📄 ১৪ তারিখের চাঁদের ন্যায় আল্লাহকে দেখা যাবে
৪. জান্নাতে জান্নাতীরা এত স্পষ্টভাবে আল্লাহকে দেখবে যেমন ১৪ তারিখের চাঁদকে স্পষ্টভাবে দেখা যায়।
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ (رض) إِنَّ نَاسًا قَالُوا لِرَسُولِ اللَّهِ ﷺ يَا رَسُولَ اللهِ ﷺ : هَلْ نَرَى رَبَّنَا يَوْمَ الْقِيَامَةِ - فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ هَلْ تَضَارُّونَ فِي الْقَمَرِ لَيْلَةَ الْبَدْرِ؟ قَالُوا لَا يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ هَلْ تَضَارُّونَ فِي الشَّمْسِ لَيْسَ دُونَهَا سَحَابٌ قَالُوا لَا قَالَ فَإِنَّكُمْ تَرَوْنَهُ كَذَالِكَ .
আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, কিছু লোক রাসূলুল্লাহ -কে জিজ্ঞাস করল, হে আল্লাহর রাসূল ! কিয়ামতের দিন আমরা কি আমাদের প্রতিপালককে দেখব? রাসূলুল্লাহ বললেন: ১৪ তারিখের চাঁদ দেখতে কি তোমাদের কোন সমস্যা হয়? তারা বলল: না, হে আল্লাহর রাসূল। স্বচ্ছ আকাশে সূর্য দেখতে কি তোমাদের কোন সমস্যা হয়? তারা বলল: না। তখন তিনি বললেন: তোমরা এভাবেই তোমাদের রবকে দেখতে পাবে। (মুসলিম, কিতাবুল ঈমান, বাব ইসবাত রুইয়াতুল মুমেনীন ফিল আখেরা রাব্বাহুম সুবহানাহু ওয়া তা'আলা)
عن جرير بن عبد الله (رض) وهو يقول كنا جلوسا عند رسول الله ﷺ اذا نظر الى القمر ليلة البدر فقال أما إنكم سترون ربكم كما ترون ذا القمر لا تضامون فى رؤيته.
জারীর বিন আবদুল্লাহ (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ এর নিকট উপস্থিত ছিলাম, তখন তিনি ১২ তারিখের চাঁদের দিকে তাকিয়ে বললেন: অতি শীঘ্রই কোন বাধা ব্যতীত তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে দেখতে পাবে। যেমন এ চাঁদকে বিনা বাধায় দেখতে পাচ্ছ। (মুসলিম, কিতাবুল মাসজিদ, ওয়া মাওয়াজিয়িস্সালা, বাবা সালাতসুবহি ওয়াল আসর)
عن صهيب (رض) عن النبي ﷺ قال اذا دخل أهل الجنة الجنة قال يقول الله تبارك وتعالى تريدون شيئا أزيدكم فيقولون ألم تبيض وجوهنا لم تدخلنا الجنة وتنجينا من النار؟ قال فيكشف الحجاب فما أعطوا شيئا أحب إليهم من النظر الى ربهم تبارك وتعالى.
সুহাইব (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী বলেছেন: জান্নাতীরা জান্নাতে যাওয়ার পর আল্লাহ বলবেন: তোমাদের কি আরো কোন দাবি আছে? তারা বলবে, হে আল্লাহ! আপনি কি আমাদের চেহারাকে আলোকিত করেন নি? আপনি কি আমাদেরকে জান্নাতে প্রবেশ করান নি? আপনি কি আমাদেরকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেন নি? (এরপর আমরা আর কি দাবি করতে পারি!) এরপর হঠাৎ করে আল্লাহ ও জান্নাতীদের মাঝের পর্দা উঠে যাবে, আর তখন জান্নাতীরা তাদের রবকে সরাসরি দেখবে আর তাদের এ দেখা জান্নাতের সমস্ত নি'আমত থেকে উত্তম হবে। (মুসলিম, কিতাবুল ঈমান, বাব ইসবাত রুইয়াতুল মুমেনীন ফিল আখera রাব্বাহুম সুবহানাহু ওয়া তায়ালা)
📄 ইহজগতে আল্লাহর দীদার সম্ভব নয়
৫. ইহজগতে আল্লাহর দিদার সম্ভব নয়।
عَنْ أَبِي ذَرٍ (رض) قَالَ سَأَلْتُ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ هَلْ رَأَيْتَ رَبِّكَ؟ قَالَ نُورٌ إِنِّي أَرَاهُ .
আবু যার (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে জিজ্ঞেস করলাম আপনি কি আপনার রবকে দেখেছেন? তিনি উত্তরে বললেন : তিনি তো নূর আমি তা কি করে দেখব? (মুসলিম, কিতাবুল ঈমান, বাব মা'না কাওলুল্লাহি আয্যা ওয়া জাল্লা "ওয়ালাকাদ রায়াহু নাযলাতান ওখরা")
عنْ عَبْدِ اللَّهِ (رض) قَالَ قَالَ مَا كَذَبَ الْفُؤَادُ مَا رَأَى قَالَ رَأَى جِبْرِيلُ عَلَيْهِ السَّلَامُ لَهُ سِتَّ مِائَةِ جَنَاحٍ .
আবদুল্লাহ বিন মাসউদ (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, তাঁর অন্তর মিথ্যা বলেনি বা সে দেখেছে ঐ ব্যাপারে। (অর্থাৎ) তিনি জিবরীল (আ)-কে দেখেছেন, তিনি দেখলেন যে, তার ছয় শত পাখা আছে। (মুসলিম, কিতাবুল ঈমান, বাব মা'না কাওলুল্লাহি আযযা ওয়া জাল্লা "ওয়ালাকাদ রায়াহু নাযলাতান ওখরা")
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ (رضى) وَلَقَدْ رَاهُ نَزْلَةٌ أُخْرَى قَالَ رَأَى جِبْرِيلُ عَلَيْهِ السَّلامُ .
আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর বাণী "নিশ্চয়ই হে (মুহাম্মদ) তাকে (জিবরীলকে) আরেকবার দেখেছিল। বর্ণনাকারী বলেন: তিনি (মুহাম্মদ) জিবরীল (আ)-কে দেখেছেন। (মুসলিম, কিতাবুল ঈমান, বাব মা'না কাওলুল্লাহি আযযা ওয়া জাল্লা "ওয়ালাকাদ রায়াহু নাযলাতান ওখরা)
📄 শেষ বিচারের দিন আল্লাহর দীদার লাভের দু'আ
৬. শেষ বিচারের দিন আল্লাহর দিদার লাভের দুয়া।
عَنْ عَمَّارِ بْنِ يَاسَرٍ (رضى) كَانَ النَّبِيُّ ﷺ يَدْعُوا فِي الصَّلَاةِ اللَّهُمَّ بِعِلْمِكَ وَقُدْرَتِكَ عَلَى الْخَلْقِ أَحْيِنِي مَا عَلِمْتَ الْحَيَاةَ خَيْرًا لى وَتَوَفَّنِي إِذَا عَلِمْتَ الْوَفَاةَ خَيْرًا لِي، وَاسْتَلُكَ خَشْيَتَكَ فِي الْغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ وَكَلِمَةَ الْإِخْلاصِ فِي الرَّضَاءِ وَالْغَضَبِ، وَاسْتَلْكَ نَعِيمًا لَا يَنْفَدُ وَقُرَّةَ عَيْنٍ لَا تَنْقَطِعُ وَاسْتَلْكَ الرَّضَاءَ بِالْقَضَاءِ وَبَرْدَ العَيْشِ بَعْدَ الْمَوْتِ وَلَذَّةَ النَّظَرِ إِلَى وَجْهِكَ وَالشَّوْكِ إِلَى لِقَائِكَ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ ضُرٍ مُضِرَّةٍ وَفِتْنَةٍ مُضِلَّةِ اللَّهُمَّ زَيِّنَا بِزِينَةِ الْإِيْمَانِ وَجَعَلْنَا هِدَاةٌ مُهْتَدِينَ .
আম্মার বিন ইয়াসের (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সালাতে এ দোয়া করতেন যে, হে আল্লাহ! তোমার অদৃশ্য জ্ঞান ও সৃষ্টির ওপর তোমার ক্ষমতার উসীলায় তোমার নিকট দোয়া করছি যে, তুমি আমাকে ঐ সময় পর্যন্ত জীবিত রাখ যতক্ষণ পর্যন্ত জীবিত থাকা আমার জন্য কল্যাণকর হয়। হে আল্লাহ! আমি দৃশ্য ও অদৃশ্যে তোমাকে ভয় করার তাওফিক লাভের জন্য দোয়া করছি, রাগ ও সন্তুষ্ট উভয় অবস্থায়ই তোমার জন্য একনিষ্ঠ থাকার তাওফিক কামনা করছি। তোমার নিকট এমন নি'আমত কামনা করছি যা কখনো শেষ হবে না। এমন চক্ষু তৃপ্তি কামনা করছি যা সর্বদা বিদ্যমান থাকবে। তোমার সকল ফায়সালার সন্তুষ্ট থাকার তাওফিক কামনা করছি। মৃত্যুর পর আরামদায়ক জীবন কামনা করছি। আর তোমার চেহারা দেখার স্বাদ আস্বাদনের তাওফিক কামনা করছি। তোমার দিদার লাভের আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করছি। আমি তোমার আশ্রয় কামনা করছি এমন অপারগতা থেকে যা আমার দ্বীন ও দুনিয়ার জন্য ক্ষতিকর। আর তোমার আশ্রয় কামনা করছি এমন ফেতনা থেকে যা পথভ্রষ্ট করবে। হে আল্লাহ! তুমি আমাদেরকে ঈমানের সৌন্দর্যে সৌন্দর্যমণ্ডিত কর। আর আমাদেরকে সরল সঠিক পথের পথিকদের অনুসারী কর। (নাসায়ী, কিতাবুসসালা বাব আজ্জিকর বা'দাসসালা)