📄 রামাদান মাসে জান্নাতের দরজাসমূহ খুলে দেয়া হয়
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ (رض) أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ قَالَ إِذَا جَاءَ رَمَضَانُ فُتِحَتْ أَبْوَابُ الْجَنَّةِ وَغُلِّقَتْ أَبْوَابُ النَّارِ وَصُفِّدَتِ الشَّيَاطِينُ
আবূ হুরাইরা (রা) বলেন রাসূলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেছেন: যখন রামাদানের আগমন ঘটে, তখন জান্নাতের দরজাগুলো খুলে দেওয়া হয়। আর জাহান্নামের দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়। শয়তানকে জিঞ্জিরাবদ্ধ করা হয়। (মুসলিম)
📄 কবরে জান্নাতী ব্যক্তিকে জান্নাতে তার ঠিকানা দেখানো হয়
عَنِ ابْنِ عُمَرَ (رض) قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ إِذَا مَاتَ أَحَدُكُمْ فَإِنَّهُ يُعْرَضُ عَلَيْهِ مَقْعَدَهُ بِالْغَدَاةِ وَالْعَشِيِّ فَإِنْ كَانَ مِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ فَمِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ وَإِنْ كَانَ مِنْ أَهْلِ النَّارِ فَمِنْ أَهْلِ النَّارِ
আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ইরশাদ করেছেন: যখন তোমাদের কোন ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করে তখন সকাল-সন্ধ্যা তার ঠিকানা তার সামনে উল্লেখ করা হয়, যদি জান্নাতী হয় তাহলে জান্নাতে (তার ঠিকানা তাকে দেখানো হয়) আর যদি জাহান্নামী হয় (তাহলে জাহান্নামে তার ঠিকানা তাকে দেখানো হয়। (বুখারী)
📄 রাসূলে কারীম (সা) জান্নাতে ওমর (রা)-এর ঠিকানা দেখে এসেছেন
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ (رض) قَالَ بَيْنَمَا نَحْنُ عِنْدَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذْ قَالَ بَيْنَا أَنَا نَائِم رَأَيْتُنِي فِي الْجَنَّةِ فَإِذَا امْرَأَةٌ تَتَوَضَّأُ إِلَى جَانِبِ قَصْرٍ فَقُلْتُ لِمَنْ هُذَا الْقَصْرُ؟ فَقَالُوا لِعُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ (رض) فَذَكَرْتُ غَيْرَتَهُ فَوَلَّيْتُ مُدْبِرًا فَبَكَى عُمَرُ وَقَالَ اعَلَيْكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ .
আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা একদা নবী এর নিকট ছিলাম, তখন তিনি বললেন: আমি ঘুমন্ত অবস্থায় ছিলাম, হঠাৎ করে আমি আমাকে জান্নাতে দেখতে পেলাম? আমি একটি দালানের পাশে এক নারীকে ওজু করতে দেখে জিজ্ঞেস করলাম যে, এ দালানটি কার? তারা বলল: এটা ওমর বিন খাত্তাব (রা)-এর। আমি তখন তার আত্মমর্যাদাবোধের কথা চিন্তা করলাম। তাই আমি ফিরে গেলাম। ওমর (রা) বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমি কি আপনার ওপর আত্মমর্যাদাবোধ দেখাব? (বুখারী)
জান্নাত মোট আটটি। স্তর হিসেবে পর্যায়ক্রমে পর্যায়ক্রমে জান্নাতগুলো হচ্ছে-
১. জান্নাতুল ফিরদাউস (جَنَّةُ الْفِرْدَدوس)
২. দারুল মাক্বাম (دَارُ الْمَقَامِ)
৩. জান্নাতুল মাওয়া (جَنَّةُ الْمَاوى)
৪. দারুল ক্বারার (دَارُ الْقَرَارِ)
৫. দারুস সালাম (دار السّلام)
৬. জান্নাতুল আদন (جَنَّةُ الْعَدْنِ)
৭. দারুন নাঈম (دَارُ النَّعِيمِ)
৮. দারুল খুলদ (دَارُ الْخُلْد)
এগুলোর মধ্যে জান্নাতুল ফিরদাউস হলো সর্বশ্রেষ্ঠ জান্নাত।
১. জান্নাতুল ফিরদাউস
إِنَّ الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ كَانَتْ لَهُمْ جَنَّاتُ الفردوس نُزُلاً.
নিশ্চয় যারা বিশ্বাস স্থাপন করে এবং সৎকর্ম সম্পাদন তাদের অভ্যর্থনার জন্য রয়েছে জান্নাতুল ফিরদাউস। (১৮-সূরা আল-কাহাফ: ১০৭)
২. দারুল মাক্বাম
الَّذِينَ أَحَلَّنَا دَارَ الْمُقَامَةِ مِنْ فَضْلِهِ : لا يَمَسُّنَا فِيهَا نَصَبٌ وَلَا يَمَسُّنَا فِيهَا لُغُوبٌ.
যিনি স্বীয় অনুগ্রহে আমাদেরকে বসাবাসের স্থায়ী আবাস দিয়েছেন তথায় কষ্ট আমাদেরকে স্পর্শ করে না, স্পর্শ করে না ক্লান্তি। (৩৫-সূরা ফাতির-৩৫)
৩. জান্নাতুল মাওয়া
أَمَّا الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّلِحْتِ فَلَهُمْ جَنَّتُ الْمَأْوَى نُزُلاً بِمَا كَانُوا يَعْمَلُونَ .
যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে তাদের জন্য রয়েছে তাদের কৃতকর্মের আপ্যায়ন স্বরূপ বসবাসের জান্নাত। (৩২-সুরা সাজদাহ: ১৯)
৪. দারুল ক্বারার
يُقَوْمِ إِنَّمَا هُذِهِ الْحَيُوةُ الدُّنْيَا مَتَاعٌ رَوَ إِنَّ الْآخِرَةَ هِيَ دار القرار .
হে আমার সম্প্রদায়! এই পার্থিব জীবন তো অস্থায়ী উপভোগের বস্তু, এবং আখিরাতই হচ্ছে চিরস্থায়ী আবাস। (৪০-সুরা মু'মিন: ৩৯)
৫. দারুস সালাম
لَهُمْ دَارُ السَّلاَمِ عِنْدَ رَبِّهِمْ وَهُوَ وَلِيُّهُمْ بِمَا كَانُوا يَعْمَلُونَ .
তাদের জন্য প্রতিপালকের নিকট নিরাপত্তার গৃহ রয়েছে এবং তিনি তাদের বন্ধু তাদের কর্মের কারণে। (৬-সূরা আনয়াম : ১২৭)
৬. জান্নাতুল আদন
وَعَدَ اللَّهُ الْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَتِ جَنَّتٍ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهَا الْأَنْهُرُ خَلِدِينَ فِيهَا وَمَسْكِنَ طَيِّبَةٌ فِي جَنَّتِ عَدْنٍ ط وَرِضْوَانٌ مِّنَ اللَّهِ أَكْبَرُ - ذَلِكَ هُوَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ .
আল্লাহ তায়ালা ঈমানাদার পুরুষ ও ঈমানদার নারীদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন কানন-কুঞ্জনের, যার তলদেশে প্রবাহিত হয় প্রস্রবণ তারা সেগুলোর মাঝে স্থায়ীভাবে থাকবে। আর এসব কানন-কুঞ্জনে থাকবে পরিচ্ছন্ন থাকার ঘর। বস্তুত এ সমুদয়ের মাঝে সবচেয়ে বড় হলো আল্লাহর সন্তুষ্টি আর একটি হলো মহাসাফল্য (৯-সূরা তাওবা: ৭২)
৭. দারুন নাঈম
وَلَوْ أَنَّ أَهْلَ الْكِتَابِ أَمَنُوا وَاتَّقَوْا لَكَفَّرْنَا عَنْهُمْ سَيَاتِهِمْ وَلَأَدْخَلْنَا هُمْ جَنَّتِ النَّعِيمِ .
যদি আহলে কিতাবরা ঈমান আনতো এবং খোদাভীতি অবলম্বন করত তবে আমি তাদের মন্দ বিষয়সমূহ ক্ষমা করে দিতাম এবং তাদেরকে নিয়ামতের উদ্যানসমূহে প্রবিষ্ট করতাম। (৫-সুরা মায়েদা: ৬৫)
৮. দারুল খুলদ
قُلْ أَذَالِكَ خَيْرٌ أَمْ جَنَّةُ الْخُلْدِ الَّتِي وُعِدَ الْمُتَّقُونَ . لَهُمْ جَزَءٌ وَ مَصِيرًا . كَانَتْ
বলুন এটা উত্তম, না চিরকাল বসবাসের জান্নাত, যার সুসংবাদ দেয়া হয়েছে মুত্তাকিদেরকে? সেটাই হবে তাদের প্রতিদান ও প্রত্যাবর্তন স্থান। (২৫-সূরা ফুরক্বান: ১৫)