📄 স্বয়ং আল্লাহ জান্নাতীদেরকে সালাম করবে
৪. স্বয়ং আল্লাহও জান্নাতীদেরকে সালাম দিবেন।
سَلامٌ قَوْلاً مِنْ رَبِّ رَّحِيم .
করুণাময় পালনকর্তার পক্ষ থেকে তাদেরকে বলা হবে 'সালাম'। (সূরা ইয়াসীন-৫৮)
📄 জান্নাতে প্রথম প্রবেশকারীদের মুখমণ্ডল ১৪ তারিখের চাঁদের ন্যায় উজ্জ্বল হবে
৫. সর্বপ্রথম জান্নাতে প্রবেশকারীদের মুখমণ্ডল ১৪ তারিখের চাঁদের ন্যায় উজ্জ্বল হবে। দ্বিতীয় দলটির মুখমণ্ডল আকাশের উজ্জ্বল তারকার ন্যায় হবে। জান্নাতে কোন ব্যক্তি অবিবাহিত থাকবে না, প্রত্যেকের কমপক্ষে দু'জন করে সহধর্মিণী থাকবে। জান্নাতীদের মুখমণ্ডল সর্বদা সতেজ ও হাসি-খুশি থাকবে। জান্নাতীরা চিরকাল সুস্থ থাকবে কখনো রোগাক্রান্ত হবে না। জান্নাতীরা চিরকাল যুবক থাকবে কখনো বৃদ্ধ হবে না। তারা চিরকাল জীবিত থাকবে মৃত্যু তাদেরকে কখনো গ্রাস করবে না এবং তারা জান্নাতীরা সর্বদা আনন্দের মাঝে থাকবে কখনো চিন্তিত ও বিচলিত হবে না।
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ (رض) عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ يُنَادِي مُنَادٍ إِنَّ لَكُمْ أَنْ تَصِحُّوا فَلَا تَسْقُمُوا أَبَدًا ، وَإِنَّ لَكُمْ أَنْ تَحَبُّوا فَلَا تَمُوتُوا أَبَدًا ، وَإِنَّكُمْ أَنْ تُشَبُّوا فَلَا تَهْرَمُوا أَبَدًا ، وَإِنَّ لَكُمْ أَنْ تَنْعَمُوا فَلَا تَبْاسُوا ابَدًا ، فَذَالِكَ قَوْلُهُ عَزَّ وَجَلَّ وَنُودُوا أَنْ تِلْكُمُ الْجَنَّةُ أَوْرِثْتُمُوهَا بِمَا كُنتُمْ تَعْمَلُونَ .
আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন নবী কারীম ইরশাদ করেছেন : (কিয়ামতের দিন) এক আহ্বানকারী আহ্বান করে বলবে, তোমরা সর্বদা সুস্থ থাকবে, কখনো অসুস্থ হবে না। সর্বদা জীবিত থাকবে কখনো মৃত্যুবরণ করবে না। সর্বদা যৌবনকাল নিয়ে থাকবে, কখনো বৃদ্ধ হবে না। সর্বদা আনন্দে মেতে থাকবে কখনো চিন্তিত হবে না। আর আল্লাহর বাণীও এ অর্থই “এ সেই জান্নাত যার উত্তরাধিকারী তোমাদেরকে করা হয়েছে, ঐ আমলের উসীলায় যা তোমরা করছিলে। (মুসলিম, কিতাবুল জান্না ওয়া সিফাতু নাঈমিহা)
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ (رض) عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ مَنْ يَدْخُلُ الْجَنَّةَ يَنْعَمْ وَلَا يَبْتَئِسُ لَا يَبْلَى ثِيَابُهُ وَلَا يَفْنَى شَبَابُهُ .
আবু হুরাইরা (রা) নবী কারীম থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, যে ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে সে চিরকাল আনন্দে মেতে থাকবে, কখনো চিন্তিত হবে না। তাদের পোশাক পুরাতন হবে না। না যৌবন শেষ হবে। (মুসলিম, কিতাবুল জান্না ওয়া সিফাতু নাঈmiha)
📄 জান্নাতীদের পায়খানা-প্রসাবের প্রয়োজন হবে না। ঘাম ও ঢেঁকুরের মাধ্যমে সব হজম হয়ে যাবে
৬. জান্নাতীদের পায়খানা পেশাবের প্রয়োজন দেখা দিবে না, তাদের খাদ্যনালী ঘাম ও ঢেকুরের মাধ্যমে সব হজম হয়ে যাবে। জান্নাতীরা নিশ্বাস ত্যাগ করার ন্যায় প্রতি মুহূর্তে আল্লাহর প্রশংসা করবে।
عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ (رض) قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ يَأْكُلُ أَهْلُ الْجَنَّةِ فِيهَا وَيَشْرَبُونَ وَلَا يَتَغَوَّطُونَ وَلَا يَتَمَخَّطُونَ وَلَا يَبُولُونَ وَلَكِنْ طَعَامُهُمْ ذَلِكَ جُشَاءُ كَرَشْحِ الْمِسْكِ يُلْهَمُونَ التَّسْبِيحَ وَالتَّحْمِيدَ كَمَا تُلْهَمُونَ النَّفَسَ .
জাবের বিন আবদুল্লাহ (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন : রাসূলুল্লাহ বলেছেন, জান্নাতীরা পানাহার করবে কিন্তু শুধু ফেলবে না এবং পায়খানা পেশাবও করবে না। না নাকে পানি আসবে। সাহাবাগণ আরয করল, তাহলে তাদের খাবার শেষ কি হবে? তিনি উত্তরে বললেন : ঢেকুর ও ঘামের মাধ্যমে তা হজম হবে। জান্নাতীরা এমনভাবে আল্লাহর প্রশংসা ও তাসবীহ পাঠ করবে যেমন তারা শ্বাস প্রশ্বাস করে। (মুসলিম, আলবানী সংকলিত সিলসিলা আহাদীস সহীহা, হাদীস নং ৩৭২)
📄 জান্নাতীরা ঘুমের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করবে না
৭. জান্নাতীরা ঘুমের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করবে না।
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ (رض) قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ النَّوْمُ أَخُو الْمَوْتِ وَلَا يَنَامُ أَهْلُ الْجَنَّةِ .
আবদুল্লাহ বিন মাসউদ (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ বলেছেন, ঘুম মৃত্যুর ভাই, তাই জান্নাতীদের ঘুম হবে না। (আবু নুআইম, আলবানী সংকলিত সিলসিলা আহাদীস সহীহা, হাদীস নং ৩৬৭)