📄 জান্নাতের তিনটি দরজা বাবুস সালাত, জিহাদ ও সাদাকাত
৪. জান্নাতের অন্যান্য দরজাগুলোর নাম হল 'বাবুস্সালাহ' 'বাবুল জিহাদ' 'বাবুল সাদাকা'।
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ (رض) أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ قَالَ مَنْ أَنْفَقَ زَوْجَيْنِ فِي سَبِيلِ اللَّهِ نُودِيَ فِي الْجَنَّةِ : يَا عَبْدَ اللَّهِ هَذَا خَيْرٌ فَمَنْ كَانَ مِنْ أَهْلِ الصَّلَاةِ دُعِيَ مِنْ بَابِ الصَّلَاةِ وَمَنْ كَانَ مِنْ أَهْلِ الْجِهَادِ دُعِيَ مِنْ بَابِ الْجِهَادِ، وَمَنْ كَانَ مِنْ أَهْلِ الصَّدَقَةِ دُعِيَ مِنْ بَابِ الصَّدَقَةِ وَمَنْ كَانَ مِنْ أَهْلِ الصِّيَامِ دُعِيَ مِنْ بَابِ الرَّيَّانِ فَقَالَ أَبُو بَكْرٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ يَا نَبِيَّ اللَّهِ مَا عَلَى الَّذِي يُدْعَى مِنْ تِلْكَ الْأَبْوَابِ كُلَّهَا مِنْ ضَرُورَةِ هَلْ يُدْعَى أَحَدٌ مِنْ تِلْكَ الْأَبْوَابِ كُلِّهَا ؟ قَالَ نَعَمْ وَأَرْجُوا أَنْ تَكُونَ مِنْهُمْ .
আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ বলেছেন: যে ব্যক্তি আল্লাহর পথে এক জোড়া জিনিস ব্যয় করেছে (যেমন: দু'টি ঘোড়া, দুটি তলোয়ার) তাকে জান্নাতে এ বলে আহবান করা হবে যে, হে আল্লাহর বান্দা! তুমি যা ব্যয় করেছে। তা উত্তম। আর যে ব্যক্তি সালাতী ছিল তাকে বাবুস্ সালাহ দিয়ে আহবান করা হবে। যে ব্যক্তি জিহাদী ছিল তাকে বাবুল জিহাদ দিয়ে আহবান করা হবে। যে ব্যক্তি দান-খয়রাত করত তাকে বাবুস সাদাকা দিয়ে আহবান করা হবে। যে ব্যক্তি রোযাদার ছিল তাকে বাবুর রাইয়্যান দিয়ে ডাকা হবে। (এ কথা শুনে) আবু বকর (রা) জিজ্ঞেস করলেন হে আল্লাহর রাসূল! কোন ব্যক্তিকে জান্নাতের সমস্ত দরজাগুলো দিয়ে আহবান করার প্রয়োজন হবে কি? আর এমনকি কেউ আছে যাকে জান্নাতের সমস্ত দরজাগুলো দিয়ে ডাকা হবে? রাসূলে কারীম বললেন: হ্যাঁ। আর আমি আশা করছি তুমিই হবে ঐ ব্যক্তি। (নাসায়ী, কিতাবুল জিহাদ, বাবু মান আনফাকা যাওযাইনি ফী সাবীলিল্লাহ)
📄 জান্নাতের একটি দরজার প্রশস্ততা ১২/১৩ শত কিলোমিটার
৫. জান্নাতের একটি দরজার প্রশস্ততা প্রায় বার তেরশ কি: মি: সমান। কোনো ধরনের হিসাব-নিকাশ ব্যতীত জান্নাতে প্রবেশকারীদের দরজার নাম "বাবু আইমান"।
(হে আল্লাহ! তুমি তোমার দয়া ও অনুগ্রহে আমাদেরকে তাদের অন্তর্ভুক্ত কর।)
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ (رضي) فِي حَدِيثِ الشَّفَاعَةِ ... فَيَقُولُ اللَّهُ تَعَالَى يَا مُحَمَّدٌ أَدْخِلِ الْجَنَّةَ مِنْ أُمَّتِكَ مَنْ لَا حِسَابَ عَلَيْهِ مِنْ بَابِ الْأَيْمَنِ مِنْ أَبْوَابِ الْجَنَّةِ وَهُوَ شُرَكَاءُ النَّاسِ فِيمَا سِوى ذالِكَ مِنَ الْأَبْوَابِ وَالَّذِي نَفْسُ مُحَمَّدٍ بِيَدِهِ إِنَّ مَا بَيْنَ الْمَصْرَعَيْنِ مِنْ مَصَارِيعِ الْجَنَّةِ لَكُمَا بَيْنَ مَكَّةَ وَهِجْرٍ أَوْ كَمَا بَيْنَ مَكَّةَ وَبَصْرَى -
আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত, শাফায়াতের হাদীসে বর্ণিত হয়েছে যে ... আল্লাহ তায়ালা বলবেন: হে মুহাম্মদ! তোমার উম্মতের মধ্য থেকে ঐ সমস্ত ব্যক্তিদের আইমান দরজা দিয়ে জান্নাতে প্রবেশ করাও যাদের কোন হিসেব নিকেশ নেই। আর তারা অন্য ব্যক্তিদের সাথেও শরীক আছে যারা জান্নাতের অন্যান্য দরজা দিয়ে জান্নাতে প্রবেশ করবে। (অর্থাৎ: তারা যদি অন্য কোন দরজা দিয়ে জান্নাতে প্রবেশ করতে চায় তা হলে তাও তারা করতে পারবে) কসম ঐ সত্তার যার হাতে মুহাম্মদ-এর প্রাণ! জান্নাতের দু'টি চৌকাঠের মাঝের দূরত্ব হলো মক্কা ও হিজর (বাহরাইনের একটি শহরের নাম) এর দূরত্বের সমান বা তিনি বলেছেন, মক্কা ও বস্ত্রার দূরত্বের সমান। (মুসলিম, কিতাবুল ঈমান, বাব ইসবাতুশাফায়া)
নোট: মক্কা ও হিজরের মাঝের দূরত্ব হল ১১৬০ কি:মি:। আর মক্কা ও বসরার মাঝের দূরত্ব হল ১২৫০ কি: মি:।
📄 জান্নাতের দরজা আইমান দিয়ে একসাথে ৭০ হাজার লোক প্রবেশ করবে
৬. কোনো ধরনের হিসেব ছাড়া সত্তর হাজার লোক এক সাথে আইমান নামক দরজা দিয়ে জান্নাতে প্রবেশ করবে অথচ কেউ সামনে পিছনে হবে না।
عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ (رض) أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ قَالَ لَيَدْخُلَنَّ الْجَنَّةَ مِنْ أُمَّتِي سَبْعُونَ أَلْفًا أَوْ سَبْعُ مِائَةِ أَلْفِ عَلَى صُورَةِ الْقَمَرِ لَيْلَةَ الْبَدْرِ .
সাহাল বিন সা'দ (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ বলেছেন: আমার উম্মতের মধ্যে সত্তর হাজার লোক বা সাত লক্ষ লোক বর্ণনাকারী আবু হাজেম সঠিকভাবে জানে না যে রাসূল কোন সংখ্যাটির কথা বলেছেন। তারা একে অপরের হাত ধরে জান্নাতে প্রবেশ করবে, তাদের সর্বপ্রথম ব্যক্তি যতক্ষণ পর্যন্ত সেখানে প্রবেশ করবে না, যতক্ষণ না তাদের সর্বশেষ ব্যক্তি সেখানে প্রবেশ করে। (অর্থাৎ: তারা সকলেই এক সাথে একবারে জান্নাতে প্রবেশ করবে) ঐ জান্নাতীদের মুখমণ্ডল ১৪ তারিখের রাতের চাঁদের ন্যায় চমকাতে থাকবে। (মুসলিম, কিতাবুল ঈমান, বাব আদ্দালীল আলা দুখুলি ত্বাওয়ায়েফিল মুসলিমীন আল জান্নাহ বিগাইরি হিসাব)
নোট: মুসলিমের বর্ণনায় অন্য এক হাদীসের সত্তর হাজারের কথা বর্ণিত হয়েছে। (এর সঠিক সংখ্যা প্রসঙ্গে একমাত্র আল্লাহই ভালো জানেন)
📄 ওজু করার পর কালেমায়ে শাহাদাত পাঠকারী জান্নাতের ৮ দরজার যে কোন দরজা দিয়ে প্রবেশ করবে
৭. উত্তমরূপে ওজু করার পর কালেমা শাহাদাত পাঠকারী ব্যক্তি জান্নাতের আট দরজার মধ্য থেকে যে কোনো দরজা দিয়েই জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে।
عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ (رضی) قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ مَا مِنْكُمْ مِّنْ أَحَدٍ يَتَوَضَّأُ فَيُبْلِغُ أَوْ يُسْبِغُ الْوُضُوءَ ثُمَّ يَقُولُ أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ إِلَّا فُتِحَتْ لَهُ أَبْوَابُ الْجَنَّةِ الثَّمَانِيَةِ يَدْخُلُ مِنْ أَيُّهَا شَاءَ .
ওমর বিন খাত্তাব (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ বলেছেন: যে ব্যক্তি উত্তমরূপে ওজু করে এরপর এ দুয়া করে,
أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ .
আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত সত্য কোন মা'বুদ নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা এবং তাঁর রাসূল। তার জন্য জান্নাতের আটটি দরজা উন্মুক্ত করে দেয়া হয়, সে তখন যেটি দিয়ে খুশি সেটি দিয়ে জান্নাতে প্রবেশ করবে। (মুসলিম, কিতাবুত তাহারা, বাব যিকরিল মুস্তাহাব আকিবাল উযূ)