📄 জাহান্নামের আযাব কখনো হালকা করা হবে না
৯. জাহান্নামীদের ওপর তাদের আযাব এক পলকের জন্যও হালকা করা হবে না।
وَالَّذِينَ كَفَرُوا لَهُمْ نَارُ جَهَنَّمَ لا يُقْضَى عَلَيْهِمْ فَيَمُوتُوا وَلَا يُخَفَّفُ عَنْهُمْ مِّنْ عَذَابِهَا كَذَلِكَ نَجْزِي كُلَّ كَفُورٍ .
আর যারা কাফের, তাদের জন্য রয়েছে জাহান্নামের আগুন, তাদেরকে মৃত্যুর আদেশও দেয়া হবে না যে, তারা মরে যাবে, আর তাদের থেকে তার শাস্তিও লাঘব করা হবে না। আমি প্রত্যেক অকৃতজ্ঞকে এভাবেই শাস্তি দিয়ে থাকি। (সূরা ফাতির-৩৬)
📄 জাহান্নামের আযাব জীবনকে সংকীর্ণময় করে দিবে
১০. জাহান্নামের আযাব জীবনকে সংকীর্ণময় করে দিবে।
وَالَّذِينَ يَقُولُونَ رَبَّنَا اصْرِفْ عَنَّا عَذَابَ جَهَنَّمَ إِنَّ عَذَابَهَا كَانَ غَرَامًا إِنَّهَا سَاءَتْ مُسْتَقَرًّا وَمُقَامًا.
আর যারা বলে, হে আমার পালনকর্তা! আমাদের নিকট থেকে জাহান্নামের শাস্তি হটিয়ে দাও, নিশ্চয়ই এর শাস্তি নিশ্চিত বিনাশ। বসবাস ও অবস্থানস্থল হিসেবে তা কতই না নিকৃষ্টস্থান। (সূরা ফুরকান-৬৫, ৬৬)
📄 জাহান্নামের আযাব দেখলে লোকেরা পৃথিবীর নেয়ামত ভুলে যাবে
১১. জীবনব্যাপী পৃথিবীর বড় বড় নি'আমতসমূহ ভোগকারী ব্যক্তি, যখন জাহান্নামের আযাবসমূহকে একপলক দেখবে তখন সে পৃথিবীর যাবতীয় নি'আমতের কথা ভুলে যাবে।
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ (رضى) قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ يُؤْتَى بِأَنْعُمِ أَهْلِ الدُّنْيَا مِنْ أَهْلِ النَّارِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فَيُصْبَغُ فِي النَّارِ صِبْغَةً ثُمَّ يُقَالُ يَا بْنَ آدَمَ هَلْ رَأَيْتَ خَيْرًا قَطُّ هَلْ مَرَّبِّكَ نَعِيمٌ قَطْ؟ فَيَقُولُ لَا وَاللَّهِ يَارَبِّ وَيُؤْتَى بِأَشَدِّ النَّاسِ بُوسًا فِي الدُّنْيَا مِنْ أهْلِ الْجَنَّةِ فَيُضَعُ صِبْغَةٌ فِي الْجَنَّةِ فَيُقَالُ لَهُ يَا ابْنَ آدَمَ هَلْ رَأَيْتَ بُوسًا قَدْ هَلْ مَرَّبِّكَ شِدَّةٌ قَطُّ فَيَقُولُ لَا وَاللَّهِ يَارَبِّ مَا مَرَّبِي مِنْ بُوسٍ قَطُّ وَلَا رَأَيْتُ شِدَّةٌ قَط ..
আনাস বিন মালেক (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ বলেছেন : কিয়ামতের দিন এমন এক ব্যক্তিকে আনা হবে, যার জাহান্নামী হওয়ার ফায়সালা হয়ে গেছে, যে পৃথিবীতে অত্যধিক আরাম-আয়েশে জীবনযাপন করেছে, তাকে এক পলকের জন্য জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে এবং তাকে জিজ্ঞেস করা হবে, হে আদম সন্তান! পৃথিবীতে কি তুমি কোন নি'আমত ভোগ করেছিলে? পৃথিবীতে কি কখনো তুমি নি'আমত পরিপূর্ণ পরিবেশে ছিলে? সে বলবে: হে আমার প্রভু! তোমার কসম! কখনো নয়। এরপর এমন এক ব্যক্তিকে আনা হবে যে জান্নাতী হবে, কিন্তু পৃথিবীতে খুব কষ্ট করে জীবনযাপন করেছিল, তাকে জান্নাতে এক পলকের জন্য পাঠানো হবে, এরপর তাকে জিজ্ঞেস করা হবে, হে ইবনে আদম! কখনো কি তুমি দুনিয়াতে কোন কষ্ট ভোগ করেছ? বা চিন্তিত ছিলে? সে বলবে হে আমার প্রভু! তোমার কসম! কখনো নয়। আমি কখনো চিন্তাযুক্ত ছিলাম না আর না কখনো কোন দুঃখ কষ্ট ভোগ করেছি। (মুসলিম, কিতাবুল মুনাফিকীন, বাব ফিল কুফফার)
📄 জাহান্নামে মৃত্যু হলে জাহান্নামীরা চিন্তায় মৃত্যুবরণ করতো
১২. জাহান্নামে কখনো মৃত্যু হবে না যদি মৃত্যু হত তাহলে জাহান্নামী জাহান্নামের আযাবের চিন্তায় মৃত্যুবরণ কর।
عَنْ أَبِي سَعِيدٍ (رضى) يَرْفَعُهُ قَالَ إِذَا كَانَ يَوْمُ الْقِيَامَةِ أُتِي بِالْمَوْتِ كَالْكَبْشِ الْأَمْلَحِ فَيُوقَفُ بَيْنَ الْجَنَّةِ وَالنَّارِ فَيُذْبَحُ وَهُمْ ينظرُونَ فَلَوْ أَنَّ أَحَدًا مَاتَ فَرْحًا لَمَاتَ أَهْلُ الْجَنَّةِ وَلَوْ أَنَّ أَحَدًا مَاتَ حُزْنًا كَمَاتَ أَهْلُ النَّارِ .
আবু সাঈদ খুদরী (রা) রাসূলুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেছেন তিনি বলেন: কিয়ামতের দিন মৃত্যুকে একটি কালোর মাঝে সাদা লোক বিশিষ্ট ভেড়ার আকৃতিতে এনে, জান্নাত ও জাহান্নামের মাঝে রেখে যবাই করা হবে। জান্নাতী ও জাহান্নামীরা এ দৃশ্য দেখতে থাকবে। যদি খুশিতে মৃত্যুবরণ সম্ভব হতো, তাহলে জান্নাতীরা খুশিতে মরে যেত, আর যদি চিন্তায় মৃত্যুবরণ সম্ভব হতো, তাহলে জাহান্নামীরা চিন্তায় মরে যেত। (তিরমিযী, আবওযাব সিফাতিল জান্না, বাব মাযায়া ফি খুলুদি আহলির জান্না- ২/২০৭৩)