📄 জান্নাতী মহিলারা সত্তর জোড়া পোশাক পরিধান করার পরও তাদের হাড্ডির ভিতরের মজ্জা দেখা যাবে
১০. জান্নাতে প্রত্যেক জান্নাতীর বিয়ে আদম সন্তানদের থেকে দু'জন মহিলার সাথে হবে। জান্নাতী মহিলারা একই সাথে সত্তর জোড়া পোশাক পরিধান করে সজ্জিত হবে, যা এত উন্নতমানের হবে যে, এর ভিতর দিয়ে তাদের শরীর দেখা যাবে। মহিলারা এত সুন্দর হবে যে, তাদের শরীরের ভিতরের হাড্ডির মজ্জা বাহির থেকে দেখা যাবে।
عَنْ أَبِي سَعِيدٍ (رض) عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ إِنَّ أَوَّلَ زُمْرَةٍ يَدْخُلُونَ الْجَنَّةَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ ضُوْءُ وُجُوهِهِمْ عَلَى مِثْلِ ضُوْءِ الْقَمَرِ لَيْلَةَ الْبَدْرِ وَالزَّهْرَةُ الثَّانِيَةُ عَلَى مِثْلِ أَحْسَنَ كَوْكَبٍ ذُرِّي فِي السَّمَاءِ لِكُلِّ رَجُلٍ مِّنْهُمْ زَوْجَتَانِ عَلَى كُلِّ زَوْجَةٍ سَبْعُونَ حُلَّةٌ يرى مخ سَاقِهَا مِنْ وَرَائِهَا
আবু সাঈদ খুদরী (রা) নবী থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: কিয়ামতের দিন সর্বপ্রথম যে দল জান্নাতে প্রবেশ করবে তাদের চেহারা চৌদ্দ তারিখের চাঁদের ন্যায় উজ্জ্বল হবে। দ্বিতীয় দলটির চেহারা আকাশের আলোকময় কোন তারকার ন্যায় হবে। উভয় দলের পুরুষদেরকে দু'জন করে স্ত্রী দেয়া হবে। প্রত্যেক স্ত্রী সত্তর জোড়া করে কাপড় পরিধান করে থাকবে। আর ঐ কাপড় এত পাতলা হবে যে এর মধ্যদিয়ে পায়ের গোছার মজ্জা দেখা যাবে। (তিরমিযী, আবওয়াবুল জান্না, বাব মাযায়া ফি সিফাতিল জান্না- ২/২০৫৭)
অন্য হাদীসে বলা হয়েছে- মুহাম্মদ (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: লোকেরা পরস্পরে ফখর করতে ছিল বা বলছিল যে, জান্নাতে পুরুষের সংখ্যা বেশি হবে না মহিলার সংখ্যা। আবু হুরাইরা (রা) বললেন: আবুল কাসেম কি বলেন নি যে, সর্বপ্রথম যে দল জান্নাতে প্রবেশ করবে তাদের চেহারা চৌদ্দ তারিখের চাঁদের ন্যায় উজ্জ্বল হবে। দ্বিতীয় দলটির চেহারা আকাশে আলোকময় কোন তারকার ন্যায় হবে। উভয় দলের পুরুষদেরকে দু'জন করে স্ত্রী দেয়া হবে। এদের পায়ের গোছার হাড্ডির মধ্যদিয়ে তাদের পায়ের গুচ্ছের মজ্জা দেখা যাবে। (মুসলিম, কিতাবুল জান্নাত ওয়া সিফাত নায়ীমিহা)
📄 জান্নাতে প্রবেশকারী নারীরা তাদের ইচ্ছা ও পছন্দনুযায়ী দুনিয়ার স্বামীদেরকে গ্রহণ করবে
১১. জান্নাতে প্রবেশকারী রমণীরা তাদের ইচ্ছা ও পছন্দানুযায়ী তাদের দুনিয়ার স্বামীদেরকে গ্রহণ করবে। তবে এর জন্য শর্ত হল এই যে, স্বামীকেও জান্নাতী হতে হবে। অন্যথায় আল্লাহ তাদেরকে অন্য কোন জান্নাতীর সাথে বিয়ে দিবেন।
যে মহিলাদের পৃথিবীতে একাধিক স্বামী ছিল ঐ রমণীদেরকে তাদের ইচ্ছা ও পছন্দানুযায়ী তাদের দুনিয়ার স্বামীদের মধ্য থেকে কোন একজনকে গ্রহণ করার সুযোগ দেয়া হবে।
عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ (رضى) قَالَتْ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ ﷺ الْمَرْأَةُ مِنَّا تَتَزَوَّجُ الزَّوْجَيْنِ وَالثَّلاثَةَ وَالأَرْبَعَةَ فَتَمُوتُ فَتَدْخُلُ الْجَنَّةَ وَيَدْخُلُونَ مَعَهَا مَنْ يَكُونُ زَوْجُهَا ؟ قَالَ يَا أَمْ أَمَّ سَلَمَةَ إِنَّهَا تُخَيَّرُ فَتَخْتَارُ أَحْسَنَهُمْ خُلُقًا فَتَقُولُ يَا رَبِّ ؟ إِنَّ هَذَا كَانَ أَحْسَنُهُمْ مَعِي خُلُقًا فِي دَارِ الدُّنْيَا فَزَوِّجْنِيهِ يَا أَمَّ سَلَمَةَ ذَهَبَ حُسْنُ الْخُلُقِ بِخَيْرٍ الدنيا والآخرة .
উম্মে সালামা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি জিজ্ঞেস করলাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! আমাদের মধ্য থেকে কোন কোন মহিলা পৃথিবীতে একাধিক স্বামীর সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়, মৃত্যুর পর যদি ঐ মহিলা জান্নাতে প্রবেশ করে এবং তার সব স্বামীরাও যদি জান্নাতে প্রবেশ করে তাহলে এদে মধ্য কোন ব্যক্তি তার স্বামী হবে। নবী বললেন: হে উম্মে সালামা! ঐ মহিলা তার স্বামীদের মধ্য থেকে যে কোন একজনকে বাছাই করবে। আর সে নিঃসন্দেহে উত্তম চরিত্রের অধিকারী স্বামীকেই বেছে নিবে। মহিলা আল্লাহর নিকট আরয করবে যে, হে আমার প্রভু! এ ব্যক্তি পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি ভালো চরিত্র নিয়ে আমার সাথে চলেছে, অতএব তার সাথেই আমাকে বিয়ে দিন। হে উম্মে সালামা! উত্তম চরিত্র দুনিয়া ও আখেরাতের সমস্ত কল্যাণের মধ্যে উত্তম। (ত্বাবারানী, আন নিহায়া লি ইবনে কাসীর, ফিল ফিতন ওয়াল মালাহেম, ২য় খণ্ড, ৩৮৭ পৃষ্ঠা)