📘 জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা > 📄 শুরু কথা

📄 শুরু কথা


হে সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব মানবজাতি!
একটু মনোযোগ দিয়ে শ্রবণ করুন। চৌদ্দশত বছর পূর্বের কথা। অদৃশ্য থেকে সংবাদ আনয়ন ও বর্ণনাকারীদের এক ব্যক্তি যে তাঁর স্বীয় এলাকার মানুষের নিকট সত্যবাদী ও বিশ্বাসী উপাধিতে প্রসিদ্ধ ছিল। তিনি এ সংবাদ দিয়েছেন যে, আমি আগুন দেখেছি। জাহান্নামের আগুনের তাপদাহ, প্রজ্জ্বলন, অগ্নিশিখা, দেহ ও আত্মার সাথে মিশে যাওয়ার আগুন! ঐ আগুন পৃথিবীর আগুনের চেয়ে ঊনসত্তর গুণ বেশি গরম হবে। আর সেখানে প্রবেশকারীদের জন্য রয়েছে আগুনের পোশাক, আগুনের বিছানা, আগুনের ছাওনী, আগুনের ভারী বেড়ী এবং আগুনের জিঞ্জির, আগুনে উত্তপ্ত ও প্রজ্বলিত কোটি কোটি টন ভারী পাহাড়, হাতুড়ী ও গুর্জ, আগুনে জন্মগ্রহণকারী উটের সমান বিষাক্ত সাপ। আগুনে জন্মগ্রহণকারী খচ্চরের সমান বিষাক্ত বিচ্ছু। খাবার হিসেবে থাকবে আগুনে জন্মগ্রহণকারী কাটাযুক্ত যাক্কুম বৃক্ষ। আর পান করার জন্য রয়েছে উত্তপ্ত পানি, গন্ধময় বিষাক্ত পূঁজ।

হে মানবমণ্ডলী! অদৃশ্য থেকে সংবাদ আনয়নকারী, স্বচোখে জাহান্নাম অবলোকনকারী বারংবার আহ্বান করছে, একটু মনযোগ দিয়ে শ্রবণ করো! انْذَرْتُكُمُ النَّارَ انْذَرْتُكُمُ النَّارَ .
আমি তোমাদেরকে জাহান্নামের আগুন থেকে সতর্ক করছি, আমি তোমাদেরকে জাহান্নামের আগুন থেকে সতর্ক করছি। اتَّقُوا النَّارَ وَلَوْ بِشِقِّ تَمَرَةٍ -
হে মানবমণ্ডলী! এক টুকরা খেজুরের বিনিময়ে হলেও জাহান্নাম থেকে বেঁচে থাক। (বোখারী ও মুসলিম)
বুদ্ধিমান ও চতুর লোকেরা একা একা বা দু'জন বা তার অধিক এক সাথে বসে চিন্তা কর যে, সংবাদ আনয়নকারীর সংবাদ সত্য না মিথ্যা। যদি মিথ্যা হয়, তাহলে মিথ্যার পরিণাম সংবাদদাতা ভোগ করবে, তোমাদের কোন ক্ষতি হবে না। আর সংবাদ যদি সত্য হয় তাহলে? হে জাহান্নামকে অস্বীকারকারীরা! হে জাহান্নামের সাথে ঠাট্টা-বিদ্রূপকারীরা! হে জাহান্নাম সম্পর্কে সন্দিহানরা! হে জাহান্নামের প্রতি ঈমান আনা সত্ত্বেও গাফেল ব্যক্তিরা!
যখন জাহান্নামের ঐ আগুন চোখের সামনে উত্তপ্ত হতে থাকবে, আর আহ্বানকারী বলতে থাকবে-
هذهِ النَّارُ الَّتِي كُنْتُمْ بِهَا تُكَذِّبُونَ.
দেখ এ হলো ঐ জাহান্নাম যাকে তোমরা অস্বীকার করছিলে। (সূরা তুর-১৪) তাহলে শোন! তোমরা কি জবাব দিবে? তোমরা কোথায় পলায়ন করবে? কোথাও আশ্রয় পাবে? কোন সাহায্যকারীকে আহ্বান করবে? কোন বিপদ দূরকারীকে নিয়ে আসবে? না ঐ উত্তপ্ত প্রজ্জলিত জাহান্নামে প্রবেশ করাকে মেনে নিবে? وَيْلٌ يَوْمَئِذٍ لِلْمُكَذِّبِينَ.
সে দিন দুর্ভোগ মিথ্যা আরোপকারীদের জন্য। (সূরা মুরসালাত-১৫)

📘 জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা > 📄 জাহান্নামের আগুন

📄 জাহান্নামের আগুন


১. জাহান্নামের আগুন জাহান্নামের সবচেয়ে বেশি শাস্তি আগুনেরই হবে, যে ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেছেন যে, জাহান্নামের আগুন দুনিয়ার আগুনের চেয়ে সত্তর গুণ বেশি গরম হবে। (মুসলিম)

কুরআনুল কারীমের কোনো কোনো স্থানে তাকে "বড় আগুন" নামে আখ্যায়িত করা হয়েছে। (সূরা আ'লা-১২)

আবার কোথাও "আল্লাহর প্রজ্জলিত অগ্নি" নামেও আখ্যায়িত করা হয়েছে। (সূরা হুমাযা-৫)

আবার কোথাও 'লেলিহান জাহান্নাম'ও বলা হয়েছে। (সূরা লাইল-১৪)
আবার কোথাও "জ্বলন্ত অগ্নি"ও বলা হয়েছে। (সূরা গাশিয়া)
শাস্তি হিসেবে যদি শুধু মানুষকে জ্বালিয়ে দেয়াই উদ্দেশ্য হতো, তাহলে দুনিয়ার আগুনই যথেষ্ট ছিল যাতে মানুষ সাময়িক সময়ের মধ্যে জ্বলে শেষ হয়ে যায়। কিন্তু জাহান্নামের আগুন তো মূলত কাফের ও মুশরিককে বিশেষভাবে শাস্তি দেয়ার জন্যই উত্তপ্ত করা হয়েছে, তাই তা পৃথিবীর আগুনের চেয়ে কয়েক গুণ গরম হওয়া সত্ত্বেও জাহান্নামীদেরকে একেবারে শেষ করে দিবে না; বরং তাদেরকে ধারাবাহিকভাবে আযাবে নিমজ্জিত করে রাখবে।

আল্লাহ তায়ালা বলেন-
لَا يَمُوتُ فِيهَا وَلَا يَحْيَىٰ
(জাহান্নামে) সে মরবেও না বাঁচবেও না। (সূরা আ'লা-১৩)

রাসূলুল্লাহকে স্বপ্নযোগে এক কুৎসিত আকৃতি ও বিবর্ণ চেহারার লোক দেখানো হল, সে আগুন জ্বালিয়ে যাচ্ছে এবং তাকে উত্তপ্ত করছে, রাসূলুল্লাহ জিবরীল (আ)-কে জিজ্ঞেস করলেন: এ কে? জবাবে তিনি বললেন: তার নাম মালেক সে জাহান্নামের দারওয়ান। (বোখারী)

জাহান্নামের আগুনকে আজও উত্তপ্ত করা হচ্ছে, কিয়ামত পর্যন্ত তাকে উত্তপ্ত করা হতে থাকবে, জাহান্নামীদেরকে জাহান্নামে যাওয়ার পরও তাকে উত্তপ্ত করার ধারাবাহিকতা চলতে থাকবে।

আল্লাহ তা'য়ালা ইরশাদ করেন:
كُلَّمَا خَبَتْ زِدْنَاهُمْ سَعِيرًا
যখনই তা স্তিমিত হবে আমি তখনি তাদের জন্য অগ্নি বৃদ্ধি করে দিব। (সূরা বানী ইসরাঈল-৯৭)

জাহান্নামের আগুন কত উত্তপ্ত হবে তার হুবহু পরিমাণের বর্ণনা করা তো অসম্ভব, তবে রাসূলুল্লাহ এর বর্ণনা অনুযায়ী জাহান্নামে আগুনের তাপদাহ পৃথিবীর আগুনের চেয়ে উনসত্তর গুণ বেশি হবে।

সাধারণ অনুমানে পৃথিবীর আগুনের উত্তাপ ২০০০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড ধরা হলে জাহান্নামের আগুনের তাপমাত্রা হয় ১ লক্ষ ৩৮ হাজার ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড। এ কঠিন গরম আগুন দিয়ে জাহান্নামীদের পোশাক ও তাদের বিছানা তৈরি করা হবে। ঐ আগুন দিয়ে তাদের ছাতি ও তাঁবু তৈরি করা হবে। ঐ আগুন দিয়েই তাদের জন্য কার্পেট তৈরি করা হবে। কঠিন আযাবের এ নিকৃষ্ট স্থানে মানুষের জীবনযাপন কেমন হবে, যারা নিজের হাতে সামান্য একটি আগুনের কয়লাও রাখার ক্ষমতা রাখে না।

মানুষের ধৈর্যের বাঁধ তো এই যে, জুন, জুলাই মাসে দুপুর ১২টার সময়ের তাপ ও গরম বাতাস সহ্য করাই অনেকের অসম্ভব হয়ে যায়, দুর্বল, অসুস্থ ও বৃদ্ধ লোক এর ফলে মৃত্যুবরণও করে, অথচ রাসূলুল্লাহ -এর বাণী অনুযায়ী পৃথিবীর এ কঠিন গরম জাহান্নামের শ্বাস ত্যাগ বা তাপের কারণ মাত্র। যে মানুষ জাহান্নামের তাপই সহ্য করতে পারে না, তারা তার আগুন কি করে সহ্য করবে?

কিয়ামতের দিন জাহান্নামের আগুন দেখে সমস্ত নবীগণ এত ভীতসন্ত্রস্ত হবে যে, তাঁরা বলবে যে- رَبِّي سَلَمَ رَبِّي سَلم .
হে প্রভু! আমাকে বাঁচাও, হে আমার প্রভু! আমাকে বাঁচাও! এ বলে আল্লাহর নিকট স্বীয় জীবনের নিরাপত্তা কামনা করবে।

উম্মুল মু'মিনীন আয়েশা (রা) জাহান্নামের আগুনের কথা স্মরণ করে পৃথিবীতে কাঁদতেন, পৃথিবীতে থাকা অবস্থায়ই জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত দশজন সাহাবীর একজন ওমর (রা)। কুরআন তেলাওয়াত করার সময় জাহান্নামের আযাবের কথা আসলে বেঁহুশ হয়ে যেতেন। মুয়াজ বিন জাবাল, আবদুল্লাহ বিন রাওয়াহা, ওবাদা বিন সামেত (রা) এদের মতো সম্মানিত সাহাবাগণ জাহান্নামের আগুনের কথা স্মরণ করে এত কাঁদতেন যে, তারা কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে যেতেন। আবদুল্লাহ বিন মাসউদ (রা) কামারের দোকানের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় সেখানে প্রজ্জলিত আগুন দেখে জাহান্নামের কথা স্মরণ করে কাঁদতে থাকতেন।

আতা সুলামী (রা)-এর সাথীরা রুটি বানানোর জন্য চুল্লী প্রস্তুত করলে তিনি তা দেখে বেঁহুশ হয়ে গেলেন।

সুফিয়ান সাওরীর নিকট যখন জাহান্নামের কথা আলোচনা করা হতো, তখন তার রক্তের প্রস্রাব হতো।

রবী (রা) সারা রাত বিছানায় এপাশ-ওপাশ হতে থাকলে তার মেয়ে জিজ্ঞেস করল, আব্বাজান! সমস্ত মানুষ আরামে ঘুমিয়ে গেছে আপনি কেন জেগে আছেন? তিনি বললেন: হে মেয়ে! জাহান্নামের আগুন তোমার পিতাকে ঘুমাতে দিচ্ছে না।

আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন কতইনা সত্য- إِنَّ عَذَابَ رَبِّكَ كَانَ مَحْذُورًا .
তোমার প্রতিপালকের শাস্তি ভয়াবহ। (সূরা বনী ইসরাঈল-৫৭)

আল্লাহ স্বীয় দয়া ও অনুগ্রহে সকল মুসলমানকে জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তি দিন। আমীন!

📘 জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা > 📄 শাস্তির পরিমাপ থাকা চাই

📄 শাস্তির পরিমাপ থাকা চাই


৩. শাস্তির পরিমাপ থাকা চাই!

জাহান্নামের আগুন ও তার বিভিন্ন প্রকার শাস্তির কথা অধ্যয়নের সময় মানুষের পশম দাঁড়িয়ে যায় এবং মনের অজান্তেই জাহান্নাম থেকে মুক্তি কামনা করতে থাকে। কিন্তু সাথে সাথে একথাও মনে পড়ে যে জীবনের সমস্ত পাপ যতই হোক না কেন এ গুনাহসমূহের শাস্তির জন্য একটি পরিসীমা থাকা দরকার ছিল। আর ঐ সত্তা যিনি স্বীয় বান্দাদের প্রতি অত্যন্ত দয়াবান, তিনি সর্বসময়ের জন্য কি করে মানুষকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবেন?

এ প্রশ্নের উত্তর খোঁজার আগে প্রথমে আল্লাহর শাস্তি ও সাজা সম্পর্কে একটি নিয়ম আমরা পাঠকদের দৃষ্টিগোচর করতে চাই যে, রাসূল বলেছেন: যে ব্যক্তি মানুষকে হেদায়েতের পথে আহ্বান করে, তার আমলনামায় ঐ সমস্ত লোকদের আমলের সমান সওয়াব লেখা হবে, যারা তার আহ্বানে হেদায়েতপ্রাপ্ত হয়েছে। অথচ তাদের (পরস্পরের) সওয়াবের মধ্যে মোটেও কমতি হবে না। এমনিভাবে যে ব্যক্তি মানুষকে গোমরাহির পথে আহ্বান করে, তার আমলনামায় ঐ সমস্ত লোকদের পাপের সমান পাপ লিখা হবে, যারা তার আহ্বানে সাড়া দিয়ে পাপে লিপ্ত হয়েছে। অথচ পাপকারীদের পরস্পরের পাপের মধ্যে কোন কমতি হবে না। (মুসলিম)

এ নিয়মের বিস্তারিত বর্ণনা হাবীল কাবীলের ঘটনার মাধ্যমেও স্পষ্ট হয়। যে ব্যাপারে নবী বলেছেন: পৃথিবীতে কোন ব্যক্তি অন্যায়ভাবে নিহত হলে আদম (আ)-এর প্রথম সন্তান কাবীল (হত্যাকারী) ও ঐ পাপের ভাগী হবে। কেননা সে সর্বপ্রথম হত্যার প্রথা চালু করেছে। (বোখারী ও মুসলিম)

এ নিয়মের আলোকে একজন কাফের শুধু তার নিজের পাপের সাজাই ভোগ করবে না, বরং তার সন্তান, সন্তানদের সন্তান... এমনকি কিয়ামত পর্যন্ত তার বংশে যত কাফের জন্মগ্রহণ করবে এ সমস্ত কাফেরদের কুফরীর সাজা, প্রথম কাফের পাবে, যে আল্লাহ তাঁর রাসূল -কে মানতে অস্বীকার করেছে। সাথে সাথে এ সমস্ত কাফেররা তাদের স্ব স্ব কুফরীর সাজাও পাবে। এ আচরণ ঐ সমস্ত কাফেরের সাথে করা হবে, যারা তাদের সন্তানদেরকে কুফরীর সবক দিয়েছে এবং কুফরীর ওপর অটল রেখেছে। এ নিয়মের আলোকে প্রত্যেক কাফেরের পাপের সূচি এত বৃহৎ মনে হয় যে, জাহান্নামে তার চিরস্থায়ী ঠিকানা ন্যায়পরায়ণতার আলোকে সঠিক বলেই স্পষ্ট হয়। এতো গেল ব্যক্তিগত একক কুফরীর কথা, আর যদি কোন কাফের কুফরীকে সামাজিক আন্দোলনরূপে প্রতিষ্ঠিত করে, কোন সমাজ বা কোন রাষ্ট্র বা সমগ্র পৃথিবীতে তা প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করে, তাহলে এ সম্মিলিত চেষ্টা প্রচেষ্টা তার মূল পাপের সাথে আরো পাপ বৃদ্ধির কারণ হবে। আর এ বৃদ্ধির পরিমাপ ঐ বিষয়ের ওপর নির্ভর করবে যে, এ সম্মিলিত চেষ্টা প্রচেষ্টার ফলে কত লোক পথভ্রষ্ট হয়েছে। আর এ আন্দোলনকে প্রচার করার জন্য কত কত এবং কি কি পাপ করা হয়েছে।

যেমন: লেলিন কমিউনিজম নামক ভ্রান্ত আবিষ্কার করেছিল, এরপর ঐ ভ্রান্ত মতবাদকে বিভিন্ন দেশে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য লাখ মানুষ নির্দ্বিধায় নিহত হয়েছে। প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারী লাখ মানুষের ওপর নির্যাতনের পাহাড় চাপিয়েছে। শহর কি শহর, গ্রাম কি গ্রাম পদদলিত করা হয়েছে। মুসলিম অধ্যুষিত এলাকাসমূহে, ইসলামের রাস্তা বন্ধ করার জন্য সর্বপ্রকার হাতিয়ার ব্যবহার করা হয়েছে। আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের নাম নেয়াতে নিয়মানুবর্তিতা, আযানে নিয়মানুবর্তিতা, সালাতে নিয়মানুবর্তিতা, কুরআনে নিয়মানুবর্তিতা, মসজিদ ও মাদরাসায় নিয়মানুবর্তিতা, আলেম উলামাদের প্রতি দূরাচরণ।

এ সমস্ত অপরাধ লেলিনের পাপ বৃদ্ধির কারণ হবে। সে শুধু তার বংশগত কাফেরদের কুফরিরই জিম্মাদার নয়, বরং অসংখ্য মানুষকে পথভ্রষ্ট করার পাপের বোঝা বহন করে কিয়ামতের দিন উপস্থিত হবে। হত্যা, মারামারি ও পৃথিবীতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পাপের সূচি ও তার বদ আমলের সাথে সম্পৃক্ত হবে। সর্বশেষ ধরনের ইসলামের শত্রু কট্টর কাফেরের জন্য জাহান্নামের চেয়ে অধিক উপযুক্ত স্থান আর কি হতে পারে?

১৮৪৬ ইং মার্চ মাসে মহারাজা গোলব সিং কাশ্মীর খরিদ করে তার জোরপূর্বক শাসন প্রতিষ্ঠার চেষ্টা শুরু করল। তখন দু'জন নেতৃস্থানীয় মুসলমান মল্লি খাঁন এবং সবজ আলী খাঁন তার প্রতিবাদ জানাল। তখন গোলব শিং এ উভয় নেতাকে উল্টা করে ঝুলিয়ে জীবন্ত অবস্থায় তাদের চামড়া ছিলার নির্দেশ দিল। এ দৃশ্য এক ভয়ানক ছিল যে, গোলব শিংয়ের ছেলে রামবীর শিং সহ্য করতে না পেরে দরবার থেকে উঠে গেল, তখন গোলব শিং তাকে ডাকিয়ে বলল: যদি তোমার মধ্যে এ দৃশ্য দেখার মতো সাহস না থাকে, তাহলে তোমাকে যুবরাজের পদ থেকে হটিয়ে দেয়া হবে। ইসলাম ও মুসলমানদের দুশমনীর এ ধরনের শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের উপযুক্ত শাস্তি জাহান্নামের আগুন ব্যতীত আর কি হতে পারে?

ভারত বিভক্তির সময় লর্ড মাউন্টবেটিন, স্যার পেটিল, হেজাক্সী লেন্সী, নেহেরু, আন্জহানী, গান্ধীরা জেনে বুঝে যেভাবে ইসলামের শত্রুতার ঝড় তুলে ও নির্দ্বিধায় মুসলমানদেরকে হত্যা করিয়েছে, মুসলিম মহিলাদের ইজ্জত হরণ করেছে, মাসুম শিশুদেরকে কতল করেছে, এর প্রতিশোধ যতক্ষণ পর্যন্ত জাহান্নামের আগুন, তার সাপ, বিচ্ছুরা না নিবে, ততক্ষণ পর্যন্ত নিরপরাধে নিহত মুসলমান, পবিত্র মুসলিম মহিলা, মাসুম মুসলিম শিশুদের কলিজা কি করে ঠাণ্ডা হবে? এমনিভাবে বসনিয়া, কসোভো ও সিসান ইত্যাদি।

সুতরাং ঐ মহাজ্ঞানী অভিজ্ঞ সত্ত্বা যিনি মানুষের অন্তরের গোপন আকাঙ্ক্ষার খবর রাখেন, কাফেরের জন্য যত শাস্তি প্রস্তুত করে রেখেছেন, তা কাফেরের উপযুক্ত শাস্তি, তার প্রাপ্যের চেয়ে বিন্দু পরিমাণ কমও হবে না আবার বেশিও না। বরং ন্যায়পরায়ণতার ভিত্তিতে তার উপযুক্ত শাস্তিই হবে। অত্যন্ত দয়ালু তিনি কারো ওপর বিন্দু পরিমাণ জুলুম করেন না।

আল্লাহ তায়ালা বলেন- وَلَا يَظْلِمُ رَبُّكَ أَحَدًا .
তোমার রব কারো ওপর বিন্দু পরিমাণ জুলুম করেন না। (সূরা কাহাফ-৪৯)

📘 জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা > 📄 স্বীয় পরিবার-পরিজনদেরকে জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচাও

📄 স্বীয় পরিবার-পরিজনদেরকে জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচাও


৪. স্বীয় পরিবার ও পরিজনদেরকে জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচাও

কুরআন মাজীদে আল্লাহ ইরশাদ করেন- يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا قُوا أَنْفُسَكُمْ وَأَهْلِيكُمْ نَارًا وَقُودُهَا النَّاسُ وَالْحِجَارَةُ عَلَيْهَا مَلَائِكَةٌ غِلَاظٌ شِدَادٌ لَا يَعْصُونَ اللَّهَ مَا أأَمَرَهُمْ وَيَفْعَلُونَ مَا يُؤْمَرُونَ .
হে ঈমানদারগণ! তোমরা নিজেদেরকে এবং তোমাদের পরিবার-পরিজনদেরকে রক্ষা করো অগ্নি থেকে, যার ইন্ধন হবে মানুষ ও প্রস্তর। যাতে নিয়োজিত আছে নির্মম হৃদয়, কঠোর স্বভাব ফেরেশতাগণ, যারা অমান্য করে না আল্লাহ তাদেরকে যা আদেশ করেন তার। আর তারা যা করতে আদিষ্ট হয় তারা তাই করে। (সূরা তাহরীম-৬)

আলোচ্য আয়াতে আল্লাহ দুটি কথা স্পষ্ট শব্দে নির্দেশ দিয়েছেন-
১. নিজেকে নিজে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করো।
২. নিজের পরিবার-পরিজনদেরকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করো।

পরিবার-পরিজন বলতে বুঝায় স্ত্রী, সন্তান, যেন প্রত্যেক ব্যক্তি তার সাথে সাথে নিজের স্ত্রী সন্তানদেরকেও জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচাতে বাধ্যগত। স্বীয় পরিবার-পরিজনের প্রতি প্রকৃত কল্যাণকামীতার দাবিও তাই। এমনিভাবে যখন আল্লাহ তার রাসূলকে এ নির্দেশ দেন যে- وَانْذِرْ عَشِيرَتَكَ الْأَقْرَبِينَ .
তোমার নিকট আত্মীয়দেরকে (জাহান্নামের আগুন) থেকে সতর্ক কর। (সূরা শু'আরা-২১৪)

তখন নবী স্বীয় পরিবার ও বংশের লোকদেরকে ডেকে তাদেরকে জাহান্নামের আগুন থেকে সতর্ক করলেন। সব শেষে স্বীয় কন্যা ফাতেমা (রা)-কে ডেকে বললেন- يَا فَاطِمَةُ انْقِذِي نَفْسَكِ مِنَ النَّارِ فَإِنِّي لَا أَمْلِكُ لَكُمْ مِّنَ اللَّهِ شَيْئًا
হে ফাতেমা! নিজেকে জাহান্নাম থেকে রক্ষা করো, (কিয়ামতের দিন) আল্লাহর সামনে আমি তোমাদের জন্য কিছু করতে পারব না। (মুসলিম)

নিজের পাড়া-প্রতিবেশী ও বংশের লোকদেরকে জাহান্নাম থেকে সতর্ক করার পর, নিজের কন্যাকে জাহান্নামের আগুন থেকে ভয় দেখিয়ে, সমস্ত মুসলমানকে সতর্ক করলেন যে, স্বীয় সন্তানদেরকে জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচানোও পিতা-মাতার দায়িত্বসমূহের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।

এক হাদীসে নবী ইরশাদ করেছেন "প্রত্যেকটি সন্তান ফিতরাত (ইসলামের) ওপর জন্মগ্রহণ করে, কিন্তু তাদের পিতা-মাতা তাদেরকে ইহুদী, নাসারা বা অগ্নিপূজক হিসেবে গড়ে তোলে। (বোখারী)

যেন সাধারণ নিয়ম এই যে, পিতা-মাতাই সন্তানদেরকে জান্নাত বা জাহান্নামে নিক্ষেপ করে।

আল্লাহ তাআলা কুরআন মাজীদে মানুষের বহু দুর্বলতার উল্লেখ করেছেন। যেমন: মানুষ অত্যন্ত জালেম ও অকৃতজ্ঞ। (সূরা ইবরাহীম-৩৪)

অন্যান্য দুর্বলতার ন্যায় একটি দুর্বলতা এই বলে বর্ণনা করা হয়েছে যে, মানুষ দ্রুত অর্জিত লাভসমূহকে অগ্রাধিকার দেয়, যদিও তা ক্ষণস্থায়ী বা অল্পই হোক না কেন? আর বিলম্বে অর্জিত লাভকে তারা উপেক্ষা করে চলে, যদিও তা স্থায়ী ও অধিকই হোক না কেন।

আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন- إِنَّ هَؤُلَاءِ يُحِبُّونَ الْعَاجِلَةَ وَيَذَرُونَ وَرَاءَهُمْ يَوْمًا ثَقِيلاً .
নিঃসন্দেহে তারা দ্রুত অর্জিত লাভ (অর্থাৎ দুনিয়া)-কে ভালোবাসে আর পরবর্তী কঠিন দিবসকে উপেক্ষা করে চলে। (সূরা দাহার-২৭)

এ হল মানুষের ঐ স্বভাবজাত দুর্বলতার ফল যে, পিতা-মাতা স্বীয় সন্তানদেরকে দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী জীবনে উচ্চ মর্যাদা লাভ, সম্মান এবং উচ্চ শিক্ষা দেয়ার জন্য অধিকাংশ সময় গুরুত্ব দেয়। চাই এ জন্য যত সময় এবং সম্পদই ব্যয় হোক না কেন, আর যত দুঃখ কষ্ট পোহানো হোক না কেন। অথচ অনেক কম পিতা-মাতাই আছে যারা, তাদের সন্তানদেরকে পরকালের স্থায়ী জীবন, উচ্চ পজিশন লাভের জন্য, দ্বীনি শিক্ষা দেয়ার জন্য গুরুত্ব দেয়। যার অর্জন দুনিয়ার শিক্ষার চেয়ে সহজও বটে আবার দ্বীন ও দুনিয়া উভয় দিক থেকে পিতা-মাতার জন্য কল্যাণকরও। দুনিয়াবী শিক্ষা অর্জনকারী বেশিরভাগ সন্তান কর্মজীবনে স্বীয় পিতা-মাতার অবাধ্য থাকে এবং নিজে নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত থাকে, পক্ষান্তরে দ্বীনি শিক্ষা অর্জনকারী বেশিরভাগ সন্তান, স্বীয় পিতামাতার অনুগত থাকে এবং তাদের সেবা করে। আর পরকালের দৃষ্টিতে তো অবশ্যই এ সন্তানরা পিতা-মাতার জন্য কল্যাণকামী হবে। যারা সৎ মুত্তাকী ও দ্বীনদার হবে।

এ সমস্ত বাস্তবতাকে জানা সত্ত্বেও কোন অতিরঞ্জন ব্যতীতই ৯৯% মানুষই দুনিয়াবী শিক্ষাকে দ্বীনি শিক্ষার ওপর প্রাধান্য দেয়। আসুন মানবতার এ দুর্বলতাকে অন্য এক দিক দিয়ে বিবেচনা করা যাক।

ধরুন, কোন জায়গায় যদি আগুন লেগে যায়, তাহলে ঐ স্থানের সমস্ত বসবাসকারীরা সেখান থেকে বের হয়ে যাবে, ভুলক্রমে যদি কোন শিশু ঐ স্থানে থেকে যায়, তাহলে চিন্তা করুন, ঐ অবস্থায় ঐ শিশুর পিতা-মাতার অবস্থা কি হবে? পৃথিবীর যে কোন ব্যস্ততা বা বাধ্যকতা যেমন ব্যবসা, ডিউটি, দুর্ঘটনা, অসুস্থতা ইত্যাদি পিতা-মাতাকে শিশুর কথা ভুলিয়ে রাখতে পারবে? কখনো নয়। যতক্ষণ পর্যন্ত শিশু আগুন থেকে বেরিয়ে না আসতে পারবে, ততক্ষণ পর্যন্ত পিতা-মাতা ক্ষণিকের জন্যও আরামবোধ করবে না। নিজের শিশুকে আগুন থেকে বাঁচানোর জন্য যদি পিতা-মাতার জীবনবাজী দিতে হয়, তা হলে তাও দিবে। কত আশ্চর্য কথা যে এ ক্ষণস্থায়ী জীবনে তো প্রত্যেক ব্যক্তিরই অনুভূতি এ কাজ করে যে, তার সন্তানকে যে কোন মূল্যের বিনিময়ে হলেও আগুন থেকে বাঁচাতে হবে। কিন্তু পরকালে জাহান্নামের আগুন থেকে নিজের সন্তানকে বাঁচানোর অনুভূতি খুব কম লোকেরই আছে। আল্লাহ তায়ালা কতই না সত্য বলেছেন।

وَقَلِيلٌ مِّنْ عِبَادِيَ الشَّكُورُ .
আমার বান্দাদের মধ্যে অল্পই কৃতজ্ঞ। (সূরা সাবা-১৩)

নিঃসন্দেহে মানুষের এ দুর্বলতা ঐ পরীক্ষার অংশ যার জন্য মানুষকে এ পৃথিবীতে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু জ্ঞানী সে-ই যে এ পরীক্ষার অনুভূতি লাভ করেছে। আর এ পরীক্ষার অনুভূতি এই যে, মানুষ তার স্রষ্টা ও মনিবের হুকুম বিনাবাক্য ব্যয়ে মেনে নিবে। আল্লাহ্ ঈমানদারদেরকে জাহান্নাম থেকে বাঁচার এবং নিজের স্ত্রী, সন্তানদেরকে তা থেকে বাঁচানোর জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। তাহলে ঈমানের দাবী এই যে, প্রত্যেক মুসলমান নিজে নিজেকে এবং তার স্ত্রী-সন্তানকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষার জন্য ৬৯ গুণ বেশি চিন্তিত থাকবে। যেমন সে তার স্ত্রী-সন্তানকে দুনিয়ার আগুন থেকে রক্ষার জন্য প্রয়োজন অনুভব করে। এ দায়িত্ব পূর্ণ করার জন্য প্রত্যেক মুসলমান দু'টি বিষয় গুরুত্বের চোখে দেখবে:

প্রথমত: কুরআন ও হাদীসের শিক্ষার গুরুত্ব: মূর্খতা ও অজ্ঞতা চাই তা দুনিয়ার ব্যাপারেই হোক আর দ্বীনের ব্যাপার হোক, তা মানুষের জন্য লাভ-ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। স্বয়ং আল্লাহ তায়ালা কুরআন মাজীদে ইরশাদ করেছেন। তিনি বলেন-

هَلْ يَسْتَوِي الَّذِينَ يَعْلَمُونَ وَالَّذِينَ لَا يَعْلَمُونَ .
যারা জ্ঞানী আর যারা জ্ঞানী নয় তারা কি সমান? (সূরা যুমার-৯)

এ সর্বসাধারণের কথা, যে ব্যক্তি পরকালের প্রতি ঈমান রাখে, হাশর-নশর সম্পর্কে অবগত আছে, জান্নাতের চিরস্থায়ী নি'আমতসমূহ এবং জাহান্নামের শাস্তি সম্পর্কে অবগত রয়েছে, তার জীবন ঐ ব্যক্তির জীবনের চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা হবে যে, ব্যক্তি অফিসিয়ালভাবে আখেরাতকে মানে, কিন্তু হাশর নশরের অবস্থা জান্নাতের চিরস্থায়ী নি'আমত এবং জাহান্নামের শাস্তি সম্পর্কে অবগত নয়। কিতাব ও সুন্নাতের জ্ঞান যারা রাখে, তারা অন্য লোকদের মোকাবেলায় অধিক সঠিক পথে ঈমানদার এবং প্রতি কদমে তারা আল্লাহকে ভয় করে।

আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন- إِنَّمَا يَخْشَى اللَّهَ مِنْ عِبَادِهِ الْعُلَمَاءُ .
মূলত আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে শুধু (কুরআন ও হাদীসের) জ্ঞান যারা রাখে তারাই আল্লাহকে অধিক ভয় করে। (সূরা ফাতের-২৮)

সুতরাং যারা স্বীয় সন্তানদেরকে দুনিয়ার শিক্ষা দেয়ার জন্য কুরআন ও হাদীসের শিক্ষা থেকে বঞ্চিত রাখে, তারা মূলত নিজের সন্তানদের আখিরাতকে বরবাদ করে, তাদের ওপর অধিক জুলুম করছে। আর যারা তাদের সন্তানদেরকে দুনিয়াবী শিক্ষার সাথে সাথে, কুরআন কারীম ও হাদীসের শিক্ষাও দিয়ে যাচ্ছে, তারা শুধু তাদের সন্তানদেরকে তাদের আখিরাতই আলোকময় করছে না, বরং নিজেরা আল্লাহর আদালতে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারবে।

দ্বিতীয়ত: ঘরে ইসলামী পরিবেশ তৈরি: শিশুর ব্যক্তিত্বকে ইসলামী ভাবধারায় গড়ে তুলতে হলে ও ঘরে ইসলামী পরিবেশ প্রতিষ্ঠা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করা, ঘরে আসা ও যাওয়ার সময় সালাম দেয়া, সত্য বলার অভ্যাস গড়ে তোলা, পানাহারের সময় ইসলামী আদবের প্রতি লক্ষ্য রাখা। দান-খয়রাত করার অভ্যাস গড়ে তোলা। শয়ন ও নিদ্রা থেকে উঠার সময়, দোয়া পাঠের অভ্যাস গড়ে তোলা। গান-বাজনা, ছবি না রাখা, এমনকি ফিল্মী ম্যাগাজিন, উলঙ্গ ছবিযুক্ত পেপার ইত্যাদি থেকে ঘরকে পবিত্র রাখা। মিথ্যা, গীবত, গালি-গালাজ, ঝগড়া থেকে বিরত থাকা।

নবীদের ঘটনাবলী, ভালো লোকদের জীবনী, কুরআনের ঘটনাবলী, যুদ্ধ, সাহাবাদের জীবনী সম্বলিত বই-পুস্তক শিশুদেরকে পড়ানো। পরস্পরের মাঝে উত্তম আচরণ করা, এ সমস্ত কথা ব্যক্তি সন্তানদেরকে ব্যক্তিত্ব গঠনে মৌলিক বিষয়বস্তু।

সুতরাং যে পিতা-মাতা স্বীয় সন্তানদেরকে জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচানোর জন্য পুরাপুরি দায়িত্ব পালন করতে চায়, তার জন্য আবশ্যক যে, সে তার সন্তানদেরকে কুরআন ও হাদীসের শিক্ষা দেয়ার সাথে সাথে ঘরের মধ্যে পূর্ণ ইসলামী পরিবেশ তৈরি করা।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00