📘 জামাআতে নামাজ পড়ার গুরুত্ব ও ফজিলত > 📄 জামাতে উপস্থিত বান্দাদের নিয়ে ফেরেশতাসভায় আল্লাহর গর্ব

📄 জামাতে উপস্থিত বান্দাদের নিয়ে ফেরেশতাসভায় আল্লাহর গর্ব


জামাআতে উপস্থিত নামাযীদেরকে নিয়ে মহান আল্লাহ তাঁর ফিরিশ্বাসভায় গর্ব করেন। আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন,
আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে মাগরিবের সালাত পড়লাম। তারপর যার চলে যাওয়ার চলে গেলেন এবং যার থেকে যাওয়ার থেকে গেলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এত দ্রুতবেগে এলেন যে, তাঁর দীর্ঘ নিঃশ্বাস বের হতে লাগলো। তিনি তাঁর দু হাঁটুর উপর ভর করে বসে বলেনঃ তোমরা সুসংবাদ গ্রহণ করো। তোমাদের প্রতিপালক আসমানের একটি দরজা খুলে দিয়েছেন এবং ফেরেশতাদের নিকট তোমাদের সম্পর্কে গর্ব করে বলছেনঃ তোমরা আমার বান্দাদের দিকে তাকিয়ে দেখো, তারা এক ফরয আদায়ের পর পরবর্তী ফরয আদায়ের জন্য অপেক্ষা করছে। (সুনান ইবনু মাজাহ ৮০১)

মহান আল্লাহ জামাআতের নামায দেখে মুগ্ধ হন। মহানবী (ﷺ) বলেন,
"জামাআতের নামাযে আল্লাহ মুগ্ধ হন।” (আহমাদ, মুসনাদ, সিলসিলাহ সহীহাহ, আলবানী ১৬৫২নং)

📘 জামাআতে নামাজ পড়ার গুরুত্ব ও ফজিলত > 📄 জামাতে সালাত আদায়ে ২৫ বা ২৭ গুণ বেশি সওয়াব

📄 জামাতে সালাত আদায়ে ২৫ বা ২৭ গুণ বেশি সওয়াব


ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ
জামাআতের সাথে সালাত আদায় করা সালাত একাকী আদায় করা সালাত থেকে সাতাশগুণ অধিক মর্যাদাসম্পন্ন। (সহীহ মুসলিম ১৩৬৩)

আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ
কোনো ব্যক্তির জামা'আতের সাথে সালাতের সওয়াব, তার নিজের ঘরে ও বাজারে আদায়কৃত সালাতের সওয়াবের চেয়ে পঁচিশ গুণ বাড়িয়ে দেয়া হয়। এর কারণ এই যে, সে যখন উত্তমরূপে উযূ করলো, অতঃপর একমাত্র সালাতের উদ্দেশে মসজিদে রওয়ানা করল তখন তার প্রতি কদমের বিনিময়ে একটি মর্তবা বৃদ্ধি করা হয় এবং একটি গুনাহ মাফ করা হয়। সালাত আদায়ের পর সে যতক্ষণ নিজ সালাতের স্থানে থাকে, মালাকগণ তার জন্য এ বলে দু'আ করতে থাকেন - "হে আল্লাহ! আপনি তার উপর রহমত বর্ষণ করুন এবং তার প্রতি অনুগ্রহ করুন।” আর তোমাদের কেউ যতক্ষণ সালাতের অপেক্ষায় থাকে ততক্ষণ পর্যন্ত সে সালাতে রত বলে গণ্য হয়। (সহীহ বুখারী ৬৪৭)

📘 জামাআতে নামাজ পড়ার গুরুত্ব ও ফজিলত > 📄 যে যত অধিক দূরত্ব অতিক্রম করে সালাতে আসে, তার তত অধিক পুণ্য হবে

📄 যে যত অধিক দূরত্ব অতিক্রম করে সালাতে আসে, তার তত অধিক পুণ্য হবে


আবূ মূসা (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ
(মসজিদ হতে) যে যত অধিক দূরত্ব অতিক্রম করে সালাতে আসে, তার তত অধিক পুণ্য হবে। আর যে ব্যক্তি ইমামের সঙ্গে সালাত আদায় করা পর্যন্ত অপেক্ষা করে, তার পুণ্য সে ব্যক্তির চেয়ে অধিক, যে একাকী সালাত আদায় করে ঘুমিয়ে পড়ে। (সহীহ বুখারী ৬৫১)

ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ)..... উবাই ইবনু কা'ব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন,
আমি জনৈক লোক সম্পর্কে জানি যার বাড়ী অপেক্ষা কারো বাড়ী মসজিদ থেকে অধিক দূরে ছিল বলে আমার জানা নেই। জামা'আতের সাথে কোন ওয়াক্তের সালাত আদায় করা তিনি ছাড়তেন না। উবাই ইবনু কাব বলেনঃ তাকে বলা হলো অথবা (বর্ণনাকারী আবূ উসমান নাহদীর সন্দেহ) আমি বললামঃ যদি তুমি একটি গাধা কিনে নাও এবং তার পিঠে আরোহণ করে রাতের অন্ধকারে এবং রোদের মধ্যে সালাত আদায় করতে আসো তাহলে তো বেশ ভালই হয়। এ কথা শুনে সে বললঃ আমার বাড়ী মসজিদের পাশে হোক তা আমি পছন্দ করি না। আমি চাই মসজিদে হেঁটে আসা এবং মাসজিদ থেকে ঘরে আমার পরিবার-পরিজনের কাছে যাওয়ার প্রতিটি পদক্ষেপ আমার জন্য (আমলনামায়) লিপিবদ্ধ হোক। তার এ কথা শুনে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মহান আল্লাহ তা'আলা তোমার জন্য অনুরূপ সাওয়াবই একত্রিত করে রেখেছেন। (সহীহ মুসলিম ৬৬৩)

📘 জামাআতে নামাজ পড়ার গুরুত্ব ও ফজিলত > 📄 জীবনের সকল গুনাহ মাফ

📄 জীবনের সকল গুনাহ মাফ


হারুন ইবনু সাঈদ আল আইলী ..... উসমান (রাযিঃ) এর আযাদকৃত গোলাম হুমরান থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ
একদিন উসমান ইবনু আফফান খুব উত্তমরূপে ওযু করে বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে ওযু করতে দেখেছি যে, সে অতি যত্ন করে ওযু করলেন। অতঃপর তিনি [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বলেছেনঃ যে ব্যক্তি অনুরূপ ওযু করে সালাতের জন্যে মসজিদের দিকে যায় এবং তার মসজিদে যাওয়া যদি সালাত ব্যতীত অন্য কোন কারণে না হয় তবে তার অতীত জীবনের সকল গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে। (সহীহ মুসলিম ২৩২)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00