📄 সাক্ষীবিহীন ঋণদাতা ও নির্বোধদের মালদাতা
ثلاثة يدعون فلا يستجاب لهم : رجل كانت تحته امرأة سيئة الخلق فلم يطلقها ، ورجل كان له على رجل مال فلم يشهد عليه، ورجل آتی سـفـيـهـا ماله وقد قال الله عز وجل : ولا تؤتوا السفهاء أموالكم . (رواه ابن شاذان في المشيخة الصغرى ١/٥٧، والحاكم ۳۰۲/۲، وقال الحاكم صحيح على شرط الشيخين، ووافقه الذهبي)
তিন শ্রেণীর লোক আল্লাহকে ডাকবে কিন্তু তাদের ডাকে সাড়া দেয়া হবে না। (১) ঐ ব্যক্তি, যার অধীনে মন্দ চরিত্রের মহিলা (যিনাকার স্ত্রী) থাকা সত্ত্বেও তাকে তালাক দেয় না। (২) ঐ ব্যক্তি, যার মাল অন্যের কাছে রয়েছে অথচ মাল প্রদানের সময় এর কোন সাক্ষী রাখেনি। (৩) ঐ ব্যক্তি যে তার মাল নির্বোধদের প্রদান করে। অথচ আল্লাহ বলেছেন, "আর নির্বোধদেরকে তোমাদের মাল-সম্পদ প্রদান করো না”। (ইবনু শাজান মাশিখাতুস সুগরা ৫৭/১, হাকিম- তিনি বলেছেন, এটি বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ, ইমাম যাহাবীর মতও তাই)
সাক্ষীবিহীন ঋণদাতা: ইসলামের বিধান হলো কাউকে ঋণ প্রদানের সময় সাক্ষী রেখে নেয়া। তাই কেউ যদি এই বিধান মান্য না করে সাক্ষীবিহীন কাউকে ঋণ প্রদান করার ফলে কোন ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হয় এবং সমস্যা নিরসনের জন্য দু'আ করে তখন এই প্রসঙ্গে তার দু'আ কবুল করা হবে না।
নির্বোধদের মালদাতা: নাবালক শিশু, পাগল, অপ্রাপ্ত বয়স্ক, এতিম বালক, বেদীন- এরা সকলেই নির্বোধের অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহ তা'আলা এদেরকে মাল প্রদান করতে নিষেধ করেছেন। কেননা তাদেরকে মাল সম্পদ প্রদান করলে তারা না বুঝে বা অন্যায়ভাবে সমস্ত সম্পদ নিঃশেষ করে ফেলবে। অতএব কেউ যদি তাদের হাতে ধন-সম্পদ প্রদান করে ক্ষতির সম্মুখীন হয় তাহলে সে বিষয়ে আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করলে তা গ্রহণ করা হবে না।
📄 যে ব্যক্তি কোন মুমিনকে হত্যা করেও সন্তুষ্ট
عن عبادة بن صامت عن رسول الله ﷺ انه يقول : « من قتل مؤمنا فاعتبط بقتله، لم يقبل الله منه صرفا ولا عدلا ». (ابو داود - كتاب الفتن والملاحم، صححه الباني)
উবাদা বিন সাবিত (রাঃ) রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, তিনি সল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি কোন মুমিন ব্যক্তিকে ইচ্ছা করে হত্যা করবে এবং তাকে হত্যা করে খুশি হবে, তার কোন ফরয ও নফল ইবাদত আল্লাহ কবুল করেন না। (আবু দাউদ- অধ্যায় ফিতনা ফাসাদ- আলবানী একে সহীহ বলেছেন)
আল্লাহ তা'আলা কুরআনুল কারীমে মুমিন ব্যক্তির হত্যাকারীকে জাহান্নামী বলে ঘোষণা দিয়েছেন। এরূপ প্রেক্ষিতে কারোর দ্বারা ইচ্ছাকৃতভাবে ঐরূপ অঘটন ঘটে গেলে আল্লাহর কাছে কান্নাকাটি আর তাওবাহ ইস্তিগফার করা ছাড়া তার জন্য কোন পথই খোলা নেই। এর দ্বারা আল্লাহ ইচ্ছে করলে তাকে ক্ষমা করতেও পারেন আবার নাও করতে পারেন। কিন্তু কেউ যদি কোন মুমিন ব্যক্তিকে ইচ্ছাকৃত হত্যা করা সত্ত্বেও তার মনে অনুশোচনা বা পাপ মার্জনার পন্থা অনুসরণের পরিবর্তে আনন্দ উল্লাস পরিলক্ষিত হয় তাহলে এই নিকৃষ্ট আচরণ তার চরম খবীসতার বহিঃপ্রকাশ বৈ কিছু নয়। আল্লাহ তা'আলা এরূপ খবীস লোকের কোন প্রকার ইবাদত কবুল করবেন না।
📄 যে ব্যক্তি কোন পাপ কাজের জন্য দু'আ করে
আবু সাঈদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে বান্দাহ আল্লাহ তা'আলার নিকট এমন প্রার্থনা করে যার মধ্যে পাপও নেই এবং আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্নতাও নেই, তাহলে আল্লাহ তা'আলা তাকে তিনটি জিনিসের মধ্যে যে কোন একটি দান করে থাকেন। হয়তো তার প্রার্থনা তৎক্ষণাৎ কবুল করে নিয়ে তার প্রার্থিত উদ্দেশ্য পুরো করেন, কিংবা তা জমা করে রেখে দেন এবং পরকালে দান করেন বা ওরই কারণে এমন কোন বিপদ কাটিয়ে দেন, যে বিপদ তার প্রতি আপতিত হতো। (মুসনাদে আহমাদ)
ওবাদাহ্ বিন সামিত (রাঃ) হতে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলেছেন: ভূ-পৃষ্ঠের যে মুসলমান মহাসম্মানিত ও মর্যাদাবান আল্লাহ তা'আলার নিকট প্রার্থনা জানায় তা আল্লাহ তা'আলা গ্রহণ করে থাকেন, হয় সে তার প্রার্থিত উদ্দেশ্য লাভ করে অথবা ঐ রকমই তার কোন বিপদ কেটে যায় যে পর্যন্ত না কোন পাপের কাজে বা আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্নতার কাজে সে প্রার্থনা করে। (মুসনাদে আহমাদ)
অতএব অত্র হাদীস দ্বারা বুঝা গেল যে, কোন পাপের কাজ সম্পাদন করার জন্য দু'আ করলে সে দু'আ কবুল হবে না।
📄 আরো কতিপয় ব্যক্তি
قال رسول الله ﷺ : ثلاثة لا يقبل الله لهم صلاة ولا يصعد لهم حسنه العبد الآبق حتى يرجع إلى مواليه فيضع يده في ايديهم، والمرأة الساخط عليها زوجها حتى يرضا، والنسكران حتى يصحو . (صحيح ابن خديمة، الترغيب والترهيب اسناده ضعیف)
রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তিন ব্যক্তির নামায আল্লাহ কবুল করবেন না এবং তাদের কোন নেকি আকাশের দিকে উঠাবেন না। (১) পলাতক কৃতদাস যতক্ষণ পর্যন্ত না সে মালিকের নিকট ফিরে আসে। (২) যে স্ত্রীর প্রতি স্বামী অসন্তুষ্ট যতক্ষণ পর্যন্ত তার প্রতি সন্তুষ্ট না হয়। (৩) পাগল যতক্ষণ হুশ জ্ঞান ফিরে না আসে। (সহীহ ইবনু খুযাইমা, তারগীব অত্তারহীব)
ثلاثة لا ترتفع صلاتهم فوق رؤوسهم شبرا : رجل أم قوما وهم له کارهون، وامرأة باتت وزوجها عليه ساخط، وأخوان متصارمان» . منكر بهذا اللفظ، وحسن بلفظ العبد الابق) مكان أخوان متصارمان) : التعليق ايضا، ابن ماجة الباني]
রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তিন ব্যক্তির নামায তাদের মাথার এক বিঘৎ উপরেও যায় না। (১) যে ব্যক্তি লোকদের নেতৃত্ব দেয় অথচ সেই লোকেরা তাকে পছন্দ করে না। (২) সেই স্ত্রী লোক, যে স্বামীকে অসন্তুষ্ট অবস্থায় রেখে রাত্রি যাপন করে। (৩) এমন দুই ভাই, যারা পরস্পরের সাথে লড়াই ঝগড়ায় লিপ্ত। (ইবনু মাজাহ)
ثلاثة لا يقبل لهم الله منهم صلاة : من تقدم قوما وهم له کارهون، ورجل أتى الصلاة دبارا - الدبار : ان يأتيها بعد ان تفوته، ورجل اعتبد محرره» (ابو داود، ضعفه الباني)
রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ তা'আলা তিন ব্যক্তির দু'আ কবুল করবেন না। (১) যাকে জনগণ অপছন্দ করা সত্ত্বেও তাদের নেতা হয়ে জেঁকে বসে। (২) যে স্বাধীন ব্যক্তির স্বাধীনতা হরণ করে। (৩) যে ব্যক্তি নির্দিষ্ট সময় অতিক্রম হবার পর নামায পড়ে। (আবু দাউদ)
عن أبي بكر فإن رسول الله ﷺ قال : «من ولي أمر المسلمين شيأ فأمر عليهم أحدا محاباة فعليه لعنة الله، لا يقبل الله منه صرفا ولا عدلا حتى يدخله جهنم». (احمد سلسلة الاحاديث صحيحة)
ইয়াযিদ বিন আবু সুফিয়ান বলেন, আবূ বকর (রাঃ) হতে বর্ণিত, নিশ্চয় রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি মুসলমানদের কোন কিছুর নেতৃত্ব পায় এবং তাদের উপর কারোর পক্ষপাতিত্ব করে নেতৃত্ব পরিচালনা করে তবে সেই ব্যক্তির উপর আল্লাহর লা'নত রয়েছে। আল্লাহ এমন ব্যক্তির কোন প্রকার ফরয ও নফল ইবাদত কবুল করবেন না যতক্ষণ না সে জাহান্নামে প্রবেশ করে। (আহমাদ, সিলসিলা আহাদীসুস সহীহা)
من والى قوما بغير اذن مواليه فعليه لعنة الله والملائكة والناس اجمعين، لا يقبل الله منه صرفا ولا عدلا ». (صحیح بخاری)
যে ব্যক্তি নিজের মনিবের অনুমতি ছাড়াই অন্য সম্প্রদায়ের সাথে অভিভাবকত্বের সম্পর্ক স্থাপন করে, তার উপর আল্লাহর অভিশাপ এবং ফেরেশতাকূল ও মানবকূলের অভিশাপ বর্ষিত হবে। তার কোন ফরয ও নফল ইবাদত কবুল করা হবে না। (সহীহ বুখারী)
ذمة المسلمين واحدة، يسعى بها ادناهم، فمن أخضر مسلما فعليه لعنة الله والملائكة والناس اجمعين، لا يقبل الله منه صرفا ولا عدلا». (صحیح بخاری)
মুসলমানদের নিরাপত্তা দানের দায়িত্ব এক পর্যায়ের। তবে যে কেউ কোন লোককে নিরাপত্তা দিতে পারবে (এবং তা সকলের দেয়া নিরাপত্তায় গণ্য হবে)। সুতরাং কেউ কোন সাধারণ মুসলমানের নিরাপত্তায় বিঘ্ন ঘটালে তার উপর আল্লাহর অভিশাপ এবং ফেরেশতাকূল ও মানবকূলের অভিশাপ বর্ষিত হবে। তার কোন ফরয ও নফল ইবাদত কবুল করা হবে না। (সহীহ বুখারী)
عن أبي عبد الله صنابحي : أن جنادة بن أبي أمية أم قوما ، فلما قام من الصلاة التفت عن يمينه فقال : أترضون؟ قالوا نعم ثم فعل ذلك عن يساره، ثم قال : اني سمعت رسول الله ﷺ يقول : « من أم قوما وهم له كارهون، فإن صلاته لا تجاوز ترقوته». (ابن عسا كر ٤ / ٢/١٥- سلسلة صحيحة ٢٣٢٥)
আবূ 'আবদুল্লাহ সানাবিহ (রাঃ) হতে বর্ণিত, নিশ্চয় জুনাদা বিন আবূ উমাইয়া এক সম্প্রদায়ের নেতৃত্ব দিতেন। অতঃপর তিনি যখন নামাযে দাঁড়াতেন তখন তার ডানদিকে লক্ষ্য করে বলেন, তোমরা কি আমার প্রতি সন্তুষ্ট? তারা বললো, হ্যাঁ। অতঃপর তিনি তার বাম দিকে লক্ষ্য করেও এরূপ বললেন। অতঃপর বললেন, নিশ্চয় আমি রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি সম্প্রদায়ের লোকেরা অপছন্দ করা সত্ত্বেও তাদের নেতৃত্ব দেয়, তার নামায তার গলার হাড়কেও অতিক্রম করবে না। [ইবনু আসাকির (৪/১৫/২), সহীহা ২৩২৫]
ثلاثة لا يقبل منه صلاة، ولا تصعد إلى السماء. ولا تجاوز رؤوسهم : رجل أم قوما وهم له كارهون، ورجل صلى على جنازة ولم يؤمر وامرأة دعاها زوجها من الليل فأبت عليه». (صحيح ابن خزيمة، سلسلة الاحاديث الصحيحة ٦٥٠)
তিন ব্যক্তির নামায কবুল করা হয় না, তা আকাশে উঠিয়ে নেয়া হয় না এবং তা তাদের মাথাকে অতিক্রম করে না। (১) ঐ ব্যক্তি, যে লোক সম্প্রদায়ের নেতৃত্ব দেয় অথচ সম্প্রদায়ের লোকেরা তাকে অপছন্দ করে। (২) ঐ ব্যক্তি, যে কারোর জানাযার নামায আদায় করে অথচ তাকে এর নির্দেশ দেয়া হয়নি। (৩) ঐ মহিলা, যাকে তার স্বামী রাত্রিতে আহ্বান করেছে অথচ সে তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়। (সহীহ ইবনু খুযাইমা, সিলসিলাতুল আসাদিসুস সহীহা ৬৫০)
উপরোল্লিখিত হাদীসগুলোতে যে সকল ব্যক্তির উল্লেখ রয়েছে সে সম্পর্কে সংক্ষেপে আলোচনা তুলে ধরা হল।
(১) পলাতক কৃতদাস: পূর্বযুগে দাস প্রথার প্রচলন ছিল। সে সময় পণ্য সামগ্রীর মতই হাটে বাজারে দাসদাসী বিক্রি হত এবং তারা সম্পূর্ণরূপে মুনিবের অধীন হয়ে যেত। ঐ ধরনের দাসদাসী সম্পর্কেই হাদীসে আলোকপাত করা হয়েছে যে মুনিবের কাছ থেকে পলায়ন করলে তাদের নামায কবুল হবে না। বর্তমান যুগে দাস প্রথার প্রচল উঠে গেছে। তাই এ বিধান এখন প্রযোজ্য নয়। উল্লেখ্য এ যুগে বিভিন্ন বাড়িতে যারা চাকর চাকরানী বা অফিসে দোকানে যে সকল কর্মচারী রয়েছে তারা এ বিধানের আওতায় পরবে না।
(২) পাগল: পাগল অর্থাৎ জ্ঞান শূন্য, দুনিয়া ও আখিরাত সম্পর্কে একেবারেই অচেতন। এ ধরনের ব্যক্তি থেকে কলম উঠিয়ে নেয়া হয়েছে। ফলে তার সৎকর্ম বা অসৎকর্ম কোনটাই ভাল বা মন্দ হিসেবে ধর্তব্য হবে না। কিন্তু যখন সে জ্ঞান ফিরে পাবে অর্থাৎ সুস্থ হয়ে উঠবে তখন তার সৎকর্মের জন্য সাওয়াবের এবং অসৎকর্মের জন্য গুনাহের ভাগিদার হবে।
(৩) যে স্ত্রীর প্রতি স্বামী অসন্তুষ্ট: এখানে অসন্তুষ্ট দ্বারা সহবাস উদ্দেশ্য আর নামায বলতে নফল নামাযকে বুঝানো হয়েছে।
(৪) স্বৈরাচারী ইমাম: যে শাসক বা নেতাকে জনগণ অপছন্দ করা সত্ত্বেও নিজের স্বার্থ ও ক্ষমতার মোহে নেতৃত্ব পরিহার করতে চায় না। বরং ক্ষমতার বলে জনগণের ইচ্ছার বিরুদ্ধে কাজ করে সেই হলো স্বৈরাচারী শাসক বা নেতা। এ ধরনের কোন নেতার নামায ও দু'আ কবুল না হওয়ার ব্যাপারেই হাদীসে আলোকপাত করা হয়েছে। তবে হ্যাঁ, কোন ইমাম যদি মুত্তাকী হয় এবং আল্লাহর বিধান অনুযায়ী কার্য পরিচালনা করে কিন্তু কারো সাথে ব্যক্তিগত মনোমালিন্যের কারণে যদি কেউ তাকে অপছন্দ করে তবে সে হাদীসের বিধানে পরবে না।
(৫) পরস্পর ঝগড়ায় লিপ্ত মুসলমান: মুসলমানরা পরস্পর ভাই ভাই- এ ভ্রাতৃত্ব বন্ধনকে সুদৃঢ় করার নির্দেশ স্বয়ং আল্লাহ তা'আলা দিয়েছেন। অর্থাৎ মুসলমানদের সম্পর্ক সুদৃঢ় করা ফরয। পরস্পর ঝগড়া বিবাদে আল্লাহ তা'আলার নির্দেশ লঙ্ঘন হয় এবং মুসলিম ঐক্যে ভাঙ্গন সৃষ্টি করে। যা স্পষ্ট কুফরী কাজ। রসূল সল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “তোমরা আমার অবর্তমানে কুফরীর দিকে প্রত্যাবর্তন করো না যে, তোমরা পরস্পর হানাহানি করবে"- (সহীহ বুখারী)। অতএব যে সব মুসলমান পরস্পরে বিবাদে লিপ্ত হয় তাদের নামায কোন কাজে আসবে না বলে সতর্ক করা হয়েছে।
(৬) অপরের স্বাধীনতা হরণকারী: প্রত্যেক মানুষ তাঁর নির্ধারিত স্বাধীনতা ভোগ করার অধিকার রাখে। কারো স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা ইসলাম সমর্থন করে না। স্বয়ং নাবী সল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যে, অপরের স্বাধীনতা হস্তক্ষেপকারীর দু'আ আল্লাহর দরবারে গৃহীত হয় না। তবে হ্যাঁ, এ স্বাধীনতা উপভোগ অবশ্যই শরীয়তের গণ্ডির বাইরে যাওয়া চলবে না।
(৭) যে ব্যক্তি নির্দিষ্ট ওয়াক্তে নামায আদায় করে না: ওয়াক্ত চলে গেলে নামায আদায় করা অপছন্দনীয়। কোন ব্যক্তি যদি সব সময়ই ওয়াক্ত চলে গেলে নামায আদায় করে, তাহলে এর দ্বারা নামাযের প্রতি তার অবহেলা ও উদাসীনতাই প্রমাণ করে। সম্ভবত এরূপ ব্যক্তি সম্পর্কেই বলা হয়েছে যে, তার দু'আ কবুল হয় না। কারণ সে নির্ধারিত সময়ে আল্লাহ তা'আলার ডাকে সাড়া দিতে অবহেলা প্রদর্শন করেছে। তাহলে কিরূপে আল্লাহ তার ডাকে সাড়া দিবেন? আর যদি এমন হয় যে, মাঝে মধ্যে কোন কোন ওয়াক্তে ওজর সাপেক্ষে; যেমন, হয়তো ঘুমন্ত অবস্থায় ছিল, কোন কাজে খুবই ব্যস্ত ছিল, নামাযের স্মরণ ভুলে গেছে, মুসাফির অবস্থায় ছিল, নাপাক ছিল বা পরাধীন ছিল তাহলে উক্ত বিধান তার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।
(৮) পক্ষপাত দুষ্ট নেতা: যে নেতা নেতৃত্ব পরিচালনার ক্ষেত্রে দলীল লোক, আত্মীয়-স্বজন বা কারোর পক্ষ অবলম্বন করে চলে তার সব ইবাদত বিফল হয়ে যাবে।
(৯) যে ব্যক্তি অনুমতি ছাড়াই জানাযার ইমামতি করে: অর্থাৎ কারো জানাযায় ইমামতি করতে গেলে মৃত ব্যক্তির উত্তরসূরীদের অনুমতি নেয়া প্রয়োজন আছে। যদি তারা তাকে এর অনুমতি না দেয় বা অপছন্দ করে তবে তার ইমামতি করা জায়িয হবে না। এক্ষেত্রে তার উক্ত জানাযার নামায বাতিল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।