📄 বিষাক্ত দুর্গন্ধময় খাবার ও উত্তপ্ত গরম পানীয় শাস্তি
১. বিষাক্ত দুর্গন্ধময় খাবার এবং উত্তপ্ত গরম পানীয় পরিবেশনের মাধ্যমে শাস্তি।
পানাহারের বিষয়ে মানুষ কত উন্নত মনোভাব রাখে তা প্রত্যেকে তার নিজের আলোকে চিন্তা করতে পারে। যে খাবার গলে বাসী হয়ে গেছে, বা তার রুচিসম্মত হয়নি তাতো সে স্পর্শ করাও ভালো মনে করে না। কোন কোন মানুষ খাবারে লবন মরিচের পরিমাণ সামান্য কমবেশিকেও সহ্য করে না। স্বাদ ব্যতীত, খাবার দাবার মানুষের স্বাস্থ্যের সাথেও গভীর সম্পর্ক রাখে, তাই উন্নত বিশ্বে খাদ্য দ্রব্যের প্রতি অত্যন্ত সজাগ দৃষ্টি রাখা হয়। বাহারী স্বাদের জন্য মানুষ কত আজীব আজীব পানাহার তৈরি করে, কোন অতিরঞ্জন ব্যতীতই বলা যায় যে, তার সঠিক পরিসংখ্যান পেশ করা অসম্ভব। পৃথিবীতে এক বাহারী স্বাদের পাগল মানুষ যখন পরকালে স্বীয় কৃতকর্মের পরীক্ষার জন্য সম্মুখীন হবে, তখন সর্বপ্রথম তার যে চাহিদা দেখা দিবে তা হল পানির মারাত্মক পিপাসা। নবীগণের সরদার মুহাম্মদ স্বীয় হাউজে (জান্নাতে প্রবেশের পূর্বে হাশরের মাঠে) আসন গ্রহণ করবেন, যেখানে তিনি নিজ হাতে পানি সরবরাহ করে ঈমানদারদের পিপাসা মিটাবেন। কাফের মুশরিকরাও তাদের পিপাসা মিটানোর জন্য হাউজের নিকট আসবে, কিন্তু আল্লাহর রাসূল নিজ হাতে তাদেরকে দূরে সরিয়ে দিবেন। (ইবনে মাজাহ)
বিদ'আতীরাও পানি পান করার জন্য আসতে চেষ্টা করবে, কিন্তু তাদেরকেও দূরে সরিয়ে দেয়া হবে। (বোখারী)
কাফের, মুশরেক ও বিদ'আতীরা হাশরের মাঠে এ দীর্ঘ সময় পর্যন্ত পিপাসার্ত অবস্থায় অতিক্রম করবে এবং শেষ পর্যন্ত এ অবস্থায়ই জাহান্নামে যাবে। (সূরা মারইয়াম-৮৬)
জাহান্নামে যাওয়ার পর যখন তারা খাবার চাইবে তখন তাদেরকে যাক্কুম বৃক্ষ ও কাটাবিশিষ্ট ঘাস দেয়া হবে। জাহান্নামীরা অরুচিসত্ত্বেও এক লোকমা করে মুখে দিবে তাতে তাদের ক্ষুধা তো মিটবেই না বরং শাস্তির মাত্রা আরো বৃদ্ধি পাবে। উল্লেখ্য যাক্কুম বৃক্ষ ও কাটাবিশিষ্ট ঘাস জাহান্নামেই উৎপন্ন হবে। এর অর্থ হল এই যে, এ উভয় খাবার এতটা গরম তো অবশ্যই হবে যতটা গরম হবে জাহান্নামের আগুন। বরং বলা যেতে পারে যে এ খাবার আগুনের কয়লার ন্যায় হবে, যা জাহান্নামীরা তাদের ক্ষুধা মিটানোর জন্য গলদকরণ করবে। মূলত জাহান্নামের খাবার তার বেদনাদায়ক আযাবেরই এক প্রকার কঠিন শাস্তি হবে। খাওয়ার পর জাহান্নামী পানি চাইবে, তখন পাহারাদার তাদেরকে জাহান্নামের শাস্তির স্থান থেকে তার ঝর্ণার নিকট নিয়ে আসবে, সেখানে কঠিন গরম পানি দিয়ে তাদেরকে সাদর সম্ভাষণ জানানো হবে। ঐ পানি জাহান্নামের উত্তপ্ত আগুনে বাষ্প না হয়ে পানি হয়ে থাকবে। সম্ভবত কোন শক্ত পাথর হবে যা জাহান্নামের আগুনে বিগলিত হয়ে পানিতে পরিণত হয়েছে, আর তাই জাহান্নামীদের পানীয় হবে। (আল্লাহই এ ব্যাপারে ভালো জানেন)
জাহান্নামীরা তা পান করতে গেলে প্রথম ঢোকেই তাদের মুখের সমস্ত গোস্ত গলে নিচে নেমে যাবে। (মোস্তাদরাক হাকেম)
আর পানির যে অংশ পেটে যাবে তার মাধ্যমে তাদের সমস্ত নাড়ী-ভুঁড়ি কেটে পিঠ দিয়ে গড়িয়ে পায়ে এসে পড়বে। (তিরমিযী)
মূলত তা পান করাও বেদনাদায়ক শাস্তিরই আরেক প্রকার শাস্তি হবে। এ আদর আপ্যায়নের পর দারওয়ান তাকে আবার জাহান্নামের শাস্তির স্থানে নিয়ে যাবে।
জাহান্নামের পানাহারে জাহান্নামীরা অতিষ্ঠ হয়ে জান্নাতীদের নিকট আবেদন করবে যে, কিছু পানি বা অন্য কোন কিছু আমাদেরকেও পান করার জন্য দাও। জান্নাতীরা বলবে, জান্নাতের পানাহার আল্লাহ কাফেরদের জন্য হারাম করেছেন। (সূরা আ'রাফ-৫০)
জাহান্নামের উত্তপ্ত আগুন বেদনাদায়ক হওয়া সত্ত্বেও বিষাক্ত, দুর্গন্ধময় ও কাটাবিশিষ্ট হবে। সাথে সাথে গরম পানি, দুর্গন্ধময়, রক্ত বমি ইত্যাদি পানীয়রূপে কঠিন শাস্তি হিসেবে দুষ্ট প্রকৃতির লোকদেরকে দেয়া হবে। সর্বজ্ঞ ও সর্ববিষয়ে অবগত তো একমাত্র আল্লাহ; কিন্তু কুরআন ও হাদীস গবেষণার মাধ্যমে যতটুকু বুঝা যায় তাহল এই যে, কাফেরদের জীবনের মূল দু'টি বিষয়ের ওপর, আর তা হল পেট ও রিপুর (নফসের) গোলামী।
এ উভয় বিষয় এমন পানাহারের দাবি করে যাতে তার চাহিদার আগুন আরো উত্তপ্ত হয়, চাই তা হালালভাবে হোক আর হারামভাবে, জায়েয পদ্ধতিতে হোক বা নাজায়েয পদ্ধতিতে, পাক হোক আর নাপাক, জুলমের মাধ্যমে অর্জিত হোক না খিয়ানতের মাধ্যমে, লুটপাটের মাধ্যমে অর্জিত হোক না চুরি ডাকাতির মাধ্যমে তার কোন যাচাই বাছাই নেই। তাই পবিত্র কুরআন মাজীদে কোন কোন স্থানে কাফেরদেকে জাহান্নামে শাস্তির সাথে সাথে যথেষ্ট পানাহার করতে এবং আনন্দ করার ভর্ৎসনাও দেয়া হবে।
সূরা হিজরে ইরশাদ হয়েছে- ذَرْهُمْ يَأْكُلُوا وَيَتَمَتَّعُوا وَيُلْهِهِمُ الْأَمَلُ فَسَوْفَ يَعْلَمُونَ .
তাদের ছেড়ে দাও, তারা ভক্ষণ করতে থাকুক, ভোগ করতে থাকুক এবং আশা তাদেরকে মোহাচ্ছন্ন রাখুক, পরিণামে তারা বুঝবে। (সূরা হিজর-৩)-
সূরা মুরসালাতে আল্লাহ তায়ালা ঘোষণা করেন- وَتَمَتَّعُوا قَلِيلًا إِنَّكُمْ مُجْرِمُونَ .
তোমরা অল্প কিছু দিন পানাহার ও ভোগ করে নাও, তোমরা তো অপরাধী।
অন্যত্র ইরশাদ হয়েছে- (সূরা মুরসালাত-৪৬) وَالَّذِينَ كَفَرُوا يَتَمَتَّعُونَ وَيَأْكُلُونَ كَمَا تَأْكُلُ الْأَنْعَامُ وَالنَّارُ مَثْوًى لَّهُمْ .
আর যারা কুফরী করে তারা ভোগ-বিলাসে লিপ্ত থাকে, জন্তু-জানোয়ারের মতো উদর-পূর্তি করে, তাদের নিবাস জাহান্নাম। (সূরা মুহাম্মদ-১২)
সুতরাং পেট ও রিপুর গোলাম পৃথিবীতে ভালো ভালো পানাহারের তৃপ্তি লাভ করে যখন স্বীয় স্রষ্টার নিকট উপস্থিত হবে, তখন কুফরীর পরিবর্তে জাহান্নামের আগুন আর সুস্বাদু খাবারের পরিবর্তে উত্তপ্ত, কাটাবিশিষ্ট ঘাস, গরম পানি অসহ্য দুর্গন্ধময় রক্ত ও বমির মাধ্যমে সাদর সম্ভাষণ জানানো হবে। (আল্লাহ এ ব্যাপারে ভালো জানেন)
উল্লেখ্য যে, কাফেরদের জন্য তো চিরস্থায়ী জাহান্নাম রয়েছে সাথে সাথে অন্যান্য শাস্তিও থাকবে। এমনিভাবে হালাল-হারামের মাঝে পার্থক্য না কারী মুসলমানও জাহান্নাম ও ঐ সমস্ত পানাহারের শাস্তি ভোগ করবে, যা কিতাব ও সুন্নাত দ্বারা প্রমাণিত। এতীমের সম্পদ ভোগকারী ব্যাপারে তো কুরআনে স্পষ্ট বর্ণনা এসেছে যে- إِنَّ الَّذِينَ يَأْكُلُونَ أَمْوَالَ الْيَتَامَى ظُلْمًا إِنَّمَا يَأْكُلُونَ فِي بُطُونِهِمْ نَارًا وَسَيَصْلَوْنَ سَعِيرًا .
যারা অন্যায়ভাবে এতীমদের ধন-সম্পদ গ্রাস করে নিশ্চয়ই তারা স্বীয় উদরে অগ্নি ব্যতীত কিছুই ভক্ষণ করে না এবং সত্বরই তারা অগ্নি শিখায় উপনীত হবে। (সূরা নিসা-১০)
মদপানকারীদের ব্যাপারে রাসূল এরশাদ করেছেন- তাদেরকে জাহান্নামে জাহান্নামীদের ঘাম পান করানো হবে। (মুসলিম)
মুসনাদে আহমদে অন্য এক বর্ণনায় এসেছে- ব্যভিচারকারী নর ও নারীর লজ্জাস্থান থেকে নির্গত দুর্গন্ধময় নিকৃষ্ট পদার্থও মদপানকারীদের পানীয় হবে। (আল্লাহই এ ব্যাপারে ভালো জানেন)
সুতরাং হে এতীম ও বিধবাদের সম্পদ গ্রাসকারীরা! অন্যের সম্পদ অন্যায়ভাবে হস্তক্ষেপকারীরা, রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুণ্ঠনকারীরা, জুয়া, সুদ, ঘুষের উপার্জনে নির্মিত অট্টালিকায় বসবাসকারীরা, হে মদ ও যুবক-যুবতী নিয়ে মত্ত ব্যক্তিবর্গ! একবার নয় হাজার বার চিন্তা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ কর যে, জাহান্নামে সৃষ্ট যাক্কুম বৃক্ষ, কাটা বিশিষ্ট ঘাস ভক্ষণ করবে? আগুনে পোড়ানো মানুষের দেহ থেকে নির্গত ঘাম ও বমি মিশ্রিত খাবার খাবে? দুর্গন্ধময় নিকৃষ্ট এবং কালো পানির উত্তপ্ত পানপাত্র পান করে জীবন রক্ষা করবে?
(فَهَلْ مِنْ مُدَّكِرٍ)
অতপর আছে কি কোন উপদেশ গ্রহণকারী?
📄 মাথায় উত্তপ্ত পানি প্রবাহিত করার মাধ্যমে শাস্তি
২. মাথায় উত্তপ্ত পানি প্রবাহিত করার মাধ্যমে শাস্তি। কাফেরদের জন্য এ হবে ধরনের বেদনাদায়ক শাস্তি (আর তা হবে এই যে) ফেরেশতাদেরকে নির্দেশ দেয়া হবে, "তাকে ধরে টেনে নিয়ে যাও জাহান্নামের মধ্যখানে এবং ওখানে তার মস্তকে ফুটন্ত পানি ঢেলে তাকে শাস্তি দাও। (সূরা দুখান-৪৭-৪৮)
আলোচ্য আয়াতের ব্যাখ্যায় নবী বলেছেন: "যখন কাফেরের মস্তিষ্কে গরম পানি ঢেলে তাকে শাস্তি দেয়া হবে তখন ঐ পানি তার মাথা থেকে গড়িয়ে শরীরের সমস্ত অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে জ্বালিয়ে পায়খানার রাস্তা দিয়ে তা তার পায়ে এসে পড়বে”। (ইন্টারনেট সংস্করণ)
মাথায় ফুটন্ত পানি ঢালার পর সর্বপ্রথম এ পানি কাফেরের মস্তককে জ্বালিয়ে দিবে, যা তার খারাপ কামনা, বাতেল দর্শন, শিরকি আক্বীদার কেন্দ্রবিন্দু ছিল। যে মস্তিষ্ক দিয়ে সে ইসলাম ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে চক্রান্ত করত, যে মস্তিষ্ক দিয়ে সে মুসলমানদের ওপর অত্যাচারের পাহাড় চাপানোর জন্য নানান রকম প্রতারণা করত। যে মস্তিষ্ক দিয়ে সে মুসলমানদের বিরুদ্ধে প্রচার প্রপাগান্ডার নিত্য নতুন দলীল তৈরি করত। যে মস্তিষ্ক দিয়ে সে বড় বড় পদ ও পরিকল্পনা তৈরি করত ঐ মস্তিষ্ক থেকেই এ বেদনাদায়ক শাস্তির সূত্রপাত হবে।
সূরা দোখানে উল্লেখিত আয়াতের শেষে আল্লাহ বলেন- ذُقْ إِنَّكَ أَنْتَ الْعَزِيزُ الْكَرِيمُ .
স্বাদ গ্রহণ কর, (তুমি পৃথিবীতে) ছিলে অভিজাত ও মর্যাদাবান। (সূরা দোখান-৪৯)
উল্লেখিত আয়াত এ কথা স্পষ্ট করছে যে, এ বেদনাদায়ক আযাবের হকদার হবে ঐ সব কাফের নেতা-নেত্রীবর্গ যারা পৃথিবীতে বিশাল শক্তিধর ও মর্যাদার অধিকারী ছিল, পৃথিবীতে তাদের মর্যাদা ও বড়ত্ব হবে। আর এ ক্ষমতার বড়াইয়ে উন্মাদ হয়ে তারা ইসলামকে অবনত করতে এবং মুসলমানদেরকে ভূ-পৃষ্ঠ থেকে নিশ্চিহ্ন করার জন্য সর্বপ্রকার হাতিয়ার ব্যবহার করতে থাকবে। কুরআনের বিভিন্ন স্থানে কাফের নেতা নেত্রীবর্গের চক্রান্ত ও চালবাজির বর্ণনা এসেছে।
আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন- وَيَمْكُرُونَ وَيَمْكُرُ اللَّهُ وَاللَّهُ خَيْرُ الْمَاكِرِينَ .
তারা নবী-এর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে, আর আল্লাহ (নবী)-কে বাঁচানোর জন্য তদবীর করেন। আর আল্লাহই দৃঢ় তদবীরকারক। (সূরা আনফাল-৩০)
অন্যত্র ইরশাদ হয়েছে وَقَدْ مَكَرَ الَّذِينَ مِنْ قَبْلِهِمْ فَلِلَّهِ الْمَكْرُ جَمِيعًا .
তাদের পূর্বে যারা ছিল তারাও চক্রান্ত করছিল কিন্তু যাবতীয় চক্রান্ত আল্লাহর ইখতিয়ারে। (সূরা রা'দ-৪২)
সূরা ইবরাহিমে আল্লাহ তা'আলা ঘোষণা করেন- وَقَدْ مَكَرُوا مَكْرَهُمْ وَعِنْدَ اللَّهِ مَكْرُهُمْ وَإِنْ كَانَ مَكْرُهُمْ لِتَزُولَ مِنْهُ الْجِبَالُ .
তারা ভীষণ চক্রান্ত করেছিল, কিন্তু আল্লাহর নিকট তাদের চক্রান্ত রক্ষিত হয়েছে, তাদের চক্রান্ত এমন ছিল না যাতে পাহাড় টলে যেত। (সূরা ইবরাহিম-৪৬) নূহ (আ) ৯৫০ বছর পর্যন্ত তাঁর জাতিকে দাওয়াত দেয়ার পর যখন তার প্রভুর নিকট আবেদন পেশ করলেন তখন ঐ আবেদনের একটি বিশেষ অংশ ছিল এই যে- وَمَكَرُوا مَكْرًا كَبَّارًا .
আর তারা ভয়ানক চক্রান্ত করছে। (সূরা নূহ-২২)
মূলত: ইসলামের বিরুদ্ধে চক্রান্তকারীরা, ইসলামকে পরাজিত করার অপচেষ্টাকারীরা, মুসলমানদেরকে নিশ্চিহ্নকারীদেরকে কিয়ামতের দিন ঐ বৃহৎ শক্তিধর আল্লাহ তাদেরকে এ বেদনাদায়ক শাস্তির মাধ্যমে অভিবাদন জানাবেন।
নিঃসন্দেহে এ বেদনাদায়ক শাস্তি কাফেরদের জন্য, তবে মুসলমানদের দেশসমূহের ইসলামী বিধান প্রতিষ্ঠার পথে চক্রান্তকারী, ইসলামী আদর্শসমূহকে বিদ্রূপকারী, ইসলামের নিদর্শনসমূহকে অবজ্ঞাকারী ও অবমাননাকারী, সুদী বিধান চালু রাখার প্রচেষ্টাকারী, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সাথে প্রতারণাকারী নায়করা কি এ বেদনাদায়ক শাস্তি থেকে মুক্তি পাবে?
সুতরাং হে দলপতি, মন্ত্রীত্বের আসনে আসীন ব্যক্তিবর্গ, কোর্ট-কাচারীর শোভা 'মাই লর্ডজ' জাতীয় সংসদসমূহের সম্মানিত প্রধান! আল্লাহর শাস্তিকে ভয় করুন। ইসলাম বিরোধিতা থেকে বিরত থাকুন, ইসলামী আদর্শ ও ইসলামী বিধানসমূহের সাথে বিদ্রূপ করা থেকে বিরত থাকুন, আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের সাথে প্রতারণা করা থেকে বিরত থাকুন, অন্যথায় তাঁর শাস্তি থেকে নাজাত পাবে না। আর জেনে রাখুন- وَاتَّقُوا النَّارَ الَّتِي أُعِدَّتْ لِلْكَافِرِينَ .
এবং তোমরা ঐ আগুন থেকে বেঁচে থাক যা কাফেরদের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। (সূরা আলে ইমরান-১৩১)
📄 সংকীর্ণ আগুনের অন্ধকার কক্ষে রাখার মাধ্যমে শাস্তি
৩. সংকীর্ণ আগুনের অন্ধকার কক্ষে ঢুকিয়ে রাখার মাধ্যমে শাস্তি প্রদান।
জাহান্নামের ভয়াবহ শাস্তির একটি ধরন এ হবে যে, জাহান্নামীকে তার হাত, পা ভারী জিঞ্জির দিয়ে বেঁধে অত্যন্ত সংকীর্ণ ও অন্ধকার রুমের মধ্যে ঢুকিয়ে দিয়ে ওপর থেকে দরজা পরিপূর্ণভাবে বন্ধ করে দেয়া হবে, ফলে সেখানে না বাতাস প্রবেশ করতে পারবে না সূর্যের কিরণ, আর না থাকবে পালানোর মতো কোন রাস্তা।
আবদুল্লাহ বিন ওমর (রা) বলেন: জাহান্নাম কাফেরের জন্য এত সংকীর্ণ হবে যেমন বর্শার ফলা কাঠের মধ্যে সংকীর্ণ করে ঢুকিয়ে দেয়া হয়।
এ ভয়াবহ শাস্তির একটি অনুমান এভাবে করা যেতে পারে যে, কোন বড় প্রেসার কোকার যেখানে এক হাজার মানুষ আটবে, সেখানে যদি জোরপূর্বক দু'হাজার মানুষ ঢুকিয়ে দেয়া হয়, তাহলে তাদের শ্বাস নেয়াও মুশকিল হবে, হাত-পা জিঞ্জির দিয়ে বাঁধা, ফলে নড়াচড়াও করতে পারবে না। আর ওপর দিয়ে প্রেসার কোকারের ঢাকনা মজবুত করে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে এবং জাহান্নামের আগুনে তা রান্না করার জন্য রাখা হয়েছে, এমতাবস্থায় কাফের মৃত্যু কামনা করবে কিন্তু তার মৃত্যু হবে না।
আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন "যখন এক শিকলে কয়েকজনকে বাঁধা অবস্থায় জাহান্নামের 'কান সংকীর্ণ স্থানে নিক্ষেপ করা হবে, তখন সেখানে তারা মৃত্যুকে ডাকবে। বলা হবে আজ তোমরা এক মৃত্যুকে ডেকো না অনেক মৃত্যুকে ডাক। (সূরা ফুরকান-১৩, ১৪)
কিন্তু দূর-দূরান্তে মৃত্যুর কোন চিহ্ন পর্যন্ত থাকবে না। আগেই মৃত্যুকে জবাই করে দেয়া হয়েছে, আর কাফেররা সর্বদাই এ ভয়াবহ শাস্তিতে নিমজ্জিত থাকবে। কাফেরকে পদবেড়ী লাগিয়ে আগুনের সংকীর্ণ রুমে ঢুকিয়ে ভয়াবহ শাস্তি কোন যালেমদেরকে দেয়া হবে? এর জবাবে সূরা ফুরকানে আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন-
وَأَعْتَدْنَا لِمَنْ كَذَّبَ بِالسَّاعَةِ سَعِيرًا .
যে শেষ বিচার দিবসকে অস্বীকার করে আমি তার জন্য অগ্নি প্রস্তুত করে রেখেছি। (সূরা ফুরকান-১১)
১. কিয়ামতকে অস্বীকার করার স্বাভাবিক উদ্দেশ্য হল, পিতা-মাতার অবাধ্য হয়ে স্বাধীন জীবনযাপন, দ্বীন ও মতাদর্শকে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করার স্বাধীনতা, ইসলামী নিদর্শনসমূহকে অবমাননা করার স্বাধীনতা, অশ্লীলতা ও উলঙ্গপনা বিস্তারের স্বাধীনতা, সৌন্দর্য ও দেহ প্রদর্শনের স্বাধীনতা, উলঙ্গ ছবি প্রকাশের স্বাধীনতা, গাইর মোহরেম (যাদের সাথে বিবাহ জায়েয) নারী-পুরুষের সাথে অবাধ মেলামেশার স্বাধীনতা, গান, বাদ্য ও নৃত্য করার স্বাধীনতা, মদপান ও ব্যভিচার করার স্বাধীনতা, গর্ভপাত করার স্বাধীনতা, যৌনচারিতার স্বাধীনতা, ইচ্ছামত উলঙ্গ হওয়ার স্বাধীনতা।
২. মনে হচ্ছে যৌনচারিতায় প্রাচ্যবাসীরা কাওমে লুতকেও হার মানিয়েছে। ব্রিটিশ আদালতসমূহ যৌনচারিতাকে বৈধ বন্ধনের সমমান দিতে শুরু করেছে, গির্জাসমূহের কোন কোন পাদ্রী স্বীয় যৌনচারিতার কথা প্রকাশে গৌরববোধ করে, ব্রিটিশ লেবার পার্টির প্রতিষ্ঠাতাদের মধ্যে এমন অনেক মন্ত্রী আছে যারা নির্দ্বিধায় স্বীয় যৌনচারিতার কথা প্রকাশ করে। (তাকবীর ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০০০ ইং)
৩. প্রাচ্যে ইচ্ছামতো উলঙ্গ হওয়ার স্বাধীনতা তো এখন আর কোন বড় বিষয় নয়। তবে একটি সংবাদ বিবেচ্য যে, সিটেলে ৩৭ বছরের এক মহিলা হাইওয়ের মাঝে এক খাম্বা ধরে নৃত্য করতে করতে ওপরে চড়ে গিয়ে গান গাইতে লাগল, তার হাতে একটি মদের বোতল ছিল, পুলিশ দ্রুত বিদ্যুৎ কোম্পানিতে ফোন করে বিদ্যুৎ বন্ধ করাল। কেননা মহিলা নেশাগ্রস্ত ছিল আর সে তার জ্বালিয়ে দেয়ার চেষ্টা করছিল। মহিলার কাণ্ড দেখার জন্য ট্রাফিক জ্যাম লেগে গেল, লোকেরা কয়েক ঘণ্টা পর্যন্ত এ দৃশ্য দেখতে থাকল। শেষে পুলিশ খুব কষ্ট করে মহিলাকে নিয়ন্ত্রণে এনে তাকে খাম্বা থেকে নামিয়ে গ্রেফতার করল। আর তাকে এ অভিযোগ করল যে, সে সেফ্টি এ্যাকট ভঙ্গ করেছে। যার ফলে ট্রাফিক জ্যাম লেগেছিল। (উর্দু নিউজ ১০ নভেম্বর ১৯৯৯ইং) মদপান এবং উলঙ্গপনার বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ নেই।
প্রত্যেক ঐ বিষয়ের স্বাধীনতা যার মাধ্যমে নারী পুরুষের অবাধ যৌনচর্চা চলে। এ স্বাধীনতার বিনিময়ে জাহান্নামের সংকীর্ণ ও অন্ধকার বাসস্থানে জিঞ্জিরাবদ্ধ পা নিয়ে কত বেদনাদায়ক এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ভোগ করতে হবে, হায় আফসোস! কাফেররা যদি তা আজ জানতে পারত!
কিন্তু হে মানবমণ্ডলী! যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে, জান্নাত ও জাহান্নামকে সত্য বলে জানে, একটু চিন্তা কর আর উত্তর দাও যে পৃথিবীর এ স্বাধীনতার বিনিময়ে জাহান্নামের এ বন্দীশালা গ্রহণ করতে কি প্রস্তুত আছ? আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের হালাল করা বিষয়সমূহকে হারাম করে স্থায়ীভাবে জাহান্নামের সংকীর্ণ ও অন্ধকার বাসস্থানে জীবন যাপন করা কি সহজ বলে মনে করছ? অথচ তারা মনে করে না আল্লাহর ঐ বাণী-
قُلْ أَذَلِكَ خَيْرٌ أَمْ جَنَّةُ الْخُلْدِ الَّتِي وُعِدَ الْمُتَّقُونَ .
তাদেরকে জিজ্ঞেস কর: এটাই শ্রেয়, না স্থায়ী জান্নাত। যার প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে মুত্তাকীদেরকে? এটাইতো তাদের পুরস্কার ও প্রত্যাবর্তন স্থল। (সূরা ফুরকান-১৫)
📄 চেহারায় অগ্নিশিখা প্রজ্জ্বলিত করার মাধ্যমে শাস্তি
৪. চেহারায় অগ্নিশিখা প্রজ্জলিত করার মাধ্যমে শাস্তি।
জাহান্নামে শুধু আগুন আর আগুনই হবে। জাহান্নামীদের মাথা থেকে পা পর্যন্ত সমস্ত দেহ আগুনের মাঝে নিমজ্জিত থাকবে। এরপরও কুরআন মাজীদে কোন কোন অপরাধী সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে যে, তাদের চেহারায় আগুনের শিখা প্রজ্জলিত করা ও চেহারাকে আগুন দিয়ে গরম করার কথা উল্লেখ হয়েছে।
আল্লাহ তায়ালা বলেন: "ঐ দিন তুমি অপরাধীদেরকে দেখবে শৃংখলিত অবস্থায়। তাদের জামা হবে আল কাতরার, আর অগ্নি আচ্ছন্ন করবে তাদের মুখমণ্ডল"। (সূরা ইবরাহিম-৪৯, ৫০)
আল্লাহ মানব দেহকে যে বৈশিষ্ট্য দিয়েছেন তা সম্পর্কে তিনি বলেন- لَقَدْ خَلَقْنَا الْإِنْسَانَ فِي أَحْسَنِ تَقْوِيمٍ .
আমি মানুষকে সৃষ্টি করেছি উত্তম আকৃতিতে। (সূরা ত্বীন-৪)
মানুষের সমস্ত শরীরের মধ্যে চেহারাকে আল্লাহ্ সুন্দর, ইজ্জত, মাহাত্ম্যের নিদর্শন করেছেন। তৃপ্তিদায়ক চোখ, সুন্দর নাক, মানানসই কান, নরম ঠোঁট, গণ্ডদেশ ইত্যাদি। যৌবনকালে কালো চুল মানুষের সৌন্দর্য ও আকৃতিতে আরো উজ্জ্বল করে। আবার বৃদ্ধ বয়সে চাঁদির ন্যায় সাদা চুল মানুষের সম্মান ও মাহাত্ম্যের নিদর্শন। চেহারার ঐ সম্মান ও মাহাত্মের মর্যাদায় রাসূল নির্দেশ দিয়েছেন যে, "স্ত্রীকে যদি প্রহার করতে হয় তাহলে তার চেহারায় প্রহার করবে না"। (ইবনে মাজাহ)
চিকিৎসা শাস্ত্রে চেহারা শরীরের অন্যান্য অঙ্গের তুলনায় অধিক সংবেদনশীল। চোখ, কান, নাক, দাঁত ও গণ্ডদেশ ইত্যাদির রগসমূহ মস্তিষ্কের সাথে সম্পৃক্ত। চেহারা মস্তিষ্কের নিকটবর্তী হওয়ার কারণে রক্তের চলাচল শরীরের অন্যান্য অংশের তুলনায় বেশি দ্রুত। তাই সামান্য রাগের কারণে চেহারার রগ দ্রুত লাল হয়ে যায়। চেহারার এক অংশে কোন সমস্যা হলে সমস্ত চেহারাই ঐ সমস্যায় জর্জরিত হয়ে যায়। যদি শুধু দাঁতে কোন ব্যথা হয় চোখ, কান, মাথায়ও ব্যাথা অনুভব হয়। আর এ ব্যাথা এত বেশি হয় যে, এ সময়ে মানুষের সময় যেন অতিক্রান্ত হয় না। সে যত দ্রুত সম্ভব তা থেকে রক্ষা পেতে চায়। শরীরের এ সমবেদনশীল অংশে যখন জাহান্নামের অত্যাধিক গরমে উনুনের শিখা প্রজ্জলিত করা হবে, তখন কাফেরদের কত কঠিন ব্যথা সহ্য করতে হবে, তার অনুমান জাহান্নামীদের এ আফসোস থেকে অনুভব করা যায় যে, তারা বলবে- يَا لَيْتَنِي كُنتُ تُرَابًا. হায়! আমি যদি মাটি হয়ে যেতাম (সূরা নাবা-৪০)
অপরাধীদেরকে যখন প্রহার করা হয়, তখন তারা সাধারণত হাত দিয়ে চেহারাকে বাঁচাতে চেষ্টা করে। কিন্তু অনুমান করা হোক যে যখন একদিকে অপরাধীদের হাত-পা ভারি জিঞ্জির দিয়ে বাঁধা থাকবে, অন্য দিকে জাহান্নামের ভয়ানক ফেরেস্তা বিনা বাধায় তার চেহারায় আগুনের বৃষ্টি বর্ষণ করতে থাকবে। মূলত তাকে শারীরিক শাস্তির সাথে সাথে মারাত্মক অপমান ও লাঞ্ছনাও করা হবে। আর এ লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি এক বা দু'ঘন্টা বা এক বা দু'সপ্তাহ, এক বা দু'মাসের জন্য বা এক বা দু'বছরের জন্য নয়, বরং তা সার্বক্ষণিকভাবে চলতে থাকবে। আল্লাহ্ তায়ালা ইরশাদ করেন-
"হায় যদি কাফেররা ঐ সময়ের কথা জানত যখন তারা তাদের সম্মুখ ও পশ্চাৎ হতে অগ্নি প্রতিরোধ করতে পারবে না, আর তাদের কোনু সাহায্যও করা হবে না”। (সূরা আম্বিয়া- ৩৯)
কোন বদ নসীব এ লাঞ্ছনাময় শাস্তির যোগ্য হবে? এ ব্যাপারে আল্লাহ্ তা'আলা স্পষ্ট করে বলেছেন।
"সে দিন তাদের মুখমণ্ডল অগ্নিতে উলট-পালট করা হবে, সে দিন তারা বলবে হায়! আমরা যদি আল্লাহকে মানতাম এবং তাঁর রাসূল কে মানতাম। তারা আরো বলবে: হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা আমাদের নেতা ও বড় লোকদের আনুগত্য করেছিলাম আর তারা আমাদেরকে পথভ্রষ্ট করেছিল। হে আমাদের প্রতিপালক! তাদের দ্বিগুণ শাস্তি প্রদান করুন। আর তাদেরকে দিন মহা অভিসম্পাত”। (সূরা আহযাব ৬৬,৬৮)
যেহেতু পাপিষ্ঠদের অন্যায় এ হবে যে, তারা আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের বিপক্ষে তাদের সরদার, গুরুদের অনুসরণ করেছে। কাফেরদের কুফরী আর মুশরিকদের শিরকের এ অবস্থা হবে যে, তারা তাদের আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের অনুসরণ করে নাই বরং তাদের আলেম, দরবেশ, লিডার, বাদশাহদের অনুসরণ করেছে। যার বেদনাদায়ক শাস্তি তাদেরকে কিয়ামতের দিন ভোগ করতে হবে।
আমাদের নিকট কাফের মুশরিকদের তুলনায় ঐ সমস্ত মুসলমানদের আচরণ বেশি বেদনাদায়ক যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের কালেমা পাঠ করেছে, কিয়ামতের প্রতি বিশ্বাস, জান্নাত ও জাহান্নামকে স্বীকার করে। কিন্তু এতদসত্ত্বেও কোনো না কোনো ভুল বুঝের কারণে রাসূলের অনুসরণ থেকে দূরে সরে গিয়েছে।
মনে রাখুন রাসূল ﷺ-এর মিশন যেমন কিয়ামত পর্যন্ত বিদ্যমান থাকবে, তেমনিভাবে তাঁর অনুসরণও কিয়ামত পর্যন্ত করে যেতে হবে।
وَمَا اَرْسَلْنٰكَ اِلَّا كَافَّةً لِّلنَّاسِ بَشِيْرًا وَّنَذِيْرًا
আমি মানুষের নিকট তোমাকে সুসংবাদদাতা ও ভয় প্রদর্শনকারীরূপে প্রেরণ করেছি। (সূরা সাবা-২৮)
অন্যত্র আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন-
يٰٓاَيُّهَا النَّاسُ اِنِّىْ رَسُوْلُ اللّٰهِ اِلَيْكُمْ جَمِيْعًا
হে মানবমণ্ডলী! আমি তোমাদের সকলের প্রতি আল্লাহর রাসূলরূপে প্রেরিত হয়েছি। (সূরা আ'রাফ-১৫৮)
অনুরূপভাবে আরো ইরশাদ হয়েছে-
تَبٰرَكَ الَّذِيْ نَزَّلَ الْفُرْقَانَ عَلٰى عَبْدِهٖ لِّيَكُوْنَ لِلْعٰلَمِيْنَ نَذِيْرًا
কত মহান তিনি যিনি তাঁর বান্দার প্রতি ফুরকান (কুরআন) অবতীর্ণ করেছেন। যাতে তিনি বিশ্বাসীদের জন্য সতর্ককারী হতে পারেন। (সূরা ফুরকান-১)
সুতরাং যারা রাসূল ﷺ-এর মিশনকে তাঁর জীবিত থাকা পর্যন্তই সীমিত বলে বিশ্বাস করে নিঃসন্দেহে তারা তাঁর অনুসরণের ব্যাপারে পথভ্রষ্ট হচ্ছে। আবার যারা রাসূল ﷺ-কে শুধু আল্লাহর বার্তাবাহকরূপে মেনে নিয়ে তাঁর নির্দেশিত পথ (হাদীসের) অকাট্যতাকে অস্বীকার করছে তারাও তাঁর অনুসরণের ব্যাপারে পথভ্রষ্ট হচ্ছে। আর যারা এ আক্বীদা পোষণ করে যে কুরআন মাজীদ হেদায়েতের জন্য যথেষ্ট। এর সাথে রাসূল ﷺ-এর হাদীসের কোন প্রয়োজন নেই তারাও তাঁর অনুসরণের ব্যাপারে পথভ্রষ্ট হচ্ছে। (সূরা নাহল ৪৪ আয়াত দ্রঃ)
এমনিভাবে যারা এ আক্বীদা পোষণ করে যে, কুরআন মাজীদ নির্ভরযোগ্য সূত্রে সংরক্ষিত আছে কিন্তু হাদীস নির্ভরযোগ্য সূত্রে সংরক্ষিত নেই। তাই তাঁর ওপর আমল করা জরুরি নয় তারাও তাঁর অনুসরণের ব্যাপারে পথভ্রষ্ট। (সূরা হিযর ৯ নং আয়াত দ্রঃ)
যে সমস্ত উলামায়ে কেরাম স্বীয় ফিকহী মাসআলার গোড়ামীর কারণে স্বীয় ইমামগণের কথাকে রাসূল-এর হাদীসের ওপর প্রাধান্য দেয় তারাও তার অনুসরণের ব্যাপারে পথভ্রষ্ট হচ্ছে।
অনুরূপভাবে যারা স্বীয় বুযুর্গদের মোরাকাবা ও কাশফকে রাসূল-এর হাদীসের ওপর প্রাধান্য দেয় তারাও তাঁর অনুসরণের ব্যাপারে পথভ্রষ্ট হচ্ছে। এমনিভাবে যারা স্বীয় আকাবেরগণের মোশাহাদা ও স্বপ্নকে রাসূল-এর সুন্নতের ওপর প্রাধান্য দেয় তারাও তাঁর অনুসরণের ব্যাপারে পথভ্রষ্ট হচ্ছে। (সূরা হুজরাত ১ নং আয়াত দ্রঃ)।
আমরা অত্যন্ত আদব ও সম্মানের সাথে, মুসলমানদের সমস্ত গবেষণালয়ের নিকট, অত্যন্ত নিষ্ঠতা ও হামদর্দ নিয়ে আবেদন করছি যে, রাসূল এর অনুসরণের বিষয়টি অত্যন্ত সূক্ষ্ম। এমন যেন না হয় যে, ইমামগণের আক্বীদা, বুযর্গদের মোহাব্বত, আর নিজস্ব দর্শনের গোড়ামী আমাদেরকে কিয়ামতের দিন কঠিন শাস্তিতে নিষ্পেষিত না করে। কেননা আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান আনার পর এ ধরনের বেদনাদায়ক পরিণতি ক্ষতির কারণ হবে।
أَلَا ذَٰلِكَ هُوَ الْخُسْرَانُ الْمُبِينُ
জেনে রেখ, এটা সুস্পষ্ট ক্ষতি। (সূরা যুমার- ১৫)