📄 জান্নাতে বিদ্যমান হুরদেরকে ইতোপূর্বে কোন জ্বীন মানব স্পর্শ করেনি
১৪. জান্নাতে আল্লাহর বিশেষ বান্দাদের জন্য দুটি করে বাগান থাকবে, যা নি'আমতের দিক থেকে সাধারণ ঈমানদারদের বাগানের তুলনায় উত্তম হবে। উভয় বাগানে দুটি করে ঝর্ণা থাকবে, আরো থাকবে নানা রকম সুস্বাদু ফল ও রেশমী আসনগুলো। জান্নাতীদের স্ত্রীগণ যথেষ্ট লাজুক, পবিত্র, হীরা ও মুক্তার ন্যায় উজ্জ্বল সুন্দর হবে। তারা কেবলমাত্র তাদের স্বামীর সেবায় নিমগ্ন থাকবে। জান্নাতীদের স্ত্রীগণকে জান্নাতে প্রবেশের পূর্বে নতুন করে সৃষ্টি করা হবে। আর এরপর তাদেরকে আর কোন জ্বিন ও ইনসানের স্পর্শ তাদের স্পর্শ করেনি। (একমাত্র তাদের জান্নাতী স্বামীই তাদেরকে উপভোগ করবে)
وَلِمَنْ خَافَ مَقَامَ رَبِّهِ جَنَّتَانِ فَبِأَيِّ آلَاءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ ذَوَاتَا أَفْنَانٍ .... فِيْهِمَا عَيْنَانِ تَجْزِيَانِ .... فِيْهِمَا مِنْ كُلِّ فَاكِهَةٍ زَوْجَانِ .... مُتَّكِئِينَ عَلَى فُرُشٍ بَطَائِنُهَا مِنْ إِسْتَبْرَقٍ وَجَنَى الْجَنَّتَيْنِ دَانٍ .... فِيهِنَّ قَاصِرَاتُ الطَّرْفِ لَمْ يَطْمِثْهُنَّ إِنْسٌ قَبْلَهُمْ وَلا جان .... كَأَنَّهُنَّ الْيَاقُوتُ وَالْمَرْجَانُ ...
যে ব্যক্তি তার পালনকর্তার সামনে উপস্থিত হওয়ার ভয় রাখে, তার জন্য রয়েছে দুটি বাগান। অতএব তোমরা উভয়ে তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন অবদানকে অস্বীকার করবে? উভয় উদ্যানই ঘন শাখা পল্লব বিশিষ্ট। অতএব তোমরা উভয়ে তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন অবদানকে অস্বীকার করবে? উভয় উদ্যানে আছে বহমান দুই প্রস্রবণ। অতএব তোমরা উভয়ে তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন নি'য়ামতকে অস্বীকার করবে? উভয়ের মধ্যে সকল ফল বিভিন্ন রকমের হবে। অতএব তোমরা উভয়ে তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন নি'য়ামতকে অস্বীকার করবে? তারা যেখানে রেশমের আস্তর বিশিষ্ট বিছানায় হেলান দিয়ে বসবে। উভয় উদ্যানের ফল তাদের নিকট ঝুলবে। অতএব তোমরা তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন নি'আমতকে অস্বীকার করবে? সেখানে থাকবে আয়াতনয়না রমণীগণ, কোন জ্বিন ও মানব যাদেরকে কখনো ব্যবহার করেনি। অতএব তোমরা উভয়ে তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন নি'আমতকে অস্বীকার করবে? প্রবাল ও পদ্মরাগ সাদৃশ তরুণীগণ। অতএব তোমরা উভয়ে তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন নি'আমতকে অস্বীকার করবে? (সূরা আর রহমান-৪৬-৫৯)
📄 হুরগণ সতী, পবিত্র, সুন্দর ও আকর্ষণীয় চোখবিশিষ্ট হবে
১৫. সাধারণ ঈমানদারদেরকেও দুটি করে উদ্যান দেয়া হবে তবে তা বিশেষ বান্দাদের বাগানের তুলনায় কম মর্যাদাপূর্ণ হবে। তাদের বাগানসমূহে ঝর্ণা ও সুস্বাদু ফল-মূল থাকবে। সতী, পবিত্র, সুন্দর ও আকর্ষণীয় চোখবিশিষ্টা হুরেরা তাদের স্ত্রী হবে, যাদেরকে ইতোপূর্বে আর কেউ স্পর্শ করে নি।
وَمِنْ دُونِهِمَا جَنَّتَانِ، فَبِأَيِّ آلَاءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ، مُدْهَا مَتَانِ .... فِيْهِمَا عَيْنَانِ نَضَّاخَتَانِ ..... فِيْهِمَا فَاكِهَةٌ وَنَخْلٌ وَرُمَّانٌ ..... فِيهِنَّ خَيْرَاتٌ حِسَانٌ .... حور مَقْصُورَاتٌ فِي الْخِيَامِ .... لَمْ يَطْمِثْهُنَّ إِنْسَ قَبْلَهُمْ وَلَا جَانٌّ .... مُتَّكِئِينَ عَلَى رَفْرَفٍ خُضْرٍ وَعَبْقَرِي حِسَانٍ .... تَبَارَكَ اسْمُ رَبِّكَ ذِي الْجَلَالِ وَالْإِكْرَامِ .
এ দুটি ছাড়াও আরো দু'টি উদ্যান রয়েছে, অতএব তোমরা উভয়ে তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন নি'আমতকে অস্বীকার করবে? কালোমত ঘন সবুজ, অতএব তোমরা উভয়ে তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন নি'আমতকে অস্বীকার করবে? তথায় আছে উদ্বেলিত দুই প্রস্রবণ। অতএব তোমরা উভয়ে তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন নি'আমতকে অস্বীকার করবে? তথায় আছে ফল-মূল, খর্জুর ও আনার। অতএব তোমরা উভয়ে তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন নি'আমতকে অস্বীকার করবে? সেখানে থাকবে সচ্চরিত্র সুন্দরী তরুণীগণ। অতএব তোমরা উভয়ে তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন নি'আমতকে অস্বীকার করবে? তাঁবুতে অবস্থানকারী হুরগণ, অতএব তোমরা উভয়ে তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন নি'আমতকে অস্বীকার করবে? কোন জ্বিন ও মানব পূর্বে তাদেরকে স্পর্শ করে নি। অতএব তোমরা উভয়ে তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন নি'আমতকে অস্বীকার করবে? তারা সবুজ আসনে এবং উৎকৃষ্ট মূল্যবান বিছানায় হেলান দিয়ে বসবে। অতএব তোমরা উভয়ে তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন নি'আমতকে অস্বীকার করবে? কত পুণ্যময় আপনার পালনকর্তার নাম, যিনি মহিমাময় ও মহানুভব। (সূরা আর রহমান-৬২-৭৮)
📄 জান্নাতে নাতিশীতোষ্ণ সুন্দর আবহাওয়া বিরাজ করবে
১৬. সারাজীবন মনের হারাম কামনা-বাসনা থেকে নিজেকে সংরক্ষণকারী এবং আল্লাহর নির্দেশ পালনকারী জান্নাতে যাবে। জান্নাতে না অধিক গরম হবে না অধিক শীতল বরং নাতিশীতোষ্ণ সুন্দর আবহাওয়া বিরাজ করবে। জান্নাতের সেবক জান্নাতীগণকে চাঁদী ও স্ফটিক নির্মিত পান পাত্রে পান পরিবেশন করবে। জান্নাতের ফলগুলো এত নাগালের মধ্যে থাকবে যে, জান্নাতী চাইলে দাঁড়িয়ে, শয়ন করে বা বসে গ্রহণ করবে পারবে। সালসাবীল নামক জান্নাতের ঝর্ণা থেকে এমন মদ প্রবাহিত হবে যার মধ্যে আদার স্বাদ মিশ্রিত থাকবে। সকল জান্নাতীর উদ্যানগুলো এক বিস্তীর্ণ সাম্রাজ্যের ন্যায় দৃশ্যমান হবে। জান্নাতীদেরকে চাঁদীর কংকন পড়ানো হবে।
وَجَزَاهُمْ بِمَا صَبَرُوا جَنَّةً وَحَرِيرًا ، مُتَّكِئِينَ فِيهَا عَلَى الْأَرَائِكِ لَا يَرَوْنَ فِيهَا شَمْسًا وَلَا زَمْهَرِيرًا ، وَدَانِيَةٌ عَلَيْهِمْ ظِلَالُهَا وَذُلِّلَتْ قُطُوفُهَا تَدْلِيلًا، وَيُطَافُ عَلَيْهِمْ بِأَنِيَةٍ مِنْ فِضَّةٍ وَأَكْوَابٍ كَانَتْ قَوَارِيرًا ، قَوَارِيرًا مِنْ فِضَّةٍ قَدَّرُوهَا تَقْدِيرًا ، وَيُسْقَوْنَ فِيهَا كَأْسًا كَانَ مِزَاجُهَا زَنْجَبِيلًا، عَيْنًا فِيهَا تُسَمَّى سَلْسَبِيلًا، وَيَطُوفُ عَلَيْهِمْ وِلْدَانٌ مُخَلَّدُونَ إِذَا رَأَيْتَهُمْ حَسِبْتَهُمْ لُؤْلُؤًا مَّنثُورًا ، وَإِذَا رَأَيْتَ ثُمَّ رَأَيْتَ نَعِيمًا وَمُلْكًا كَبِيرًا ، عَالِيَهُمْ ثِيَابُ سُنْدُسٍ خُضْرٌ وَاسْتَبْرَقٌ وَحُلُّوا أَسَاوِرَ مِنْ فِضَّةٍ وَسَقَاهُمْ رَبُّهُمْ شَرَابًا طَهُورًا ، إِنَّ هذَا كَانَ لَكُمْ جَزَاء وَكَانَ سَعْيُكُمْ مَشْكُورًا .
এবং তাদের ধৈর্যের প্রতিদান তাদেরকে দিবেন জান্নাত ও রেশমী পোশাক। তারা সেখানে আসনসমূহে হেলান দিয়ে বসবে। সেখানে গরম ও ঠাণ্ডা অনুভব করবে না। তার বৃক্ষছায়া তাদের ওপর ঝুঁকে থাকবে এবং তার ফলমূলগুলো তাদের আয়ত্বাধীন রাখা হবে। তাদেরকে পরিবেশন করা হবে রূপার পাত্রে এবং স্ফটিকের মতো পান পাত্রে। রূপালী স্ফটিক পাত্রে- পরিবেশনকারীরা তা পরিমাপ করে পূর্ণ করবে। তাদেরকে সেখানে পান করানো হবে আদা মিশ্রিত পান পাত্রে। এটা জান্নাত স্থিত সালসাবীল নামক একটি ঝর্ণা। তাদের পাশে ঘোরাফেরা করবে চির বালকগণ। আপনি তাদেরকে দেখে মনে করবেন যেন বিক্ষিপ্ত মণি মুক্তা। আপনি যখন সেখানে দেখবেন তখন নি'আমতরাজি ও বিশাল রাজ্য দেখতে পাবেন। তাদের আবরণ হবে পাতলা সবুজ রেশম ও মোটা সবুজ রেশম, আর তাদেরকে পরিধান করানো হবে রৌপ্য নির্মিত কংকন এবং তাদের রব তাদেরকে পান করাবেন শরাবান তাহুরা। এটা তোমাদের প্রতিদান। তোমাদের প্রচেষ্টা স্বীকৃতি লাভ করবে। (সূরা দাহর-১২-২২)
📄 জান্নাতে অসার ও বাজে কোন কথাবার্তা থাকবে না
১৭. উজ্জ্বল চেহারা, সর্বপ্রকার অসার কথাবার্তামুক্ত পরিবেশ, প্রবাহমান ঝর্ণা, সুউচ্চ আসন, সারি সারি গালিচা এবং বিস্তৃত বিছানো কার্পেট, এসবই জান্নাতের নি'আমত যা থেকে জান্নাতীরা উপকৃত হবে।
وَجُوهٌ يَوْمَئِذٍ نَّاعِمَةٌ لِسَعْيِهَا رَاضِيَةٌ فِي جَنَّةٍ عَالِيَةٍ لا تَسْمَعُ فِيهَا لَغِيَةً فِيهَا عَيْنُ جَارِيَةٌ فِيهَا سُرُرٌ مَرْفُوعَةٌ وَأَكْوَابُ مَوْضُوعَةٌ، وَنَمَارِقُ مَصْفُوفَةٌ، وَزَرَابِيُّ مَبْثُونَةٌ .
অনেক মুখমণ্ডল সেদিন সজীব হবে। তাদের কৃতকর্মের কারণে তারা সন্তুষ্ট। তারা থাকবে সু-উচ্চ জান্নাতে। সেখানে শুনবে না কোন অসার কথাবার্তা। সেখানে থাকবে প্রবাহিত ঝর্ণা। সেখানে থাকবে সুউচ্চ সুসজ্জিত আসন ও সংরক্ষিত পান পাত্র, আর সারি সারি গালিচা ও বিস্তৃত বিছানো কার্পেট। (সূরা গাশিয়া ৮-১৬)