📄 ঈমান গ্রহণের পর সৎ আমলকারী জান্নাতে বাহ্যিক যাবতীয় দোষত্রুটি থেকে মুক্ত থাকবে
১. ঈমান গ্রহণের পর সৎ আমলকারী জান্নাতে প্রবেশ করবে। জান্নাতের ফলগুলো নাম ও আকৃতির দিক থেকে ইহজগতের ফলের অনুরূপ হবে। জান্নাতী নারীগণ বাহ্যিক ত্রুটি যেমন (হায়েয, নেফাস) এবং অভ্যন্তরীণ ত্রুটি যেমন: (ক্রোধ, হিংসা) ইত্যাদি থেকে পবিত্র থাকবে এবং জান্নাতের জীবন হবে চিরস্থায়ী।
وَبَشِّرِ الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ أَنَّ لَهُمْ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ كُلَّمَا رُزِقُوا مِنْهَا مِنْ ثَمَرَةٍ رِزْقًا قَالُوا هَذَا الَّذِي رُزِقْنَا مِنْ قَبْلُ وَأُتُوا بِهِ مُتَشَابِهًا وَلَهُمْ فِيهَا أَزْوَاجٌ مُطَهَّرَةٌ وَهُمْ فِيهَا خَالِدُونَ .
(আর হে নবী!) যারা ঈমান এনেছে এবং সৎ কাজগুলো করেছে, আপনি তাদেরকে এমন জান্নাতের সুসংবাদ দিন, যার পাদদেশে নহরগুলো প্রবাহমান থাকবে। যখনই তার খাবার হিসেবে কোন ফল প্রাপ্ত হবে, তখনই তারা বলবে, এতো অবিকল ঐ ফল যা ইতোপূর্বে আমরা (দুনিয়ায়) প্রাপ্ত হয়েছিলাম। বস্তুত তাদেরকে একই প্রকৃতির ফল প্রদান করা হবে। আর তাদের জন্য শুদ্ধচারিণী নারীগণ থাকবে। আর সেখানে তারা অনন্তকাল অবস্থান করবে। (সূরা বাক্বারা-২৫)
📄 জান্নাতীগণ শেষ বিচারের দিন সর্বপ্রকার অপমান ও লাঞ্ছনা থেকে নিরাপদ থাকবে
২. জান্নাতীগণ শেষ বিচারের দিন সর্বপ্রকার অপমান ও লাঞ্ছনা থেকে নিরাপদ থাকবে এবং আল্লাহর দীদার লাভ করবে।
لِلَّذِينَ أَحْسَنُوا الْحُسْنَى وَزِيَادَةٌ وَلَا يَرْهَقُ وُجُوهَهُمْ قَتَرٌ وَلَا ذِلَّةٌ أُولَئِكَ أَصْحَابُ الْجَنَّةِ هُمْ فِيهَا خَالِدُونَ .
যারা নেক কাজ করেছে তাদের জন্য রয়েছে কল্যাণ এবং তার চেয়েও বেশি। আর তাদের মুখমণ্ডলকে আবরিত করবে না মলিনতা কিংবা অপমান। তারাই হল জান্নাতবাসী, এতেই তারা বসবাস করতে থাকবে অনন্তকাল। (সূরা ইউনুস-২৬)
📄 মু'মিনদের অন্তরে পরস্পরের প্রতি কোনো প্রকার হিংসা বিদ্বেষ থাকবে না
৩. মু'মিনদের মধ্য থেকে যাদের অন্তরে পরস্পরের ব্যাপারে কোন প্রকার হিংসা বা অপছন্দনীয়তা থাকবে জান্নাতে যাওয়ার পর আল্লাহ তা মিটিয়ে দেবেন।
وَنَزَعْنَا مَا فِي صُدُورِهِمْ مِّنْ غِلَّ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهِمُ الْأَنْهَارُ وَقَالُوا الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي هَدَانَا لِهَذَا وَمَا كُنَّا لِنَهْتَدِي لَوْلَا أَنْ هَدَانَا اللهُ لَقَدْ جَاءَتْ رُسُلُ رَبِّنَا بِالْحَقِّ وَنُوْدُوا أَنْ تِلْكُمُ الْجَنَّةُ أُوْرِثْتُمُوهَا بِمَا كُنْتُمْ تَعْمَلُونَ .
তাদের অন্তরে যে দুঃখ ছিল, আমি তা বের করে দেব। তাদের তলদেশ দিয়ে নির্ঝরণী প্রবাহিত হবে। তারা বলবে, যাবতীয় প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আমাদেরকে এ পর্যন্ত পৌছিয়েছেন, আমরা কখনো পথ পেতাম না। যদি আল্লাহ আমাদেরকে পথ প্রদর্শন না করতেন। আমাদের প্রতিপালকের দূত আমাদের নিকট সত্য কথা নিয়ে এসেছিল, আওয়াজ আসবে: এটি জান্নাত, তোমরা এর উত্তরাধিকারী হলে তোমাদের কর্মের প্রতিদানে। (সূরা আ'রাফ-৪৩)
📄 জান্নাতে কোন প্রকার হিংসা-বিদ্বেষ থাকবে না
৪. জান্নাতে জান্নাতীরা কখনো ক্ষুধা এবং পিপাসা অনুভব করবে না, জান্নাত না অধিক ঠাণ্ডা না অধিক গরম বরং নাতিশীতোষ্ণ থাকবে।
إِنَّ لَكَ أَلَّا تَجُوعَ فِيهَا وَلَا تَعْرَى ، وَأَنَّكَ لَا تَظْمَؤُا فِيهَا وَلَا تَضْحى .
তোমাকে এই প্রদান করা হলো যে, তুমি ক্ষুধার্ত হবে না এবং বস্ত্রহীন হবে না। আর তোমার পিপাসাও হবে না এবং রৌদ্রের কষ্টও পাবে না। (সূরা ত্বা-হা-১১৮, ১১৯)