📄 মৃত ব্যক্তির 'আমলনামায় সাওয়াব পৌঁছানোর নামে মনগড়া কর্মকাণ্ড
قال رسول الله ﷺ : « إذا مات الإنسان (ابن آدم) انقطع عنه عمله إلا من ثلاثة : إلا من صدقة جارية أو علم ينتفع به او ولد صالح يدعوله» (صحیح بخاری، صحيح مسلم، أبو داود، نسائ، طحاوی، بيهقي، أحمد)
«خير ما يخلف الرجل من بعده ثلاث : ولد صلح يدعوله، وصدقة تجرى يبلغه أجرها وعلم يعمل من بعده» (ابن ماجه، ابن حبان، طبرانی صغیر، قال منذری : اسناد صحیح)
রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মৃত্যুর পর মানুষের আমলের ধারা বন্ধ হয়ে যায় কিন্তু তিনটি আমলের ধারা অব্যাহত থাকে। সে তিনটি হচ্ছে-
১। সাদকায়ে জারিয়া। অর্থাৎ কেউ যদি জীবিত থাকা অবস্থায় মাসজিদ, মাদ্রাসা নির্মাণ ও দান সাদকা করে যায় তাহলে এর দ্বারা মানুষ যতদিন উপকার লাভ করবে তার সাওয়াব সে মৃত্যুর পরেও পেতে থাকবে।
২। এমন ইল্ম যা দ্বারা মানুষ উপকৃত হয়। অর্থাৎ যদি কোন লোক জীবিত থাকা অবস্থায় নিষ্ঠা ও ঐকান্তিকতার সাথে এমন ইল্ম রেখে যায় যা দ্বারা মানুষ উপকৃত হয়, যেমন- সে কোন ছাত্রকে দীনি ইল্ম শিক্ষা দিল, সে ছাত্রটি আবার অপর কাউকে শিক্ষা দিল এমনিভাবে ঐ ইল্মের চর্চা যতদিন পর্যন্ত চলতে থাকবে সেগুলোর সাওয়াবও তার 'আমলনামায় সংযোজিত হতে থাকবে। অনুরূপভাবে কোন ধর্মীয় গ্রন্থ রচনা করলেও এর সাওয়াব মৃত্যুর পরেও অব্যাহত থাকবে।
৩। সু-সন্তান যে তার জন্য দু'আ করে। অর্থাৎ মাতা-পিতা যদি সন্তানদেরকে পরহেজগার, দীনদার ও চরিত্রবান করে গড়ে তুলে তাহলে তাদের মৃত্যুর পরও সু-সন্তানের নেক দু'আ তাদের উপর অব্যাহত থাকে। আর সে দু'আও স্বয়ং আল্লাহ শিক্ষা দিয়েছেন- "রব্বির হামহুমা কামা রব্বা ইয়ানি সগিরা"।
কিন্তু দুঃখের বিষয় হচ্ছে রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্পষ্ট বক্তব্য থাকা সত্ত্বেও মৃত ব্যক্তির 'আমলনামায় সাওয়াব পৌঁছানোর জন্য মৃত ব্যক্তির নামে বিভিন্ন মনগড়া কার্যাবলী মুসলিম সমাজে পরিলক্ষিত হচ্ছে। যেমন-
(ক) কোন ব্যক্তি মারা গেলে তার জন্য সবিনা খতম পড়া, মৃত দেহের সামনে কুরআন তিলাওয়াত করা।
(খ) তাসবীহ পাঠ খতম বখসানো। যেমন- সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহু আকবার ইত্যাদি হাজার বা লক্ষাধিকবার বিভিন্ন জনে ভাগাভাগি করে পাঠের পর তা একত্রিত করে বখসিয়ে দেয়া, আম্বিয়া খতম, মরিয়ম খতম, জালানী খতম, ইয়াসীন খতম বা দরূদে হাজারী ইত্যাদি মনগড়া দরূদ খতম বখসানো।
(গ) হিন্দুদের অনুকরণে তিন দিন, চল্লিশা, কুলখানি ইত্যাদি অনুষ্ঠানাদি।
(ঘ) মৃত ব্যক্তির নামে নামায পড়া। তবে জীবিত থাকা অবস্থায় যদি কাযা রোযা রেখে যায় বা হাজ্জের নিয়ত করে এবং অর্থও রেখে যান তবে তার উত্তরসূরী তার পক্ষ থেকে উক্ত রোযা ও হাজ্জ পালন করতে পারবে কিন্তু নামায পড়ার বিধান নেই।
(ঙ) কবরের পাশে বসে কুরআন পাঠ, দরূদ পাঠ ইত্যাদি।
মৃত ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে উল্লেখিত যে সকল কর্মকাণ্ড করা হচ্ছে, তা না রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম করেছেন, না করতে বলেছেন, না করেছেন সাহাবা (রাঃ), না তাবিঈ বা তাবে তাবিঈ কিরামগণ। বরং কুরআন-সুন্নাহর সাথে ওসব কার্যাবলীর কোনরূপ সম্পর্ক নেই। তাই ওগুলো কবুল হওয়ার ব্যাপারে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। কেননা আল্লাহ বলেছেন-
ومن يبتغ غير الإِسْلَامِ دِينًا فَلَنْ يَقَبَلَ مِنْهُ
“ইসলামের নির্ধারিত নিয়মনীতি ছাড়া অন্য কোন নিয়মনীতির কার্যাবলী কস্মিনকালেও কবুল করা হবে না।” (সূরা আল-ইমরান ৮৫)
📄 যে ব্যক্তি ফরয নামায বাদ দিয়ে শুধু নফল আদায় করে
المصلى لا تقبل نافلته حتى يؤدي الفريضة». (البهقي- سنن کبری، أبو يعلى مسنده، ضعفه الباني)
মুসল্লীর ফরয আদায় না করা পর্যন্ত তার নফল নামায কবুল হবে না। (বাইহাকী- সুনানে কুব্বা, আবূ ইয়ালা- মুসনাদ)
অর্থাৎ এমন মুসল্লী, যে আল্লাহর নির্দেশিত পাঁচ ওয়াক্ত ফরয নামায; যেমন- ফজর, যোহর, আসর, মাগরিব, এশা এগুলো আদায় করে না। অথচ সময় বিশেষে নফল নামায পড়ে থাকে। যেমন- কোন বিপদ এলে তা হতে পরিত্রাণের জন্য দু'রাকআত নফল নামায আদায়ের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা করা অথবা কেউ মারা গেলে জানাযার নামায আদায় করা। অথচ এর পূর্বের ফরয নামাযের কোন খবরই নেই। এরূপভাবে সলাতুত তাসবীহ, সলাতুত তারাবীহ, সলাতু ইস্তিষ্কা ইত্যাদি নফল নামায এসবেরই অন্তর্ভুক্ত। মূলতঃ ফরয যেহেতু আল্লাহর হুকুম, তাই ফরয নামাযকেই গুরুত্বের সাথে আদায় করতে হবে। এরপর ফরযের পাশাপাশি যদি নফল পড়া হয় তবে তা অবশ্যই কল্যাণকর, সুন্দর এবং নেকী বৃদ্ধির সহায়ক হবে। কিন্তু ফরয নামাযের তোয়াক্কা না করে শুধু নফল নিয়ে বসে থাকলে তা কোন উপকারে আসবে না। (প্রাসঙ্গিক বক্তব্য দেখুন ৫৫-৫৬ পৃষ্ঠা)
📄 তিনটি কাজ কবুলের জন্য তিনটি শর্ত
ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন, তিনটি আয়াত নাযিল হয়েছে যাতে তিনটি কাজ অপর তিনটি কাজের সাথে সংযুক্ত। তা হল-
اطيعوا الله وَاطيعُوا الرَّسُولَ
১। "আল্লাহর আনুগত্য কর এবং আনুগত্য কর রসূলের।"
রসূলের আনুগত্য বাদ দিয়ে আল্লাহর আনুগত্য কবুল হবে না।
وَأَقِيمُوا الصَّلَاةَ وَأَتُوا الزَّكَاةَ
২। "নামায কায়েম কর এবং যাকাত প্রদান কর।"
(সামর্থ্যবান হওয়া সত্ত্বেও) যাকাত না দিয়ে নামায কায়েম করলে তা কবুল হবে না।
أَنِ اشْكُرْ لِي وَلِوَالِدَيكَ
৩। "আমার কৃতজ্ঞতা তথা শুকরিয়া আদায় কর এবং মাতা-পিতার শুকরিয়া আদায় কর।”
মাতা-পিতার শুকরিয়া আদায় না করলে আল্লাহ শুকরিয়া আদায় কবুল হবে না। (ইবনু কাসীর, কবীরা গুনাহ ও তাওবাহ- আব্দুল মালিক)
📄 যিনাকারিণীর স্বামী
একজন পুরুষ তথা স্বামী হলো তার পরিবারের অভিভাবক বা দায়িত্বশীল। তাই গোটা পরিবারকে সৎপথে পরিচালনার দায়িত্ব ও তার। পরিবারের লোকেরা ইসলাম বহির্ভূত পথে চললে কিয়ামতের দিন তাকে অবশ্যই জবাবদিহি করতে হবে। কিন্তু এ সত্ত্বেও যদি কেউ তার পরিবারকে মন্দপথে পরিচালিত হতে দেয়, উপরন্তু নিজের স্ত্রীকে যিনাকারিণী জানার পরও তালাক না দেয় তবে এ ব্যক্তির দু'আ কোনই কাজে আসবে না।