📘 জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা > 📄 পারিবারিক জীবন

📄 পারিবারিক জীবন


জান্নাতে কোন ব্যক্তি একাকী থাকবে না। প্রত্যেকের দু'জন করে স্ত্রী থাকবে, আর এ দু স্ত্রী আদম সন্তানদের মধ্য থেকে হবে। (ইবনে কাসীর)

পৃথিবীর এ মহিলাদেরকে জান্নাতে প্রবেশ করানোর পূর্বে আল্লাহ তাদেরকে পুনরায় নতুন করে সৃষ্টি করবেন। আর তখন তাদেরকে ঐ সৌন্দর্য প্রদান করবেন যা জান্নাতে বিদ্যমান হুরদেরকে দেয়া হয়েছে। এ নারীদেরকে নতুন করে সৃষ্টি করার পর তাদেরকে কোন জ্বিন ও ইনসান স্পর্শও করে নি। তারা তাদের স্বামীদের সমবয়সী ও লাজুক, পর্দাশীল, অত্যন্ত স্বামী ভক্ত হবে। জান্নাতীরা তাদের সুযোগ মতো স্বীয় স্ত্রীগণের সাথে ঘন শীতল ছায়ায় প্রবাহমান নদীর তীরে সোনা-চান্দি ও মুক্তার নির্মিত আসনসমূহে বসে আনন্দময় গল্পে মেতে উঠবে। খানাপিনার জন্য মহিলাদের কষ্ট করতে হবে না। বরং তারা যা কিছু চাইবে মুক্তার ন্যায় সুন্দর ও বুদ্ধিমান খাদেম তা তাদের সামনে সাথে সাথে উপস্থিত করবে। একই খান্দানের নিকট আত্মীয়গণ যেমন: পিতামাতা, দাদা-দাদী, নানা-নানী, ছেলে-মেয়ে, নাতী-নাতনী ইত্যাদি যদি জান্নাতে স্তরের দিক থেকে একে অপর থেকে দূরবর্তীতে থাকে তবে আল্লাহ স্বীয় অনুগ্রহে তাদেরকে পরস্পরের নিকটবর্তী করে দিবেন। সুবহানাল্লাহী ওয়া বিহামদিহী সুবহানাল্লাহিল আযীম।)

📘 জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা > 📄 খানা-পিনা

📄 খানা-পিনা


জান্নাতে প্রবেশ করার পর জান্নাতবাসীগণকে সর্বপ্রথম মাছের কলিজা দিয়ে আপ্যায়ন করানো হবে। এরপর গরুর গোশত দিয়ে আপ্যায়ন করানো হবে। আর পানীয় হিসেবে প্রথমে দেয়া হবে, 'সালসাবীল' নামক ঝর্ণার পানি। যা আদার স্বাদ মিশ্রিত হবে। সর্বপ্রকার সুস্বাদু ফল যেমন আঙ্গুর, আনার, খেজুর, কলা, ইত্যাদির কথা বিশেষভাবে কুরআনে উল্লেখ হয়েছে। এরপরও আরো থাকবে সর্বপ্রকার সুস্বাদু ও সুগন্ধিময় পানীয়, যেমন: দুধ, মধু, কাউসারের পানি, আদা বা কর্পূরের স্বাদ মিশ্রিত পানি। বিশেষভাবে উল্লেখ্য হল জান্নাতীদের সম্মানার্থে সোনা, চান্দি ও কাঁচের তৈরি পাত্রগুলো সরবরাহ করা হবে। খানা-পিনার স্বাদ কখনো নষ্ট হবে না। বরং সর্বক্ষণই তারা নতুন নতুন খানা-পিনা থেকে কোন প্রকার গন্ধ, ঝাল, আলসত, ঠাণ্ডা বা খারাপ নেশাদার হবে না।

জান্নাতী নিজে যদি কোন গাছের ফল খেতে চায় তাহলে স্বয়ং ঐ ফল তার হাতের নাগালে চলে আসবে। কোন পাখির গোশত খেতে চাইলে তখনই প্রস্তুত করে তার সামনে উল্লেখ করা হবে। জান্নাতের এ সমস্ত নি'আমত চিরস্থায়ী হবে। তাতে কখনো কোন কমতি দেখা দিবে না। আর কখনো শেষও হবে না। না তা কোন বিশেষ মৌসুমের সাথে সম্পৃক্ত থাকবে। আরো বড় বিষয় হল এই যে, এ নি'আমতগুলো পাওয়ার জন্য জান্নাতীকে কারো কাছ থেকে কোন অনুমতি নিতে হবে না। যে জান্নাতী যখনই চাইবে যে পরিমাণে চাইবে স্বাধীনভাবে সে তা হাসিল করতে পারবে। আর আল্লাহর এ বাণীরও এ অর্থই- لَا مَقْطُوعَةٍ وَّلَا مَمْنُوعَةٍ .
জান্নাতের নি'আমতের ধারাবাহিকতা কখনো ছিন্ন হবে না, আর না তা নিষিদ্ধ হবে। (সূরা ওয়াকেয়া-৩৩)

📘 জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা > 📄 বসবাস

📄 বসবাস


জান্নাতে সকল দম্পতির জন্য পৃথক ও প্রশস্ত বাড়ি থাকবে যার ঘরগুলো নির্মিত সোনা চান্দির ইট এবং উন্নতমানের সুগন্ধি দিয়ে। ঘরের পাথরগুলো হবে মুক্তা ও ইয়াকুতের, আর তার মাটি হবে জাফরানের। (তিরমিযী) সকল জান্নাতীকে তার স্তর অনুযায়ী দু'টি করে প্রশস্ত বাগান দান করা হবে। উভয় বাগান স্বর্ণ নির্মিত হবে, যার প্রতিটি জিনিস স্বর্ণের হবে। সমস্ত আসবাবপত্র স্বর্ণের হবে, গাছ-পালা স্বর্ণের হবে। আসনগুলো স্বর্ণের হবে। প্লেটগুলো স্বর্ণের হবে। এমনকি চিরুণীগুলো স্বর্ণের হবে। সাধারণ নেক্কারগণকেও দুটি প্রশস্ত বাগান প্রদান করা হবে। কিন্তু তাদের বাগান হবে চান্দি নির্মিত অর্থাৎ তার সব কিছু চান্দির হবে।

ঐ বাগানসমূহে সুউচ্চ বালাখানাগুলো থাকবে। সেখানে সবুজ রেশমের কার্পেট মূল্যবান আসনগুলো থাকবে। প্রতিটি ঘর এত প্রশস্ত হবে যে, তাঁর এক একটি খীমার প্রশস্ত হবে ৬০ মাইল। জান্নাতের নদীসমূহের মধ্যে সকল নদীর একটি ছোট শাখা নদী সকল ঘরে প্রবাহমান থাকবে। ঘরের বিভিন্ন স্থানে আঙ্গার ধানিকা থাকবে যার মধ্য থেকে চন্দনের যাদুময় সুঘ্রাণ এসে সমস্ত বাড়ির ফাঁকা জায়গাগুলোকে সুগন্ধিময় করে দিবে। এ ধরনের ঘর, খীমা, নদী, ঘনছায়া সম্পন্ন পরিবেশে জান্নাতীরা জীবন যাপন করবে।

📘 জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা > 📄 পোশাক

📄 পোশাক


জান্নাতীদেরকে বর্তমান রেশমের চেয়ে কয়েকগুণ মূল্যবান রেশম দেয়া হবে। যার ব্যবহার থেকে পৃথিবীতে তাদেরকে নিষেধ করা হয়েছিল। রেশম ব্যতীত আরো বিভিন্ন ধরনের মূল্যবান চাক-চিক্যমান পোশাক, যার মধ্যে সুন্দুস, ইস্তেবরাক ও ইতলাস। (বিভিন্ন প্রকার রেশমের নাম) উল্লেখ হয়েছে। এ সুযোগও থাকবে যে, জান্নাতে মহিলারা ব্যতীত পুরুষরাও সোনা চান্দির অলঙ্কার ব্যবহার করবে। উল্লেখ্য যে, জান্নাতে ব্যবহৃত স্বর্ণ পৃথিবীর স্বর্ণের চেয়ে বহুগুণ উন্নত হবে। রাসূলুল্লাহ বলেন: যদি একজন জান্নাতী পুরুষ তার অলঙ্কারগুলোসহ পৃথিবীতে উঁকি দেয় তাহলে তার অলঙ্কারের চমক সূর্যের আলোকে এমনভাবে ঢেকে দিবে যেমন সূর্যের আলো তারকার আলোকে ঢেকে দেয়। (তিরমিযী) সোনা-চাঁন্দি ব্যতীত আরো অন্যান্য প্রকার মুক্তা ও প্রবালের অলঙ্কার জান্নাতীদেরকে পরানো হবে। জান্নাতী মহিলাদেরকে এত সুন্দর ও হালকা পোশাক পরানো হবে যে, কোন কোন সময় সতর আবরিত করে পোশাক পরিধান করা সত্ত্বেও তার পায়ের গোছার মজ্জা পর্যন্ত দেখা যাবে। (বুখারী)

মহিলাদের সাধারণ পোশাকও এত মূল্যবান হবে যে, মাথার উড়নাও পৃথিবী এবং পৃথিবীতে যা কিছু আছে তার চেয়েও মূল্যবান হবে। (বুখারী) জান্নাতীদের পোশাক কখনো পুরানো হবে না। কিন্তু তারা তাদের ইচ্ছেমতো যখন খুশি তখন তা পরিবর্তন করতে পারবে।

هَذَا مَا تُوعَدُونَ لِكُلِّ أَوَّابٍ حَفِيظٌ .
এরই প্রতিশ্রুতি তোমাদেরকে দেয়া হয়েছিল, সকল আল্লাহভীরু ও হেফাযতকারীর জন্য। (সূরা ক্বাফ: আয়াত ৩২)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00