📄 কে জান্নাতী আর কে জাহান্নামী নির্দিষ্ট করে বলা যাবে না
২৭. নির্দিষ্ট কোন ব্যক্তির ব্যাপারে বলা যাবে না যে সে জান্নাতী
১. নির্দিষ্ট করে কোন ব্যক্তিকে বলা যে, সে জান্নাতী এটা নাজায়েয কে জান্নাতী আর কে জাহান্নামী তা আল্লাহরই এখতিয়ারে।
عَنْ أَمِّ الْعَلَاءِ امْرَأَةٍ مِّنَ الْأَنْصَارِ (رض) وَهِيَ مِمَّنْ بَايَعَ النَّبِيَّ ﷺ قَالَتْ إِنَّهُ لَمَّا مَاتَ عُثْمَانُ بْنُ مَظْعُوْنٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ فَأَنْزَلْنَاهُ فِي أَبْيَاتِنَا فَوَجَعَ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَتْ إِنَّهُ اقْتَسَمَ الْمُهَاجِرُونَ قُرْعَةٌ فَطَارَ وَجْعَةَ الَّذِي تَوَفَّى فِيْهِ فَلَمَّا تَوَفَّى وَغُسِلَ وَكُفِنَ فِي أَثْوَابِهِ دَخَلَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقُلْتُ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْكَ أَبَا السَّائِبِ فَشَهَادَتِي عَلَيْكَ لَقَدْ أَكْرَمَكَ اللهُ فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَمَا يُدْرِيكَ أَنَّ اللهَ أَكْرَمَهُ قُلْتُ بِأَبِي أَنْتَ يَا رَسُولَ اللهِ فَمَنْ يُكْرِمُهُ اللهُ فَقَالَ أَمَّا هُوَ فَقَدْ جَاءَهُ الْيَقِينُ وَاللهِ إِنِّي لأَرْجُو لَهُ الْخَيْرَ وَاللهِ مَا أَدْرِى وَأَنَا رَسُولُ اللهِ مَا يَفْعَلُ بِي قَالَتْ فَوَاللهِ لَا أُرَكِّى أَحَدًا بَعْدَهُ أَبَدًا .
উম্মুল আলা আনসারী (রা) নবী কারীম -এর নিকট যারা বাইয়াত করেছিল তাদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, তিনি ইরশাদ করেছেন: লটারীর মাধ্যমে মুহাজিরদেরকে আনসারদের মাঝে বণ্টন করা হয়েছিল, আমাদের ভাগে ওসমান বিন মাজউন (রা) পড়ে ছিল, আমরা তাকে আমাদের ঘরে উঠালাম, তখন সে অসুস্থ হয়ে ঐ রোগে মৃত্যুবরণ করল। মৃত্যুর পর তাকে গোসল দিয়ে কাফন পরানো হল, রাসূলুল্লাহ আসলেন, আমি বললাম, হে আবু সায়েব! (ওসমান বিন মাজউন (রা)-এর কুনিয়াত) তোমার প্রতি আল্লাহ রহম করুন। তোমার ব্যাপারে আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ তোমাকে ইয্যত দিক, তিনি বললেন: উম্মুল আলা তুমি কি করে জানলে যে, আল্লাহ তাকে ইয্যত দিয়েছেন, আমি বললাম: ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার পিতা-মাতা আপনার জন্য কোরবান হোক! আল্লাহ কাকে ইয্যত দিবেন? তিনি বললেন: নিঃসন্দেহে ওসমান ইন্তেকাল করেছে, আল্লাহর কসম! আমিও আল্লাহর নিকট তার জন্য কল্যাণ কামনা করছি, কিন্তু আল্লাহর কসম! আমি নিজেও জানিনা যে কিয়ামতের দিন আমার কি অবস্থা হবে? অথচ আমি আল্লাহর রাসূল! উম্মুল আলা (রা) বলেন: আল্লাহর কসম! এরপর আমি আর কারো ব্যাপারে বলিনি যে সে পাপমুক্ত। (বোখারী, কিতাবুল জানায়েয, বাবুদ্দুখুল আলাল মায়্যিত বা'দাল মাউত ইযা আদরাজা ফি আকফানিহি)
নোট: ১. নবী কারীম যে সব সাহাবাগণের নাম নিয়ে তাদেরকে জান্নাতের সুসংবাদ দিয়েছেন তাদেরকে জান্নাতী বলা জায়েয আছে।
২. নিজের ব্যাপারে নবী কারীম যে কথা বলেছেন, তা হল আল্লাহর বড়ত্ব, গৌরব, অমুখাপেক্ষিতা ও ক্ষমতার প্রতি লক্ষ্য রেখে বলেছেন, যার বাহ্যিকতা অন্য হাদীসে এভাবে এসেছে যে, কোন ব্যক্তি তার আমলের বিনিময়ে জান্নাতে যাবে না। জিজ্ঞেস করা হল, হে আল্লাহর রাসূল! আপনিও কি নন? তিনি বললেন: হ্যাঁ আমিও। তবে হ্যাঁ আমার প্রভু স্বীয় রহমত দ্বারা আমাকে ঢেকে রাখবেন। (মুসলিম)
৩. উল্লেখ্য, উসমান বিন মাজউন (রা) দু'বার হাবশায় হিযরতের সুযোগ লাভ করেছিলেন। এরপর তৃতীয়বার মদীনায় হিযরতের সুযোগ লাভ করেছিলেন। তার মৃত্যুর পর রাসূলুল্লাহ তিনবার তার কপালে চুমু দিয়ে বলছিলেন, যে একাকার হয়ে যায় নি। এরপরও তার ব্যাপারে এক নারী তাকে জান্নাতী বলে আখ্যায়িত করলে রাসূলুল্লাহ তাকে বাঁধা দিলেন।
📄 বদর যুদ্ধ করেও জাহান্নামী
২. যুদ্ধের ময়দানে এক ব্যক্তি নিহত হলে সাহাবাগণ তাকে জান্নাতী মনে করতে লাগল তখন রাসূলুল্লাহ বললেন: কখনো নয় সে জাহান্নামী।
عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ (رض) قَالَ قَبْلَ يَا رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّ فُلَانًا قَدِ اسْتُشْهِدَ قَالَ كَلَّا قَدْ رَأَيْتُهُ فِي النَّارِ بِعَبَاءَ قَدْ غَلَّهَا .
ওমর বিন খাত্তাব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন রাসূলুল্লাহ (সা)-কে জিজ্ঞেস করা হল, ইয়া রাসূলাল্লাহ (সা)! ওমুক ব্যক্তি শাহাদাত বরণ করেছে, তিনি বললেন: কখনো নয় গনিমতের মাল থেকে একটি চাদর চুরি করার কারণে আমি তাকে জাহান্নামে দেখেছি। (তিরমিযী, আবওয়াবুসসিয়ার, বাব আল গুলু-৭/১২৭৯)
📄 মোত্তাকী, ওলী, পীর, ফকির ও দরবেশ যে হোক, বলা যাবে না জান্নাতী
৩. কোন জীবিত বা মৃত ব্যক্তি চাই সে বড় মুত্তাকী, আলেম, ওলী, পীর, ফকীর, দরবেশই হোক না কেন তাকে নিশ্চিত জান্নাতী বলা না জায়েয।
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ (رض) أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ قَالَ إِنَّ الرَّجُلَ لَيَعْمَلُ الزَّمَنَ الطَّوِيلَ بِعَمَلِ أَهْلِ الْجَنَّةِ ثُمَّ يُخْتَمُ لَهُ عَمَلُهُ بِعَمَلِ أَهْلِ النَّارِ وَإِنَّ الرَّجُلَ لَيَعْمَلُ الزَّمَنَ الطَّوِيلَ عَمَلَ أَهْلِ النَّارِ ثُمَّ يُخْتَمُ عَمَلُهُ بِعَمَلِ أَهْلِ الْجَنَّةِ ..
আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ্ ইরশাদ করেছেন: কোন ব্যক্তি দীর্ঘ সময় পর্যন্ত জান্নাতে যাওয়ার আমল করতে থাকে, শেষ পর্যায়ে সে আবার জাহান্নামে যাওয়ার আমল শুরু করে এবং এ অবস্থায় সে মৃত্যুবরণ করে। আবার কোন ব্যক্তি দীর্ঘ সময় পর্যন্ত জাহান্নামে যাওয়ার আমল করতে থাকে এরপর শেষ পর্যন্ত জান্নাতে যাওয়ার আমল শুরু করে এবং এ অবস্থায় সে মৃত্যুবরণ করে। (মুসলিম, কিতাবুল কদর)
عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدِ وَ السَّاعِدِي (رض) أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ قَالَ إِنَّ الرَّجُلَ لَيَعْمَلُ عَمَلَ أَهْلِ الْجَنَّةِ فِيمَا يَبْدُو لِلنَّاسِ وَهُوَ مِنْ أَهْلِ النَّارِ وَإِنَّ الرَّجُلَ لَيَعْمَلُ عَمَلَ أَهْلِ النَّارِ فِيمَا يَبْدُو لِلنَّاسِ وَهُوَ مِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ .
সাহাল বিন সা'দ (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ্ ইরশাদ করেছেন: মানুষের দৃষ্টিতে কোন ব্যক্তি জান্নাতে যাওয়ার আমল করতে পারে, অথচ সে জাহান্নামী হবে, আবার মানুষের দৃষ্টিতে কোন ব্যক্তি জাহান্নামে যাওয়ার আমল করতে পারে অথচ সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। (মুসলিম, কিতাবুল কদর)
নোট: এমনিতেই তো কবর ও মাজারসমূহে নযর নেয়াজ দেয়া বিভিন্ন জিনিস লটকানো বড় শিরক, এ হাদীসের আলোকে এটি একটি অর্থহীন কাজও বটে। আর তা এজন্য যে, যেকোন মৃত্যু ব্যক্তি সম্পর্কে আল্লাহ ব্যতীত আর কেউ জানে না যে সে সেখানে আরামের ঘুম ঘুমাচ্ছে না শাস্তি ভোগ করতেছে।