📄 জান্নাতীদের পোশাক হবে চিকন ও রেশমী কাপড়ের এবং যেখানে কোন মৃত্যু থাকবে না
১০. জান্নাতে কোন প্রকার দুঃখ-বেদনা, বিপদ-আপদ, চিন্তা থাকবে না। জান্নাতীদের পোশাক পাতলা ও পুরু রেশমের তৈরি হবে। সুন্দর ও আকর্ষণীয় চোখসম্পন্ন তরুণীর সাথে তাদের মিলন হবে। জান্নাতে মৃত্যু আসবে না বরং চিরস্থায়ী জীবন যাপন করবে। সর্বপ্রথম জান্নাতে প্রবেশকারীরা জাহান্নামের আযাব থেকে মুক্ত থাকবে। আল্লাহর দয়া ও অনুগ্রহ ব্যতীত জান্নাতে গমন করা সম্ভব নয়। জান্নাতে প্রবেশ করাই মূল সফলতা ও কামিয়াবী।
إِنَّ الْمُتَّقِينَ فِي مَقَامِ أَمِينِ، فِي جَنَّاتٍ وَعُيُونٍ، يَلْبَسُونَ مِنْ سُندُسٍ وَاسْتَبْرَةٍ مُتَقَابِلِينَ، كَذَلِكَ وَزَوَّجْنَاهُمْ بِحُورٍ عِيْنٍ، يَدْعُونَ فِيهَا بِكُلِّ فَاكِهَةٍ أَمِنِينَ، لَا يَذُوقُوْنَ فِيهَا الْمَوْتَ إِلَّا الْمَوْتَةَ الأولى وَوَقَاهُمْ عَذَابَ الْجَحِيمِ، فَضْلاً مِّنْ رَّبِّكَ ذَلِكَ هُوَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ .
নিশ্চয়ই তাকওয়াবান ব্যক্তিরা নিরাপদ স্থানে থাকবে, উদ্যানরাজি ও নির্ঝরিণীসমূহে, তারা পরিধান করবে চিকন ও পুরু রেশমী পোশাক। তারা মুখোমুখি হয়ে বসবে। এরূপই হবে এবং আমি তাদেরকে আয়তলোচনা স্ত্রী দিব। তারা সেখানে শান্ত মনে বিভিন্ন ফল-মূল আনতে বলবে। তারা সেখানে মৃত্যু আস্বাদন করবে না, প্রথম মৃত্যু ব্যতীত এবং আপনার পালনকর্তা তাদেরকে জাহান্নামের আযাব থেকে রক্ষা করবেন। আপনার পালনকর্তার কৃপায় এটাই মহা সাফল্য। (সূরা দোখান-৫১-৫৭)
📄 জান্নাতে পানি, দুধ, মধু ও মদ ইত্যাদির ঝর্ণা হবে
১১. জান্নাতে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন পানি, দুধ, মধু ও মদ ইত্যাদির ঝর্ণা থাকবে, যা থেকে জান্নাতীরা পান করবে। জান্নাতের ঝর্ণা এবং পানীয়সমূহের রং ও স্বাদ সর্বদা একই রকমের থাকবে। জান্নাতীদেরকে আল্লাহ যাবতীয় পাপ থেকে মুক্ত করে জান্নাতে দিবেন।
مَثَلُ الْجَنَّةِ الَّتِي وُعِدَ الْمُتَّقُونَ فِيهَا أَنْهَارٌ مِّنْ مَّاءٍ غَيْرِ أَسِنٍ وَأَنْهَارُ مِنْ لَّبَنٍ لَّمْ يَتَغَيَّرُ طَعْمُهُ وَأَنْهَارُ مِنْ خَمْرٍ لَذَّةٍ لِلشَّارِبِينَ وَأَنْهَارُ مِنْ عَسَلٍ مُّصَفًّى وَلَهُمْ فِيهَا مِنْ كُلِّ الثَّمَرَاتِ وَمَغْفِرَةٌ مِنْ رَّبِّهِمْ :
তাকওয়াবান ব্যক্তিবর্গকে জান্নাতের ওয়াদা দেয়া হয়েছে। তাদের অবস্থা নিম্নরূপ: সেখানে রয়েছে পানির নহর, নির্মল দুধের নহর যার স্বাদ অপরিবর্তনীয়, পানকারীদের জন্য সুস্বাদু শরাবের নহর এবং পরিশোধিত মধুর নহর। সেখানে তাদের জন্য রয়েছে রকমারী ফল-মূল ও তাদের পালনকর্তার ক্ষমা। (সূরা মুহাম্মদ-১৫)
📄 জান্নাতে জান্নাতীরা তাদের আদর্শ বাপ দাদার সাথে থাকবে
১২. নেক সুসন্তানদেরকে তাদের আদর্শ বাপ-দাদার সাথে জান্নাতে একত্রিত করা হবে। যদি জান্নাতে পরস্পরের স্তরের মধ্যে কোন ব্যবধান থাকে তাহলে নিম্নস্তরের লোকদেরকে আল্লাহ স্বীয় দয়া ও অনুগ্রহের মাধ্যমে তাদের মর্যাদা বাড়িয়ে উভয়কে উচ্চস্তরে মিলিত করবেন। যাতে জান্নাতে তারা সকলে একে অপরকে দেখে আনন্দ উপভোগ করতে পারে।
وَالَّذِينَ آمَنُوا وَاتَّبَعَتْهُمْ ذُرِّيَّتُهُمْ بِإِيْمَانٍ الْحَقْنَا بِهِمْ ذُرِّيَّتَهُمْ وَمَا التَنَاهُمْ مِّنْ عَمَلِهِمْ مِّنْ شَيْءٍ كُلَّ امْرِئٍ بِمَا كَسَبَ رَهِينٌ .
যারা ঈমান গ্রহণ করে এবং তাদের সন্তানরা ঈমানে তাদের অনুগামী, আমি তাদেরকে তাদের পিতৃপুরুষদের সাথে মিলিত করে দিব এবং তাদের আমল বিন্দুমাত্রও কমানো হবে না। সকল ব্যক্তি তার স্বীয় কৃতকর্মের জন্য দায়ী। (সূরা তুর-২১)
📄 জান্নাতে সুস্বাদু ফলমূল ও রুচিসম্মত গোশত পরিবেশন করা হবে
১৩. জান্নাতীদেরকে সুস্বাদু ফলের পাশাপাশি তাদের রুচিসম্মত গোশতও পরিবেশন করা হবে। জান্নাতীরা খানা-পিনার সময় অন্তরঙ্গভাবে আলোচনায় লিপ্ত হবে। জান্নাতীদের সেবকরা এত সুন্দর হবে যেন তারা সংরক্ষিত প্রবাল মুক্তা।
وامْدَدْنَاهُمْ بِفَاكِهَةٍ وَلَحْمٍ مِّمَّا يَشْتَهُونَ، يَتَنَازَعُونَ فِيهَا كَأْسًا لَا لغو فِيهَا وَلَا تَأْثِيمٍ، وَيَطُوفُ عَلَيْهِمْ غِلْمَانٌ لَّهُمْ كَأَنَّهُمْ لُؤْلُوْ مَكْنُونٌ .
আমি তাদেরকে প্রদান করব ফল-মূল এবং মাংস যা তারা চাইবে, সেখানে তারা একে অপরকে পানপাত্র দিবে, যাতে অসার বকাবকি নেই এবং অপরাধমূলক কাজও নেই। সুরক্ষিত মোতি সদৃশ বালকেরা তাদের সেবায় ঘোরাফেরা করবে। (সূরা তুর-২২-২৪)