📄 জান্নাতে জান্নাতীদের প্রার্থনা
২. জান্নাতে জান্নাতীদের প্রার্থনা হবে "সুবহানাকা আল্লাহুম্মা” আর তারা একে অপরের সাথে সাক্ষাতে "আস্সালামু আলাইকুম" বলবে। আর প্রত্যেক কথার শেষে "আলহামদু লিল্লাহি রাব্বিল আলামীন" পাঠ করবে-
دَعْوَاهُمْ فِيهَا سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ وَتَحِيَّتُهُمْ فِيهَا سَلَامٌ وَاخِرُ دَعْوَاهُمْ أَنِ الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ .
তথায় তাদের প্রার্থনা হল পবিত্র তোমার সত্তা হে আল্লাহ! আর শুভেচ্ছা হল সালাম, আর তাদের প্রার্থনার সমাপ্তি হয় সমস্ত প্রশংসা বিশ্ব প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এ বলে। (সূরা ইউনুস: ১০)
📄 জান্নাতে প্রবেশের সময় ফেরেশতাগণের বরকত ও নিরাপত্তার দু'আ
৩. জান্নাতীরা জান্নাতে প্রবেশের সময় ফেরেশতাগণ তাদের জন্য বরকত ও নিরাপত্তার জন্য দোয়া করবে।
وَسِيقَ الَّذِينَ اتَّقَوْا رَبَّهُمْ إِلَى الْجَنَّةِ زُمَرًا حَتَّى إِذَا جَاؤُوهَا وَفُتِحَتْ أَبْوَابُهَا وَقَالَ لَهُمْ خَزَنَتُهَا سَلَامٌ عَلَيْكُمْ طِبْتُمْ فَادْخُلُوهَا خَالِدِينَ .
যারা তাদের প্রতিপালককে ভয় করত, তাদেরকে দলে দলে জান্নাতে নিয়ে যাওয়া হবে, যখন তারা উন্মুক্ত দরজা দিয়ে জান্নাতে পৌঁছবে এবং জান্নাতের রক্ষীরা তাদেরকে বলবে- তোমাদের প্রতি সালাম, তোমরা সুখে থাক, অতঃপর সদা সর্বদা বসবাসের জন্য তোমরা জান্নাতে প্রবেশ কর। (সূরা যুমার-৭৩)
وَالْمَلَائِكَةُ يَدْخُلُونَ عَلَيْهِمْ مِّنْ كُلِّ بَابٍ، سَلَامٌ عَلَيْكُمْ . بِمَا صَبَرْتُمْ فَنِعْمَ عُقْبَى الدَّارِ .
ফেরেশতাগণ প্রত্যেক দরজা দিয়ে তাদের নিকট আগমন করবে, বলবে তোমাদের ধৈর্যের কারণে তোমাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক। (সূরা রা'দ- ২৩, ২৪)
📄 স্বয়ং আল্লাহ জান্নাতীদেরকে সালাম করবে
৪. স্বয়ং আল্লাহও জান্নাতীদেরকে সালাম দিবেন।
سَلامٌ قَوْلاً مِنْ رَبِّ رَّحِيم .
করুণাময় পালনকর্তার পক্ষ থেকে তাদেরকে বলা হবে 'সালাম'। (সূরা ইয়াসীন-৫৮)
📄 জান্নাতে প্রথম প্রবেশকারীদের মুখমণ্ডল ১৪ তারিখের চাঁদের ন্যায় উজ্জ্বল হবে
৫. সর্বপ্রথম জান্নাতে প্রবেশকারীদের মুখমণ্ডল ১৪ তারিখের চাঁদের ন্যায় উজ্জ্বল হবে। দ্বিতীয় দলটির মুখমণ্ডল আকাশের উজ্জ্বল তারকার ন্যায় হবে। জান্নাতে কোন ব্যক্তি অবিবাহিত থাকবে না, প্রত্যেকের কমপক্ষে দু'জন করে সহধর্মিণী থাকবে। জান্নাতীদের মুখমণ্ডল সর্বদা সতেজ ও হাসি-খুশি থাকবে। জান্নাতীরা চিরকাল সুস্থ থাকবে কখনো রোগাক্রান্ত হবে না। জান্নাতীরা চিরকাল যুবক থাকবে কখনো বৃদ্ধ হবে না। তারা চিরকাল জীবিত থাকবে মৃত্যু তাদেরকে কখনো গ্রাস করবে না এবং তারা জান্নাতীরা সর্বদা আনন্দের মাঝে থাকবে কখনো চিন্তিত ও বিচলিত হবে না।
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ (رض) عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ يُنَادِي مُنَادٍ إِنَّ لَكُمْ أَنْ تَصِحُّوا فَلَا تَسْقُمُوا أَبَدًا ، وَإِنَّ لَكُمْ أَنْ تَحَبُّوا فَلَا تَمُوتُوا أَبَدًا ، وَإِنَّكُمْ أَنْ تُشَبُّوا فَلَا تَهْرَمُوا أَبَدًا ، وَإِنَّ لَكُمْ أَنْ تَنْعَمُوا فَلَا تَبْاسُوا ابَدًا ، فَذَالِكَ قَوْلُهُ عَزَّ وَجَلَّ وَنُودُوا أَنْ تِلْكُمُ الْجَنَّةُ أَوْرِثْتُمُوهَا بِمَا كُنتُمْ تَعْمَلُونَ .
আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন নবী কারীম ইরশাদ করেছেন : (কিয়ামতের দিন) এক আহ্বানকারী আহ্বান করে বলবে, তোমরা সর্বদা সুস্থ থাকবে, কখনো অসুস্থ হবে না। সর্বদা জীবিত থাকবে কখনো মৃত্যুবরণ করবে না। সর্বদা যৌবনকাল নিয়ে থাকবে, কখনো বৃদ্ধ হবে না। সর্বদা আনন্দে মেতে থাকবে কখনো চিন্তিত হবে না। আর আল্লাহর বাণীও এ অর্থই “এ সেই জান্নাত যার উত্তরাধিকারী তোমাদেরকে করা হয়েছে, ঐ আমলের উসীলায় যা তোমরা করছিলে। (মুসলিম, কিতাবুল জান্না ওয়া সিফাতু নাঈমিহা)
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ (رض) عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ مَنْ يَدْخُلُ الْجَنَّةَ يَنْعَمْ وَلَا يَبْتَئِسُ لَا يَبْلَى ثِيَابُهُ وَلَا يَفْنَى شَبَابُهُ .
আবু হুরাইরা (রা) নবী কারীম থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, যে ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে সে চিরকাল আনন্দে মেতে থাকবে, কখনো চিন্তিত হবে না। তাদের পোশাক পুরাতন হবে না। না যৌবন শেষ হবে। (মুসলিম, কিতাবুল জান্না ওয়া সিফাতু নাঈmiha)