📘 জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা > 📄 সর্বপ্রথম রাসূল (সা)-এর জন্য জান্নাতের দরজা খোলা হবে

📄 সর্বপ্রথম রাসূল (সা)-এর জন্য জান্নাতের দরজা খোলা হবে


২. সর্বপ্রথম রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর জন্য জান্নাতের দরজা খোলা হবে।

عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ (رض) قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ أَتَيْتُ بَابَ الْجَنَّةِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فَاسْتَفْتِحُ فَيَقُولُ الْخَازِنُ مَنْ أَنْتَ؟ فَأَقُولُ مُحَمَّدٌ ، فَيَقُولُ بِكَ أُمِرْتُ لَا أَفْتَحَ لِأَحَدٍ قَبْلَكَ .
আনাস বিন মালেক (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: শেষ বিচারের দিন আমি (সর্বপ্রথম) জান্নাতের দরজার সামনে আসব এবং তা খুলতে বলব, দ্বার রক্ষী (ফেরেশতা) বলবে কে তুমি? আমি বলব মুহাম্মদ, তখন সে বলবে আমাকে এ নির্দেশ দেয়া হয়েছে যে, আপনার পূর্বে আর কারো জন্য দরজা না খুলতে। (মুসলিম, কিতাবুল ঈমান, বাব ইসবাতুশ্শাফায়া)

আরো বর্ণিত হয়েছে-
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ (رض) قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ أَنَا أَكْثَرُ لِأَنْبِيَاءِ تَبَعًا يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَأَنَا أَوَّلُ مَنْ يَقْرَعُ بَابَ الْجَنَّةِ .
আনাস বিন মালেক (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ বলেছেন: শেষ বিচারের দিন সবচেয়ে বেশি উম্মত আমার হবে। আর আমি সর্বপ্রথম জান্নাতের দরজা খোলার জন্য নক (খটখট করব) করব। (মুসলিম, কিতাবুল ঈমান, বাব ইসবাতুশ্শাফায়া)

📘 জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা > 📄 জান্নাতের দরজা ৮টি

📄 জান্নাতের দরজা ৮টি


৩. জান্নাতের দরজা আটটি।

عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ (رض) عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ فِي الْجَنَّةِ ثَمَانِيَةُ أَبْوَابٍ فِيهَا بَابٌ يُسَمَّى الرَّيَّانُ لَا يَدْخُلُهُ إِلَّا الصَّائِمُونَ .
সাহাল বিন সা'দ (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ বলেছেন: জান্নাতের আটটি দরজা রয়েছে যার মধ্যে একটির নাম হলো- রাইয়্যান, একমাত্র রোযাদারগণই এর মধ্যদিয়ে প্রবেশ করবে। (বেখারী, কিতাব বাদউল খালক, বাব মা যায়া ফি সিফাতিল জান্না)

📘 জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা > 📄 জান্নাতের তিনটি দরজা বাবুস সালাত, জিহাদ ও সাদাকাত

📄 জান্নাতের তিনটি দরজা বাবুস সালাত, জিহাদ ও সাদাকাত


৪. জান্নাতের অন্যান্য দরজাগুলোর নাম হল 'বাবুস্সালাহ' 'বাবুল জিহাদ' 'বাবুল সাদাকা'।

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ (رض) أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ قَالَ مَنْ أَنْفَقَ زَوْجَيْنِ فِي سَبِيلِ اللَّهِ نُودِيَ فِي الْجَنَّةِ : يَا عَبْدَ اللَّهِ هَذَا خَيْرٌ فَمَنْ كَانَ مِنْ أَهْلِ الصَّلَاةِ دُعِيَ مِنْ بَابِ الصَّلَاةِ وَمَنْ كَانَ مِنْ أَهْلِ الْجِهَادِ دُعِيَ مِنْ بَابِ الْجِهَادِ، وَمَنْ كَانَ مِنْ أَهْلِ الصَّدَقَةِ دُعِيَ مِنْ بَابِ الصَّدَقَةِ وَمَنْ كَانَ مِنْ أَهْلِ الصِّيَامِ دُعِيَ مِنْ بَابِ الرَّيَّانِ فَقَالَ أَبُو بَكْرٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ يَا نَبِيَّ اللَّهِ مَا عَلَى الَّذِي يُدْعَى مِنْ تِلْكَ الْأَبْوَابِ كُلَّهَا مِنْ ضَرُورَةِ هَلْ يُدْعَى أَحَدٌ مِنْ تِلْكَ الْأَبْوَابِ كُلِّهَا ؟ قَالَ نَعَمْ وَأَرْجُوا أَنْ تَكُونَ مِنْهُمْ .
আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ বলেছেন: যে ব্যক্তি আল্লাহর পথে এক জোড়া জিনিস ব্যয় করেছে (যেমন: দু'টি ঘোড়া, দুটি তলোয়ার) তাকে জান্নাতে এ বলে আহবান করা হবে যে, হে আল্লাহর বান্দা! তুমি যা ব্যয় করেছে। তা উত্তম। আর যে ব্যক্তি সালাতী ছিল তাকে বাবুস্ সালাহ দিয়ে আহবান করা হবে। যে ব্যক্তি জিহাদী ছিল তাকে বাবুল জিহাদ দিয়ে আহবান করা হবে। যে ব্যক্তি দান-খয়রাত করত তাকে বাবুস সাদাকা দিয়ে আহবান করা হবে। যে ব্যক্তি রোযাদার ছিল তাকে বাবুর রাইয়্যান দিয়ে ডাকা হবে। (এ কথা শুনে) আবু বকর (রা) জিজ্ঞেস করলেন হে আল্লাহর রাসূল! কোন ব্যক্তিকে জান্নাতের সমস্ত দরজাগুলো দিয়ে আহবান করার প্রয়োজন হবে কি? আর এমনকি কেউ আছে যাকে জান্নাতের সমস্ত দরজাগুলো দিয়ে ডাকা হবে? রাসূলে কারীম বললেন: হ্যাঁ। আর আমি আশা করছি তুমিই হবে ঐ ব্যক্তি। (নাসায়ী, কিতাবুল জিহাদ, বাবু মান আনফাকা যাওযাইনি ফী সাবীলিল্লাহ)

📘 জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা > 📄 জান্নাতের একটি দরজার প্রশস্ততা ১২/১৩ শত কিলোমিটার

📄 জান্নাতের একটি দরজার প্রশস্ততা ১২/১৩ শত কিলোমিটার


৫. জান্নাতের একটি দরজার প্রশস্ততা প্রায় বার তেরশ কি: মি: সমান। কোনো ধরনের হিসাব-নিকাশ ব্যতীত জান্নাতে প্রবেশকারীদের দরজার নাম "বাবু আইমান"।

(হে আল্লাহ! তুমি তোমার দয়া ও অনুগ্রহে আমাদেরকে তাদের অন্তর্ভুক্ত কর।)

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ (رضي) فِي حَدِيثِ الشَّفَاعَةِ ... فَيَقُولُ اللَّهُ تَعَالَى يَا مُحَمَّدٌ أَدْخِلِ الْجَنَّةَ مِنْ أُمَّتِكَ مَنْ لَا حِسَابَ عَلَيْهِ مِنْ بَابِ الْأَيْمَنِ مِنْ أَبْوَابِ الْجَنَّةِ وَهُوَ شُرَكَاءُ النَّاسِ فِيمَا سِوى ذالِكَ مِنَ الْأَبْوَابِ وَالَّذِي نَفْسُ مُحَمَّدٍ بِيَدِهِ إِنَّ مَا بَيْنَ الْمَصْرَعَيْنِ مِنْ مَصَارِيعِ الْجَنَّةِ لَكُمَا بَيْنَ مَكَّةَ وَهِجْرٍ أَوْ كَمَا بَيْنَ مَكَّةَ وَبَصْرَى -
আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত, শাফায়াতের হাদীসে বর্ণিত হয়েছে যে ... আল্লাহ তায়ালা বলবেন: হে মুহাম্মদ! তোমার উম্মতের মধ্য থেকে ঐ সমস্ত ব্যক্তিদের আইমান দরজা দিয়ে জান্নাতে প্রবেশ করাও যাদের কোন হিসেব নিকেশ নেই। আর তারা অন্য ব্যক্তিদের সাথেও শরীক আছে যারা জান্নাতের অন্যান্য দরজা দিয়ে জান্নাতে প্রবেশ করবে। (অর্থাৎ: তারা যদি অন্য কোন দরজা দিয়ে জান্নাতে প্রবেশ করতে চায় তা হলে তাও তারা করতে পারবে) কসম ঐ সত্তার যার হাতে মুহাম্মদ-এর প্রাণ! জান্নাতের দু'টি চৌকাঠের মাঝের দূরত্ব হলো মক্কা ও হিজর (বাহরাইনের একটি শহরের নাম) এর দূরত্বের সমান বা তিনি বলেছেন, মক্কা ও বস্ত্রার দূরত্বের সমান। (মুসলিম, কিতাবুল ঈমান, বাব ইসবাতুশাফায়া)

নোট: মক্কা ও হিজরের মাঝের দূরত্ব হল ১১৬০ কি:মি:। আর মক্কা ও বসরার মাঝের দূরত্ব হল ১২৫০ কি: মি:।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00