📄 আনন্দের পূর্ণতা লাভ হবে রমণীদের সাথে মিলনের মাধ্যমে
৭. জান্নাতীরা জান্নাতের আনন্দের পূর্ণতা লাভ হবে রমণীদের সাথে মিলনের মাধ্যমে।
ادْخُلُوا الْجَنَّةَ أَنْتُمْ وَأَزْوَاجُكُمْ تُحْبَرُونَ .
তোমরা এবং তোমাদের স্ত্রীরা সানন্দে জান্নাতে প্রবেশ কর। (সূরা যুখরুফ: ৭০)
📄 জান্নাতী মহিলারা হুরদের তুলনায় অধিক মর্যাদাবান হবে
৮. ঈমান ও আমলের ভিত্তিতে জান্নাতে প্রবেশকারী নারীরা মর্যাদার দিক থেকে হুরদের তুলনায় অধিক মর্যদাবান হবে।
عَنْ أَمِّ سَلَمَةَ (رضى) قَالَتْ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ ﷺ أَخْبِرْنِي نِسَاءُ الدُّنْيَا أَفْضَلُ أَمِ الْحُورُ الْعِبْنُ؟ قَالَ بَلْ نِسَاءُ الدُّنْيَا أَفْضَلُ مِنَ الْحُورِ الْعِيْنِ كَفَضْلِ الظَّهَارِ عَلَى الْبِطَانَةِ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ بِمَاذَا ؟ قَالَ بِصَلَاتِهِنَّ وَصِيَامٍ هِنَّ، وَعِبَادَةِ هِنَّ لِلَّهِ عَزَّ وَجَلَّ .
উম্মে সালামা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি জিজ্ঞেস করলাম হে আল্লাহর রাসূল! বলুন, পৃথিবীর নারীরা উত্তম না জান্নাতের হুরেরা? তিনি বললেন: বরং পৃথিবীর নারীরা হুরদের চেয়ে উত্তম। যেমন কাপড়ের বাহিরের দিকটি ভিতরের দিকের চেয়ে উত্তম। আমি জিজ্ঞেস করলাম ইয়া রাসূলাল্লাহ এটা কেন? তিনি বললেন: তাদের সালাত রোযা ও অন্যান্য ইবাদতের কারণে যা তারা আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে করে থাকে। (ত্বাবারানী, মাজমাউজ্জাওয়ায়েদ, ১০ম খণ্ড, ৪১৭-৪১৮ পৃষ্ঠা)
📄 জান্নাতের নারীরা দুনিয়ায় উঁকি দিলে সব আলোকময় হয়ে যেত
৯. জান্নাতের নারীরা যদি একবার দুনিয়ার দিকে ঝুঁকে তাহলে পূর্ব থেকে পশ্চিম পর্যন্ত সমস্ত জায়গা আলোকময় হয়ে যাবে। জান্নাতের নারীর মাথার উড়না পৃথিবীর সমস্ত নি'আমত থেকে মূল্যবান।
عَنْ أَنَسٍ (رض) قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ غُدْوَةٌ فِي سَبِيلِ اللهِ أَوْ رَوْحَةً خَيْرٌ مِّنَ الدُّنْيَا وَمَا فِيْهَا وَلَوْ أَنَّ امْرَأَةً مِنْ نِسَاءِ أَهْلِ الْجَنَّةِ اطَّلَعَتْ إِلَى الْأَرْضِ لَأَضَاءَتْ مَا بَيْنَهُمَا وَلَمَلات مَا بَيْنَهُمَا رِيحًا وَلَنَصِيفُهَا عَلَى رَأْسِهَا خَيْرٌ مِّنَ الدُّنْيَا وَمَا فِيهَا.
আনাস বিন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ বলেছেন : সকাল-সন্ধ্যায় আল্লাহর পথে বের হওয়া, পৃথিবী ও পৃথিবীতে যা কিছু আছে তার সবকিছু থেকে উত্তম। যদি জান্নাতী রমণীদের মধ্য থেকে কোন রমণী পৃথিবীতে উঁকি দিত, তাহলে পূর্ব থেকে পশ্চিম এর মাঝে যা কিছু আছে সব কিছু আলোক উজ্জ্বল হয়ে যেত। আর সমস্ত জায়গাকে সুগন্ধিতে ভরে দিত, জান্নাতের নারীর মাথার উড়না পৃথিবীর সমস্ত নি'আমত থেকে মূল্যবান। (বুখারী, মিশকাতুল মাসাবিহ, বাব সিফাতিল জান্না ওয়া আহলিহা, আল ফাসলুল আওয়াল)
📄 জান্নাতী মহিলারা সত্তর জোড়া পোশাক পরিধান করার পরও তাদের হাড্ডির ভিতরের মজ্জা দেখা যাবে
১০. জান্নাতে প্রত্যেক জান্নাতীর বিয়ে আদম সন্তানদের থেকে দু'জন মহিলার সাথে হবে। জান্নাতী মহিলারা একই সাথে সত্তর জোড়া পোশাক পরিধান করে সজ্জিত হবে, যা এত উন্নতমানের হবে যে, এর ভিতর দিয়ে তাদের শরীর দেখা যাবে। মহিলারা এত সুন্দর হবে যে, তাদের শরীরের ভিতরের হাড্ডির মজ্জা বাহির থেকে দেখা যাবে।
عَنْ أَبِي سَعِيدٍ (رض) عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ إِنَّ أَوَّلَ زُمْرَةٍ يَدْخُلُونَ الْجَنَّةَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ ضُوْءُ وُجُوهِهِمْ عَلَى مِثْلِ ضُوْءِ الْقَمَرِ لَيْلَةَ الْبَدْرِ وَالزَّهْرَةُ الثَّانِيَةُ عَلَى مِثْلِ أَحْسَنَ كَوْكَبٍ ذُرِّي فِي السَّمَاءِ لِكُلِّ رَجُلٍ مِّنْهُمْ زَوْجَتَانِ عَلَى كُلِّ زَوْجَةٍ سَبْعُونَ حُلَّةٌ يرى مخ سَاقِهَا مِنْ وَرَائِهَا
আবু সাঈদ খুদরী (রা) নবী থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: কিয়ামতের দিন সর্বপ্রথম যে দল জান্নাতে প্রবেশ করবে তাদের চেহারা চৌদ্দ তারিখের চাঁদের ন্যায় উজ্জ্বল হবে। দ্বিতীয় দলটির চেহারা আকাশের আলোকময় কোন তারকার ন্যায় হবে। উভয় দলের পুরুষদেরকে দু'জন করে স্ত্রী দেয়া হবে। প্রত্যেক স্ত্রী সত্তর জোড়া করে কাপড় পরিধান করে থাকবে। আর ঐ কাপড় এত পাতলা হবে যে এর মধ্যদিয়ে পায়ের গোছার মজ্জা দেখা যাবে। (তিরমিযী, আবওয়াবুল জান্না, বাব মাযায়া ফি সিফাতিল জান্না- ২/২০৫৭)
অন্য হাদীসে বলা হয়েছে- মুহাম্মদ (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: লোকেরা পরস্পরে ফখর করতে ছিল বা বলছিল যে, জান্নাতে পুরুষের সংখ্যা বেশি হবে না মহিলার সংখ্যা। আবু হুরাইরা (রা) বললেন: আবুল কাসেম কি বলেন নি যে, সর্বপ্রথম যে দল জান্নাতে প্রবেশ করবে তাদের চেহারা চৌদ্দ তারিখের চাঁদের ন্যায় উজ্জ্বল হবে। দ্বিতীয় দলটির চেহারা আকাশে আলোকময় কোন তারকার ন্যায় হবে। উভয় দলের পুরুষদেরকে দু'জন করে স্ত্রী দেয়া হবে। এদের পায়ের গোছার হাড্ডির মধ্যদিয়ে তাদের পায়ের গুচ্ছের মজ্জা দেখা যাবে। (মুসলিম, কিতাবুল জান্নাত ওয়া সিফাত নায়ীমিহা)