📘 যাদের ইবাদত কবুল হয় না > 📄 যে ব্যক্তি ফরয নামায বাদ দিয়ে শুধু নফল আদায় করে

📄 যে ব্যক্তি ফরয নামায বাদ দিয়ে শুধু নফল আদায় করে


المصلى لا تقبل نافلته حتى يؤدي الفريضة». (البهقي- سنن کبری، أبو يعلى مسنده، ضعفه الباني)
মুসল্লীর ফরয আদায় না করা পর্যন্ত তার নফল নামায কবুল হবে না। (বাইহাকী- সুনানে কুব্বা, আবূ ইয়ালা- মুসনাদ)
অর্থাৎ এমন মুসল্লী, যে আল্লাহর নির্দেশিত পাঁচ ওয়াক্ত ফরয নামায; যেমন- ফজর, যোহর, আসর, মাগরিব, এশা এগুলো আদায় করে না। অথচ সময় বিশেষে নফল নামায পড়ে থাকে। যেমন- কোন বিপদ এলে তা হতে পরিত্রাণের জন্য দু'রাকআত নফল নামায আদায়ের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা করা অথবা কেউ মারা গেলে জানাযার নামায আদায় করা। অথচ এর পূর্বের ফরয নামাযের কোন খবরই নেই। এরূপভাবে সলাতুত তাসবীহ, সলাতুত তারাবীহ, সলাতু ইস্তিষ্কা ইত্যাদি নফল নামায এসবেরই অন্তর্ভুক্ত। মূলতঃ ফরয যেহেতু আল্লাহর হুকুম, তাই ফরয নামাযকেই গুরুত্বের সাথে আদায় করতে হবে। এরপর ফরযের পাশাপাশি যদি নফল পড়া হয় তবে তা অবশ্যই কল্যাণকর, সুন্দর এবং নেকী বৃদ্ধির সহায়ক হবে। কিন্তু ফরয নামাযের তোয়াক্কা না করে শুধু নফল নিয়ে বসে থাকলে তা কোন উপকারে আসবে না। (প্রাসঙ্গিক বক্তব্য দেখুন ৫৫-৫৬ পৃষ্ঠা)

📘 যাদের ইবাদত কবুল হয় না > 📄 তিনটি কাজ কবুলের জন্য তিনটি শর্ত

📄 তিনটি কাজ কবুলের জন্য তিনটি শর্ত


ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন, তিনটি আয়াত নাযিল হয়েছে যাতে তিনটি কাজ অপর তিনটি কাজের সাথে সংযুক্ত। তা হল-
اطيعوا الله وَاطيعُوا الرَّسُولَ
১। "আল্লাহর আনুগত্য কর এবং আনুগত্য কর রসূলের।"
রসূলের আনুগত্য বাদ দিয়ে আল্লাহর আনুগত্য কবুল হবে না।
وَأَقِيمُوا الصَّلَاةَ وَأَتُوا الزَّكَاةَ
২। "নামায কায়েম কর এবং যাকাত প্রদান কর।"
(সামর্থ্যবান হওয়া সত্ত্বেও) যাকাত না দিয়ে নামায কায়েম করলে তা কবুল হবে না।
أَنِ اشْكُرْ لِي وَلِوَالِدَيكَ
৩। "আমার কৃতজ্ঞতা তথা শুকরিয়া আদায় কর এবং মাতা-পিতার শুকরিয়া আদায় কর।”
মাতা-পিতার শুকরিয়া আদায় না করলে আল্লাহ শুকরিয়া আদায় কবুল হবে না। (ইবনু কাসীর, কবীরা গুনাহ ও তাওবাহ- আব্দুল মালিক)

📘 যাদের ইবাদত কবুল হয় না > 📄 যিনাকারিণীর স্বামী

📄 যিনাকারিণীর স্বামী


একজন পুরুষ তথা স্বামী হলো তার পরিবারের অভিভাবক বা দায়িত্বশীল। তাই গোটা পরিবারকে সৎপথে পরিচালনার দায়িত্ব ও তার। পরিবারের লোকেরা ইসলাম বহির্ভূত পথে চললে কিয়ামতের দিন তাকে অবশ্যই জবাবদিহি করতে হবে। কিন্তু এ সত্ত্বেও যদি কেউ তার পরিবারকে মন্দপথে পরিচালিত হতে দেয়, উপরন্তু নিজের স্ত্রীকে যিনাকারিণী জানার পরও তালাক না দেয় তবে এ ব্যক্তির দু'আ কোনই কাজে আসবে না।

📘 যাদের ইবাদত কবুল হয় না > 📄 সাক্ষীবিহীন ঋণদাতা ও নির্বোধদের মালদাতা

📄 সাক্ষীবিহীন ঋণদাতা ও নির্বোধদের মালদাতা


ثلاثة يدعون فلا يستجاب لهم : رجل كانت تحته امرأة سيئة الخلق فلم يطلقها ، ورجل كان له على رجل مال فلم يشهد عليه، ورجل آتی سـفـيـهـا ماله وقد قال الله عز وجل : ولا تؤتوا السفهاء أموالكم . (رواه ابن شاذان في المشيخة الصغرى ١/٥٧، والحاكم ۳۰۲/۲، وقال الحاكم صحيح على شرط الشيخين، ووافقه الذهبي)
তিন শ্রেণীর লোক আল্লাহকে ডাকবে কিন্তু তাদের ডাকে সাড়া দেয়া হবে না। (১) ঐ ব্যক্তি, যার অধীনে মন্দ চরিত্রের মহিলা (যিনাকার স্ত্রী) থাকা সত্ত্বেও তাকে তালাক দেয় না। (২) ঐ ব্যক্তি, যার মাল অন্যের কাছে রয়েছে অথচ মাল প্রদানের সময় এর কোন সাক্ষী রাখেনি। (৩) ঐ ব্যক্তি যে তার মাল নির্বোধদের প্রদান করে। অথচ আল্লাহ বলেছেন, "আর নির্বোধদেরকে তোমাদের মাল-সম্পদ প্রদান করো না”। (ইবনু শাজান মাশিখাতুস সুগরা ৫৭/১, হাকিম- তিনি বলেছেন, এটি বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ, ইমাম যাহাবীর মতও তাই)
সাক্ষীবিহীন ঋণদাতা: ইসলামের বিধান হলো কাউকে ঋণ প্রদানের সময় সাক্ষী রেখে নেয়া। তাই কেউ যদি এই বিধান মান্য না করে সাক্ষীবিহীন কাউকে ঋণ প্রদান করার ফলে কোন ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হয় এবং সমস্যা নিরসনের জন্য দু'আ করে তখন এই প্রসঙ্গে তার দু'আ কবুল করা হবে না।

নির্বোধদের মালদাতা: নাবালক শিশু, পাগল, অপ্রাপ্ত বয়স্ক, এতিম বালক, বেদীন- এরা সকলেই নির্বোধের অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহ তা'আলা এদেরকে মাল প্রদান করতে নিষেধ করেছেন। কেননা তাদেরকে মাল সম্পদ প্রদান করলে তারা না বুঝে বা অন্যায়ভাবে সমস্ত সম্পদ নিঃশেষ করে ফেলবে। অতএব কেউ যদি তাদের হাতে ধন-সম্পদ প্রদান করে ক্ষতির সম্মুখীন হয় তাহলে সে বিষয়ে আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করলে তা গ্রহণ করা হবে না।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00