📄 প্রাথমিকভাবে জান্নাত থেকে বঞ্চিত মানুষ
এ গ্রন্থে "জান্নাত থেকে প্রাথমিকভাবে বঞ্চিত থাকা মানুষ" নামক অধ্যায়টি শামিল করা হল, এখানে যে ঐ সমস্ত কবীরা গোনাহর কথা আলোচনা করা হবে, যার কারণে মুসলমান স্বীয় পাপের শাস্তি ভোগ করার জন্য প্রথমে জাহান্নামে যাবে। এরপর জান্নাতে প্রবেশ করবে। এ অধ্যায়েও সমস্ত কবীরা গুনাহর কথা আলোচনা করা হয় নি, যা জাহান্নামে যাওয়ার কারণ হবে, বরং শুধু ঐ সমস্ত হাদীসসমূহ বাছাই করা হয়েছে যেখানে রাসূলুল্লাহ স্পষ্টভাবে "ঐ ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে না" বা "আল্লাহ তার ওপর জান্নাত হারাম করেছেন" ইত্যাদি শব্দ ব্যবহার করেছেন। যাতে করে কোন কথা বলার বা অপব্যাখ্যার অবকাশ না থাকে।
এ কথা স্মরণ থাকা দরকার যে, সগীরা গুনাহ কোন সৎ কাজের মাধ্যমে (তাওবা ব্যতীতই) আল্লাহ স্বীয় দয়ায় ক্ষমা করে দেন। কিন্তু কবীরা গোনাহ তাওবা ব্যতীত ক্ষমা হয় না। আর কবীরা গুনাহর শাস্তি হল জাহান্নাম। সকল কবীরা গুনাহের শাস্তিও গুনাহ হিসেবে পৃথক পৃথক। যেমন হাদীসে বর্ণিত হয়েছে যে কোন কোন ব্যক্তিকে জাহান্নামের আগুন টাখনু পর্যন্ত স্পর্শ করবে। আবার কোন কোন ব্যক্তির কোমর পর্যন্ত স্পর্শ করবে এবং কোন কোন ব্যক্তির গর্দান পর্যন্ত স্পর্শ করবে। (মুসলিম)
অপর এক হাদীসে বর্ণিত হয়েছে, কোন কোন লোকের সমস্ত শরীরেই আগুন স্পর্শ করবে, তবে সেজদার স্থানটুকু আগুনের স্পর্শ থেকে মুক্ত থাকবে। (ইবনে মাযাহ)
কবীরা গুনাহর শাস্তি ভোগ করার পর আল্লাহ সমস্ত কালিমা পড়া মুসলমানদের জাহান্নাম থেকে বের করে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন।
মু'মিনদের একথা ভুলে যাওয়া ঠিক হবে না যে, জান্নাতে কিছুক্ষণ থাকা তো দূরের কথা বরং তার মাঝে এক পলক থাকাই মানুষকে দুনিয়ার সমস্ত নি'আমত, আরাম-আয়েশের কথা ভুলিয়ে দেয়ার জন্য যথেষ্ট হবে। তাই সকল মুসলমানের অনুভূতিগতভাবে এ চেষ্টা চালাতে হবে যে, জাহান্নাম থেকে সে বেঁচে থাকে এবং প্রথমবারে জান্নাতে প্রবেশকারীদের অন্তর্ভুক্ত থাকে। এ জন্য দুটি বিষয় গুরুত্বের সাথে দেখা দরকার।
প্রথমত: কবীরা গুনাহ থেকে বেঁচে থাকার জন্য যতদূর সম্ভব চেষ্টা করা, আর যদি কখনো অনিচ্ছা সত্ত্বেও কবীরা গুনাহ হয়ে যায়, তা হলে দ্রুত আল্লাহর নিকট তাওবা করে ভবিষ্যতে তা থেকে বেঁচে থাকার জন্য দৃঢ় মনোভাব রাখা।
দ্বিতীয়ত: অধিক পরিমাণে এমন আমল করা যার ফলে আল্লাহ স্বয়ং কবীরা গুনাহগুলো ক্ষমা করে দিবেন। যেমন নবী এর বাণী: "যে ব্যক্তি সকল সালাতের পর ৩৩ বার সুবহানাল্লাহ, ৩৩ বার আলহামদুলিল্লাহ, ৩৩ বার আল্লাহু আকবার বলার পর একবার লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু, ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু, লাহুল মুলকু, ওয়া লাহুল হামদু ওয়াহুয়া আলা কুল্লি সাইইন ক্বাদীর বলে আল্লাহ তার সমস্ত সগীরা গুনাহ ক্ষমা করে দেন যদিও তার গুনাহ সমুদ্রের ফেনা তুল্য হয়।" (মুসলিম)
অন্য এক হাদীসে বর্ণিত হয়েছে, যে ব্যক্তি বাজারে প্রবেশ করার পূর্বে লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু, লাহুল মুলকু, ওয়ালাহুল হামদু, ওয়া ইয়ুহয়ী ওয়া ইউমিতু, ওয়াহুয়া হাইয়ুন লাইয়ামুতু, বিয়াদিহিল খাইর, ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাইঈন কাদীর।
অর্থ: আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নেই, তিনি এক তাঁর কোন শরীক নেই, তাঁর জন্যই সমস্ত বাদশাহী, তাঁর জন্যই সমস্ত প্রশংসা, তিনি জীবন ও মৃত্যু দেন, তিনি চিরঞ্জীব, তিনি মৃত্যুবরণ করবেন না, তাঁর হাতেই যাবতীয় কল্যাণ, তিনি সর্ব বিষয়ের ওপর শক্তিমান। এ দোয়া পাঠ করবে তার আমলনামায় আল্লাহ দশ লক্ষ নেকী লিখে দিবেন এবং দশ লক্ষ গোনাহ ক্ষমা করে দিবেন এবং দশ লক্ষ মর্যাদা বৃদ্ধি করে দেন। (তিরমিযী)
দরূদের ফযীলত প্রসঙ্গে নবী এরশাদ করেছেন : যে ব্যক্তি আমার ওপর একবার দরূদ পাঠ করে আল্লাহ তার ওপর দশবার রহমত বর্ষণ করেন। তার দশটি গুনাহ ক্ষমা করেন। তার একটি মর্যাদা বৃদ্ধি করেন। তাই বেশি বেশি করে সিজদা কর। (অর্থাৎ বেশি বেশি করে নফল সালাত আদায় কর) (ইবনে মাজাহ)
কবীরা গুনাহ থেকে পরিপূর্ণরূপে বেঁচে থাকা এবং নিয়মিত তাওবা করা এবং সগীরা গুনাহগুলোকে ক্ষমাকারী আমলগুলো ধারাবাহিকভাবে বেশি বেশি করে করার পরও আল্লাহর দয়া ও অনুগ্রহের আশা রাখা যে, তিনি আমাকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করবেন এবং প্রথম সুযোগেই আমাকে জান্নাতে প্রবেশকারীদের অন্তর্ভুক্ত করবেন। নিশ্চয়ই তিনি তাওবা কবুলকারী এবং অত্যন্ত দয়াময়।
📄 একটি বাতিল আক্বীদার অপনোদন
কোন কোন লোক এ বিশ্বাস রাখে যে, বুযুরগানে দ্বীন এবং ওলীগণ যেহেতু আল্লাহর নিকট বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ এবং আল্লাহর প্রিয়, তাই তাদের উপায় বা ওসীলা করা বা তাদের হাতে হাত রাখলে আমরাও তাদের সঙ্গে সরাসরি জান্নাতে চলে যাব। তাদের এ আক্বীদার পক্ষে বড় বড় অফিসারদের উদাহরণ উল্লেখ করে থাকে। যেমন কেউ কেউ কোন মন্ত্রী বা গভর্নরের নিকট যেতে হলে তাকে ঐ মন্ত্রী বা গভর্নরের কোন ঘনিষ্ঠ লোকের সুপারিশ লাগবে। এভাবে আল্লাহর নিকট তার ক্ষমা পেতে হলেও কোন না কোন ওসীলা বা উপায় লাগবেই। কোন কোন বুযুর্গ নিজেরা এ দাবি করে থাকে যে, আমাদের সাথে মিশে সে সরাসরি জান্নাতে চলে যাবে। আর এজন্য ঐ ধরনের দুনিয়াবী উদাহরণগুলো উল্লেখ করা হয়ে থাকে। যেমন ইঞ্জিনের পিছনের গাড়ির সাথে সংযোজিত ডাব্বাও ঐ স্থানেই পৌঁছবে যেখানে ইঞ্জিন পৌঁছে ইত্যাদি। কোন নবী বা কোন ওলীর বা কোন সৎ লোকের সাথে সুসম্পর্ক থাকাই কি জান্নাতের যাওয়ার জন্য যথেষ্ট? আসুন এ প্রশ্নের উত্তর কিতাব ও সুন্নাহর আলোকে খুঁজে দেখি।
কুরআন মাজীদে এ কথার প্রতি বারবার ইঙ্গিত করা হয়েছে যে, শেষ বিচারের দিন সমস্ত মানুষ একাকী আল্লাহর নিকট হিসাব দেয়ার জন্য উপস্থিত হবে। কারো সাথে কোন ধনসম্পদ থাকবে না, না থাকবে কোন সন্তান-সন্ততি, না কোন নবী বা ওলী। আল্লাহ তা'য়ালার বাণী-
وَنَرِثُهُ مَا يَقُولُ وَيَأْتِيْنَا فَرْدًا .
সে এ বিষয়ে কথা বলে, তা থাকবে আমার অধিকারে এবং সে আমার নিকট আসবে একা। (সূরা মারইয়াম: ৮০)
অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেন- وَكُلُّهُمْ أَنِيْهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فَرْدًا .
এবং শেষ বিচারের দিন তাদের সকলেই তাঁর নিকট আসবে একাকী অবস্থায়। (সূরা মারইয়াম: ৯৫)
অন্যত্র আল্লাহ বলেন- وَلَقَدْ جِئْتُمُونَا فَرَادَى كَمَا خَلَقْنَاكُمْ أَوَّلَ مَرَّةٍ وَتَرَكْتُمْ مَا خَوَلْنَاكُمْ وَرَاءَ ظُهُورِكُمْ وَمَا نَرَى مَعَكُمْ شُفَعَاءَ كُمُ الَّذِينَ زَعَمْتُمْ أَنَّهُمْ فِيكُمْ شُرَكُوا لَقَد تَقَطَّعَ بَيْنَكُمْ وَضَلَّ عَنْكُم مَّا كُنتُمْ تَزْعُمُونَ
আর তোমরা আমার নিকট এককভাবে এসেছ, যেভাবে প্রথম আমি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছিলাম, আর যা কিছু আমি তোমাদেরকে দিয়েছিলাম তা তোমরা নিজেদের পশ্চাতেই ছেড়ে এসেছ, আর আমি তো তোমাদের সাথে তোমাদের সে সুপারিশকারীদেরকে দেখছি না যাদের সম্বন্ধে তোমরা দাবি করতে যে, তাদেরকে তোমাদের কাজে কর্মে (আমার সাথে) শরীক করতে। বাস্তবিকই তোমাদের পরস্পরের সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। আর তোমরা যা কিছু ধারণা করতে তা সবই আজ তোমাদের নিকট থেকে উধাও হয়ে গেছে। (সূরা আন'আম : ৯৪)
আলোচ্য আয়াতে আল্লাহ অত্যন্ত স্পষ্ট করে তিনটি জিনিস বর্ণনা করেছেন।
১. শেষ বিচারের দিন সমস্ত মানুষ হিসাব দেয়ার জন্য আল্লাহর নিকট একাকী উপস্থিত হবে।
২. শেষ বিচারের দিন বুযুর্গ, ওলী, পীর, ফকীরের ওপর ভরসাকারীদেরকে হেয় করা হবে এ বলে যে দেখ, আজ তারা কোথাও তোমাদের দৃষ্টিগোচর হচ্ছে না।
৩. স্বীয় বুযুর্গ, ওলী বা পীরের ভক্তরা তাদের সাথে যোগাযোগের জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করবে কিন্তু তাদের আগ্রহ থাকা সত্ত্বেও তারা তাদের বুযুর্গ, ওলী বা পীরের সাথে কোন প্রকার যোগাযোগ স্থাপন করতে পারবে না।
এ আক্বীদাকে স্পষ্ট করার জন্য কুরআনে আল্লাহ কিছু উদাহরণ উল্লেখ করেছেন:
ضَرَبَ اللَّهُ مَثَلاً لِلَّذِينَ كَفَرُوا امْرَأَتَ نُوحٍ وَامْرَأَةَ لُوطٍ كَانَنَا تَحْتَ عَبْدَيْنِ مِنْ عِبَادِنَا صَالِحَيْنِ فَخَانَتَاهُمَا فَلَمْ يُغْنِيَا عَنْهُمَا مِنَ اللَّهِ شَيْئًا وَقِيلَ ادْخُلَا النَّارَ مَعَ الدَّاخِلِينَ .
আল্লাহ কাফেরদের জন্য নূহ (আ) ও লূত (আ)-এর স্ত্রীর দৃষ্টান্ত উল্লেখ করেছেন, তারা ছিল আমার বান্দাদের মধ্যে দুই সৎকর্মপরায়ণ বান্দার অধীন। কিন্তু তারা তাদের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা করেছিল, ফলে নূহ (আ) ও লূত (আ) তাদেরকে আল্লাহর শাস্তি থেকে রক্ষা করতে পারল না এবং তাদেরকে বলা হল জাহান্নামে প্রবেশকারীদের সাথে তোমরাও তাতে প্রবেশ কর। (সূরা তাহরীম আয়াত-১০)
আলোচ্য আয়াতে আল্লাহ্ এ আক্বীদা স্পষ্ট করেছেন যে, শেষ বিচারের দিন কোন নবীর সাথে সম্পর্ক থাকা বা তার সাথে চলা-ফেরা করাই জান্নাতে যাওয়ার জন্য যথেষ্ট নয়। রাসূলে মাকবুল স্বীয় কন্যা ফাতেমা (রা)-কে সম্বোধন করে উপদেশ দিয়েছেন যে-
يَا فَاطِمَةُ انْقِذِي نَفْسَكِ مِنَ النَّارِ فَإِنِّي لَا أَمْلِكُ لَكُمْ مِّنَ اللهِ شَيْئًا .
হে ফাতেমা! তুমি তোমাকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা কর। কেননা আল্লাহর নিকট আমি তোমাদের জন্য কিছুই করতে পারব না। (মুসলিম)
রাসূলুল্লাহ ইবরাহীম (আ)-এর পিতা আযর প্রসঙ্গে বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন: শেষ বিচারের দিন ইবরাহীম (আ) তাঁর পিতা আযরকে এমন অবস্থায় দেখতে পাবে যে তার মুখ কালো ও আবর্জনাময় হয়ে আছে, ইবরাহীম (আ) বললেন: আমি তোমাকে দুনিয়াতে বলি নি যে, আমার নাফরমানী করবে না? তাঁর পিতা বলবে: ঠিক আছে আজ আর আমি তোমার নাফরমানী করব না। ইবরাহীম আল্লাহর নিকট দরখাস্ত করবে যে, হে আমার প্রভু! তুমি আমাকে ওয়াদা দিয়েছিল যে, শেষ বিচারের দিন আমাকে অপমানিত করবে না। কিন্তু এর চেয়ে বড় অপমান আর কি হতে পারে যে, আমার পিতা আজ তোমার রহমত থেকে বঞ্চিত। আল্লাহ বললেন: আমি কাফেরদের জন্য জান্নাত হারাম করেছি। অতপর আল্লাহ ইবরাহীম (আ)-কে সম্বোধন করে বলবেন: ইবরাহীম! দেখ তোমার উভয় পায়ের নিচে কি? ইবরাহীম (আ) তাকিয়ে দেখবেন ময়লা আবর্জনা মিশ্রিত একটি প্রাণী ফেরেশতাগণ তাকে পদাঘাত করে জাহান্নামে নিক্ষেপ করছে। (বুখারী)
মূলত ময়লা আবর্জনা মিশ্রিত প্রাণী তা হবে ইবরাহীম (আ)-এর পিতা আযর। একটি প্রাণীর আকৃতিতে তাকে জাহান্নামে এজন্য নিক্ষেপ করা হবে যাতে তাঁর পিতাকে মানুষের আকৃতিতে দেখে মায়ায় না পড়ে যান। কিন্তু আল্লাহর বিধান স্ব স্থানে স্থির থাকবে। যতক্ষণ পর্যন্ত মানুষ সঠিক আক্বীদা, তাওহীদ এবং সৎ আমলের ওপর না থাকবে ততক্ষণ কোন নবী, ওলী বা আল্লাহর নেক বান্দার সাথে সুসম্পর্ক থাকা বা প্রিয় হওয়া, কাউকে না জাহান্নাম থেকে বাঁচাতে পারবে, আর না জান্নাতে প্রবেশ করাতে পারবে।
এ সম্পর্কে এখানে দু'টি বিষয় স্পষ্ট করা দরকার মনে করছি।
প্রথমত: শেষ বিচারের দিন নবী, সৎলোক এবং শহীদগণ সুপারিশ করবে তা সম্পূর্ণ সত্য এবং কিতাব ও সুন্নাতের মাধ্যমে প্রমাণিত। কিন্তু সে সুপারিশ আল্লাহর সন্তুষ্টি এবং তাঁর অনুমতিক্রমে হবে কোন নবী, ওলী বা শহীদ স্ব ইচ্ছায় আল্লাহর নিকট সুপারিশ করার সাহস দেখাতে পারবে না। আর এ সুপারিশও হবে একমাত্র ঐ ব্যক্তির জন্য যার ব্যাপারে সুপারিশ করার জন্য আল্লাহ্ অনুমতি দিবেন। আল্লাহ তা'য়ালা ইরশাদ করেন- مَنْ ذَا الَّذِي يَشْفَعُ عِنْدَهُ إِلَّا بِإِذْنِهِ .
(আল্লাহর) অনুমতি ব্যতীত কে তাঁর নিকট সুপারিশ করবে? (সূরা বাক্বারা - ২৫৫)
দ্বিতীয়ত: আল্লাহর ওলী কে? শেষ বিচারের দিন কাকে সুপারিশের অনুমতি দেয়া হবে, আর কাকে তা দেয়া হবে না, তা একমাত্র আল্লাহই ভালো জানেন। কোন ব্যক্তি এ দাবি করতে পারবে না যে, অমুক ব্যক্তি আল্লাহর ওলী তাই সে অবশ্যই সুপারিশের অনুমতি পাবে। না কোন ব্যক্তি নিজের ব্যাপারে এ দাবি করতে পারবে যে, আমাকে আল্লাহ অবশ্যই সুপারিশের অনুমতি দিবেন। আমি অমুক অমুকের জন্য সুপারিশ করব। কোন জীবিত বা মৃত ব্যক্তিকে লোকেরা আল্লাহর ওলী বলা বাস্তবেই সে আল্লাহর ওলী বা প্রিয় হওয়ার জন্য যথেষ্ট নয়। অসম্ভব নয় যে, মৃত ব্যক্তিকে লোকেরা ওলী মনে করে, তার ওসীলা ধরতে তার কবরে মানত উল্লেখ করছে, সে ব্যক্তি নিজেই কোন গুনাহর কারণে আল্লাহর শাস্তি ভোগ করছে। রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর সামনে কোন এক ব্যক্তিকে শহীদ বলা হল, তখন তিনি বললেন: কখনো না। গনীমতের মাল থেকে একটি চাদর চুরি করার কারণে আমি তাকে জাহান্নামে দেখেছি। (তিরমিযী)
সার কথা হল এই যে, ওলী ও বুযুর্গদের ওসীলা ধরে বা তাদের সাথে সুসম্পর্ক রাখার কারণে জান্নাতে চলে যাওয়ার আক্বীদা সম্পূর্ণ একটি ভ্রান্তি এবং শয়তানের চক্রান্ত। যে ব্যক্তি আসলেই জান্নাত কামনা করে তার উচিত একনিষ্ঠভাবে তাওহীদ ও সঠিক আক্বীদা অনুযায়ী আমল করা। আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন-
فَمَن كَانَ يَرْجُوا لِقَاءَ رَبِّهِ فَلْيَعْمَلْ عَمَلًا صَالِحًا وَلَا يُشْرِكْ بِعِبَادَةِ رَبِّهِ أَحَدًا
অতএব যে তার প্রতিপালকের সাক্ষাৎ কামনা করে সে যেন সৎকর্ম করে ও তার প্রতিপালকের ইবাদতে কাউকে শরীক না করে। (সূরা কাহফ : ১১০) আর জান্নাতে যাওয়ার সঠিক রাস্তা এটাই।
📄 জান্নাতের দরজা
৫. জান্নাতের দরজা