📄 জান্নাতের সম্মানজনক স্তর, যার মালিক হবেন রাসূল (সা)
২. জান্নাতের সর্বোচ্চ সম্মানজনক স্তর 'ওসীলা' যার মালিক হবেন আমাদের প্রিয় নবী।
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ (رض) أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ إِذَا صَلَّيْتُمْ عَلَى فَسْتَلُوا اللَّهَ لِي الْوَسِيلَةَ قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ وَمَا الْوَسِيلَةُ؟ قَالَ أَعْلَى دَرَجَةٍ فِي الْجَنَّةِ، لَا يَنَالُهَا إِلَّا رَجُلٌ وَاحِدٌ وَارْجُوا أَنْ أَكُونَ أنَا هُوَ .
আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: যখন তোমরা আমার প্রতি দরূদ পাঠ করবে তখন আল্লাহর নিকট আমার জন্য 'ওসীলার' দোয়া করবে। সাহাবাগণ জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! ওসীলা কি? তিনি বললেন: জান্নাতের মধ্যে সর্বোচ্চ সম্মানজনক স্তর, যা শুধু এক ব্যক্তিই অর্জন করবে, আর আমি আশা করছি সে ব্যক্তি আমিই হব। (আহমদ, মুসনাদ আহমদ, হাদীস নং ৭৫৮৮)
📄 জান্নাতের সর্বোচ্চ স্তরের নাম ফিরদাউস যার জন্য সবার দোয়া করা উচিত
৩. জান্নাতে শত স্তর রয়েছে আর সকল স্তরের মাঝে এত দূরত্ব যেমন আকাশ ও যমিনের মাঝে দূরত্ব। জান্নাতের সর্বোচ্চ স্তরের নাম 'ফেরদাউস'। যা থেকে জান্নাতের চারটি ঝর্ণা প্রবাহিত। সকল মু'মিনের জন্য আবশ্যক যে সে জান্নাতের সর্বোচ্চ স্তর ফেরদাউস পাওয়ার আশায় দোয়া করবে। ফেরদাউসের ওপরে আল্লাহর আরশ।
عَنْ عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ (رض) أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ قَالَ : فِي الْجَنَّةِ مِائَةُ دَرَجَةٍ مَا بَيْنَ كُلِّ دَرَجَنَيْنِ كَمَا بَيْنَ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ. وَالْفِرْدَوسُ أَعْلَهَا دَرَجَةً، وَمِنْهَا تَفْجُرُ أَنْهَارُ الْجَنَّةِ الْأَرْبَعَةِ، وَمِنْ فَوْقِهَا يَكُونُ الْعَرْشِ، فَإِذَا سَأَلْتُمُ اللَّهَ فَاسْتَلُوهُ الْفِرْدَوسَ .
ওবাদা বিন সামেত (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ বলেছেন: জান্নাতে শত স্তর আছে, সকল স্তরের মাঝে দূরত্ব হল আকাশ ও যমিনের দূরত্বের সমান। ফেরদাউস তন্মধ্যে সর্বোচ্চ স্তরে রয়েছে। আর সেখান থেকেই জান্নাতের চারটি ঝর্ণা প্রবাহমান। এর উপরে রয়েছে আরশ। তোমরা আল্লাহর নিকট জান্নাতের জন্য দোয়া করলে জান্নাতুল ফেরদাউসের জন্য দোয়া করব। (তিরমিযী, আবওয়াবুল জান্না, বাব মাযায়া ফী সিফাত দারাজাতিল জান্না- ২/৬০৫৬)
📄 এক স্তর থেকে অন্য স্তরের দূরত্ব তারকার ন্যায় দেখাবে
৪. জান্নাতের নিচের স্তরের অবস্থানকারীরা উপরের স্তরের জান্নাতীদেরকে দেখে মনে করবে এ যেন দূরবর্তী কোনো তারকা।
عَنْ أَبِي سَعِيدِ الْخُدْرِيِّ (رض) أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ قَالَ إِنَّ أهْل الْجَنَّةِ لَيَتَرَاءَوْنَ أَهْلَ الْغُرَفِ مِنْ فَوْقِهِمْ ....... وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ رِجَالٌ آمَنُوا بِاللَّهِ وَصَدَقُوا الْمُرْسَلِينَ .
আবু সাঈদ খুদরী (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ বলেছেন: জান্নাতী ব্যক্তিরা তাদের উপরস্থ জান্নাতীদেরকে দেখে মনে করবে যে দূরবর্তী আকাশের পূর্ব বা পশ্চিম প্রান্তের কোন তারকা ঝকমক করছে। এত দূরত্ব হবে জান্নাতীদের পরস্পরের স্তরের পার্থক্যের কারণে। সাহাবাগণ বলল: হে আল্লাহর রাসূল! ঐ উচ্চস্তরে নবীগণ ব্যতীত আর কে পৌঁছতে পারবে। রাসূলুল্লাহ বললেন: কেন নয়, ঐ সত্তার কসম! যার হাতে আমার প্রাণ! তারা ঐ সমস্ত লোক হবে, যারা আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করেছে এবং তাঁর রাসূলকে সত্য বলে বিশ্বাস করেছে। (মুসলিম, কিতাবুল জান্না ওয়া সিফাতু নায়ীমিহা)
📄 জান্নাতের শত স্তর রয়েছে এক স্তর থেকে আরেক স্তরের দূরত্ব ১০০ বছরের দূরত্বের সমান
৫. জান্নাতে শতস্তর রয়েছে, আর সকল স্তরের মধ্যে রয়েছে শত বছরের রাস্তার দূরত্ব।
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ (رض) قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ فِي الْجَنَّةِ مِانَةُ دَرَجَةٍ مَا بَيْنَ كُلِّ دَرَجَتَيْنِ مِائَةٌ عَامٍ .
আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ বলেছেন: জান্নাতে শত স্তর রয়েছে। আর সকল স্তরের মাঝে দূরত্ব হলো শত বছরের। (তিরমিযী, আবওয়াবুল জান্না, বাব মাযায়া ফী সিফাত দারাজাতিল জান্না-২/২০৫)