📘 জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা > 📄 বিষাক্ত গরম হাওয়া ও কাল ধোঁয়ার মাধ্যমে শাস্তি

📄 বিষাক্ত গরম হাওয়া ও কাল ধোঁয়ার মাধ্যমে শাস্তি


১১. জাহান্নামের নিকৃষ্টতম শাস্তি কাফেরের মুখমণ্ডলে পতিত হবে।

أَفَمَنْ يَتَّقِى بِوَجْهِهِ سُوءَ الْعَذَابِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَقِيلَ لِلظَّالِمِينَ ذُوقُوا مَا كُنتُمْ تَكْسِبُونَ .
যে ব্যক্তি শেষ বিচারের দিন তার মুখমণ্ডল দ্বারা কঠিন শাস্তি ঠেকাতে চাইবে, (সে কি তার মত যে নিরাপদ) যালিমদেরকে বলা হবে, তোমরা যা অর্জন করতে তার শাস্তি আস্বাদন কর। (সূরা যুমার-২৪)

নোট : অপরাধীরা শাস্তির সময় স্বীয় হাত দ্বারা মুখমণ্ডলকে রক্ষা করার চেষ্টা করে, কিন্তু জাহান্নামীরা জাহান্নামে যেহেতু তাদের হাত গলার সাথে বাঁধা অবস্থায় থাকবে। অতএব তারা হাত নড়াতে পারবে না, বরং ফেরেশতাদের কঠিন শাস্তি তাদের মুখমণ্ডলকে দগ্ধ করবে।

১২. বিষাক্ত গরম হাওয়া এবং বিষাক্ত কালো ধোঁয়ার মাধ্যমে শাস্তি কোন কোন অপরাধীকে বিষাক্ত গরম হাওয়া ও কালো ধোঁয়ার মাধ্যমে শাস্তি দেয়া হবে।

وَأَصْحَابُ الشِّمَالِ مَا أَصْحَابُ الشِّمَالِ فِي سَمُومٍ وَحَمِيمٍ وَظِلَّ مِّنْ يَحْمُوْمٍ لَا بَارِدٍ وَلَا كَرِيمٍ .
আর বাম দিকের দল কত হতভাগ্য, তারা বাম দিকের দল। তারা থাকবে অত্যুষ্ণ বায়ু ও উত্তপ্ত পানিতে। কৃষ্ণ বর্ণ ধুমের ছায়ায়, যা শীতলও নয় আবার আরামদায়কও নয়। (সূরা ওয়াকিয়া-৪১-৪৪)

নোট : জাহান্নামী জাহান্নামের শাস্তিতে অতিষ্ঠ হয়ে এক ছায়াবান বৃক্ষের দিকে ছুটে আসবে, কিন্তু যখন ওখানে পৌঁছবে, তখন বুঝতে পারবে না যে এটা কোন ছায়াবান বৃক্ষ নয় বরং জাহান্নামের ঘনকালো ধোঁয়া।

১৩. কাফেরদেরকে জাহান্নামে বিদগ্ধকারী কঠিন গরম হাওয়া দিয়ে শাস্তি দেয়া হবে।

قَالُوا إِنَّا كُنَّا قَبْلُ فِي أَهْلِنَا مُشْفِقِينَ فَمَنَّ اللَّهُ عَلَيْنَا وَوَقَانَا عَذَابَ السَّمُومِ .
(এবং তারা বলবে) পূর্বে আমরা পরিবার-পরিজনদের মাঝে শংকিত অবস্থায় ছিলাম, এরপর আমাদের প্রতি আল্লাহ অনুগ্রহ করেছেন এবং আমাদেরকে অগ্নি শান্তি থেকে রক্ষা করেছেন। (সূরা তুর- ২৬-২৭)

📘 জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা > 📄 তীব্র ঠাণ্ডার মাধ্যমে শাস্তি

📄 তীব্র ঠাণ্ডার মাধ্যমে শাস্তি


১৪. তীব্র ঠাণ্ডার মাধ্যমে শাস্তি, 'যামহারীর' জাহান্নামের একটি স্তর যেখানে জাহান্নামীদেরকে কঠিন শাস্তি দেয়া হবে।

فَوَقَاهُمُ اللَّهُ شَرَّ ذَلِكَ الْيَوْمِ وَلَقَّاهُمْ نَضْرَةٌ وَسُرُوْرًا وَجَزَاهُمْ بِمَا صَبَرُوا جَنَّةً وَحَرِيرًا مُتَّكِئِينَ فِيهَا عَلَى الْأَرَائِكِ لَا يَرَوْنَ فِيهَا شَمْسًا وَلَا زَمْهَرِيرًا .
পরিণামে আল্লাহ তাদেরকে রক্ষা করবেন সে দিবসের অনিষ্ট থেকে এবং তাদেরকে দিবেন উৎফুল্লতা ও আনন্দতা। আর তাদের ধৈর্যশীলতার পুরস্কারস্বরূপ তাদেরকে দিবেন উদ্যান ও রেশমী বস্ত্র। সেখানে তারা সমাসীন হবে সুসজ্জিত আসনে, সেখানে তারা অতিশয় গম বা অতিশয় শীত বোধ করবে না। (সূরা দাহার- ১১-১৩)

عن أبي هريرة (رض) عن عَنْ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ قَالَ إِذَا كَانَ يَوْمُ حَارِّ الْقَى اللَّهُ سَمْعَهُ وَبَصَرَهُ إِلَى أَهْلِ السَّمَاءِ وَأَهْلِ الْأَرْضِ، فَإِذَا قَالَ الْعَبْدُ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ مَا أَشَدَّ حَرًّا هَذَا الْيَوْمَ اللَّهُمَّ أَجِرْنِي مِنْ حَرِّ نَارِ جَهَنَّمَ قَالَ اللهُ لِجَهَنَّمَ إِنَّ عَبْدًا مِنْ عِبَادِي قَدِ اسْتَجَارَبِي مِنْكَ وَإِنِّي أَشْهَدُكَ إِنِّي قَدْ أَجَرْتُهُ وَإِذَا كَانَ يَوْمُ شَدِيدِ الْبَرْدِ الْقَى اللَّهُ سَمْعَهُ وَبَصَرَهُ إِلَى أَهْلِ السَّمَاءِ وَأَهْلِ الْأَرْضِ فَإِذَا قَالَ الْعَبْدُ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ مَا أَشَدَّ بَرْدًا هَذَا الْيَوْمَ اللَّهُمَّ أجِرْنِي مِنْ بَرْدِ زَمْهَرِيرِ جَهَنَّمَ قَالَ اللَّهُ لِجَهَنَّمَ إِنَّ عَبْدًا مِنْ عِبَادِي قَدِ اسْتَجَارَبِي مِنْ زَمْهَرِيرِكَ فَإِنِّي أَشْهَدُكَ إِنِّي قَدْ أَجَرْتُهُ قَالُوا وَمَا زَمْهَرِيرُ جَهَنَّمَ؟ قَالَ حَيْثُ يُلْقِي اللَّهُ الْكَافِرَ فَيُتَمَيَّزُ مِنْ شِدَّةِ بَرْدِهَا بَعْضُهَا مِنْ بَعْضٍ .
আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি রাসূলুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেছেন তিনি বলেন: গরমের সময় যখন কঠিন গরম পড়ে, তখন আল্লাহ স্বীয় কান ও চোখ আকাশ ও যমীনবাসীদের প্রতি নিক্ষেপ করেন, যখন কোন বান্দা বলে যে, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ। আজ কত গরম পড়েছে? হে আল্লাহ! তুমি আমাকে জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তি দাও। তখন আল্লাহ জাহান্নামকে উদ্দেশ্য করে বলেন: আমার বান্দাদের মধ্য থেকে এক বান্দা আমার নিকট তোমার শাস্তি থেকে আশ্রয় চেয়েছে। আমি তোমাকে সাক্ষী রাখছি যে, আমি তাকে মুক্তি দিলাম। আবার যখন কঠিন ঠাণ্ডা পড়ে তখন আল্লাহ স্বীয় কান ও চোখ আকাশ ও যমীনবাসীদের প্রতি নিক্ষেপ করেন, যখন কোন বান্দা বলে যে, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ।
আজ প্রচণ্ড ঠাণ্ডা পড়েছে? হে আল্লাহ! তুমি আমাকে জাহান্নামের স্তর যামহারীর থেকে মুক্তি দাও। তখন আল্লাহ জাহান্নামকে উদ্দেশ্য করে বলেন: আমার বান্দাদের মধ্য থেকে এক বান্দা আমার নিকট তোমার স্তর যামহারীর থেকে আশ্রয় চেয়েছে। আমি তোমাকে সাক্ষী রাখছি যে, আমি তাকে মুক্তি দিলাম। সাহাবাগণ জিজ্ঞেস করল যে, হে আল্লাহর রাসূল! জাহান্নামের স্তর যামহারীর কি? তিনি বললেন: যখন আল্লাহ কাফেরদেরকে এতে নিক্ষেপ করবে, তখন তার ঠাণ্ডার প্রচণ্ডতায়ই কাফের তাকে চিনে ফেলবে। যে এটা যামহারীরের শাস্তি। ঠাণ্ডা ও গরম উভয়ই জাহান্নামের শাস্তি। (বায়হাকী, আন নিহায়া ফিল ফিতানে ওয়াল মালাহিম ২য় খণ্ড হাদীস নং ৩০৭)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00