📘 জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা > 📄 প্রত্যেক জান্নাতীর পছন্দ মত সর্বপ্রকার ফলমূল মজুদ থাকবে

📄 প্রত্যেক জান্নাতীর পছন্দ মত সর্বপ্রকার ফলমূল মজুদ থাকবে


২. জান্নাতে প্রত্যেক জান্নাতীর পছন্দ মতো সর্বপ্রকার ফলমূল মজুদ থাকবে।

إِنَّ الْمُتَّقِينَ فِي ظِلَالٍ وَعُيُونٍ، وَفَوَاكِهُ مِمَّا يَشْتَهُونَ، كُلُوا وَاشْرَبُوا هَنِيئًا بِمَا كُنْتُمْ تَعْمَلُونَ إِنَّا كَذَلِكَ نَجْزِي الْمُحْسِنِينَ.
মুত্তাকীরা থাকবে ছায়ায় ও প্রস্রবণবহুল স্থানে। তাদের রুচিসম্মত ফলমূলের প্রাচুর্যের মাঝে। তোমরা তোমাদের কর্মের পুরস্কারস্বরূপ তৃপ্তির সাথে পানাহার কর। অতএব আমি সৎকর্মপরায়ণদেরকে পুরস্কৃত করে থাকি। (সূরা মুরসালাত: ৪১-৪৪)

📘 জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা > 📄 জান্নাতের ফলমূল সর্বদা নাগালের মধ্যে থাকবে

📄 জান্নাতের ফলমূল সর্বদা নাগালের মধ্যে থাকবে


৩. জান্নাতের ফল সর্বদা জান্নাতীদের নাগালের মধ্যে থাকবে, দাঁড়িয়ে, বসে, চলাফেরা করা অবস্থায়, যখন খুশি তখনই তা তারা ভক্ষণ করতে পারবে।

وَدَانِيَةً عَلَيْهِمْ ظِلالُهَا وَذُلِّلَتْ قُطُوفُهَا تَدْلِيلاً .
সন্নিহিত গাছছায়া তাদের ওপর থাকবে এবং তার ফলমূল সম্পূর্ণরূপে তাদের আয়ত্তাধীন করা হবে। (সূরা দাহার- ১৪)

📘 জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা > 📄 জান্নাতের খেজুর সাদা, মিষ্টি ও নরম হবে

📄 জান্নাতের খেজুর সাদা, মিষ্টি ও নরম হবে


৪. জান্নাতের খেজুর মটকা বা বালতির মতো হবে যা দুধ থেকেও সাদা, মধু থেকেও মিষ্টি, মাখন থেকেও নরম। জান্নাতের ফলের শীষ এত বড় হবে যে, তা যদি পৃথিবীতে আসত তাহলে সাহাবাগণ শেষ বিচার পর্যন্ত তা খতম করতে পারত না।

عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ (رضى) فِي حَدِيثِ صَلَاةِ الْكُسُوفِ، قَالُوا يَا رَسُولَ اللهِ ﷺ رَأَيْنَاكَ تَنَاوَلْتَ شَيْئًا فِي مَقَامِكَ هَذَا ثُمَّ رَأَيْنَاكَ كَقَقْتَ فَقَالَ إِنِّي رَأَيْتُ الْجَنَّةَ فَتَنَا وَلْتُ مِنْهَا عُنْقُودًا وَلَوْ أَخَذْتُهُ لا كَلْتُمْ مِنْهُ مَا بَقِيتَ الدُّنْيَا .
আবদুল্লাহ বিন আব্বাস (রা) থেকে সূর্যগ্রহণের সালাত সম্পর্কে বর্ণিত হাদীসে এসেছে যে, সাহাবাগণ রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে জিজ্ঞেস করল ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমরা আপনাকে (সালাতের সময়) দেখলাম যেন আপনি কোন কিছু নিতে যাচ্ছিলেন কিন্তু আবার থেমে গেলেন। তিনি বললেন: আমি জান্নাত দেখছিলাম আর তার একটি শীষ নিতে চাইলাম, কিন্তু যদি আমি তা নিতাম তা হলে তোমরা যতদিন দুনিয়ায় থাকতে ততদিন তোমরা তা খেতে পারতে। (মুসলিম, কিতাব সালাতিন খুসুফ)

📘 জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা > 📄 জান্নাতের একটি আঙ্গুরের থোকা যদি পৃথিবীতে আসত তাহলে আকাশ-জমিনের সকল মাখলুক ভক্ষণ করলেও শেষ হত না

📄 জান্নাতের একটি আঙ্গুরের থোকা যদি পৃথিবীতে আসত তাহলে আকাশ-জমিনের সকল মাখলুক ভক্ষণ করলেও শেষ হত না


৫. জান্নাতের একটি শীষ যদি পৃথিবীতে আসত তাহলে আকাশ ও যমিনের সমস্ত মাখলুক তা খেয়ে শেষ করতে পারত না।

عَنْ جَابِرٍ (رض) قَالَ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ إِنِّي عُرِضْتُ عَلَى الْجَنَّةَ وَمَا فِيهَا مِنَ الزَّهْرَةِ وَالنَّضْرَةِ، فَتَنَاوَلَتْ مِنْهَا قِطْفًا مِّنَ الْعِنَبِ فَتَنَاوَلَتْ بِهِ فَحِيلَ بَيْنِي وَبَيْنَهُ وَلَوْ أَتَيْتُكُمْ بِهِ لَأَكَلَ مِنْهُ مَا بَيْنَ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ يَنْقُصُونَهُ . مَا
জাবের বিন আব্দুল্লাহ (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ বলেছেন: আমার সামনে জান্নাত ও তাতে বিদ্যমান সমস্ত নি'আমত উপস্থাপন করা হল, ফল-মূল, সবুজ সজীব জিনিসসমূহ। আমি তোমাদের জন্য ওখান থেকে আঙ্গুরের একটি থোকা নিতে চাইলাম, কিন্তু আমাকে থামিয়ে দেয়া হল, যদি ঐ থোকাটি তোমাদের জন্য নিয়ে আসতাম তা হলে আকাশ ও যমিনের সমস্ত সৃষ্টি জীব যদি তা খেত তাহলে তা খেয়ে শেষ করতে পারত না। (আহমদ, আন নেহায়া লিইবনে কাসীর, ২/৩৬৭)

নোট: জান্নাতের নি'আমত সম্পর্কে বর্ণিত এ সমস্ত হাদীস অনন্তর মুসলমানদের জন্য কোন আশ্চর্য বিষয় নয়। যারা গত ১৫-২০ বছর থেকে জমজম কূপকে প্রবাহিত হতে দেখে আসছে, যা থেকে সমস্ত পৃথিবীর মানুষ উপকৃত হচ্ছে, রমযান ও হজ্জ এর সময় সমস্ত মানুষ প্রত্যেক ব্যক্তি স্ব চোখে তা অবলোকন করে, লোকেরা শুধু আত্মতৃপ্তির সাথে তা পান করে তাই নয়, বরং স্ব স্ব এলাকায় প্রত্যাবর্তনকালে বাধাহীনভাবে যার যত খুশি সে তত পরিমাণ নিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু এরপরও পানির মধ্যে কখনো কোন কমতি হচ্ছে না বা শেষও হচ্ছে না। আর শেষ বিচার পর্যন্ত এ পানি এভাবেই ব্যবহৃত হতে থাকবে। (সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি সুবহানাল্লাহিল আযীম।)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00