📄 তিনটি কাজ কবুলের জন্য তিনটি শর্ত
ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন, তিনটি আয়াত নাযিল হয়েছে যাতে তিনটি কাজ অপর তিনটি কাজের সাথে সংযুক্ত। তা হল-
اطيعوا الله وَاطيعُوا الرَّسُولَ
১। "আল্লাহর আনুগত্য কর এবং আনুগত্য কর রসূলের।"
রসূলের আনুগত্য বাদ দিয়ে আল্লাহর আনুগত্য কবুল হবে না।
وَأَقِيمُوا الصَّلَاةَ وَأَتُوا الزَّكَاةَ
২। "নামায কায়েম কর এবং যাকাত প্রদান কর।"
(সামর্থ্যবান হওয়া সত্ত্বেও) যাকাত না দিয়ে নামায কায়েম করলে তা কবুল হবে না।
أَنِ اشْكُرْ لِي وَلِوَالِدَيكَ
৩। "আমার কৃতজ্ঞতা তথা শুকরিয়া আদায় কর এবং মাতা-পিতার শুকরিয়া আদায় কর।”
মাতা-পিতার শুকরিয়া আদায় না করলে আল্লাহ শুকরিয়া আদায় কবুল হবে না। (ইবনু কাসীর, কবীরা গুনাহ ও তাওবাহ- আব্দুল মালিক)
📄 যিনাকারিণীর স্বামী
একজন পুরুষ তথা স্বামী হলো তার পরিবারের অভিভাবক বা দায়িত্বশীল। তাই গোটা পরিবারকে সৎপথে পরিচালনার দায়িত্ব ও তার। পরিবারের লোকেরা ইসলাম বহির্ভূত পথে চললে কিয়ামতের দিন তাকে অবশ্যই জবাবদিহি করতে হবে। কিন্তু এ সত্ত্বেও যদি কেউ তার পরিবারকে মন্দপথে পরিচালিত হতে দেয়, উপরন্তু নিজের স্ত্রীকে যিনাকারিণী জানার পরও তালাক না দেয় তবে এ ব্যক্তির দু'আ কোনই কাজে আসবে না।
📄 সাক্ষীবিহীন ঋণদাতা ও নির্বোধদের মালদাতা
ثلاثة يدعون فلا يستجاب لهم : رجل كانت تحته امرأة سيئة الخلق فلم يطلقها ، ورجل كان له على رجل مال فلم يشهد عليه، ورجل آتی سـفـيـهـا ماله وقد قال الله عز وجل : ولا تؤتوا السفهاء أموالكم . (رواه ابن شاذان في المشيخة الصغرى ١/٥٧، والحاكم ۳۰۲/۲، وقال الحاكم صحيح على شرط الشيخين، ووافقه الذهبي)
তিন শ্রেণীর লোক আল্লাহকে ডাকবে কিন্তু তাদের ডাকে সাড়া দেয়া হবে না। (১) ঐ ব্যক্তি, যার অধীনে মন্দ চরিত্রের মহিলা (যিনাকার স্ত্রী) থাকা সত্ত্বেও তাকে তালাক দেয় না। (২) ঐ ব্যক্তি, যার মাল অন্যের কাছে রয়েছে অথচ মাল প্রদানের সময় এর কোন সাক্ষী রাখেনি। (৩) ঐ ব্যক্তি যে তার মাল নির্বোধদের প্রদান করে। অথচ আল্লাহ বলেছেন, "আর নির্বোধদেরকে তোমাদের মাল-সম্পদ প্রদান করো না”। (ইবনু শাজান মাশিখাতুস সুগরা ৫৭/১, হাকিম- তিনি বলেছেন, এটি বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ, ইমাম যাহাবীর মতও তাই)
সাক্ষীবিহীন ঋণদাতা: ইসলামের বিধান হলো কাউকে ঋণ প্রদানের সময় সাক্ষী রেখে নেয়া। তাই কেউ যদি এই বিধান মান্য না করে সাক্ষীবিহীন কাউকে ঋণ প্রদান করার ফলে কোন ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হয় এবং সমস্যা নিরসনের জন্য দু'আ করে তখন এই প্রসঙ্গে তার দু'আ কবুল করা হবে না।
নির্বোধদের মালদাতা: নাবালক শিশু, পাগল, অপ্রাপ্ত বয়স্ক, এতিম বালক, বেদীন- এরা সকলেই নির্বোধের অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহ তা'আলা এদেরকে মাল প্রদান করতে নিষেধ করেছেন। কেননা তাদেরকে মাল সম্পদ প্রদান করলে তারা না বুঝে বা অন্যায়ভাবে সমস্ত সম্পদ নিঃশেষ করে ফেলবে। অতএব কেউ যদি তাদের হাতে ধন-সম্পদ প্রদান করে ক্ষতির সম্মুখীন হয় তাহলে সে বিষয়ে আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করলে তা গ্রহণ করা হবে না।
📄 যে ব্যক্তি কোন মুমিনকে হত্যা করেও সন্তুষ্ট
عن عبادة بن صامت عن رسول الله ﷺ انه يقول : « من قتل مؤمنا فاعتبط بقتله، لم يقبل الله منه صرفا ولا عدلا ». (ابو داود - كتاب الفتن والملاحم، صححه الباني)
উবাদা বিন সাবিত (রাঃ) রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, তিনি সল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি কোন মুমিন ব্যক্তিকে ইচ্ছা করে হত্যা করবে এবং তাকে হত্যা করে খুশি হবে, তার কোন ফরয ও নফল ইবাদত আল্লাহ কবুল করেন না। (আবু দাউদ- অধ্যায় ফিতনা ফাসাদ- আলবানী একে সহীহ বলেছেন)
আল্লাহ তা'আলা কুরআনুল কারীমে মুমিন ব্যক্তির হত্যাকারীকে জাহান্নামী বলে ঘোষণা দিয়েছেন। এরূপ প্রেক্ষিতে কারোর দ্বারা ইচ্ছাকৃতভাবে ঐরূপ অঘটন ঘটে গেলে আল্লাহর কাছে কান্নাকাটি আর তাওবাহ ইস্তিগফার করা ছাড়া তার জন্য কোন পথই খোলা নেই। এর দ্বারা আল্লাহ ইচ্ছে করলে তাকে ক্ষমা করতেও পারেন আবার নাও করতে পারেন। কিন্তু কেউ যদি কোন মুমিন ব্যক্তিকে ইচ্ছাকৃত হত্যা করা সত্ত্বেও তার মনে অনুশোচনা বা পাপ মার্জনার পন্থা অনুসরণের পরিবর্তে আনন্দ উল্লাস পরিলক্ষিত হয় তাহলে এই নিকৃষ্ট আচরণ তার চরম খবীসতার বহিঃপ্রকাশ বৈ কিছু নয়। আল্লাহ তা'আলা এরূপ খবীস লোকের কোন প্রকার ইবাদত কবুল করবেন না।