📄 জান্নাতের হুরেইনরা সতিত্ব ও লজ্জাশীলতায় অনন্য হবে
২০. হুরেইন
১. জান্নাতের অন্যান্য নেয়ামতের ন্যায় হুরেইনও একটি নিয়ামত হবে। কোন কোন হুরেইন ইয়াকুত ও মুক্তার ন্যায় লাল হবে। অতুলনীয় সুন্দরের সাথে সাথে হurেইনরা সতিত্ব ও লজ্জাশীলতায়ও তারা নিজেরা নিজেদের তুলনা হবে। মানব হুরদেরকে ইতোপূর্বে অন্য কোন মানুষ স্পর্শ করে নি, জ্বিন হুরদেরকেও ইতোপূর্বে অন্য কোন জ্বিন স্পর্শ করে নি।
فِيهِنَّ قَاصِرَاتُ الطَّرْفِ لَمْ يَطْمِثْهُنَّ إِنْسَ قَبْلَهُمْ وَلَا جَانٌ، فَبِأَيِّ الَآءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ، كَأَنَّهُنَّ الْبَاقُوتُ وَالْمَرْجَانُ، فَبِأَيِّ آلَاءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ .
তথায় থাকবে আয়তনয়না রমণীগণ, কোন জ্বিন ও মানব পূর্বে যাদেরকে স্পর্শ করেনি। অতএব তোমরা উভয়ে তোমাদের পালনকর্তার কোন অবদানকে অস্বীকার করবে? প্রবাল ও পদ্মরাগ সদৃশ রমণীগণ! অতএব তোমরা উভয়ে তোমাদের পালনকর্তার কোন অবদানকে অস্বীকার করবে? (সূরা আর রহমান: ৫৬-৫৯)
নোট : উল্লেখ্য, মোমেন ও সৎ মানুষের ন্যায় মোমেন ও সৎ জিন্নাতও জান্নাতে যাবে। ওখানে যেমন মানব পুরুষের জন্য মানব নারী ও মানব হুর থাকবে তেমনি পুরুষ জ্বিনের জন্য নারী জ্বীন ও নারী হুর থাকবে। অর্থাৎ মানুষের জন্য তার সমজাতীয় এবং জ্বিনের জন্য ও তার সমজাতীয় জোড়া থাকবে। (এ ব্যাপারে আল্লাহই সর্বধিক জ্ঞাত)
📄 হুরেরা খুবই লজ্জাশীল হবে, স্বীয় স্বামী ব্যতীত অন্য কারো দিকে তাকাবে না, তারা ডিমের চামড়ার ন্যায় নরম হবে
২. হুরেরা এতটা লজ্জাশীল হবে যে, স্বীয় স্বামী ব্যতীত অন্য কারো দিকে চোখ তুলে তাকাবে না। হুরেরা ডিমের ভিতর লুক্কায়িত পাতলা চামড়ার চেয়েও অধিক নরম হবে।
وَعِنْدَهُمْ قَاصِرَاتُ الطَّرْفِ عِيْنٌ، كَأَنَّهُنَّ بَيْضٌ مَّكْنُوْنٌ-
তাদের নিকট থাকবে নত আয়তলোচনা তরুণীগণ যেন তারা সুরক্ষিত ডিম। (সূরা সাফফাতঃ ৪৮-৪৯)
📄 হুরেরা সুন্দর লাজুক চক্ষু বিশিষ্ট মোতির ন্যায় সংরক্ষিত থাকবে
৩. জান্নাতের হুরেরা সুন্দর লাজুক চক্ষু বিশিষ্ট, মোতির ন্যায় সাদা এবং স্বচ্ছতা ও রং এত নিখুঁত হবে যেন সংরক্ষিত স্বর্ণালংকার।
وَحُوْرٌ عِيْنٌ، كَأَمْثَالِ اللُّؤْلُؤِ الْمَكْنُوْنِ، جَزَاءً بِمَا كَانُوْا يَعْمَلُوْنَ-
সেখানে থাকবে আয়তনয়না হুরগণ, আবরণে রক্ষিত মোতির ন্যায়, তারা যা কিছু করত তার পুরষ্কারস্বরূপ। (সূরা ওয়াকিয়া : ২২-২৪)
📄 হুরদের সাথে জান্নাতী পুরুষদের নিয়মতান্ত্রিক বিয়ে হবে
৪. হুরদের সাথে জান্নাতী পুরুষদের নিয়মতান্ত্রিকভাবে বিয়ে হবে।
كُلُوا وَاشْرَبُوا هَنِيْئاً بِمَا كُنْتُمْ تَعْمَلُوْنَ مُتَّكِثِينَ عَلَى سُرُرٍ مَّصْفُوْفَةٍ وَّزَوَّجْنَاهُمْ بِحُوْرٍ عِيْنٍ-
তাদেরকে বলা হবে তোমরা যা করতে তার প্রতিফলস্বরূপ তোমরা তৃপ্ত হয়ে পানাহার কর। তারা শ্রেণীবদ্ধ সিংহাসনে হেলান দিয়ে বসবে। আমি তাদেরকে আয়তলোচনা হুরদের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ করে দিব। (সূরা তুর : ১৯-২০)