📘 জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা > 📄 কাফেরকে দেখে জাহান্নাম রাগ ও ক্রোধে ফেটে পড়বে

📄 কাফেরকে দেখে জাহান্নাম রাগ ও ক্রোধে ফেটে পড়বে


১. কাফেরকে দূর থেকে আসতে দেখে জাহান্নাম রাগে ও ক্রোধে এমন আওয়াজ করবে যে তা শুনে কাফের অজ্ঞান হয়ে যাবে।

إِذَا رَأَتُهُمْ مِّنْ مَّكَانٍ بَعِيدٍ سَمِعُوا لَهَا تَغَيُّظًا وَزَفِيرًا.
জাহান্নাম যখন দূর থেকে তাদেরকে দেখবে, তখন তারা শুনতে পাবে তার গর্জন ও হুঙ্কার। (সূরা ফুরকান-১২)

নোট: আবদুল্লাহ বিন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত, যখন জাহান্নামীকে জাহান্নামের দিকে নিয়ে যাওয়া হবে, তখন জাহান্নাম আওয়াজ করতে থাকবে, আর এমন এক কম্পনের সৃষ্টি হবে যে, এর ফলে সমস্ত হাশরবাসী ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে যাবে।

ওবাইদ বিন ওমাইর (রা) বলেন: যে যখন জাহান্নাম রাগে কম্পন করতে থাকবে হট্টগোল ও চিল্লা চিল্লি শুরু করবে, তখন সমস্ত নৈকট্য প্রাপ্ত ফেরেশতা এবং উঁচু পর্যায়ের নবীগণও কেঁপে উঠবে। এমনকি খলীলুল্লাহ ইবরাহিম (আ)ও নতজানু হয়ে পড়ে যাবে, আর বলতে থাকবে, হে আল্লাহ! আজ আমি তোমার নিকট শুধু আমার নিরাপত্তা চাই, আর কিছু চাই না।

একদা আবদুল্লাহ বিন মাসউদ (রা) রাবী (রা) কে সাথে নিয়ে যাচ্ছিলেন, (চলতে চলতে) রাস্তায় একটি চুলা দেখতে পেল, যেখানে অগ্নি স্ফুলিঙ্গ দেখা যাচ্ছিল, তা দেখে আবদুল্লাহ বিন মাসউদ (রা) অনিচ্ছা সত্ত্বেই সূরা ফোরকানের ওপরে উল্লেখিত আয়াতটি পাঠ করল, আর তা শুনা মাত্রই রাবি (রা) বেঁহুশ হয়ে পড়ে গেল, খাটে উঠিয়ে তাকে ঘরে আনা হল, সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত আবদুল্লাহ বিন মাসউদ (রা) তার পাশে বসে থাকলেন কিন্তু তার হুঁশ ফিরাতে পারলেন না"। (ইবনে কাসীর)

📘 জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা > 📄 কাফেরকে শাস্তি দিতে জাহান্নাম কঠিন আওয়াজ করবে

📄 কাফেরকে শাস্তি দিতে জাহান্নাম কঠিন আওয়াজ করবে


২. যখন কাফেরকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে, তখন জাহান্নাম কঠিন শাস্তি দেয়ার জন্য ভয়ানক আওয়াজ করতে থাকবে।
إِذَا أُلْقُوا فِيهَا سَمِعُوا لَهَا شَهِيقًا وَهِيَ تَفُورُ نَكَادُ تَمَيَّزُ مِنَ الغيظ .
যখন তারা (জাহান্নামে) নিক্ষিপ্ত হবে, তখন তার উৎক্ষিপ্ত গর্জন শুনতে পাবে, ক্রোধে জাহান্নাম যেন ফেটে পড়বে। (সূরা মুলক-৭-৮)

📘 জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা > 📄 কাফেরকে শাস্তি দেওয়ার জন্য জাহান্নাম পাগল হয়ে থাকবে

📄 কাফেরকে শাস্তি দেওয়ার জন্য জাহান্নাম পাগল হয়ে থাকবে


৩. জাহান্নাম কাফেরকে শাস্তি দেয়ার জন্য পাগল হয়ে থাকবে।
إِنَّ جَهَنَّمَ كَانَتْ مِرْصَادًا لِلطَّاغِينَ مَابًا لَابِثِينَ فِيهَا أَحْقَابًا .
নিশ্চয়ই জাহান্নাম প্রতীক্ষায় থাকবে, সীমালংঘনকারীদের আশ্রয়স্থলরূপে, তারা তথায় শতাব্দীর পর শতাব্দী অবস্থান করবে। (সূরা নাবা- ২১, ২৩)

📘 জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা > 📄 জাহান্নামের আযাবদাতা ৯৯ ফেরেশতা রূক্ষ, নির্দয় ও কঠোর হবে

📄 জাহান্নামের আযাবদাতা ৯৯ ফেরেশতা রূক্ষ, নির্দয় ও কঠোর হবে


৪. জাহান্নামের আগুনকে প্রজ্বলিত করার জন্য আল্লাহ্ এমন ফেরেশতা নির্ধারণ করে রেখেছেন যারা অত্যন্ত রূক্ষ, নির্দয় ও কঠোর স্বভাব সম্পন্ন যাদের সংখ্যা হবে ৯৯ জন।
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا قُوا أَنْفُسَكُمْ وَأَهْلِيكُمْ نَارًا وَقُودُهَا النَّاسُ وَالْحِجَارَةُ عَلَيْهَا مَلَائِكَةٌ غِلَاظٌ شِدَادٌ لَا يَعْصُونَ اللَّهَ مَا أمرهم ويفعلون ما يؤمرون .
হে মুমিনগণ! তোমরা নিজেদেরকে এবং তোমাদের পরিবার-পরিজনদেরকে সেই অগ্নি থেকে রক্ষা কর, যার ইন্ধন হবে মানুষ ও প্রস্তর, যাতে নিয়োজিত আছে পাষাণ হৃদয়, কঠোর স্বভাবের ফেরেশতাগণ, তারা আল্লাহ যা আদেশ করেন তা অমান্য করে না, আর যা করতে আদেশ করা হয় তাই করে। (সূরা তাহরীম-৬)

عَلَيْهَا تِسْعَةَ عَشَرَ .
এর ওপর (জাহান্নামে) নিয়োজিত আছে ১৯ জন ফেরেশতা। (সূরা মুদ্দাস্সির-৩০)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00