📄 জান্নাতে সর্বদা মৌসুমী ফল থাকবে, তা ভোগ করতে কোন অনুমতি লাগবে না
১১. জান্নাতের ফলসমূহ (মহান আল্লাহর নিকট এ কামনা করি যেন তিনি স্বীয় দয়ায় ও অনুগ্রহে আমাদেরকে তা খাওয়ান)
১. জান্নাতের ফল জান্নাতীদের জন্য যথেষ্ট পরিমাণে থাকবে। জান্নাতে মৌসুমী প্রত্যেক ফল সর্বদাই থাকবে। জান্নাতের ফল ভোগ করার জন্য কারো নিকট থেকে অনুমতি নিতে হবে না। জান্নাতের ফলের মজুদ কখনো শেষ হবে না। জান্নাতের ফল কখনো নষ্ট হবে না। কলা ও বড়ই জান্নাতের ফল।
وَأَصْحَابُ الْيَمِينِ مَا أَصْحَابُ الْيَمِينِ، فِي سِدْرٍ مَّخْضُودٍ، وَطَلْحٍ مَنْضُودٍ، وَظِلَّ مَّمْدُودٍ وَمَا ، مَّسْكُوبٍ وَفَاكِهَةٍ كَثِيرَةٍ.
আর যারা ডান দিকের দল তারা কত ভাগ্যবান। তারা থাকবে (এক উদ্যানে) সেখানে আছে কণ্টকাহীন কূল গাছ। কাঁদি ভরা কলা গাছ। সম্প্রসারিত ছায়া, সদা প্রবাহমান পানি ও প্রচুর ফলমূল। (সূরা ওয়াকিয়াহ-২৭-৩২)
الَّذِينَ اتَّقَوْا وَعَقَبَ الْكَفِرِينَ النَّارُ.
যারা মোত্তাকী এটা তাদের কর্মফল, আর কাফেরদের কর্মফল অগ্নি। (সূরা রা'দ-৩৫)
📄 প্রত্যেক জান্নাতীর পছন্দ মত সর্বপ্রকার ফলমূল মজুদ থাকবে
২. জান্নাতে প্রত্যেক জান্নাতীর পছন্দ মতো সর্বপ্রকার ফলমূল মজুদ থাকবে।
إِنَّ الْمُتَّقِينَ فِي ظِلَالٍ وَعُيُونٍ، وَفَوَاكِهُ مِمَّا يَشْتَهُونَ، كُلُوا وَاشْرَبُوا هَنِيئًا بِمَا كُنْتُمْ تَعْمَلُونَ إِنَّا كَذَلِكَ نَجْزِي الْمُحْسِنِينَ.
মুত্তাকীরা থাকবে ছায়ায় ও প্রস্রবণবহুল স্থানে। তাদের রুচিসম্মত ফলমূলের প্রাচুর্যের মাঝে। তোমরা তোমাদের কর্মের পুরস্কারস্বরূপ তৃপ্তির সাথে পানাহার কর। অতএব আমি সৎকর্মপরায়ণদেরকে পুরস্কৃত করে থাকি। (সূরা মুরসালাত: ৪১-৪৪)
📄 জান্নাতের ফলমূল সর্বদা নাগালের মধ্যে থাকবে
৩. জান্নাতের ফল সর্বদা জান্নাতীদের নাগালের মধ্যে থাকবে, দাঁড়িয়ে, বসে, চলাফেরা করা অবস্থায়, যখন খুশি তখনই তা তারা ভক্ষণ করতে পারবে।
وَدَانِيَةً عَلَيْهِمْ ظِلالُهَا وَذُلِّلَتْ قُطُوفُهَا تَدْلِيلاً .
সন্নিহিত গাছছায়া তাদের ওপর থাকবে এবং তার ফলমূল সম্পূর্ণরূপে তাদের আয়ত্তাধীন করা হবে। (সূরা দাহার- ১৪)
📄 জান্নাতের খেজুর সাদা, মিষ্টি ও নরম হবে
৪. জান্নাতের খেজুর মটকা বা বালতির মতো হবে যা দুধ থেকেও সাদা, মধু থেকেও মিষ্টি, মাখন থেকেও নরম। জান্নাতের ফলের শীষ এত বড় হবে যে, তা যদি পৃথিবীতে আসত তাহলে সাহাবাগণ শেষ বিচার পর্যন্ত তা খতম করতে পারত না।
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ (رضى) فِي حَدِيثِ صَلَاةِ الْكُسُوفِ، قَالُوا يَا رَسُولَ اللهِ ﷺ رَأَيْنَاكَ تَنَاوَلْتَ شَيْئًا فِي مَقَامِكَ هَذَا ثُمَّ رَأَيْنَاكَ كَقَقْتَ فَقَالَ إِنِّي رَأَيْتُ الْجَنَّةَ فَتَنَا وَلْتُ مِنْهَا عُنْقُودًا وَلَوْ أَخَذْتُهُ لا كَلْتُمْ مِنْهُ مَا بَقِيتَ الدُّنْيَا .
আবদুল্লাহ বিন আব্বাস (রা) থেকে সূর্যগ্রহণের সালাত সম্পর্কে বর্ণিত হাদীসে এসেছে যে, সাহাবাগণ রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে জিজ্ঞেস করল ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমরা আপনাকে (সালাতের সময়) দেখলাম যেন আপনি কোন কিছু নিতে যাচ্ছিলেন কিন্তু আবার থেমে গেলেন। তিনি বললেন: আমি জান্নাত দেখছিলাম আর তার একটি শীষ নিতে চাইলাম, কিন্তু যদি আমি তা নিতাম তা হলে তোমরা যতদিন দুনিয়ায় থাকতে ততদিন তোমরা তা খেতে পারতে। (মুসলিম, কিতাব সালাতিন খুসুফ)