📘 জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা > 📄 জান্নাতের প্রশস্ততা পৃথিবী এবং সমস্ত আকাশের সমপরিমাণ

📄 জান্নাতের প্রশস্ততা পৃথিবী এবং সমস্ত আকাশের সমপরিমাণ


১. জান্নাতের সর্বনিম্ন আনুমানিক প্রশস্ততার পরিমাণ পৃথিবী এবং সমস্ত আকাশের সমপরিমাণ, আর সর্বোচ্চ প্রশস্ততার কোন পরিমাণ নেই। (তা একমাত্র আল্লাহই ভালো জানেন)

وَسَارِعُوا إِلَى مَغْفِرَةٍ مِّنْ رَّبِّكُمْ وَجَنَّةٍ عَرْضُهَا السَّمَاوَاتُ وَالْأَرْضُ أُعِدَّتْ لِلْمُتَّقِينَ .
তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের ক্ষমা এবং জান্নাতের দিকে ছুটে যাও, যার সীমানা হচ্ছে আসমান ও যমিন, যা তৈরি করা হয়েছে আল্লাহ ভীরুদের জন্য। (সূরা আলে ইমরান-১৩৩)

📘 জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা > 📄 জান্নাত দেখা মাত্রই বুঝা যাবে কত বিশাল এবং তার নি'য়ামাত কত বেশি

📄 জান্নাত দেখা মাত্রই বুঝা যাবে কত বিশাল এবং তার নি'য়ামাত কত বেশি


২. জান্নাত দেখার পরই সঠিকভাবে বুঝা যাবে যে জান্নাত কত বিশাল এবং তাঁর নি'আমত কত বেশি।

وَإِذَا رَأَيْتَ ثُمَّ رَأَيْتَ نَعِيمًا وَمُلْكًا كَبِيرًا .
আপনি যখন দেখবেন, তখন নি'আমতরাজি ও বিশাল রাজ্য দেখতে পাবেন। (সূরা দাহার-২০)

📘 জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা > 📄 সর্বশেষ জান্নাতে প্রবেশকারী পৃথিবীর দশগুণের চেয়ে বড় জান্নাত পাবে

📄 সর্বশেষ জান্নাতে প্রবেশকারী পৃথিবীর দশগুণের চেয়ে বড় জান্নাত পাবে


৩. সর্বশেষ জান্নাতে প্রবেশকারীকে ইহজগতের চেয়ে দশগুণ বড় জান্নাত দান করা হবে।

عَنْ عَبْدِ اللَّهِ (رض) قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ إِنِّي لَأَعْرِفُ أُخِرَ أَهْلِ النَّارِ وَخُرُوجًا مِّنَ النَّارِ رَجُلٌ يَخْرُجُ مِنَ النَّارِ زَحْفًا فَيُقَالُ لَهُ انْطَلِقُ فَإِذَا دَخَلَ الْجَنَّةَ قَالَ فَيَذْهَبُ فَيَدْخُلُ الْجَنَّةَ فَيَجِدُ النَّاسَ قدْ أَخَذُوا الْمَنَازِلَ فَيُقَالُ لَهُ أَتَذْكُرُ الزَّمَانَ الَّذِي كُنْتَ فِيهِ فَيَقُولُ نعم ! فَيُقَالُ لَهُ تَمَنَّ فَتَمَنَّى فَيُقَالُ لَهُ لَكَ الَّذِي تَمَنَّيْتَ وَعَشَرَةٌ أَضْعَافِ الدُّنْيَا قَالَ فَيَقُولُ أَتَسْخَرُ بِي وَأَنْتَ الْمَلِكُ قَالَ فَلَقَدْ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ ضَحِكَ حَتَّى بَدَتْ نَوَاجِدَهُ وَفِي رِوَايَةٍ أُخْرَى فَيَقُولُ إِنِّي لَاسْتَهْزِئُ مِنْكَ وَلَكِنِّي عَلَى مَا أَشَاءُ قَادِرٌ .
আবদুল্লাহ বিন মাসউদ (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ বলেছেন: জাহান্নাম থেকে সর্বশেষে মুক্তিপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে আমি চিনি, তার অবস্থা হবে এই যে, সে হামাগুড়ি দিয়ে জাহান্নাম থেকে বের হবে, তাকে বলা হবে চল, যখন জান্নাতে প্রবেশ করবে তখন দেখবে যে পূর্ব থেকেই সকল মানুষ জান্নাতে স্ব স্ব স্থান দখল করে রেখেছে। তখন তাকে বলা হবে তোমার কি ঐ সময়ের কথা স্মরণ আছে, যে সময় তুমি জাহান্নামে ছিলে? সে বলবে হ্যাঁ। তখন তাকে বলা হবে চাও, সে চাইবে তখন তাকে বলা হবে তোমার জন্য রয়েছে তুমি যা চেয়েছ তা এবং তার সাথে আরো দেয়া হল ইহজগতের চেয়ে আরো দশগুণ বেশি। তখন সে বলবে আল্লাহ! তুমি বাদশা হয়ে আমার সাথে ঠাট্টা করছ? হাদীস বর্ণনাকারী বলেন: আমি দেখলাম একথা বলে রাসূলুল্লাহ হাসলেন এমনকি তাঁর দাঁত দেখা গেল। অন্য এক বর্ণনায় এসেছে, তাকে বলা হবে নিশ্চয়ই আমি তোমার সাথে ঠাট্টা করছি না। তবে আমি যা করতে চাই তাতে আমি সর্বশক্তিমান। (মুসলিম, কিতাবুল ঈমান, বাব ইসবাতুশাফায়া)

নোট: রাসূলুল্লাহ ঐ ব্যক্তির জবাব শুনে এজন্য হেসেছেন যে, আল্লাহর ক্ষমতা প্রসঙ্গে বান্দাদের ধারণা এত অল্প যে, আল্লাহর নির্দেশকে অসম্ভব মনে করে, তা সে ঠাট্টা বলে সম্বোধন করেছে।

📘 জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা > 📄 পৃথিবীর দশ গুনের চেয়ে বড় জান্নাত পাওয়ার পরও অনেক জায়গা অবশিষ্ট থাকবে

📄 পৃথিবীর দশ গুনের চেয়ে বড় জান্নাত পাওয়ার পরও অনেক জায়গা অবশিষ্ট থাকবে


৪. জান্নাতে প্রবেশকারী সর্বশেষ ব্যক্তিকে ইহজগতের তুলনায় দশগুণ স্থান দেয়ার পরও জান্নাতে অনেক জায়গা অবশিষ্ট থাকবে। যা পূর্ণ করার জন্য আল্লাহ নতুন সৃষ্টি জীব সৃষ্টি করবেন।

عَنْ أَنَسٍ (رض) يَقُولُ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ يَبْقَى مِنَ الْجَنَّةِ مَا شَاءَ اللَّهُ أَنْ يَبْقَى ثُمَّ يُنْشِئُ اللَّهُ لَهَا خَلْقًا مِمَّا يَشَاءُ .
আনাস বিন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ বলেছেন: জান্নাতে যতটুকু স্থান আল্লাহ চাইবেন ততটুকু স্থান অবশিষ্ট থেকে যাবে। অতঃপর আল্লাহ তার ইচ্ছা অনুযায়ী অন্য এক সৃষ্টি জীব সৃষ্টি করবেন। (মুসলিম, কিতাবুল জান্নাত, সিফাত বাবু জাহান্নাম)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00