📄 হাউজে কাওসার থেকে পানি পান করানোর দায়িত্ব স্বয়ং রাসূল (সা)-এর
১৫. হাউজে কাওসার
১. হাউজে কাওসারের পানি পান করানোর দায়িত্ব স্বয়ং রাসূল পালন করবেন। ইয়ামেনবাসীদের সম্মানে রাসূল অন্যদেরকে হাউজে কাওসার থেকে দূর করে দিবেন। হাউজে কাওসারের প্রশস্ততা মদীনা এবং আম্মানের দূরত্বের সমান। (প্রায় এক হাজার কি: মি:) হাউজে কাওসারের পানি দুধের চেয়ে সাদা এবং মধুর চেয়েও মিষ্টি হবে।
عَنْ ثَوبَانَ (رض) أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ قَالَ إِنِّي لَبُعْقِرُ حَوْضِي أَزْوَدُ النَّاسَ لِأَهْلِ الْأَيْمَنِ أَضْرِبُ بِعَصَايَ حَتَّى يَرْفُضْ عَلَيْهِمْ فَسُئِلَ عَنْ عَرْضِهِمْ فَقَالَ مِنْ مَقَامِي إِلَى عَمَّانَ وَسُئِلَ عَنْ شَرَابِهِ فَقَالَ أَشَدُّ بَيَاضًا مِّنَ اللَّبَنِ وَاحْلَى مِنَ الْعَسَلِ يَغِيْثُ فِيْهِ مِيزَابَانِ يَمُدَانِهِ مِنَ الْجَنَّةِ أَحَدُهُمَا مِنْ ذَهَبٍ وَالْآخَرُ مِنْ وَرَةٍ .
সাওবান (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ বলেছেন: হাউজে কাওসারের পার্শ্বে আমি ইয়ামানবাসীদের সম্মানে অন্য লোকদেরকে স্বীয় লাঠি দিয়ে দূর করে দিব। এমনকি পানি ইয়ামানবাসীদের প্রতি প্রবাহিত হতে থাকবে আর তারা তা পানে তৃপ্তি লাভ করবে। তাঁকে জিজ্ঞেস করা হল যে হাউজের প্রশস্ততা কতটুকু? তিনি বললেন: মদীনা থেকে ওমানের দূরত্বের সমান। এরপর হাউজের পানি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হল যে, তা কেমন হবে? তিনি বললেন: দুধের চেয়েও অধিক সাদা, মধুর চেয়ে অধিক মিষ্টি, এরপর তিনি বললেন, আমার হাউজে জান্নাত থেকে দু'টি নালা প্রবাহিত হবে, তার একটি হবে স্বর্ণের, অপরটি হবে রূপার। (মুসলিম, কিতাবুল ফাযায়েল, বাব ইসবাত হাওজিন্নাবী)
নোট: আম্মান জর্ডানের রাজধানী, যা মদীনা থেকে এক হাজার কি: মি: দূরে। অন্যান্য হাদীস থেকে প্রমাণিত হয় যে, হাউজে কাওসারের চতুর্পার্শ্বে সমান সমান। নবী বলেন: “হাউজের প্রশস্ততা তার দৈর্ঘ্যের সমান।” (তিরমিযী)
📄 হাউজে কাওসারের কিনারায় আকাশের তারকার সম সোনা চাঁদির গ্লাস থাকবে
২. হাউজে কাওসারের কিনারায় সোনা চাঁদির গ্লাস থাকবে যার সংখ্যা হবে আকাশের তারকার সমান।
عَنْ أَنَسٍ (رض) قَالَ قَالَ النَّبِيُّ ﷺ تُرَى فِيهِ أَبَارِيقَ الذَّهَبِ وَالْفِضَّةِ كَعَدَدِ السَّمَاءِ .
আনাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: নবী ইরশাদ করেছেন: হাউজে কাওসারের পাড়ে তোমরা আকাশের তারকার সমান সংখ্যক গ্লাস দেখতে পাবে। (মুসলিম, কিতাবুল ফাযায়েল, বাব ইসবাত হাওজিন্নাবী)
📄 হাশরের দিন রাসূল (সা) মিম্বারে বসে হাউজে কাওসার থেকে পানি পান করাবেন
৩. শেষ বিচারের দিন রাসূলুল্লাহ -এর মিম্বর হাউজে কাওসারের পার্শ্বে রাখা হবে। তার ওপর আরোহণ করে তিনি তাঁর উম্মতদেরকে পানি পান করাবেন।
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ (رض) أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ قَالَ مَا بَيْنَ بَيْتِي وَمِنْبَرِي رَوْضَةٌ مِنْ رِيَاضِ الْجَنَّةِ وَمِنْبَرِي عَلَى حَوْضِي .
আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ বলেছেন: আমার ঘর ও মিম্বরের মাঝে যে স্থানটি আছে তা জান্নাতের বাগানসমূহের মধ্যে একটি বাগান। আর আমার মিম্বর (শেষ বিচারের দিন) আমার হাউজের পার্শ্বে রাখা হবে। (বুখারী, কিতাবুল ফাযায়েল, বাব ইসবাত হাওজিন্নাবী)
📄 এর থেকে পানি পান করলে আর কখনো পিপাসা লাগবে না
৪. যে ব্যক্তি হাউজে কাওসারের পানি পান করবে তার আর কখনো পানির পিপাসা হবে না
عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ (رض) أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ قَالَ إِنَّ أَمَامَكُمْ حَوْضًا كَمَا بَيْنَ جَرْبًا وَأَدْرَحَ فِيهِ أَبَارِيقَ كَنَجُومِ السَّمَاءِ مِنْ وَرْدِهِ فَشَرِبَ مِنْهُ لَمْ يَظْمَا بَعْدَهَا أَبَدًا .
আবদুল্লাহ বিন ওমর (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ বলেছেন: জান্নাতে তোমাদের সামনে একটি হাউজ থাকবে, যার একটি কংকর যারবা থেকে আজরার (সিরিয়ার দুটি শহরের নাম) মাঝের দূরত্বের সমান হবে। যার পার্শ্বে আকাশের তারকা সংখ্যক গ্লাস রাখা হবে। যে ব্যক্তি ওখান থেকে একবার পানি পান করবে সে আর কখনো পিপাসিত হবে না। (মুসলিম, কিতাবুল ফাযায়েল, বাব ইসবাত হাওজিন্নাবী)