📘 জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা > 📄 শারীরিক গুণাগুণ

📄 শারীরিক গুণাগুণ


জান্নাতীদের চেহারা আলোকময় হবে, চক্ষুদ্বয় লাজুক হবে, মাথার চুল ব্যতীত শরীরের আর কোথাও কোন চুল থাকবে না। এমনকি দাড়ী-গোঁফও থাকবে না, বয়স ৩০-৩৩ বছরের মাঝামাঝি হবে, উচ্চতা মোটামুটি ৯ ফিটের মতো হবে। জান্নাতবাসী সর্বপ্রকার নাপাকী থেকে পবিত্র থাকবে, এমনকি থুথু এবং নাকের পানিও আসবে না। ঘাম হবে কিন্তু তা মেশক আম্বরের ন্যায় সুঘ্রাণযুক্ত থাকবে। জান্নাতবাসীগণ সর্বদা আরাম-আয়েশ ও হাসি-খুশি থাকবে। কারো কোন চিন্তা, ব্যথা, বিরক্ত ও ক্লান্তিবোধ থাকবে না। জান্নাতবাসীগণ সর্বদা সুস্থ থাকবে। তারা কখনো অসুস্থ, বৃদ্ধ ও তাদের মৃত্যু হবে না। জান্নাতী মহিলাদের যে গুণাবলির কথা কুরআনে বারবার এসেছে তা হল এই যে, জান্নাতের রমণী লজ্জাশীল হবে, দৃষ্টি নিম্নমুখী থাকবে। সৌন্দর্যে তারা মুক্তা ও প্রবালকেও হার মানায়। নবী বলেন: জান্নাতী রমণীগণ যদি ক্ষণিকের জন্যও পৃথিবীতে দৃষ্টিপাত করে তাহলে পূর্ব পশ্চিমের মাঝে যা কিছু আছে সব কিছুকে আলোকময় করে তুলবে এবং পূর্ব পশ্চিমের মাঝে যত খালি জায়গা আছে তা সুগন্ধিময় করে তুলবে। (বুখারী)

📘 জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা > 📄 পারিবারিক জীবন

📄 পারিবারিক জীবন


জান্নাতে কোন ব্যক্তি একাকী থাকবে না। প্রত্যেকের দু'জন করে স্ত্রী থাকবে, আর এ দু স্ত্রী আদম সন্তানদের মধ্য থেকে হবে। (ইবনে কাসীর)

পৃথিবীর এ মহিলাদেরকে জান্নাতে প্রবেশ করানোর পূর্বে আল্লাহ তাদেরকে পুনরায় নতুন করে সৃষ্টি করবেন। আর তখন তাদেরকে ঐ সৌন্দর্য প্রদান করবেন যা জান্নাতে বিদ্যমান হুরদেরকে দেয়া হয়েছে। এ নারীদেরকে নতুন করে সৃষ্টি করার পর তাদেরকে কোন জ্বিন ও ইনসান স্পর্শও করে নি। তারা তাদের স্বামীদের সমবয়সী ও লাজুক, পর্দাশীল, অত্যন্ত স্বামী ভক্ত হবে। জান্নাতীরা তাদের সুযোগ মতো স্বীয় স্ত্রীগণের সাথে ঘন শীতল ছায়ায় প্রবাহমান নদীর তীরে সোনা-চান্দি ও মুক্তার নির্মিত আসনসমূহে বসে আনন্দময় গল্পে মেতে উঠবে। খানাপিনার জন্য মহিলাদের কষ্ট করতে হবে না। বরং তারা যা কিছু চাইবে মুক্তার ন্যায় সুন্দর ও বুদ্ধিমান খাদেম তা তাদের সামনে সাথে সাথে উপস্থিত করবে। একই খান্দানের নিকট আত্মীয়গণ যেমন: পিতামাতা, দাদা-দাদী, নানা-নানী, ছেলে-মেয়ে, নাতী-নাতনী ইত্যাদি যদি জান্নাতে স্তরের দিক থেকে একে অপর থেকে দূরবর্তীতে থাকে তবে আল্লাহ স্বীয় অনুগ্রহে তাদেরকে পরস্পরের নিকটবর্তী করে দিবেন। সুবহানাল্লাহী ওয়া বিহামদিহী সুবহানাল্লাহিল আযীম।)

📘 জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা > 📄 খানা-পিনা

📄 খানা-পিনা


জান্নাতে প্রবেশ করার পর জান্নাতবাসীগণকে সর্বপ্রথম মাছের কলিজা দিয়ে আপ্যায়ন করানো হবে। এরপর গরুর গোশত দিয়ে আপ্যায়ন করানো হবে। আর পানীয় হিসেবে প্রথমে দেয়া হবে, 'সালসাবীল' নামক ঝর্ণার পানি। যা আদার স্বাদ মিশ্রিত হবে। সর্বপ্রকার সুস্বাদু ফল যেমন আঙ্গুর, আনার, খেজুর, কলা, ইত্যাদির কথা বিশেষভাবে কুরআনে উল্লেখ হয়েছে। এরপরও আরো থাকবে সর্বপ্রকার সুস্বাদু ও সুগন্ধিময় পানীয়, যেমন: দুধ, মধু, কাউসারের পানি, আদা বা কর্পূরের স্বাদ মিশ্রিত পানি। বিশেষভাবে উল্লেখ্য হল জান্নাতীদের সম্মানার্থে সোনা, চান্দি ও কাঁচের তৈরি পাত্রগুলো সরবরাহ করা হবে। খানা-পিনার স্বাদ কখনো নষ্ট হবে না। বরং সর্বক্ষণই তারা নতুন নতুন খানা-পিনা থেকে কোন প্রকার গন্ধ, ঝাল, আলসত, ঠাণ্ডা বা খারাপ নেশাদার হবে না।

জান্নাতী নিজে যদি কোন গাছের ফল খেতে চায় তাহলে স্বয়ং ঐ ফল তার হাতের নাগালে চলে আসবে। কোন পাখির গোশত খেতে চাইলে তখনই প্রস্তুত করে তার সামনে উল্লেখ করা হবে। জান্নাতের এ সমস্ত নি'আমত চিরস্থায়ী হবে। তাতে কখনো কোন কমতি দেখা দিবে না। আর কখনো শেষও হবে না। না তা কোন বিশেষ মৌসুমের সাথে সম্পৃক্ত থাকবে। আরো বড় বিষয় হল এই যে, এ নি'আমতগুলো পাওয়ার জন্য জান্নাতীকে কারো কাছ থেকে কোন অনুমতি নিতে হবে না। যে জান্নাতী যখনই চাইবে যে পরিমাণে চাইবে স্বাধীনভাবে সে তা হাসিল করতে পারবে। আর আল্লাহর এ বাণীরও এ অর্থই- لَا مَقْطُوعَةٍ وَّلَا مَمْنُوعَةٍ .
জান্নাতের নি'আমতের ধারাবাহিকতা কখনো ছিন্ন হবে না, আর না তা নিষিদ্ধ হবে। (সূরা ওয়াকেয়া-৩৩)

📘 জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা > 📄 বসবাস

📄 বসবাস


জান্নাতে সকল দম্পতির জন্য পৃথক ও প্রশস্ত বাড়ি থাকবে যার ঘরগুলো নির্মিত সোনা চান্দির ইট এবং উন্নতমানের সুগন্ধি দিয়ে। ঘরের পাথরগুলো হবে মুক্তা ও ইয়াকুতের, আর তার মাটি হবে জাফরানের। (তিরমিযী) সকল জান্নাতীকে তার স্তর অনুযায়ী দু'টি করে প্রশস্ত বাগান দান করা হবে। উভয় বাগান স্বর্ণ নির্মিত হবে, যার প্রতিটি জিনিস স্বর্ণের হবে। সমস্ত আসবাবপত্র স্বর্ণের হবে, গাছ-পালা স্বর্ণের হবে। আসনগুলো স্বর্ণের হবে। প্লেটগুলো স্বর্ণের হবে। এমনকি চিরুণীগুলো স্বর্ণের হবে। সাধারণ নেক্কারগণকেও দুটি প্রশস্ত বাগান প্রদান করা হবে। কিন্তু তাদের বাগান হবে চান্দি নির্মিত অর্থাৎ তার সব কিছু চান্দির হবে।

ঐ বাগানসমূহে সুউচ্চ বালাখানাগুলো থাকবে। সেখানে সবুজ রেশমের কার্পেট মূল্যবান আসনগুলো থাকবে। প্রতিটি ঘর এত প্রশস্ত হবে যে, তাঁর এক একটি খীমার প্রশস্ত হবে ৬০ মাইল। জান্নাতের নদীসমূহের মধ্যে সকল নদীর একটি ছোট শাখা নদী সকল ঘরে প্রবাহমান থাকবে। ঘরের বিভিন্ন স্থানে আঙ্গার ধানিকা থাকবে যার মধ্য থেকে চন্দনের যাদুময় সুঘ্রাণ এসে সমস্ত বাড়ির ফাঁকা জায়গাগুলোকে সুগন্ধিময় করে দিবে। এ ধরনের ঘর, খীমা, নদী, ঘনছায়া সম্পন্ন পরিবেশে জান্নাতীরা জীবন যাপন করবে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00