অতপর তাদের কেউ পথ ধরবে হয় জান্নাতের দিকে, আর কেউ জাহান্নামের দিকে।
জিজ্ঞেস করা হল, হে আল্লাহর রাসূল! উটের মালিকদের কি হবে? তিনি বললেন: যে উটের মালিক তার উটের হক আদায় করবে না, আর উটের হকগুলোর মধ্যে পানি পানের তারিখে তার দুধ দোহন করে, আর অন্যদেরকে দান করাও একটি হক। যখন শেষ বিচারের দিন আসবে, তখন তাকে এক সমতল ভূমিতে উপুড় করে ফেলা হবে, অতপর তার উটগুলো মোটা তাজা হয়ে আসবে, বাচ্চাগুলোও এদের অনুসরণ করবে, এগুলো আপন আপন খুর দ্বারা তাকে মাড়াই করতে থাকবে এবং মুখ দ্বারা কামড়াতে থাকবে, এভাবে যখন একটি পশু তাকে অতিক্রম করবে তখন তার অপরটি তার দিকে অগ্রসর হবে, সারাদিন তাকে এরূপ শাস্তি দেয়া হবে। এ দিনের পরিমাণ হবে পঞ্চাশ হাজার বছরের সমান।
অতঃপর বান্দাদের বিচার শেষ হবে। তাদের কেউ জান্নাতে আর কেউ জাহান্নামের পথ ধরবে। এরপর জিজ্ঞেস করা হবে, হে আল্লাহর রাসূল! গরু ছাগলের (মালিকদের) কি হবে? তিনি বললেন: যে সব গরুর মালিক তাদের হক আদায় করে না, শেষ বিচারের দিন তাকে সমতল ভূমিতে উপুড় করে ফেলে রাখা হবে, আর তার সেসব গরু ছাগল তাকে শিং দিয়ে আঘাত করতে থাকবে এবং পা দিয়ে মাড়াতে থাকবে, সে দিন তার একটি গরু ছাগলেরও শিং বাঁকা বা শিং ভাঙ্গা হবে না এবং তাকে মাড়ানোর ব্যাপারে একটিও বাদ থাকবে না। যখন এদের প্রথমটি অতিক্রম করবে তখন দ্বিতীয়টি এর পিছে পিছে এসে যাবে। সমস্ত দিন তাকে এভাবে পিষা হবে। এ দিনের পরিমাণ হবে পঞ্চাশ হাজার বছরের সমান। অতপর বান্দাদের বিচার শেষ হবে এবং তাদের কেউ জান্নাতে আর কেউ জাহান্নামের পথ ধরবে। (মুসলিম, কিতাবুযযাকাত; বাব ইসমু মানে'ই যযাকাত)

📘 জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা > 📄 রোজা ভঙ্গকারীদের জন্য উপুড় করে লটকিয়ে মুখ বিদীর্ণ করা হবে

📄 রোজা ভঙ্গকারীদের জন্য উপুড় করে লটকিয়ে মুখ বিদীর্ণ করা হবে


৩: রোযা ভঙ্গকারীদেরকে উপুড় করে লটকিয়ে মুখ বিদীর্ণ করা হবে।
عَنْ أَبِي أُمَامَةَ الْبَاهِلِيِّ (رض) قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ ﷺ يَقُولُ بَيْنَمَا أَنَا نَائِمُ أَتَانِي رَجُلَانِ قَالَ قُلْتُ مَنْ هُؤُلَاءِ قَالَ الَّذِينَ يُفْطِرُونَ قَبْلَ نَحِلَّةِ صَوْمِهِمْ .
আবু উমামা বাহিলী (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ ইরশাদ করেছেন: আমি শুয়ে ছিলাম এমতাবস্থায় আমার নিকট দু'জন লোক আসল, তারা আমাকে পার্শ্ব ধরে একটি দুরহ পাহাড়ের নিকট নিয়ে আসল, তারা উভয়ে আমাকে বলল যে, পাহাড়ে আরোহণ করুন। আমি বললাম আমি তাতে আরোহণ করতে পারব না। তারা বলল, আমরা আপনার জন্য সহজ করে দিব। তখন আমি সেখানে আরোহণ করলাম, এমনকি আমি পাহাড়ের চূড়ায় পৌঁছে গেলাম। সেখানে আমি কঠিন চিল্লাচিল্লির আওয়াজ পেলাম, আমি জিজ্ঞেস করলাম যে, এ আওয়াজ কিসের? তারা বলল, এ হল জাহান্নামীদের কান্না-কাটির আওয়াজ। অতঃপর তারা আমাকে নিয়ে আগে চলল, সেখানে আমি কিছু লোককে উল্টো ঝুলন্ত অবস্থায় দেখলাম যাদের মুখ ফাটা এবং রক্ত প্রবাহিত হচ্ছে, আমি জিজ্ঞেস করলাম এরা কারা? তারা বলল: তারা ঐ সমস্ত লোক যারা রোযার দিন সময় হওয়ার পূর্বেই ইফতার করে নিত। (ইবনে খুযাইমা, ইবনে হিব্বান, সহীহ আত-তারগীব ওয়াত-তারহীব ১ম খণ্ড হাদীস নং ৯৯৫)

📘 জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা > 📄 ইলম গোপনকারীকে আগুনের লাগাম পড়ানো হবে

📄 ইলম গোপনকারীকে আগুনের লাগাম পড়ানো হবে


৪. কুরআন ও হাদীসের ইলম গোপনকারীকে জাহান্নামে আগুনের লাগাম পরানো হবে।
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ (رض) قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ مَنْ سُئِلَ عَنْ عِلْمٍ ثُمَّ كَتَمَهُ الْجِمَ يَوْمَ القِيَامَةِ بِلِجَامٍ مِّنَ النَّارِ .
আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ ইরশাদ করেছেন: যে ব্যক্তি দ্বীন সম্পর্কে জিজ্ঞেসিত হল আর সে তা গোপন করল, শেষ বিচারের দিন তাকে জাহান্নামে আগুনের লাগাম পরানো হবে। (তিরমিযী, আবওয়াবুল ঈলম; বাব মাযায়া ফি কিতমানিল ইলম- ২/২১৩৫)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00