📄 জান্নাতীদের জন্য জান্নাতের দরজা খুলে দেয়া হবে
১. জান্নাতীদের জান্নাতে প্রবেশের সময় ফেরেশতাগণ জান্নাতের দরজাগুলো খুলে দিবেন এবং দরজা দিয়ে প্রবেশের সময় ফেরেশতাগণ জান্নাতবাসীদের নিরাপত্তার জন্য দোয়া করবে।
وَسِيقَ الَّذِينَ اتَّقَوْا رَبَّهُمْ إِلَى الْجَنَّةِ زُمَرًا حَتَّى إِذَا جَاؤُوهَا وَفُتِحَتْ أَبْوَابُهَا وَقَالَ لَهُمْ خَزَنَتُهَا سَلَامٌ عَلَيْكُمْ طِبْتُمْ فَادْخُلُوهَا خَالِدِينَ .
যারা তাদের রবকে ভয় করত তাদেরকে দলে দলে জান্নাতে নিয়ে যাওয়া হবে। যখন তারা খোলা দরজা দিয়ে জান্নাতে পৌঁছবে এবং জান্নাতের দ্বার রক্ষীরা তাদেরকে বলবে তোমাদের প্রতি সালাম, তোমরা সুখে থাক, অতঃপর সদা-সর্বদা বসবাসের জন্য তোমরা জান্নাতে প্রবেশ কর। (সূরা যুমার-৭৩)
📄 সর্বপ্রথম রাসূল (সা)-এর জন্য জান্নাতের দরজা খোলা হবে
২. সর্বপ্রথম রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর জন্য জান্নাতের দরজা খোলা হবে।
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ (رض) قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ أَتَيْتُ بَابَ الْجَنَّةِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فَاسْتَفْتِحُ فَيَقُولُ الْخَازِنُ مَنْ أَنْتَ؟ فَأَقُولُ مُحَمَّدٌ ، فَيَقُولُ بِكَ أُمِرْتُ لَا أَفْتَحَ لِأَحَدٍ قَبْلَكَ .
আনাস বিন মালেক (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: শেষ বিচারের দিন আমি (সর্বপ্রথম) জান্নাতের দরজার সামনে আসব এবং তা খুলতে বলব, দ্বার রক্ষী (ফেরেশতা) বলবে কে তুমি? আমি বলব মুহাম্মদ, তখন সে বলবে আমাকে এ নির্দেশ দেয়া হয়েছে যে, আপনার পূর্বে আর কারো জন্য দরজা না খুলতে। (মুসলিম, কিতাবুল ঈমান, বাব ইসবাতুশ্শাফায়া)
আরো বর্ণিত হয়েছে-
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ (رض) قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ أَنَا أَكْثَرُ لِأَنْبِيَاءِ تَبَعًا يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَأَنَا أَوَّلُ مَنْ يَقْرَعُ بَابَ الْجَنَّةِ .
আনাস বিন মালেক (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ বলেছেন: শেষ বিচারের দিন সবচেয়ে বেশি উম্মত আমার হবে। আর আমি সর্বপ্রথম জান্নাতের দরজা খোলার জন্য নক (খটখট করব) করব। (মুসলিম, কিতাবুল ঈমান, বাব ইসবাতুশ্শাফায়া)
📄 জান্নাতের দরজা ৮টি
৩. জান্নাতের দরজা আটটি।
عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ (رض) عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ فِي الْجَنَّةِ ثَمَانِيَةُ أَبْوَابٍ فِيهَا بَابٌ يُسَمَّى الرَّيَّانُ لَا يَدْخُلُهُ إِلَّا الصَّائِمُونَ .
সাহাল বিন সা'দ (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ বলেছেন: জান্নাতের আটটি দরজা রয়েছে যার মধ্যে একটির নাম হলো- রাইয়্যান, একমাত্র রোযাদারগণই এর মধ্যদিয়ে প্রবেশ করবে। (বেখারী, কিতাব বাদউল খালক, বাব মা যায়া ফি সিফাতিল জান্না)
📄 জান্নাতের তিনটি দরজা বাবুস সালাত, জিহাদ ও সাদাকাত
৪. জান্নাতের অন্যান্য দরজাগুলোর নাম হল 'বাবুস্সালাহ' 'বাবুল জিহাদ' 'বাবুল সাদাকা'।
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ (رض) أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ قَالَ مَنْ أَنْفَقَ زَوْجَيْنِ فِي سَبِيلِ اللَّهِ نُودِيَ فِي الْجَنَّةِ : يَا عَبْدَ اللَّهِ هَذَا خَيْرٌ فَمَنْ كَانَ مِنْ أَهْلِ الصَّلَاةِ دُعِيَ مِنْ بَابِ الصَّلَاةِ وَمَنْ كَانَ مِنْ أَهْلِ الْجِهَادِ دُعِيَ مِنْ بَابِ الْجِهَادِ، وَمَنْ كَانَ مِنْ أَهْلِ الصَّدَقَةِ دُعِيَ مِنْ بَابِ الصَّدَقَةِ وَمَنْ كَانَ مِنْ أَهْلِ الصِّيَامِ دُعِيَ مِنْ بَابِ الرَّيَّانِ فَقَالَ أَبُو بَكْرٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ يَا نَبِيَّ اللَّهِ مَا عَلَى الَّذِي يُدْعَى مِنْ تِلْكَ الْأَبْوَابِ كُلَّهَا مِنْ ضَرُورَةِ هَلْ يُدْعَى أَحَدٌ مِنْ تِلْكَ الْأَبْوَابِ كُلِّهَا ؟ قَالَ نَعَمْ وَأَرْجُوا أَنْ تَكُونَ مِنْهُمْ .
আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ বলেছেন: যে ব্যক্তি আল্লাহর পথে এক জোড়া জিনিস ব্যয় করেছে (যেমন: দু'টি ঘোড়া, দুটি তলোয়ার) তাকে জান্নাতে এ বলে আহবান করা হবে যে, হে আল্লাহর বান্দা! তুমি যা ব্যয় করেছে। তা উত্তম। আর যে ব্যক্তি সালাতী ছিল তাকে বাবুস্ সালাহ দিয়ে আহবান করা হবে। যে ব্যক্তি জিহাদী ছিল তাকে বাবুল জিহাদ দিয়ে আহবান করা হবে। যে ব্যক্তি দান-খয়রাত করত তাকে বাবুস সাদাকা দিয়ে আহবান করা হবে। যে ব্যক্তি রোযাদার ছিল তাকে বাবুর রাইয়্যান দিয়ে ডাকা হবে। (এ কথা শুনে) আবু বকর (রা) জিজ্ঞেস করলেন হে আল্লাহর রাসূল! কোন ব্যক্তিকে জান্নাতের সমস্ত দরজাগুলো দিয়ে আহবান করার প্রয়োজন হবে কি? আর এমনকি কেউ আছে যাকে জান্নাতের সমস্ত দরজাগুলো দিয়ে ডাকা হবে? রাসূলে কারীম বললেন: হ্যাঁ। আর আমি আশা করছি তুমিই হবে ঐ ব্যক্তি। (নাসায়ী, কিতাবুল জিহাদ, বাবু মান আনফাকা যাওযাইনি ফী সাবীলিল্লাহ)